Category: শিক্ষাঙ্গন

  • বরিশালে মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র তুলতে ৫০০ টাকা!

    বরিশালে মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র তুলতে ৫০০ টাকা!

    বরিশালের মুলাদী উপজেলার সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (মার্কশিট) ও প্রশংসাপত্র আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীরাও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির জন্য বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের ধার্যকৃত টাকা দিয়ে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র নিচ্ছে।

    পৌর এলাকার তেরচর গ্রামের অভিভাবক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার ছেলে মুলাদী সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি পাস করেছে।

    গত ১৯ জুন বিদ্যালয়ে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র আনতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন হাওলাদার তার কাছে ৬০০ টাকা দাবি করেন। শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট নেয়ার জন্য কোনো ফি না লাগায় তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক প্রশংসাপত্রের নামে কোনো রশিদ ছাড়াই ৫০০ টাকা নেন।

    চরডিক্রী গ্রামের মহিউদ্দীন সিকদার জানান, তার মেয়ের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্রের জন্য সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বোর্ড থেকে আনতে টাকা লাগে এবং প্রশংসাপত্র ছাপানোর জন্য টাকা খরচ হয়।

    এ বিষয়ে মুলাদী সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন হাওলাদার জানান, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র প্রদানের সময় কারো কাছে টাকা চাইতে হয় না। সবাই খুশি হয়ে ৫ থেকে ৬শ টাকা দিয়ে যায়।

    বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকির হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র বিতরণে টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়ে ইতোপূর্বে প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও টাকা নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বরিশালে ‘উগ্রবাদ দমনে ছাত্র-শিক্ষক সংলাপ’ শীর্ষক সেমিনার

    বরিশালে ‘উগ্রবাদ দমনে ছাত্র-শিক্ষক সংলাপ’ শীর্ষক সেমিনার

    ‘উগ্রবাদ দমনে ছাত্র-শিক্ষক সংলাপ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিটিটিসি) নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সরকারী বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিকুর রহমান শিকদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।
    বিশেষ অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ উপ-কমিশনার যথাক্রমে মো. হাবিবুর রহমান খান, আবু রায়হান মো. সালেহ, মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা ও খায়রুল ইসলাম, বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন কুমার পাল, বিএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন সরোয়ার এবং সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল হক তালুকদার।

    এছাড়া বিএমপি’র বিভিন্ন ইউনিটের পদস্থ কর্মকর্তারা এবং বিএম কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

    সেমিনারে জঙ্গিবাদ কি, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে পুলিশের করণীয় ও সতর্কতা এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করনের বিষয়ে নানা মতামত প্রদান করেন অংশগ্রহণকারীরা।

  • ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন

    ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন

    দূর্নীতিবাজ স্বেচ্ছাচারী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামিম মোহাম্মাদ আফজালের পদ ত্যাগের দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষক সমিতির বরিশাল জেলা শাখার একদল সরকার সমর্থিত মাওলানা।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য টাউন হল সম্মুখ সদররোডে একর্মসূচী পালন করেন তারা।

    শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন ফারুকীর সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আনসারী, মাওলানা মইনুল ইসলাম ও মাওলানা কেরামত আলি প্রমুখ।

    এসময় তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে সম্মানের সাথে পদত্যাগ করার দাবী জানান।

  • বাসচাপায় একই ক্লাসের ফার্স্ট-সেকেন্ড বয় নিহত

    বাসচাপায় একই ক্লাসের ফার্স্ট-সেকেন্ড বয় নিহত

    যশোরের মনিরামপুরে হানিফ পরিবহনের একটি বাসচাপায় স্থানীয় ধলিগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ফার্স্ট ও সেকেন্ড বয় নিহত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে উপজেলার খইতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো- উপজেলার ধলিগাতি গ্রামের খাইরুল বাশারের ছেলে আশিকুর রহমান ও জামলা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আল-আমিন।

    স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার পাল বলেন, নিহত দুইজনই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র ছিল। ক্লাসে আশিকুরের রোল নম্বর ছিল ১ ও আল আমিনের রোল নম্বর ছিল ২।

    নিহত আশিকুর রহমানের চাচা নজরুল ইসলাম জানান, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আশিক ও আল-আমিন কোচিং শেষে বাইসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস দুইজনকেই চাপা দেয়। এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিকুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আল-আমিনকে যশোর আড়াইশ’ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    Jessore-2

    মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আশিকুরের মৃত্যু হয়েছে। আহত আল-আমিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সদর হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্রই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে তাদের মৃত্যুর খবর শুনে সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। এক পর্যায় বিক্ষুব্ধ সহপাঠীসহ এলাকাবাসী দোষী চালককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুন্দলপুর বাজারে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ওপর কাঠের গুড়ি ফেলে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলে চালকসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠিয়ে নেয়া হয়।

    মনিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক অবরোধে যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এসময় চালকসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাসে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নেয়।

  • প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ, পদ একটি আবেদন ১৫ হাজার

    প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ, পদ একটি আবেদন ১৫ হাজার

    বরিশাল নগরীর ভাটিখানা বিনাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার মধ্যে এই একটি শিক্ষক পদই শূন্য। এই পদের নিয়োগ পরীক্ষায় আগামীকাল শুক্রবার প্রায় ১৫ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া জেলার ১০টি উপজেলায় ২০০ শূন্য পদের বিপরীতে চাকরিপ্রত্যাশী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬২ হাজার।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২১ ও ২৮ জুন দুই ধাপে বরিশালের ১০টি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হবে। আগামীকাল ২১ জুন শুক্রবার সদর উপজেলাসহ পাঁচ উপজেলায় চাকরিপ্রত্যাশীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জেলায় এক হাজার ৫৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০ সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে ৬২ হাজার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

    এদিকে, শূন্য একটি পদের তথ্য গোপন রেখে আবেদনপত্র গ্রহণ চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন সহকারী শিক্ষক সমিতির বরিশাল সদর উপজেলা সভাপতি আবু জাফর।

    তিনি বলেন, অন্য জেলা থেকে বদলি করে বরিশাল সিটি ও সদর উপজেলার শূন্যপদগুলো পূরণ করা হচ্ছে। ফলে নিজ এলাকার চাকরিপ্রত্যাশীরা নিয়োগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন চাকরিপ্রত্যাশীর আবেদন করতে ৪০০-৫০০ টাকা ব্যয় হয়। এটি ভয়ঙ্কর প্রতারণা।

    জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এ আর মিজানুর রহমান বলেন, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও একবছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে সদর উপজেলায় আরও কয়েকটি পদ শূন্য হওয়ার সম্ভবনা আছে। এসব শূন্যপদে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে পূরণ করা হবে। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদ উল্লেখ করার বিধান নেই। তাই এটি উল্লেখ করা হয়নি।

  • সেই স্বৈরাচারি ববির ভিসি’র দালালেরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

    সেই স্বৈরাচারি ববির ভিসি’র দালালেরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে আলোচনায় আসেন।

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাস্ট্রপতির আদেশ ক্রমে তাকে এপ্রির ১১ থেকে ২৬ মে বাধ্যতামূলেক ছুটিতে পাঠান। যদিও ভিসি ছুটিতে থাকা কালিন অফিসিয়াল বিভিন্ন চিঠি ইস্যু করেছেন যার প্রমান সোংবাদিকদের কাছে রয়েছে। তার সর্বশেষ কর্মদিবস ছিল মাত্র  ১ দিন ২৭ মে। সেই দিন তিনি কাউকে না জানিয়ে তার অপকর্মের বৈধতা দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট কল করেন। জরুরী সিন্ডিকেট কল করার ক্ষেত্রেও অনন্ত ২৪ ঘন্টা আগে সন্মানীত সদস্যদের জানানো কথা থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি ১ দিনে সিন্ডিকেট কল করতে পারেন না। তিনি তা করেছেন এবং সেই সময় ভারপ্রাপ্ত ভিসি সহ বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কাউকেই তিনি সদস্য হিসেবে মিটিংয়ের কথা জানাননি যা কোন ভাবেই আইন সম্মত নয়।

    তিনি ৪৬ দিন ছুটিতে থাকাকালীন বিভিন্ন বেআইনি চিঠি ইস্যু করেছেন। যার মধ্যে পরিকল্পনার উপ পরিচালক মো: হুমায়ুন কবীর কে পরিচালক( পরিকল্পনা ) অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং সেই সাথে তাকে রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করেন।

    তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মো: মুরশীদ আবেদীন কে উপ প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন।

    তিনি ঢাকা লিয়াজো অফিসের সহকারি পরিচালক ( পরিকল) মো: মিজানুর রহমান কে উপ পরিচালক ( পরিকল্পনা ) চলতি দায়িত্ব প্রধান করেন।

