Category: শিক্ষাঙ্গন

  • আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতায় রানার আপ ববি

    আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতায় রানার আপ ববি

    বাংলাদেশ আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। মঙ্গলবার শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে( শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত ফাইনাল রাউন্ডে শাবিপ্রবির কাছে হেরে রানার আপ হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতয় রানার আপ হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম দলের অধিনায়ক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আন্ত: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারামে রানার আপ হতে পেরে আমরা গর্বিত। আশা করি সামনের বার আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো।’

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম দলের অপর সদস্য ছিলেন, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমদাদুল শেখ। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্য পুরষ্কার ও সম্মননা সনদ তুলে দেন শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ।

  • পিরোজপুরে উপবৃত্তির একাউন্ট খুলতেও ঘুষ নিচ্ছে শিক্ষকরা

    পিরোজপুরে উপবৃত্তির একাউন্ট খুলতেও ঘুষ নিচ্ছে শিক্ষকরা

     পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপবৃত্তির জন্য মোবাইলে একাউন্ট খোলার কথাবলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা খরচের কথা বলে এ টাকা উত্তোলন করছেন। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে আলাপকালে এর সত্যতা মিলেছে।


    নাজিরপুর উপজেলার নাওটানা বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী আফসান মিম সাংবাদিকদের জানায়, বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের শিক্ষক মিন্টু স্যার তার কাছ থেকে উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য এক শত টাকা নিয়েছেন। একই শ্রেণীর মুক্তা ঢালী জানায়, প্রধান শিক্ষক এ টাকা চেয়েছেন, তাই বাংলা ম্যাডাম রানু আপার কাছে আমি বিকাশ একাউন্টের জন্য এক শত টাকা দিয়েছি।

    ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র দিপু মিস্ত্রী জানায়, উপবৃত্তির একাউন্ট খুলতে গেলে বিদ্যালয়ের অফিস থেকে তার কাছে এক হাজার টাকা দাবী করা হয়। গরীব অসহায় পিতা দিলীপ মিস্ত্রী ওই টাকা দিতে না পারায় সে (দিপু) স্থানীয় মাসুদের ঘরে কাজ করে পাওয়া ৩শ’ টাকা বিদ্যালয়ে দিয়ে মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট খুলেছে। এছাড়া, ১০ম শ্রেনীর চাতুকি মিস্ত্রী, নেয়ামত উল্লাহ তারা বিদ্যালয়ের মিন্টু স্যারকে ওই টাকা দিয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, ওইসব টাকা নেয়ার রশিদ হিসেবে বিদ্যালয়ের সিলসহ (গোল) ছোট একটি কাগজ দেয়া হয়েছে। তবে তাতে টাকার কোন পরিমান উল্লেখ নাই।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের জন্য বিকাশ একাউন্ট খুলতে কাজ করা মো. সাইদুল ইসলাম সবুজ জানান, বিকাশের একাউন্ট খুলতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয়ার নিয়ম নেই।

    বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত জীববিজ্ঞানের মিন্টু লাল মৈত্র ও বাংলার শিক্ষিকা রানু ম্যাডামের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশেই এ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে জানান।

    প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশ্রাফ জানান, ওই সব শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক টাকা পাওনা আছে তাই তাদের কাছ থেকে ওই টাকা নেয়া হয়েছে।

    উপজেলার দীর্ঘার একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সজীব গাইন জানায়, তার উপবৃত্তির টাকা তুলতে মোবাইলে একাউন্ট খুলতে বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের সঞ্জয় স্যারকে খরচ ববাদ ৩০ টাকা দিতে হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম এ ব্যাপারে জানান, উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের দেয়ার সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন টাকা নেয়ার বিধান নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়াসহ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।

  • বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপা হচ্ছে ১৭ কোটি ১৯ লাখ বই

    বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপা হচ্ছে ১৭ কোটি ১৯ লাখ বই

    মাধ্যমিক স্তরে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ১৭ কোটি ১৯ লাখ কোটি বই ছাপাচ্ছে সরকার। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ৩২০ লটে এসব বই সরবরাহের কাজ পেয়েছে দেশীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

    এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    বুধবার (২৬ জুন) কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ইবতেদায়ী, দাখিল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যামিক এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) এবং কারিগরি (ট্রেড বই) স্তরের বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাধাই ও সরবরাহে ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৮ কপি বই ছাপাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ। এতে ব্যয় হবে ৪৩৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ৩২০ লটে এসব বই সরবরাহের জন্য দেশীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    নাসিমা বেগম বলেন, ঢাকা ওয়াসার ‘পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ (ফেজ-১) (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের খরচ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে কাজে আগে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তিন কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেড়ে বর্তমানে এর খরচ দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

