Category: শিক্ষাঙ্গন

  • উত্তপ্ত বুয়েটে শনিবার থেকে লাগাতার আন্দোলন

    উত্তপ্ত বুয়েটে শনিবার থেকে লাগাতার আন্দোলন

    পাঁচদিন লাগাতার আন্দোলন শেষে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। ১৬ দফা দাবি নিয়ে পঞ্চম দিনের মতো বুধবার দুপুর ১টার দিকে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

    দুপুরে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সমাবেত হন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

    তবে বুয়েট উপাচার্য ক্যাম্পাসে না আসায় তার সাক্ষাৎ পাননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধিও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে আসেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনের পরিবর্তে বেড়েছে।

    এ জন্য দুইদিন বিরতি দিয়ে শনিবার থেকে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন বুয়েট শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখপাত্র হোসেন সরোয়ার সৈকত।

    buet.jpg

    বুধবারের আন্দোলন শেষে সৈকত বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি। এ কারণে এ দুদিন আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী শনিবার সকাল থেকে আবারও আমরা আন্দোলনে নামব।

    তিনি বলেন, টানা পাঁচদিন ধরে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠবে। যতদিন পর্যন্ত দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো কিছু পরিলক্ষিত না হবে ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    বুয়েটের মেকানিক্যাল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমান ভিসি স্যার শিক্ষার্থীবান্ধব নন। তিনি সবসময় আমাদের থেকে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করেন।

    buet.jpg

    তিনি বলেন, আমাদের এই আন্দোলনে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি সম্মতি জানিয়েছে। বর্তমানে স্যারদের সম্মতি পাওয়া আমাদের এই আন্দোলন আরও তীব্রতর করে তোলা হবে।

    এদিকে নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) অপসারণসহ ১৬ দফা দাবিতে বুয়েটে চলা ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বেশ কয়েকটি একাডেমিক ভবন ও রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে (প্রশাসনিক ভবন) তালা ঝুলিয়ে দেন ও বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন।

    buet.jpg

    গত চার দিনের তুলনায় বুধবারের আন্দোলন ছিল বেশি উত্তপ্ত। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আন্দোলনে জড়ো হন। তারা উপাচার্যবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষা মঙ্গলবারের মতো বুধবারও ছিল বন্ধ।

    এর আগে, গত শনিবার (১৫ জুন) ১৬ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

  • খাবার সংগ্রহে স্কুল ছেড়ে ইঁদুরের সঙ্গে শিশুদের লড়াই

    খাবার সংগ্রহে স্কুল ছেড়ে ইঁদুরের সঙ্গে শিশুদের লড়াই

    লতো হাতে শাবল চালিয়ে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান উঠাচ্ছিল ওরা। কাঁদায় লেপটে থাকা একগুচ্ছ ধানের শীষ টেনে বের না করতেই চিক শব্দে গর্ত থেকে লাফিয়ে বেরুলো জোড়া ল্যাংড়া ইঁদুর। শপাং শব্দে শাবলের গুঁতোয় ছেঁচে দিলো দুটোই। আবার গর্ত খোঁড়াখুড়ি। মূল ভাণ্ডারে গচ্ছিত রয়েছে ধান। ইঁদুরের সঞ্চিত সেই ভাণ্ডারের পুরোটাই চাই। এ ধানের চালে পিঠা হবে। হবে খেসারি ডালের খিচুড়ি। তাই স্কুল বাদ দিয়ে তাদের এই প্রাণান্তকর চেষ্টা।

    বলছিলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ননী আর সূচনার কথা। দুজন পিশাতো ভাইবোন। সম্প্রতি ঝাওয়াইল-পাকুটিয়া সড়কের অদূরে ধানী জমিতে কর্মরত দেখা যায় ওদের। ননীর বাবা রতন চন্দ্র। সূচনার বাবা নিত্য চন্দ্র। তারা সম্প্রদায়ে বাগদী। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি। প্রথমে ওই দুই শিশু কথা বলতে চায়নি।

    পরে মাথা নিচু করে ননী বলে, বোরো মৌসুমে বড়দের সঙ্গে তারাও ধান সংগ্রহে বের হয়। কদিন ধরে বড়রা ধান কাটা আর লাকড়ি বানানো নিয়ে ব্যস্ত। পিঠা খেতে চাইলে মায় কইলো ‘চরায় যা। ধান নিয়ে আয়গে। তবেই পিঠা।’