    ভিসি ছুটি কালীন সময় তার এই দালালদের বিভিন্ন ভাবে পুরস্কৃত করেন।যে ভাবে পুরস্কৃত করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মোস্তাকদের মেজর জেনারেল জিয়াউপ রহমান! শিক্ষার্খীদের হুসিয়ারী এই দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কতৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান সহ তাদের প্রতিহত করবে। বেআইনী এই কার্যকলাপ তারা মেনে নিবেনা। দরকার হলে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করা হবে।

    তাদের এই কাগজ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মেনে নেয়নি কিন্তু ২৭ তারিখ একদিন সময় পেয়ে তিনি তাদের নামে পুনরায় আবার দায়িত্বের ভুয়া পেপার ইস্যু করে যা বিশ্ববিদ্যালয়র শিক্ষার্থী- শিক্ষক , কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট স্বস্তিদায়ক নয়।

    তিনি তার কার্য়দিবস শুরু থেকেই অনেক বির্তকের জন্ম দিয়েছেন, কখন রাজাকের বাচ্চা , কখন রাজাকার মুক্ত ক্যাম্পাস, কখন শিক্ষার্থীদের উপরে অযুক্তিক ফি ধার্য করে কিনবা ভর্তি পরীক্ষার টাকা আত্বসাতের মাধ্যমে।এই চার বছরে  ভর্তি পরীক্ষার কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদ এবং কর্মকর্তা পরিষদের ভাষ্য মতে তিনি এই ভর্তি পরীক্ষায় একক আধিপত্য বিস্তার করতেন এবং সুধু তার নিজস্ব কয়েকজন দালালের কথা অনুসারে কাজ করতেন। বিনিময় তাদের মোটা অংকের টাকা ভাগ দিতেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদানের শুরু থেকে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারি পরিচালক পদমর্যাদার জনাব মো: ফয়সাল রুমির কু বুদ্ধির সাহায্য নেওয়া সুরু করে। তিনি তার অনেক অপকর্মের সঙ্গী।এই মাধ্যমে মো: ফয়সাল মাহমুদ রুমী আর্থিক ভাবে ব্যাপক লাভোবান হয়। ডায়েরী কমিটি ক্যালেন্ডার কমিটি সব কিছুর দায়িত্ব ছিল এই জনসংযোগ কর্মকর্তা। বর্তমানেও তার ব্যবসা চলমান।

    বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে গিয়ে ভিসির সাথে কিছু খারাপ অফিসারদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বারতে থাকে। নিয়োগবানিজ্য হতে শুরু করে সব কিছুতেই তারা সক্রিয় হয়ে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। একে একে ভিসির বিশ্বস্ত হয়ে উঠে।

    এই তালিকায় জাদের নাম প্রথম দিকে তারা হলেন: ১। জনাব মো: মুরশিদ আবেদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী ২। জনাব মো: হুমায়ন কবীর , উপ পরিচালক ( পরিকল্পনা ) ৩। জনাব সুব্রত কুমার বাহাদুর, উপ পরিচালক( অর্থ ও হিসাব) ৪। জনাব মো: মিজানুর রহমান, সহকারি পরিচালক, ঢাকা অফিস ৫। মো: ফয়সাল মাহমুদ রুমী , জনসংযোগ কর্মকর্তা ৬। মো: সাজ্জাতুল্লা ফয়সাল, সহকারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ৭। তামান্না শারমিন, সহকারি রেজিস্ট্রার ৮। জনাব নিত্ত নন্দ , সহকারি রেজিস্ট্রার সহ আরো অনেকেই এই ভিসির অপকর্মের অংশিদার।

    স্বৈরাচারী সেই ভিসির সেই দালালেরা তাদের ভুয়া পুরস্কৃত কাগজ পুনরায় ১৯ জুন আবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর যোগদান পত্র প্রেরন করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাজায়।

    এই দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী- শিক্ষক, কর্মকর্তা , কর্মচারীরা ভিতরে ভিতরে ফুসে উঠছে। এই দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে গোপন সূত্রে শোনা যাচ্ছে ।

  • শনিবার থেকে সচল হবে বুয়েট: আশা শিক্ষামন্ত্রীর

    শনিবার থেকে সচল হবে বুয়েট: আশা শিক্ষামন্ত্রীর

    আগামী শনিবার থেকে আবারও সচল হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবেন এবং তাদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে টানা চার ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

    দীপু মনি বলেন, ‘আন্দোলন স্থগিতে সম্মতি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী শনিবার থেকে তারা আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে ফিরবেন।’