    তিনি জানান, সাভারের ভাকুর্তায় গভীর নলকূপ নির্মাণ প্রথমপর্ব শীর্ষক প্রকল্পের জন্য কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান হোন্ডো রোটেন কোম্পনির সঙ্গে সরকারের চুক্তিতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। তবে বর্তমানে এটির ব্যয় ২১ কোটি ১২ লাখ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

  • প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাই আপাতত এই পরীক্ষা বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা নেই। বরং প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাকে অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনে আজ টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেনজীর আহমেদের (ঢাকা-২০) প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু, এজন্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ জারি উল্লেখযোগ্য।

    এসময় তিনি আরো জানান, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাকে অধিকতর যুগোপযোগী করে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) ডিপিপি-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচির ডিপিপি মোতাবেক ৩য় বছরে অর্থাৎ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • নেশা করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে পেটাল স্কুলছাত্র

    নেশা করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে পেটাল স্কুলছাত্র

    অনলাইন ডেস্ক:

    নেশা করতে বাধা দেয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশের রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক আইয়ূব আলীকে (২৮) মারধর করে আহত করেছে ওই বিদ্যালয়েরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন ও তার স্বজনরা।

    মঙ্গলবার সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    সাব্বির উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বিপাচান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

    এদিকে সবার সামনে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    তারা অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষায় অংশ নেন তারা।

    শিক্ষক আইয়ূব আলী অভিযোগ করে বলেন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির কখনও শ্রেণিকক্ষে বসে আবার কখনও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ড্যান্ডি নেশা করে আসছিল বলে শ্রী শিবনাথ নামে এক ছাত্র আমার কাছে অভিযোগ করে।

    তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সাব্বিরকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে শাসন করার সময় সে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাকে একটা থাপ্পর মারা হয়।

    তিনি জানান, এ কারণে সাব্বির, তার ভাই রাব্বি, চাচা আলাউদ্দিন ও রাব্বির বন্ধু কামরুল মঙ্গলবার সকালে আমাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় উলিপুর বিপাচান ব্রিজ এলাকায় পথরোধ করে মারধর করে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সাব্বির ও তার স্বজনরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের সামনে আমাকে স্টিলের স্কেল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    শিক্ষার্থী শিবনাথ, আছিফ হোসেন, রাজু ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, রাবেয়া খাতুন, মরিয়ম খাতুনসহ অনেকেই জানায়, বিদ্যালয় চলাকালীন ক্যাম্পাসে ঢুকে সাব্বির ও তার স্বজনরা তাদের গণিত বিভাগের বিএসসি শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। পরে তাদের প্রতিবাদের মুখে সাব্বির ও তার স্বজনরা পালিয়ে যায়।

    তাড়াশ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন জানান, আহত শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউজ্জামান নান্নু বলেন, আমি লাইব্রেরিতে বসে কাজ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ বাইরে বিশৃঙ্খলা দেখে পুলিশে খবর দেই। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    তাড়াশ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন বলেন, একজন শিক্ষককে মারধর করার ঘটনা অনভিপ্রেত। তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের হাতাহাতি

    বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের হাতাহাতি

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুসের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটির একটি ঘোষণার পর বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পন্থী দুই দল কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোর্ডের বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেয়া যায় কিনা সে সম্পর্কে একটি সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য মঙ্গলবার তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষাবোর্ড সচিব প্রফেসর বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত আদেশে গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খানকে। সদস্য করা হয় উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মামুন হোসেনকে। বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতেই এ কমিটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    সূত্র আও জানায়, কমিটি ঘোষণার পরই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বোর্ড শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিলের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান বরিশাল বোর্ডের আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি এবং বোর্ডের শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিএনপিপন্থীরা। বিএনপিপন্থীদের নেতৃত্বে বর্তমান কর্মচারী সংঘ সভাপতি আবু জাফর ছিলেন। পরে বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা আওয়ামীলীগপন্থী কর্মচারীদের ওপর চড়াও হলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে, চেয়ারম্যান মো. ইউনুসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    এ বিষয়ে বোর্ডের শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিল জানান, আমরা বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের পদোন্নতি দেবার জন্য কমিটি করার বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যাই। তখন বিএনপি জামায়াত কর্মীদের নিয়ে শ্রমিকদল নেতা শহিদুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করে আমাদের ওপর চড়াও হয়।

    এরপর তারা আমাদের সংগঠন বিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। তিনি আরও জানান, বোর্ডে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন কমিটি রয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কমিটি গঠন করা বিধি বহির্ভুত। আমরা সে বিষয়টিতেই বাঁধা দিতে চেয়েছি।

    তবে, শ্রমিকদল সভাপতি ও বর্তমান সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেছি। কারো ওপর হামলা চালাইনি।