    এদিকে আরেক শিশু সূচনা বলে, ‘মামী বলছে ধান আইনলে পর খেসারি ডাইলে খিচুরি অইবো। তাই আইছি।

    এই কথার মাঝে ননী ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান বের করে। আর সূচনা তার গায়ের ফ্রকের নিচের ধান রাখে। শুধু ননী আর সূচনা নয়। গোপালপুর উপজেলার সব বাগদী পল্লীর একই দৃশ্য। ধান পাকার মৌসুমে মাঠে ইঁদুরের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ধান সংগ্রহ করেন বাগদীরা। তাতে যোগ দেয় শিশুরাও। এজন্য প্রায়ই স্কুলে যাওয়া হয় না ওদের। আমন বা বোরো মৌসুমে সংগ্রহ করা ধানকে ওরা বলে ‘রাজার ধন’। তাদের বিশ্বাস এটি প্রকৃতি প্রদত্ত। এ ধনের অধিকার শুধু তাদেরই।

    সরেজমিন ঝাওয়াইল বাগদী পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৪০ শতাংশ খাস জমিতে ৩৫টি ঘর বাগদী গোষ্ঠীর। এতেই তাদের গাদাগাদি বসবাস। দিন আনে দিন খায়। কামলা খাটে, লাকড়ি চিরায়, সেলুন বা হোটেলে কাজ করে।

    পাড়ার দিগেন বাগদী (৭০) জানান, ইংরেজ শাসনামলে নাটোরের জমিদার রানীভবানী ঝাওয়াইল বাজারে নায়েব কাচারি প্রতিষ্ঠা করেন। নায়েব বাবুরা খাজনা আদায়ে পালকি বা ঘোড়ায় চড়ে এলাকায় যেতেন। অবাধ্য প্রজাদের শায়েস্তার জন্য লাঠিয়ালের প্রয়োজন হতো। এ জন্য ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা থেকে আনা হয় বাগদীদের।

    যতীন বাগদী জানান, পূর্ব পুরুষদের বলা হয়েছিল, ‘তোরা বাংলা মুলুকে যাবি, বড় চাকরি আর ভালো খাবার পাবি, রাজবাড়ির আঙ্গিনায় বউবাচ্চা নিয়ে থাকতি পারবি।’ কিন্তু তাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। এখানে লাঠিয়ালি, ঢুলি, পালকি বাহক বা পেয়াদাগিরির পেশা বেছে নিতে হয়। নায়েব কাচারির পাশেই থাকার ব্যবস্থা হয়। গড়ে উঠে বাগদী পল্লী। এভাবে কেটে গেছে দেড়শত বছর। উনবিংশ পেরিয়ে বিংশ। বিংশ পেরিয়ে একবিংশের দ্বিতীয় দশক। বংশ পরম্পরায় ষষ্ঠ উত্তরসূরিরা সেই ভিটেয় দিন যাপন করছে। যে অভাব তাড়িয়ে সুখের আশায় পূর্বপুরুষরা বাংলা মুলুকে এসেছিল উত্তরসূরিরা সেই যাতনা আরো বেশি করে ভোগ করছে।

    ভারত বিভক্তির পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে নায়েব কাচারি বন্ধ হয়ে যায়। তৃতীয় প্রজন্মের বাগদীরা মাটির টানে এদেশে থেকে যায়। নায়েব গোমস্তরা না থাকলেও অভিজাত পর্দানশীন মুসলমান বউঝিরা ঢুলি বা পালকিতে স্বামী বা বাপের বাড়ি আসা যাওয়া করতো। তাই এ পেশায় নতুন করে টিকে থাকার সন্ধান পায় ওরা। কিন্তু যান্ত্রিক বাহনের প্রচলনে ঢুলি-পালকি উঠে যায়। ওরা দ্বিতীয় দফায় বেকার হয় পড়ে। একদিকে অর্থনৈতিক টানাপোড়ন অন্যদিকে জমিদারদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি খাস ঘোষণা দেওয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়।

    স্বপন বাগদী জানান, এরশাদ আমলে প্রভাবশালীরা ঝাওয়াইল বাগদী পল্লীতে অগ্নিসংযোগ করে তাদের উচ্ছেদ করে। পরে ভারতীয় দূতাবাসের হস্তক্ষেপে একাংশ ছেড়ে দিয়ে তাদের আপোষ করতে হয়। বহু চেষ্টাতেও বসতভিটার জমি তারা লিজ নিতে পারেনি। বাগদীরা সব সময় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকে।