    ‘বুয়েটের সাত হলের তিনজন করে প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের সব দাবিই যৌক্তিক। কিছু দাবি একাডেমিক কাউন্সিল (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) বাস্তবায়ন করতে পারবে। আবার কিছু দাবি মন্ত্রণালয়ের অধীন। সেগুলো দ্রুত আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে ১৬ দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে তারা নেমে আসেন রাস্তায়। ভিসি ও প্রশাসনবিরোধী স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস।

    dipu

    গতকাল বুধবার বেলা ১টায় পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সমাবেত হন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

    চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া শুনতে বৃহস্পতিবার বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এজন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে জড়ো হয়ে মন্ত্রীর অপেক্ষায় থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে আসার কথা থাকলেও বেলা ১টা পর্যন্ত তিনি আসেননি। শিক্ষামন্ত্রীর আসা নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হলেও বিকাল সাড়ে ৩টায় উপস্থিত হন তিনি।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি একাডেমিক কাউন্সিল বাস্তবায়ন করতে পারবে, সেগুলো আমরা লিখিতভাবে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা ভিসি মহোদয়কে অনুরোধ করব, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে। যেসব দাবি মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থাৎ খেলার মাঠ, ভবন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ- সেগুলো আমরা দ্রুতগতিতে করে দেয়ার চেষ্টা করব।

    ‘পাশাপাশি ফলাফল, র‌্যাংকিং, বৃক্ষ রোপণ- যেগুলো বুয়েট প্রশাসনের অধীন সেগুলোও দ্রুত মেনে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। ভিসি মহোদয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন হবে।

    dipu

    দীপু মনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের তাদের সব দাবি লিখিতভাবে দিতে বলেছি। তারা আগামীকাল (শুক্রবার) সেগুলো লিখিতভাবে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’

    শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের দাবিগুলো বুয়েটের নোটিশ বোর্ডে টাঙানোর দাবি জানান। আমরা তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। সেগুলো নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেয়া হবে।

    তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবিগুলো পাওয়ার পর কাল (শুক্রবার) থেকে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

    ‘বুয়েট আমাদের সকলের গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। যেহেতু সব দাবি মেনে নিয়েছি সেহেতু আমরা আশা করি শিক্ষার্থীরা শনিবার থেকে আবারও ক্লাসে ফিরবেন এবং সচল হবে বুয়েটের স্বাভাবিক পরিবেশ’- আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

    এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী বুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বুয়েট আমাদের গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি। যারা এখানে পড়াশোনা করেন তাদের অভিভাবকরাও সন্তানদের জন্য গর্ববোধ করেন।

    dipu

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি তার সবগুলোই যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়। তবে উপাচার্য চাইলেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তার সমাধান করতে পারতেন।

    দীপু মনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের সঙ্গে একধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করব।

    মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা পজেটিভ।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হামজালা, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জিপিএ-৫ উঠে যেভাবে হবে নতুন গ্রেডবিন্যাস

    জিপিএ-৫ উঠে যেভাবে হবে নতুন গ্রেডবিন্যাস

    জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতি পাঁচ নম্বর ব্যবধানে জিপিএ পরিবর্তন হবে। এছাড়া বর্তমান পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ নম্বরের জিপিএ-৫ কমিয়ে তা জিপিএ-৪ গ্রেড করার প্রস্তাবনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষায় বিশ্বের সঙ্গে আমাদের (বাংলাদেশ) নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    নতুন পদ্ধতিতে জিপিএ-৫ পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ এবং বর্তমানে ৮০ থেকে ১০০ নম্বরে জিপিএ-৫ দেওয়ার পদ্ধতি থাকছে না। পরীক্ষার ফলের পাঁচ নম্বর ব্যবধানে গ্রেড পরিবর্তন করা হবে।

    প্রস্তাবনায় নতুন গ্রেড হিসেবে দেখা যায়, পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর ১০০ রাখা হয়েছে। তবে জিপিএ-৫ পরিবর্তন করে তা জিপিএ-৪ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০০ থেকে ৯৫ নম্বর পেলে নতুন গ্রেড হিসেবে ‘এক্সিল্যান্ড গ্রেড’ যুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী পাঁচ নম্বর কম ব্যবধানে ‘এ প্লাস’, ‘এ’, ‘এ মাইনাস’, ‘বি প্লাস’, ‘বি’, ‘বি মাইনাস’, ‘সি প্লাস’, ‘সি’, ‘সি মাইনাস’, ‘ডি প্লাস’, ‘ডি’, ‘ডি মাইনাস’, ‘ই প্লাস’, ‘ই’, এবং ‘ই মাইনাস’ গ্রেড দেওয়া হবে।