    অভিযোগ পাওয়া যায়, পদোন্নতির তালিকার শীর্ষে যে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তার মধ্যে ৮ জন বিএনপিপন্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন সেকশন অফিসার সাবেক বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সচিব ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি মো: মিজানুর রহমান, উচ্চমান সহকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক এবি এম মিজানুর রহমান, সেকশন অফিসার ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের অর্থ সম্পাদক আহসানুল কবির। এছাড়া পদোন্নতি তালিকায় রয়েছেন বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সদস্য ও সেকশন অফিসার সাজিয়া হাসান লুনা, হিসাব সহকারী জাহাঙ্গির আলম, ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার কে এম ফরিদ হোসেন ও সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আ. ছালাম। আর এদের পদোন্নতির জন্য বোর্ড প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে বর্তমান কর্মচারী সংঘের সভাপতি আবু জাফর।

    এই বিষয়ে বরিশাল বোর্ডের সচিব অধ্যাপক বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কমিটি করেছি। তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।

    বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ইউনুসের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

  • বরিশালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে “তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউরো ডেভোলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি)সহ সব ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম অংশীজনদের অবহিত করন সংক্রান্ত এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টায় নগরীর বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিলর (বিসিসি) অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিলর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের আয়োজনে বিসিসি ভারপ্রাপ্ত সেন্টার চার্জ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বিসিসি আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলামের সঞ্চলনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথির আসনে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইথ এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসেন ফয়সাল,বরিশাল সমাজ সেবা অফিসার অধ্যাপক আঃ রসিদ,বরিশাল রাহাত আনোয়ার হসপিটালের ব্যবস্থপনা পরিচালক শারমিন আক্তার ও সফল প্রতিবন্ধী ঝালকাঠী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ফয়সাল রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিলর ট্রেনার এমরান হোসেন।

    কর্মশালা অনুষ্ঠানে বলা হয় সরকার দেশের মানবসম্পদকে তথ্য প্রযুক্তি ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানবসম্পদকে ধেশ থেকে বিদেশের মাটিতে কাজে নিয়োজিত করার জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।

    পাশাপাশি বর্তমান সরকার কম্পিউটার কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জীবন মান উন্নয়ন প্রর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। আজকের কর্মশালায় শারিরীক প্রতিবন্ধী,দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সহ সব ধরনের বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা থেকে শতাধিক মহিলা-পুরুষ প্রতিবন্ধী অংশ গ্রহণ করেন।

    এছাড়া কর্মশালায় নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সদস্য,শিক্ষক,প্রশাসনিক কর্মকতারা অংশ গ্রহণ করেন।

    উল্লেখ্য, বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে ইতি পূর্বে ৫টি টেনিং প্রোগামের মাধ্যমে ৫ শতাধিক প্রতিবন্ধী সদস্য কম্পিউটার প্রশিক্ষন গ্রহণ শেষে বিভিন্ন কর্মসংস্থায় নিজেকে জড়িত করেছে বলে বিসিসি থেকে এতথ্য প্রদান করা হয়।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শূন্যতায় অচলাবস্থা

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শূন্যতায় অচলাবস্থা

    অনলাইন ডেস্ক:

    অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২৭ মে সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের ৪ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উপাচার্য শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    জানা গেছে, উপচার্য না থাকায় বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা ও ফলাফল আটকে আছে। এতে আগে থেকেই সেশন জটে জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আরও বাড়বে সেশন জট। প্রায় দুই বছর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সেশন জট রয়েছে বিভিন্ন বিভাগে।

    এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে আছে। স্থগিত হয়ে আছে শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার।

    জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট দেয়ার কথা থাকলেও উপাচার্য না থাকায় সেই বাজেটও দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ল্যাবের ব্যবহারিক উপকরণ কিনতে না পারায় এবং উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ খরচ করতে না পারায় ফেরত যাচ্ছে বিদায়ী অর্থ বছরের টাকাও।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ভূতত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মিয়া বলেন, সেশন জট কমানোর একটা সুযোগ ছিল; কিন্তু উপাচার্য শূন্যতায় এখন আর সুযোগ নেই। রেজাল্টও আটকে আছে। সব মিলিয়ে স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। উপাচার্য শূন্যতায় বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট আটকে গেছে। শিক্ষক-কর্মকর্তারা বেতন তুলতে পারছে না। শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারও স্থগিত হয়ে আছে। খুব শীঘ্রই উপাচার্য নিয়োগ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

    মাটি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ বলেন, আমরা প্রায় ২ বছরের সেশন জটে আছি। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে অনার্স শেষ হওয়ার কথা; কিন্তু ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাস শেষ, এখনও পর্যন্ত অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা হয়নি।

    আগের ভিসি সেশন জট কমাতে তেমন উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে উপাচার্য না থাকায় পরীক্ষা আটকে আছে।