    রতন বাগদী জানান, পেটে ভাত জোটে না। পরনে কাপড় থাকে না। তাই বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখানোর সাধ্য থাকে না। এজন্য বাগদী শিশুরা স্কুল বাদ দিয়ে ধান সংগ্রহে মাঠ থেকে মাঠে ঘুরে বেড়ায়। দুই দশক আগেও পাড়ার সবার পেশা ছিলো গর্তের ধান আর জঙ্গলের আলু সংগ্রহ।

    এখন জঙ্গল কমে যাওয়ায় বন আলু পাওয়া যায় না। পাড়ার অনেক বাগদী এখনো ইঁদুরের গর্ত খুড়ে ধান সংগ্রহ করে। সাধারণত রোপা আমন মৌসুমেই বেশি ধান পাওয়া যায়। অনেকেই সংগ্রহ করা ধানে তিন চার মাসের খোরাকি চালায়।

    কথা হয়, গোবিন বাগদীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অহন তেমন ধান পাওয়া যায় না। গৃহস্থরা কামলা লাগিয়ে নিজেরাই গর্তের ধান সংগ্রহ করে। আমরা ক্ষেতে নামলে বাঁধা দেয়। হের পরেও পাড়ার ছাওয়ালরা বোরো ধান কাটার সময় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে এবং আমন মৌসুম অগ্রহায়ণ-পৌষে একাজে ব্যস্ত থাকে। লেখাপড়া শিখে কি অইবো। আমাগো পাড়ায় দুজন মেট্রিক পাস দিছে। কোথাও চাকরি অইছে না। তাহলি পইরে কি হবি?

    টাঙ্গাইলে গোপালপুর ছাড়াও ভূয়াপুর, ঘাটাইল, ধনবাড়ি, মধুপুর ও নাগরপুর এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ ও জামালপুর সদর উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার বাগদী পরিবারের বাস করে। সব স্থানেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাগদীদের অবস্থা একই রকম। বাগদীরা সব স্থানেই বর্ণ হিন্দুদের নিকট যেমন অচ্ছুত, তেমনি মুসলমানদের নিকট ছোটজাত। চায়ের দোকান বা হোটেলে ওদের জন্য আলাদা গ্লাস বা কাপ থাকে। শিশুরা স্কুলে গেলেও ছোটজাত বলে একসঙ্গে খেলতে চায় না সহপাঠীরা। এজন্য হীনমন্যতায় ভোগা বাগদী শিশুরা। লেখাপড়ায় হয় অমনোযোগী।

    ‘স্কুল তাদের জন্য আনন্দ গৃহ নয়’ বললেন পাড়ার লক্ষ্মী বাগদী। বাগদীরা ধর্মীয়ভাবে হিন্দু হলেও বারোয়ারি দুর্গা পূজায় ওদের অংশ গ্রহণের অধিকার নেই। আশ্বিনে দুর্গা পূজায় ওদেরকে মণ্ডপের আশপাশে যেতে দেওয়া হয় না। এজন্য দূর থেকে হাত জোড় করে মা দুর্গার নিকট প্রার্থনা করে। ওরা সংসারের শান্তির জন্য মনসা পূজা ও কালীপূজা করে।

    বাগদীদের বিয়ে, যৌন সম্পর্ক এবং সন্তান লালন পালনে কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিয়ে হয় তাদের সাধ্য মতে ধূমধামের সঙ্গে। যৌতুক অপরিহার্য। পূজা ও বিয়েতে মদ থাকে। বিয়ের আসরে গান ও নাচ হয়। বাগদীদের বহুল প্রচলিত বিয়ের অনেক গান এখনো টিকে রয়েছে।

    যেমন, ‘আইজুনি নয়া জামাই ঘুরো, তোমারি বরিয়া লিবে পুলের মত পিয়ার কুরি’। সংরক্ষণের অভাবে বাগদী সম্প্রদায়ের প্রাচীন ভাষা, সঙ্গীতসহ সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে।

    গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির শিশুদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করার জন্য ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। এদের বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেবেন বলে জানান।

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেহ ব্যবসা, শুনে অজ্ঞান প্রধান শিক্ষক

