Category: শিক্ষাঙ্গন

  • টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জুলাই

    টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জুলাই

    বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের পরীক্ষা ওই দিন বেলা ১০টায় শুরু হয়ে ১১টা ২০ মিনিটে শেষ হবে।

    ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ১৯ জুলাই। বস্ত্র অধিদফতর ও সব কলেজের ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ডে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কলেজে ভর্তির আবেদন গত ১ জুন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত। ভর্তিচ্ছুদের দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৭ বা ২০১৮ সালে এসএসসি/সমমান পরীক্ষা বা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০১৯ বা ২০২০ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    আবেদনের যোগ্যতা
    ১. প্রার্থীকে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৭ বা ২০১৮ সালে এসএসসি/ সমমান পরীক্ষা বা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০১৯ বা ২০২০ সালে এইচএসসি/ সমমান পরীক্ষা পাস করতে হবে।
    ২. এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে নূন্যতম জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। এইচএসসি পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও ইংরেজিতে মোট গ্রেড পয়েন্ট কমপক্ষে ১৫ থাকতে হবে এবং প্রতিটিতে আলাদাভাবে ৩ পয়েন্ট থাকতে হবে।

    আবেদন ফি
    ১০০০ টাকা। শুধু টেলিটক অপারেটরের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

    কলেজ সাতটি হলো- চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ঝিনাইদহের শেখ কামাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, রংপুরের পীরগঞ্জের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং গোপালগঞ্জের শেখ রেহানা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।

  • ববি’র ক্যাম্পাসে অবাধে চরছে গরু

    ববি’র ক্যাম্পাসে অবাধে চরছে গরু

    করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এক বছরেরও বেশী সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। অবাধে গরু-ছাগল ঢুকে মাঠের চারপাশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লাগানো গাছের চারা খেয়ে ফেলছে।

    এতে সবুজ ক্যাম্পাস ধ্বংস হচ্ছে। ক্যাম্পাসের রাস্তায় গবাদি পশুর যত্রতত্র মলমূত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্যাম্পাসের রাস্তায় যাতায়াতেও সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যরা।

    বন্ধ ক্যাম্পাসে বেড়েছে বহিরাগতদের আড্ডাও। কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রিল বাউন্ডারি ও ৪টি গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতির কারণে এর সুফল বঞ্চিত হচ্ছে সবাই।

    ২০১১ সালে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে সদর উপজেলার কর্নকাঠী এলাকায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ক্যাম্পাসে রয়েছে ৪টি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, ২টি ছাত্রাবাস, ২টি ছাত্রী নিবাস, ভিসির বাসভবন, লাইব্রেরী, মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া ও টিএসসি ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ২টি ডরমেটরি, ১টি বিদ্যুৎ সাব স্টেশন সহ ছোট কিছু স্থাপনা।

    গত বছরের ১৭ মার্চের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    পরবর্তীতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে নিজস্ব বাসভবনে থাকেন উপাচার্য। ডরমেটরীতে থাকেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

    ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন সকাল-বিকেল ক্যাম্পাসে গিয়ে আড্ডা দেয় আশপাশের বিভিন্ন মেসে থাকা শত শত শিক্ষার্থী।

    শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গবাদি পশুর অবাধ বিচরণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রাচীর এবং গেট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, ক্যাম্পাসে গ্রিল বাউন্ডারি থাকলেও গেইট নেই। ইদানীং ক্যাম্পাসে গরু-ছাগল বিচরণ বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বরিশাল ল’ কলেজের নতুন নাম “শহীদ অ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়”

    বরিশাল ল’ কলেজের নতুন নাম “শহীদ অ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়”

    বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয়ের নামকরন করা হয়েছে ‘শহীদ অ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলের ৯২তম সভায় নতুন নামকরন অনুমোদিত হয়েছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান।

  • ভ্যাকসিন কভারেজের বাইরে ৪২ লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