    এভাবে চলতে থাকলে সেশন জট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

  • ঝালকাঠিতে চেয়ারে বসায় ছাত্রের কব্জি কেটে দিলেন মাদ্রাসাশিক্ষক

    ঝালকাঠিতে চেয়ারে বসায় ছাত্রের কব্জি কেটে দিলেন মাদ্রাসাশিক্ষক

    অনলাইন ডেস্ক:

    ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় চেয়ারে বসায় এক মাদ্রাসাছাত্রের কব্জি কেটে দিলেন শিক্ষক। আহত ছাত্রের নাম মো. সাব্বির হোসেন (১৪) ।

    শনিবার বিকালে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির আহত শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনের মা তাসলিমা বেগম।

    আহত সাব্বির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. আবদুল আলিমের ছেলে ও শিক্ষক ফোরকান হোসেন একই এলাকার মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে।

    জানা যায়, গত ১২ জুন (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে আহত শিক্ষার্থীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ওই শিক্ষক। এতে ঘটনার আট দিন পর শিক্ষার্থীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গত শুক্রবার রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত শিক্ষার্থী সাব্বিরকে ভর্তি করে তার পরিবার।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সাব্বির হোসেন বলেন, হুজুরের (শিক্ষক) ও আমার বাড়ি মাদ্রাসার পাশেই। আমাদের মাদ্রাসার দরজা-জানালা না থাকায় ঘটনার দিন আমি দুই বন্ধুকে নিয়ে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে চেয়ারে বসেছিলাম।

    এ সময় হুজুর এসে চেয়ারে বসার কারণে আমাদের গালমন্দ করেন।

    যখন আমরা মাদ্রাসা থেকে চলে যাচ্ছিলাম, হুজুর তখন আমাকে ধরে প্রথমে চড়থাপ্পড় মারেন। এর পর হুজুরের হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কোপ দিতে গেলে আমি হাত দিয়ে তা থামাই। এ সময় আমার বামহাতের কব্জি কেটে যায়।

    আহত সাব্বিরের মা তাসলিমা বেগম বলেন, শিক্ষকের দায়ের কোপে আহত হওয়ার পর আমার ছেলেকে রাজাপুর হাসপাতালে না এনে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। ফলে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়।

    তিনি বলেন, এ ঘটনার বিচার চাই। তবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোথাও কোনো অভিযোগ করতে পারিনি। অভিযোগ করলে গ্রামে থাকাটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ফোরকান হোসেন বলেন, আমি সাব্বিরকে কোপ দিইনি। ঘটনার দিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। মাদ্রাসার পাশের একটি সবজি ক্ষেতে আমি কাজ করছিলাম। তখন মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে টেবিল চাপড়ে গান-বাজনা করছিল সাব্বির ও তার বন্ধুরা। তখন আমি সেখানে গিয়ে সাব্বিরকে গালমন্দ করি ও চড়থাপ্পড় দিই।

    এ সময় আমার হাতে থাকা দায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাব্বিরের হাত কেটে যায়। ওর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করছি।

  • বরিশাল বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ

    বরিশাল বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ

    বরগুনার বামনায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেন্যুগুলোতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া প্রশ্নব্যাংক থেকে পরীক্ষা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপজেলা সদরের সরকারি বামনা সারওয়ারজান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ক্রয় করা প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

    তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় বামনা কেন্দ্রের অধীন হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভেন্যুতে বোর্ডের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এতে উপজেলার ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু একটি বিদ্যালয়ে বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা হচ্ছে। বাকি ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় ক্রয় করা প্রশ্নপত্র দিয়ে।

    শনিবার (২২জুন) সকালে সরেজমিনে বামনা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেন্যু সরকারি বামনা সারওয়ারজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সপ্তম শ্রেণির গণিত ও অষ্টম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা না নিয়ে নিজেদের তৈরি প্রশ্নে পরীক্ষা নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল সূত্রে জানা গেছে- ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের প্রশ্নপত্র বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নব্যাংক থেকে ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেন্যুগুলোর প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ১৬ জুন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।

    সেখানে নির্দেশনা দেয়া হয়, পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বোর্ডের ওয়েবসাইটে যেদিন যে পরীক্ষা তার প্রশ্নপত্র থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত কোড নম্বর ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের প্রশ্নব্যাংক থেকে বোর্ডের প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে নেবেন। পরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী নিজেদের ফটোকপি যন্ত্রে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষা নেবেন।

    এ ব্যাপারে বামনা সারওয়ারজান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এএসএম হারুন অর রশিদ বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যা ও প্রিন্টারের কালি না থাকার জন্য বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো সম্ভব হয়নি। ফলে আমরা নিজেরা প্রশ্ন তৈরি করে তা দিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছি।’