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেহ ব্যবসা, শুনে অজ্ঞান প্রধান শিক্ষক

    নড়াইল সদর উপজেলার নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাতে বিদ্যালয়ের ভবনের কক্ষে দেহ ব্যবসার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ওই নৈশপ্রহরীসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। বিক্ষোভ মিছিলের পর বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে এলাকাবাসীর নানা প্রশ্নে উচ্চ রক্তচাপে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ।

    এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের রাতেরবেলা বিদ্যালয়ে এনে এলাকার লোকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা চালান নৈশপ্রহরী লতিফ সিকদার। লতিফ একেক দিন একেকজন নারী নিয়ে আসেন আর প্রভাবশালীরা এসে তাকে টাকা দিয়ে যায়। এখানে যারা আসে তারা প্রভাবশালী বলে ভয়ে কিছু বলতে পারেনি এলাকাবাসী।

    বুধবার রাতে এলাকাবাসী হাতেনাতে এই অপকর্ম ধরে ফেলে বিদ্যালয়ের গেট আটকে দেয়। পরে প্রভাবশালী কিছু লোকের উপস্থিতিতে ছাড়া পান নৈশপ্রহরী লতিফ।

    এ ঘটনার পরদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঈদের ছুটিতে ১৩ জুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে অভিযুক্ত দপ্তরিকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

    নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে আসি। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদার, মফিজুর রহমান সিকদার, সুলতান আহমেদ ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।

    নৈশপ্রহরী লতিফ তাদের কাছে ছিলেন। আমি ওই সময়ই তাকে পুলিশে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে না পেরে সভাপতির জিম্মায় দিয়ে চলে আসি।

    শনিবার বিদ্যালয় খুললে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু শনিবার বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। ওই সময় এলাকার কিছু লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার কারণে উচ্চ রক্তচাপে অচেতন হয়ে পড়ি। পরে অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী লতিফ সিকদার নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, ওই দিন আমি বিদ্যালয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা আমি জানি না।

    প্রতিবেশী বিপ্লব মোল্যা বলেন, বিদ্যালয় হলো মানুষ গড়ার স্থান। এখানে এ ধরনের অপকর্ম দিনের পর দিন চললেও ম্যানেজিং কমিটি কিংবা প্রধান শিক্ষক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।

    এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানা পুলিশের এসআই রজত বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরির অপকর্মের অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় কয়েকজন জড়িত। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সন্তান জন্ম দেওয়ার ৩০ মিনিট পরেই স্নাতক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ!

    সন্তান জন্ম দেওয়ার ৩০ মিনিট পরেই স্নাতক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ!

    ইচ্ছে থাকলে এই দুনিয়ায় অসম্ভব বলে আর কিছুই থাকে না। তেমনই এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ইথিওপিয়ার মেতু অঞ্চলের এক নারী। সন্তান জন্ম দেওয়ার আধ ঘণ্টা পরেই স্নাতক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেন তিনি। পড়াশোনা, আর পরীক্ষার প্রতি এমন অপার আগ্রহ দেখে ওই নারীকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটদুনিয়ার মানুষজন।

    পশ্চিম ইথিওপিয়ার ২১ বছর বয়সী ওই নারীর নাম আলমাজ় ডেরেসে। রমজানের জন্যই পিছিয়ে গিয়েছিল তার স্নাতক পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা এমন দিনে এসে দাঁড়াল, সেই দিনই তিনি জন্ম দিতে চলেছেন সন্তানের। কিন্তু তাতে কী?গ্র্যাজুয়েট হওয়ার জন্য আরও এক বছর অপেক্ষা করবেন? সে সব ভেবেই হাসপাতালকেই পরীক্ষাকেন্দ্র বানিয়ে সেখানেই গ্র্যাজুয়েট হওয়ার স্বপ্নতরীতে ভেসে পরীক্ষা দিলেন আলমাজ়।

    তিনি নতুন মা। আবার প্রতি বছরে যে নতুন মুখগুলো গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে, সেখানেও তিনি নতুন। সন্তানের জন্মের পর পরীক্ষা দিয়ে আলমাজ় জানান, ‘পড়াশোনা, ক্যারিয়ার আমার জীবনে অন্য অর্থবহন করে। রমজানের জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় আমি একটু মুষড়ে পড়েছিলাম। কিন্তু তা আমাকে এক ফোঁটাও দোলাতে পারেনি। আর আমার ডেলিভারি খুব ভালো ভাবেই হয়েছিল। তাই ঠিক করে ফেলি, হাসপাতালে বসেই পরীক্ষা দেব।