    ভ্যাকসিন কভারেজের বাইরে ৪২ লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়ার আগে জরুরিভিত্তিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ লাখ ১০ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১০ লাখ ১ হাজার জনকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে ৪২ লাখ ভ্যাকসিন কভারেজের বাইরে থাকছেন বলে জানা গেছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, গত এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আগামী ৩০ মার্চ সশরীরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকা প্রদানের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

    যার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ৫২৪ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ হাজার শিক্ষকসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ১ লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। অনাবাসিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ সুবিধার আওতায় আনা হয়নি।

    এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষক, কর্মচারী এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন কভারেজের বাইরে রাখার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলে বর্তমান মহামারি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    অন্য দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৫৪ হাজার শিক্ষকের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ শিক্ষকের টিকাদান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশে বিদ্যমান অর্ধ লাখ কিন্ডারগার্টেন স্কুল থাকলেও এসব স্কুলের শিক্ষকরা টিকাদানের বিশেষ অগ্রাধিকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন বলে জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ লাখ ১০ হাজারের বেশি হলেও অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনার টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে মাত্র চার ভাগের এক ভাগ।

    বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ লাখ শিক্ষার্থী, ৬০ হাজার শিক্ষক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ লাখ শিক্ষক, কিন্ডারগার্টেনের লক্ষাধিক শিক্ষক এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও কর্মচারীসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থী মিলে শিক্ষা খাতের প্রায় ৪২ লাখ মানুষ এ সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

    জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় শিক্ষক ও ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানে এখনো বিশেষ অগ্রাধিকারের আওতায় আনা হয়নি। ৪০ ঊর্ধ্বে শিক্ষকরা নানাভাবে টিকা নিচ্ছেন। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে সবাইকে টিকা দেয়া প্রয়োজন। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সবাইকে টিকা প্রদানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বিশাল এই সংখ্যক শিক্ষক, কর্মচারী এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন কভারেজের বাইরে রাখার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলে বর্তমান মহামারি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়ার আগে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেককে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রত্যেককে অবশ্যই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে।

    এ দিকে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করার ঘোষণায় বলেন, আমরা দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকা প্রদান করব। আগামী ১৭ মে আবাসিক হল খোলার আগে এ কার্যক্রম শেষ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এই টিকাদানের বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষককে টিকা প্রদান করা হয়েছে। বাকিদের ৩০ মার্চের আগে টিকা প্রদান করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, যেসব কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি প্রাথমিক ও ইংরেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টিকা দেওয়ার আওতায় আনতে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তাদের নির্ধারিত সংখ্যা জানা না থাকায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তারা এ সুবিধা পাচ্ছেন না।

    জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষাখাতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকাদানের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। আমাদের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় একসঙ্গে সবাইকে এ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ধাপে ধাপে সবাইকে টিকাদান করা হবে।

  • ৩০ মার্চ স্কুল খোলা নিয়ে সংশয়

    ৩০ মার্চ স্কুল খোলা নিয়ে সংশয়

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় এক বছরধরে বন্ধ রয়েছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

    তবে দেশে করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমে আসায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একটি ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

    সেই সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ঈদের পর ২৪ মে থেকে শুরু হবে বলেও জানানো হয়।
    কিন্তু এই ঘোষণা দেওয়ার দু’দিন পরই ফের বাড়তে শুরু করে করোনা সংক্রমণ।

    যেদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়, সেদিন করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি শনাক্ত হার আরও কমে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়।

    কিন্তু ঘোষণার তৃতীয় দিন অর্থাৎ চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ করেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। ওইদিন রোগী শনাক্ত হার এক লাফে ৪ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। সেদিন ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা ছিল তার আগের ৪১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া একই দিন প্রায় এক মাস পর শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যাও ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এমনকি গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। শনাক্ত হার আবার ৫ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে এবং রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৩০ মার্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে।

    সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা।

    এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, স্কুল-কলেজ খোলার পর সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি যেন থাকে সেজন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকতে হবে। সংক্রমণ বাড়বে না সরকার যদি এ ব্যাপারে যথেষ্ট আস্থাবান হয় তাহলে স্কুল-কলেজ খোলা যেতে পারে।