    অকৃতকার্য বা ফেল হিসেবে থাকছে ‘এফ’ গ্রেড। সর্বনিম্ন পাস নম্বর ৩৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব গ্রেডের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ থেকে পরবর্তী গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। তবে পাস নম্বর ৪০ বা তার কম করা যায় বলেও প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও এটি ৩৩ নম্বর রাখার পক্ষে অধিকাংশ বোর্ড চেয়ারম্যান মতামত দিয়েছেন।

    এদিকে আরেক প্রস্তাবে বর্তমান পদ্ধতিতেই সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ৯৫ পর্যন্ত পেলে জিপিএ-৪, অর্থাৎ গ্রেড হবে ‘এ প্লাস’। এখানেও পর্যায়ক্রমে ৫ নম্বর ব্যবধানে গ্রেড পরিবর্তন হবে। তবে সর্বোচ্চ গ্রেড থাকবে জিপিএ-৪।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক মঙ্গলবার (১৮ জুন) বলেন, আমাদের পাস নম্বরের সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশের নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি সমস্যা রয়েছে। এ কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন বিদেশে যান তখন তাদের সনদের সমতা নির্ণয়ে বিড়াম্বনায় পড়তে হয়। এ কারণে তাদের সার্টিফিকেট সমতা করে বিদেশ যেতে হয়।

    তিনি বলেন, পাশাপাশি বর্তমান গ্রেড পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু জটিলতা রয়েছে। ১০০ পেলেও একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাচ্ছে, আবার ৮০ পেলেও একই গ্রেড দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয় আমলে নিয়ে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি তিন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে গ্রেড পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে। নতুন গ্রেড পদ্ধতির খসড়া তৈরি করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। ইতোমধ্যে আমরা খসড়া তৈরি করেছি। শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের পর অংশীজন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের পরামর্শ নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি চালু হয়। সেখানে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৫, লেটার গ্রেড ‘এ প্লাস’। এটাই সর্বোচ্চ গ্রেড। এরপর ৭০ থেকে ৭৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৪, লেটার গ্রেড ‘এ’। ৬০ থেকে ৬৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৩ দশমিক ৫০, লেটার গ্রেড ‘এ মাইনাস’। ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৩, লেটার গ্রেড ‘বি’। ৪০ থেকে ৪৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ২, লেটার গ্রেড ‘সি’। ৩৩ থেকে ৩৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ১, লেটার গ্রেড ‘ডি’।

    এছাড়া শূন্য থেকে ৩২ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেড পয়েন্ট জিরো, লেটার গ্রেড ‘এফ’, অর্থাৎ ফেল বা অকৃতকার্য। জিপিএ-১ অর্জন করলেই তাকে উত্তীর্ণ হিসেবে ধরা হয়। কোনো বিষয়ে ‘এফ’ গ্রেড না পেলে চতুর্থ বিষয় বাদে সব বিষয়ের প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্টকে গড় করেই একজন শিক্ষার্থীর লেটার গ্রেড নির্ণয় করা হয়। তবে সব বিষয়েই ৮০-র ওপরে নম্বর পাওয়া ফলকে অভিভাবকরা গোল্ডেন জিপিএ-৫ বলে থাকেন। তবে শিক্ষা বোর্ডে এ ধরনের (গোল্ডেন জিপিএ-৫) কোনো গ্রেড নেই।

    অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়ালেখা করতে গিয়ে বা চাকরির ক্ষেত্রে গ্রেড নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেটের সমতা করে তারপর বিদেশে যেতে হয়। এতে অনেক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আর আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের ফলাফলের সমতা থাকছে না।

    তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত গ্রেড পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে। গ্রেড নম্বর দেখেই একজন শিক্ষার্থীর ফলের স্ট্যান্ডার্ড বোঝা যাবে। বিষয়টি নিয়ে সকল বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে একাধিক সভা করে একমত হয়েছি। আগামী ২৩ জুন শিক্ষামন্ত্রীর হাতে এ প্রস্তাব তুলে দেওয়া হবে। তিনি অনুমোদন দিলে বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • পাবলিক পরীক্ষার সময় কমছে

    পাবলিক পরীক্ষার সময় কমছে

    জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেটসহ (এইচএসসি) সমমানের সব পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্নের সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া এমন সিদ্ধান্ত আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