    আলমাজ়’র এমনতর প্রয়াসে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্যুইটার থেকে ফেসবুকের মানুষজন। কেউ তাকে স্যালুট জানিয়েছেন। কেউ আবার তার কাছে মনোবল বাড়ানোর সহজ টোটকা চেয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ তাকে আর তার সদ্যোজাতকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

  • অভিভাবকহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    অভিভাবকহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২৭ মে সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের ৪ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে উপাচার্য শূন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এ কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম গতি হারিয়েছে। আটকে গেছে বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষা এবং ফলাফল।

    এতে সেশন জট আর প্রকট হওয়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিস্টরা। প্রধান ব্যক্তি (উপাচার্য) শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও গাছাড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং আর্থিক কর্মকান্ড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষাগারের ব্যবহারিক উপকরন না কিনতে পাড়ায় এবং উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ খরচ করতে না পাড়ায় ফেরত যাচ্ছে বিদায়ী অর্থ বছরের অর্থ।

    এমনকি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও আটকে যাওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিস্টরা। এদিকে, নতুন উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষকসহ ৩ জনের নাম জোড়ালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. একিউএম মাহাবুব। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন না জানানোর প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাঁচ্চা’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে সদ্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হকের বিরুদ্ধে। উপাচার্যের ওই মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে পরদিন ২৭ মার্চ থেকে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য তার একক ক্ষমতা বলে ২৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস এবং আবাসিক হল বন্ধ ঘোষনা করেন।

    এতে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রাবাস ত্যাগ না করে উপাচার্যের অপসারনের এক দফা দাবীতে আন্দোলন শুরু করেন। উপাচার্যের অপসারন দাবীতে টানা এক মাসেরও বেশী সময় ধরে ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীরাও উপাচার্য অপসারন দাবীর আন্দোলনে যুক্ত হলে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ৪৬ দিনের (১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে) ছুটি অনুমোদন দেন। এই সময়ের জন্য উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. একেএম মাহবুব হাসানকে। গত ২৬ মে উপাচার্যের ৪৬ দিনের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়। ২৭ মে ঢাকার লিয়াজো অফিসে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেন উপাচার্য ইমামুল হক। মূলত এরপর থেকেই অভিভাবক শূন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান রাখার ঘোষণা

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান রাখার ঘোষণা

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় বাজেটের এই অংশটি পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দীর্ঘ প্রায় নয় বছর বন্ধ থাকার পর আবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, শিক্ষকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর বন্ধ থাকার পর আবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষার উন্নয়নে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার কথা বলা হয়েছে। ২৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে যুক্ত করে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শিক্ষা বাজেটে মোট ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যা মোট বাজেট বরাদ্দের দশমিক ৭৫ শতাংশ। এটা জিডিপির ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। এটি এখন পর্যন্ত বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা।

    এ বছর শিক্ষা বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় মানসম্মত শিক্ষার বিষয়ে। এ বিষয়ে জাপানের সম্রাট মেইজির উদাহরণ টেনে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মেইজির সময়ে জাপান শিক্ষায় অনগ্রসর ছিল। তখন তিনি অনুধাবন করেন জাপানে ছাত্রের অভাব নেই, আছে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব। তাই তিনি প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষিত কয়েক হাজার শিক্ষককে জাপান নিয়ে আসেন। এভাবে জাপান জ্ঞানবিজ্ঞান অগ্রসর হয় এবং পাশ্চাত্যের দেশগুলোকেও জাপান ছাড়িয়ে যায়।

    ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত শিক্ষা বাজেটে উপযুক্ত শিক্ষক বাছাই ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে শ্রেণিকক্ষ তৈরি করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। ন্যানো টেকনোলজি, রোবটিক্স, ব্লকচেইন ম্যানেজমেন্ট ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিষয়ে জোর দেওয়ার কথাও জানানো হয়। সেই লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের কথা জানানো হয়।