    তবে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ১৫-১৬ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর একটা ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে।

    অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আগামীকাল ১৩ মার্চ বিকালে তথ্য মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে একটি বৈঠক ডেকেছে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকবেন। সেই সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া বলতে পারছি নাা স্কুল-কলেজ খুলবে কি না।

    তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিস্থিতির ওপর। তবে মনে হচ্ছে আরও দুই সপ্তাহ পরিস্থিতি দেখা প্রয়োজন। তাহলে সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে। আর যদি সংক্রমণ এভাবে বাড়তেই থাকে, তবে সেটা অবশ্যই শঙ্কার বিষয়।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ৩০ মার্চ

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ৩০ মার্চ

    আগামী ৩০ মার্চ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শুরু হয়ে চলে টানা দুই ঘণ্টা।

    সভা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    সভার সিদ্ধান্ত ‍তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‌‘প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী মার্চ মাসের ৩০ তারিখে খুলে দেব। আগেও যেভাবে বলেছি, পর্যায়ক্রমে প্রথমেই প্রাথমিকে হয়ত পঞ্চম শ্রেণিকে প্রতিদিন আনব।

    আমরা দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিকে প্রতিদিন আনব। বাকি ক্লাসগুলো হয়তো প্রথমে সপ্তাহে একদিন আসবে, কয়েকদিন পর থেকে তারা সপ্তাহে দুদিন আসবে। পর্যায়ক্রমে আমরা স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’

    এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিক্স, সেভেন ও এইট (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি) গোড়ার দিকে সপ্তাহে একদিন একদিন করে আসবে।

    তারপর অবস্থা বিবেচনায় আমরা সেটাকে বাড়াব। যদি দেখা যায় টিকার কারণে দেশে একেবারেই কোনো সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে না, তাহলে তো আমরা ২-৩ সপ্তাহ পর থেকেই একেবারে স্বাভাবিক ক্লাসে চলে যেতে পারি।

    আর যদি দেখা যায় এখনও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে গেছে, তাহলে তখন আমরা স্ট্যাগার করে করে করা, যতদিন প্রয়োজন মনে করব আমরা করে যাব।

    ‘আর একাদশ ও নবম তাদের আমরা দ্বাদশ ও দশমের মতো প্রতিদিন আনব না। কিন্তু গোড়াতেই হয়ত দুদিন চেষ্টা করব।

    তারপর হয়ত আরেকটু বাড়ানোর চেষ্টা করব। কারণ ওরা এ বছর পরীক্ষা না দিলেও আগামী বছর দেবে। কাজেই ওদের অন্যদের চেয়ে বেশি সময় দিতে হবে।

    দীপু মনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রাক-প্রাথমিককে এখন আনব না। সেটি আমরা অবস্থা বিবেচনা করে পরে কখন আনব, সেটি পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

    তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে অন্যান্য যে প্রস্তুতি সেই প্রস্তুতিগুলো আমাদের নেয়া হয়েছে।

    আমরা আশা করছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আগে শিক্ষক ও কর্মচারীদের করোনা টিকা দেয়ার যে বিষয়টি, সমাপ্ত করতে পারব।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও কোথাও যদি মেরামত বা সংস্কারের দরকার হয়। আপনারা জানেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে আমরা বলেছি ১৭ মে যে হলগুলো খুলে দেয়া হবে; এর আগেই সংস্কার কাজ, মেরামতের কাজ যা কিছু প্রয়োজন হবে সেগুলো করবো।

    আর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, পিডব্লিউডি- এদের সকলের মাধ্যমে মেরামতের কাজগুলো সম্পন্ন করব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধিগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি-না, যে নোটিশগুলো থাকা দরকার সেগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে কি-না, সেগুলো তারা দেখবেন।