    শিক্ষা বোর্ডগুলোর সূত্রে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময় লাগে ১৫ দিন। পাঁচদিন কমিয়ে এনে এবার থেকে তা ১০ দিনে সম্পন্নের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময় লাগে ২৮ থেকে ৩০ দিন। এ সময় ১০ দিন কমিয়ে ২০ দিনে সম্পন্নের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করতে সময় লাগে ৪৫ দিন। এ সময় ১৫ দিন কমিয়ে ৩০ দিনে সম্পন্নের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে ছুটির কারণে বা জরুরি কারণে নির্ধারিত সময় দু-একদিন বেশি লাগতে পারে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক মঙ্গলবার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব পাবলিক পরীক্ষার দিন কমানো হয়েছে। চলতি বছর থেকে এটি কার্যকর হবে। ফলে মাসজুড়ে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন থাকছে না।

    তিনি আরও বলেন, নতুন সিলেবাস অনুযায়ী এখন থেকে জেএসসি পরীক্ষা ১০ দিনে, এসএসসি ২০ দিনে এবং এইচএসসি পরীক্ষা ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। দ্রুত পরীক্ষা শেষ হলে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রমে আর ব্যাঘাত ঘটবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষা ১ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করা হবে ১০ নভেম্বরের মধ্যে। ২০১৮ এর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (তত্ত্বীয়) ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে তা সম্পন্ন হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। আগের বছরগুলোতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। এ পরীক্ষার সময় কমিয়ে ২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

    এছাড়া গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা ১ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। আগামীতে এ পরীক্ষা এক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্যাপ না রেখে আগে থেকেই নেয়া হয়। এ কারণে এ পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার প্রয়োজন হবে না।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ থাকে। ১০ থেকে ১৫ দিন সময় কমিয়ে আনায় ওইসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। ফলে পরীক্ষার্থী ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়মত ক্লাস করতে পারবে।

    এছাড়া পরীক্ষার সময় বেশি পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্নফাঁসের মতো প্ররোচনায় পড়েন। দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা শেষে হলে এ সমস্যাও থাকবে না। অভিভাবকরাও দ্রুত চাপমুক্ত হবেন। এসব কারণে সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. অধ্যাপক জিয়াউল হক আরও বলেন, পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পাঠকার্যক্রমও নিয়মিত হবে। অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেরও সুযোগ বাড়বে।

    ‘পরীক্ষার মধ্যে গ্যাপ থাকলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হন বলে মনে হয় না। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে অভিভাবকরাও মানসিক চাপে থাকেন। এছাড়া বেশি গ্যাপ থাকলে পরীক্ষা নিয়ে অনৈতিক কাজের সুযোগ বাড়ে। এসব কারণে দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্নের নতুন এ উদ্যোগ নেয়া।’

  • আন্দোলন করে নয়, আইনগত প্রক্রিয়াতেই বেগম জিয়ার মুক্তি

    আন্দোলন করে নয়, আইনগত প্রক্রিয়াতেই বেগম জিয়ার মুক্তি

    তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একমাত্র আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

    তিনি বলেন, তিনি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, কেবলমাত্র আইনগত প্রক্রিয়াতে শুধু তার মুক্তি সম্ভব।

    আজ বুধবার রাজধানীর বারিধারাতে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করায় সাফল্য উদযাপন করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সময় সময় আন্দোলনের ভয় দেখায়। কিন্তু দেশবাসী কখনো জানতে পারে না আন্দোলন কবে করবে তারা। তাই তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে অযথা এ ধরনের সস্তা কথা না বলার জন্য আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কয়েকটি মামলায় জামিন লাভ করেছেন। তাই, অন্য কোনো পথে নয়, একমাত্র আদালতের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হতে হবে বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন কি না।

    এ সময় ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের শিখতে হবে কিভাবে স্বপ্ন দেখতে হয়। একজন মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখা খুব জরুরি। স্বপ্ন ব্যতিত কেউ সামনের দিকে ধাবিত হতে পারে না। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টাও দরকার।

    তিনি বলেন, তুমি যদি প্রচেষ্টা না নাও তা হলে তোমার স্বপ্ন সত্য হবে না। শুধুমাত্র নিজের জন্য স্বপ্ন না দেখে ছাত্রসমাজকে সমাজের জন্য স্বপ্ন দেখার আহবান জানান। মন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে আরো বেশি বৃত্তি প্রদানের আহ্বান জানান।

    বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ হাশেম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।