    এতে ৫০৩টি মডেল বিদ্যালয়ে ইন্টার‍্যাক্টিভ ক্লাসরুম তৈরি হবে। ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন, নতুন জাতীয়করণকৃত ও বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এ ছাড়াও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদী শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয় যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়।

    কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতির জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুলের প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া ভূমি জরিপ, শিক্ষা উন্নয়ন, ২৩টি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়।

    কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চারটি বিভাগীয় শহর সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়।

    মাদ্রাসা শিক্ষায় এ বছর সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয় যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। এই অর্থ মাদ্রাসায় অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বৈষম্য দূরে ব্যবহারে ব্যয় হবে বলে জানানো হয়।

    অন্যদিকে শিক্ষকদের জন্য সুখবর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। আবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অংশ (মূল বেতন ও কিছু ভাতা) পেয়ে থাকেন। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

    এরপর থেকেই এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের মুখে গত বছরের জুলাইয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ জারি করে। এরপর গত আগস্টে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া হয়।

    মোট ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করে। যাচাইয়ে এমপিও নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করে যোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়েছে ২ হাজার ৭৬২টি। কিন্তু অর্থের অভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে পারছিল না। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে টাকা চাওয়া হয়। তাতে মোট ১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্তির ঘোষণা এলো।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা জানান, এমপিও পায় না এমন সাধারণ স্কুল ও কলেজ আছে সারা দেশে ৭ হাজার ১৪২টি। তবে এমপিওর জন্য অনলাইনে আবেদন করেছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার। মাউশির এক হিসাবে দেখা গেছে, ৭ হাজার ১৪২টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে বার্ষিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা দরকার।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মাউশির এক হিসাবে বলা হয়েছে, প্রতিটি ডিগ্রি কলেজ এমপিওভুক্ত করতে বছরে লাগে ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫০ টাকা; উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৩ লাখ ৮০ হাজার, আর নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লাগে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতোই মাদ্রাসাগুলোতে অর্থের প্রয়োজন।

  • পাবলিক পরীক্ষায় জিপিয়ে-৫ কমিয়ে জিপিএ-৪ করা হচ্ছে

    পাবলিক পরীক্ষায় জিপিয়ে-৫ কমিয়ে জিপিএ-৪ করা হচ্ছে

    পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ জিপিএ-৫ আর থাকছে না। এবার তা কমিয়ে জিপিএ-৪ করা হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষাস্তরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    বুধবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বৈঠক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বোর্ডগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বোর্ডে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (সিজিপিএ) পদ্ধতি রয়েছে। সর্বোচ্চ গ্রেড সিজিপিএ-৪ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল প্রকাশ করা হয়।

    অন্যদিকে প্রাথমিক সমাপনী, ইবতেদায়ি সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমান, এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এসব পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রেড-৫ ধরে ফল নির্ধারণ করা হয়। সকল স্তরে একই পদ্ধতিতে গ্রেড গণনা না থাকায় বিভ্রান্তি ও জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও গ্রেড সিজিপিএ-৪ নির্ধারিত রয়েছে।

    এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি জিপিএ-৪ এর ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণের প্রস্তাবনা তুলে ধরলে শিক্ষামন্ত্রী এতে সমর্থন দেন।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, “জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ নির্ধারণ করার বিষয়ে সবাই একমত। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা জমা দেব। পরে এসবের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

    তিনি বলেন, “এছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ করা হলে এটি হবে আন্তর্জাতিক মানের। বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থার গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে সমান্তরাল হবে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সর্বোচ্চ সিজিপিএ-৪ নির্ধারিত রয়েছে।”

    জিয়াউল হক আরও বলেন, “বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময় বা ব্যাপ্তিও কমিয়ে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা নেওয়াতে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়। ফলে এর সময় বা ব্যাপ্তি কমিয়ে আনা হবে।”

  • ওয়াক ফর লাইফের আয়োজনে বিশ্ব মুগুর পা দিবস পালিত

    ওয়াক ফর লাইফের আয়োজনে বিশ্ব মুগুর পা দিবস পালিত

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য: 

    বাঁকা পা কোন অভিশাপ নয়, চিকিৎসায় ভাল হয়।

    আজ ১৩ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় বরিশালে ওয়াক ফর লাইফের আয়োজনে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে বিশ্ব মুগুর পা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ছবি: শাওন অরন্য।