    আর আমাদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যারা মাঠ পর্যায়ে আছেন তারাও এই বিষয়গুলো মনিটর করবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালে যারা এসএসসি দেবেন তাদের জন্য ৬০ কর্মবিসের সিলেবাস ও এইচএসসির জন্য ৮০ কর্মদিবসের সিলেবাস প্রণয়ন করেছি। তাই তাদের সেই ৬০ ও ৮০ কর্মদিবস ক্লাস করানোর জন্য চেষ্টা করব তাদের ক্লাসে ছয় দিন আনতে।

    ‘স্কুল-কলেজ খোলার ২ মাসের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা আছে- তখন বলেছিলাম যদি এখন খোলা সম্ভব হয়…যখনই খুলি আমাদের ৬০ কর্মদিবস।

    আমরা মার্চের শেষে খুললে এর পর থেকে ৬০ কর্মদিবস তাদের ক্লাস করিয়ে, পরীক্ষার আগে আরও সপ্তাহ দুয়েক সময় আরও দিয়ে তাদের পরীক্ষাটা নেব।

    তিনি বলেন, ‘মার্চের শেষে খুললে এরপর ৬০ কর্মদিবস এরপর ঈদের ছুটি আছে। অন্যান্য ছুটি আছে, সাপ্তাহিক ছুটি আছে। সবকিছু মিলিয়ে হয়ত পরীক্ষাটা জুলাই মাসে চলে যেতে পারে। হিসেবটা সেভাবে হবে।

    তবে কী এবার পুরো রোজায় ছুটি থাকবে না, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রোজার ছুটি পুরো রোজায় থাকবে না।

    কারণ একটা বছর তো বন্ধই ছিল। আমরা ছোট বেলায় দেখেছি, রোজার সময় কিন্তু আমরা ক্লাস করতাম, শুধু ঈদের সময় আমাদের একটা ছুটি থাকত। এবারও আমরা সেরকমই করব।

    ছেলেমেয়েরাও এক বছর বাড়িয়ে থাকতে থাকতে একটু হাঁপিয়ে উঠেছে। আমার মনে হয় না রোজার সময় ওদের স্কুলে আসতে আপত্তি থাকবে। শুধু ঈদের সময় কয়েক দিন ছুটি থাকবে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে টিকার বিষয়ে সারা দিচ্ছে। টিকার সংখ্যা যত বাড়বে থাকবে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাব।

    শিক্ষকদের দ্রুত টিকা আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের সবাইকে কী টিকার আওতায় আনা যাবে কিনা- এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি।

    ইতোমধ্যে প্রাথমিকের দেড় লাখ শিক্ষক টিকা নিয়ে নিয়েছেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষকদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন ও টিকা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।

    এ বিষয়ে সহযোগিতা দিতে জন প্রতিনিধিদের সহযোগিতাও চেয়ে চিঠি লেখা হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    আগামী ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে, শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে হলে উঠতে হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা যাকে কিনা।

    কিংবা কত শিক্ষার্থীর টিকা লাগবে সেই ডাটাবেজ আছে কিনা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমাদের ২২০টি আবাসিক হল আছে, এর আবাসিক ছাত্র সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার।

    এই আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির মাধ্যমে টিকা পাঠিয়েছি গত বুধবার।

    তারা যাকে সকল আবাসিক শিক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বারসহ আমাদের কাছে টিকার জন্য তালিকা পাঠাবেন। সেটা আমরা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠিয়ে দেব।

    ‘আবসিক শিক্ষার্থীরা দেশের যেখানেই থাকবেন। সেখান থেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে এবং নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে তারা টিকা নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি ১৭ মে-র আগেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

    শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অংশ নেন।

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. কামাল হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

    গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যায় কিনা- সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কথা জানিয়ে ওইদিন প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘সরকার খোলার (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) পরিবেশটা প্রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে একটা মিটিংয়ে বসব। এটা আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং হবে।

    এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলে ফেরার আন্দোলন শুরু করেন। কোনো কোনো স্থানে শিক্ষার্থীদের তালা ভেঙে হলে প্রবেশের ঘটনাও ঘটে। এ পরিস্থিতিতে ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • ২ এপ্রিল এমবিবিএস ও ৩০ এপ্রিল বিডিএসের ভর্তি পরীক্ষা