    আজ সকালে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল চত্তর থেকে র‍্যালি বের হয়ে বরিশাল কলেজ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল চত্তরে এসে শেষ হয়।

    পরে বিশ্ব মুগুর পা দিবস উপলক্ষে বরিশালে জেনারেল হাসপাতাল চত্তরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ছবি: শাওন অরন্য।

    এতে বক্তব্য রাখেন ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম,অর্থোপেডিক্স বিভাগ,বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, আর এম ও, জেনারেল হাসপাতাল বরিশাল, ডাঃ শাহাদাত হোসেন, মেডিসিন বিভাগ, জেনারেল হাসপাতাল বরিশাল। সুদীপ কুমার নাথ, সহঃঅধ্যাপক, ডি ডাব্লিউ এফ নার্সিং কলেজ, বরিশাল এবং মোঃ মাঝহারুল ইসলাম, কনসালট্যান্ট, ওয়াক ফর লাইফ।

    ছবি: শাওন অরন্য।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, চিত্রাংশু দাস,ফিজিওথেরাপিষ্ট,প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র।রাকিবুল হাসান প্রভাষক, আই এইচ টি, বরিশাল। তৌসিফ ইসলাম শাওন, আইটি অফিসার, ডি ডাব্লিউ এফ নার্সিং কলেজ বরিশাল।

    আরো উপস্থিত ছিলেন, ডি ডাব্লিউ এফ ম্যাটস এর মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট নুসরাত স্বর্না ও শাহীন মিয়া। ডি ডাব্লিউ এফ নার্সিং কলেজ ও ম্যাটস এর শিক্ষার্থীরা এবং বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ডক্টর ও নার্সবৃন্দ।

    ছবি: শাওন অরন্য।

    ওয়াক ফর লাইফের কনসালট্যান্ট মাঝহারুল ইসলাম বলেন মুগুর পা এটা জন্মগত রোগ। এ রোগে শিশুদের পায়ের পাতা বাকা হয়ে থাকে। মুগুর পা রোগ নিয়ে আমরা ২০১১ সাল থেকে বরিশাল বিভাগে কাজ করে আসছি।

    ছবি: শাওন অরন্য।

    এ পর্যন্ত আমরা ৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭৫৭ জন রোগীকে বিনামূল্যে এই পদ্ধতির চিকিৎসায় বিনা অপারেশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছি।

    এ ছাড়াও তিনি জানান প্রতি বছর ৩ জুন দিবসটি পালন হয়। সরকারি ছুটি থাকার কারণে এবছর ১৩ জুন দিবসটি পালন করা হল।

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে ওয়াক ফর লাইফ এই চিকিৎসা শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬০০ মুগুর পা শিশুর বিনামূল্যে সফল চিকিৎসা হয়েছে বাংলাদেশে।

  • যৌনপল্লীর বাচ্চারাও পড়াশোনা করবে, উদ্যোগ নিলেন সুমি দাস

    যৌনপল্লীর বাচ্চারাও পড়াশোনা করবে, উদ্যোগ নিলেন সুমি দাস

    কোচবিহার নিবাসী অরিন্দম দাস, সুমি হিসেবেই পরিচিত। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে প্রান্তিক লিঙ্গ এবং দলিত রূপান্তরকামী মানুষের অধিকার এবং জীবিকা নিয়ে কাজ করছেন। এই মুহূর্তে মৈত্রী সংযোগ সোসাইটি নামক একটি এনজিও’র প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন। স্টেশনে রাত কাটানো, যৌন পেশায় যুক্ত হওয়া থেকে আস্ত একটি এনজিও তৈরি করা- লড়াইটা খুব একটা সুখকর ছিল না। এবার সেই সুমি একটি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন।

    গত একমাস ধরে যৌনপল্লীর ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের বিনা পয়সায় পড়াশোনা শেখাচ্ছেন তিনি। গত ৬ মে থেকে কাজটি শুরু করেছেন। মৈত্রী সংযোগ সোসাইটি থেকে কোচবিহারের যৌনপল্লীর প্রায় কুড়ি জন বাচ্চাকে ওখানেই একটি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন বিকালে এই কাজটি করা হচ্ছে। বিকেলে সাধারণত বাচ্চাদের মায়েরা নিজেদের পেশার কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সুমি দাসের টিম এমন উদ্যোগ নিয়েছে। বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৭টা। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন সবার জন্য টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া শুধুমাত্র পড়াশোনাই নয়, নাচ-গান-ছবি আঁকা সবকিছুই যুক্ত রয়েছে সেখানে। সুমি দাস আমাদের জানান, “আমার মনে হয় ট্রান্সজেন্ডার মানুষের মতোই যৌনকর্মীদের বাচ্চারাও এই সমাজে বঞ্চিত। তাদের যদি একটু ভালোবাসা যায়, আপন করে নেওয়া যায়, তা আমাদের সমাজের জন্যই ভালো। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আমি চাই না কোনো পরিস্থিতিতেই ওরা বঞ্চিত হয়ে থাকুক। আমাদের এই উদ্যোগে হাত মিলিয়েছে সংলাপ সংগঠন।”

    সুমি (অরিন্দম) দাসের জন্ম কোচবিহারের দিনহাটা নামের একটি গ্রামে। এমন একটি পরিবারে তাঁর জন্ম হয়, যেখানে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাটাই অনেক বড়ো ব্যাপার। সেখানে বড়ো হয়ে উঠে নিজের সত্তাকে প্রকাশ করার কোনো জায়গা ছিল না। চৌদ্দ বছর বয়সে সুমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তখন যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। প্রথম আশ্রয়স্থল হল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। স্টেশনেই বেশকিছু রাত কাটান। খাবারের জন্য তাঁকে যৌনকর্মীর পেশা বেছে নিতে হয়েছিল। তারপরেই সুমি যুক্ত হন একটি এনজিওর সঙ্গে। সুমি বলেন, “গ্রামের আবহাওয়াটাকে অনেক পরে বুঝতে পেরেছি। বাইরের কারোর সঙ্গে মেশার কোনো সুযোগ ছিল না। আর মেয়েলি হওয়ার জন্য স্কুল-কলেজে সমস্যা তো হয়েই থাকে। আমার চোখটা কিন্তু খুলেছিল শিলিগুড়ি শহরে। তাই গ্রামের পরিবেশ খুব একটা ম্যাটার করেনি। নিজে যেখানে যৌনকর্মী হয়ে টাকা উপার্জন করতে শিখেছিলাম, সেখানে আমার উচিত তাদের বাচ্চাদের জন্যেও কিছু করা। সেই থেকেই এই ভাবনা।”

     

    আসলে গ্রামের সমস্যাটা একটু অন্য ধরনের। শহরের একটা সুবিধা হল আমরা সায়েন্স সিটিতে কী করছি, সেটা বালিগঞ্জের লোকটা জানতে পারছে না। এমনকি আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের লোকটাও জানে না। কিন্তু গ্রাম যেহেতু একটা ছোট্ট পরিসর, সেখানে সবাই আমাদের খবর রাখছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতাটা খুব কম। সুমিদের মূল লক্ষ্য হল জীবিকা। একটা মানুষ তখনই স্বনির্ভর হতে পারে, যখন তার হাতে টাকা থাকে। একমাত্র অর্থই পারে সমস্ত অপবাদ ঢেকে দিতে। তাই তাঁরা মৈত্রী সংযোগ সোসাইটি থেকে বিভিন্নরকম হাতের কাজ করে থাকেন। এবছর থেকে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও করছেন। এনজিও’র সবাইকে তাই জীবিকার উপরেই জোর দিতে বলছেন তিনি। সুমিদের এমন একটি উদ্যোগকে কি সাধুবাদ না জানিয়ে থাকা যায়! ঘরে ঘরে হাজার হাজার সুমি জন্ম নিক আর এইভাবে মানুষের পাশে থাকুক তাঁরা। পৃথিবীটা যে আসলে অনেকটা বড়ো। সমাজটাও।

  • চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির পক্ষ থেকে বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা

    চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির পক্ষ থেকে বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    শত ব্যস্ততার মাঝে দম ফেলার ফুসরত নেই। প্রতি নিয়ত কাজ করতে হয়। তার ভিতরে তাকে সবার খোঁজ খবর নিতে হয়। সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে হয়।

    তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    গতকাল ১০ জুন (সোমবার) চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির পক্ষ থেকে ছাত্র ছাত্রীরা বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে দেখা করতে আসেন।

    এসময় তারা সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ তাদের সাথে কুশালাদি বিনিময় করেন।