    ২ এপ্রিল এমবিবিএস ও ৩০ এপ্রিল বিডিএসের ভর্তি পরীক্ষা

    চলতি বছরের ২ এপ্রিল ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও ৩০ এপ্রিল বিডিএসের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা) ডা. আহসান হাবীব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, আগামী ২ এপ্রিল এমবিবিএস এবং ৩০ এপ্রিল বিডিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে এমবিবিএস কোর্সের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১ মার্চ পর্যন্ত। আর বিডিএস কোর্সের আবেদন শুরু হবে ২৭ মার্চ থেকে। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

    জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হলে ৪ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমবিবিএস এবং বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির পূর্বনির্ধারিত তারিখেই চলতি বছরের এমবিবিএস এবং বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ২৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ডেন্টাল ভর্তি আবেদন চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর প্রবেশপত্র প্রদান, সিট প্ল্যান প্রণয়নসহ নানা কার্যক্রম শেষ করে আগামী ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টায় বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় জানুয়ারির ‍শুরুর দিকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস এবং বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি।

    ওই সময় তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আগামী ২ এপ্রিল এমবিবিএস এবং ৩০ এপ্রিল ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বৈঠকে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় জানিয়েছিলেন ডা. এ কে এম আহসান হাবীব।

    প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ৫ মার্চ আর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা ২ এপ্রিল নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় জানুয়ারির ‍শুরুর দিকে আবার বসে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি। সেখানেই ২ এপ্রিল এমবিবিএস এবং ৩০ এপ্রিল ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • এসএসসি-এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ

    এসএসসি-এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তৈরি এই পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। পরে রাতে শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়।

    এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে তৈরিকৃত সিলেবাসের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা এটি ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে পাঠিয়েছি।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি এসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করেছিল ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠে। প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তিন বা চার মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয় বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান।

    তারপর সিলেবাসটি আরো সংক্ষিপ্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারি সিলেবাসটি আরো সংক্ষিপ্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এনসিটিবিকে।

  • অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু

    অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের অনার্স ২য় বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। চলবে আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত।

    রোববার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অনার্স ২য় বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। চলবে আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত। পরীক্ষা প্রতিদিন দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd) থেকে জানা যাবে।

  • এইচএসসি’র ফল: শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ক্ষমতা দিয়ে গেজেট প্রকাশ

    এইচএসসি’র ফল: শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ক্ষমতা দিয়ে গেজেট প্রকাশ

    করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    এ কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত, প্রকাশ ও সনদ বিতরণের ক্ষমতা শিক্ষা বোর্ডগুলোকে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

    মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে তিনটি গেজেট জারি করা হয়।

    এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পরামর্শক কমিটির সুপারিশ মোতাবেক নয়টি সাধারণ বোর্ডের সঙ্গে মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে এই ক্ষমতা দেয় সরকার।

    এতে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত কারণে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় এ সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন করা হয়েছে।

    ওইসব সংশোধিত আইনের ক্ষমতাবলে এ সংক্রান্ত গঠিত পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ডগুলোকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ফলাফল প্রস্তুত আছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

    পরীক্ষা ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করতে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২১’ ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২১’ গেজেট আকারে জারি করে সরকার।

    আইনগুলো সংশোধন হওয়ায় এখন বিশেষ পরিস্থিতে মহামারী, দৈব দুর্বিপাকের কারণে বা অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনও পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ করা সম্ভব না হলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দিয়ে কোনও বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিয়ে প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ দেওয়ার নির্দেশ জারি করতে পারবে।

    গত বছরে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

    প্রতিবছর ১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার করোনা মহামারীর কারণে বাতিল করা হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী জানান, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে এবারের ফল।

    অন্যদিকে, আইনে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের বিধান থাকায় তা সংশোধন করে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশের বিধান যুক্ত করতে হয়েছে। গত রবিবার জাতীয় সংসদে তা পাস হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতিও আসে ওই দিন রাতে।