Category: শিক্ষাঙ্গন

  • আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ

    আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ

    কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস শুরু হচ্ছে শিগগিরই। বাকিদের আপাতত সপ্তাহে এক দিন করে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে হবে। আজ রোববার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে পরীক্ষা ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিল পাস হওয়ার পর দেওয়া বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর এখন শুধুমাত্র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হবে। বাকিরা সপ্তাহে এক দিন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করবে।

    তিনি বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়মিত ক্লাস হবে। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন করে ক্লাসে আসবে। পুরো সপ্তাহের পড়া নিয়ে যাবে। পরের সপ্তাহে আবার একদিন আসবে।

    এর আগে সকালে পরীক্ষা ছাড়া অটো পাস বিষয়ে ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ এবং ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ সংসদে পাস হয়েছে।

    এদিকে, গত ১৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে করোনার কারণে পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল প্রকাশে সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে উত্থাপিত হয়। খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ দুই দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী জানান, ফল প্রস্তুত রয়েছে। আইন পাস হলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

    করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধই রয়েছে দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১০ মাসের অচলাবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারেনি দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থী।

    পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় ১১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় শিক্ষা বোর্ড সংক্রান্ত তিনটি আইনে সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করে সরকার।

    মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় শীতকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। এ সময় ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২১, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল-২০২১ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল-২০২১ সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    তিনি জানান, সংসদে আইন পাস হলেই ফল প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার ফলাফল আমাদের প্রস্তুত রয়েছে। বিদ্যমান আইনে যেহেতু রয়েছে পরীক্ষাপূর্বক ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি কারণে আমরা এবার পরীক্ষা নিতে পারিনি। বিশেষ পদ্ধতিতে ফলাফল দিতে চাচ্ছি। এ জন্য আইনটি সংশোধন প্রয়োজন।

    এই সংশোধনী আইনে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিনা পরীক্ষা কিংবা সীমিত সিলেবাসে বিশেষ মূল্যায়নের বিধান রাখা হয়েছে। সংসদে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিলটি একদিনের মধ্যে এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সংশোধনী আইনটি দুদিনের মধ্যে বিশদ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। আইনটি পাস হলে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে এইচএসসির ফল প্রকাশ পাবে বলে আশা করছে সরকার।

  • দশম-দ্বাদশে সপ্তাহে প্রতিদিন, প্রাথমিকে একদিন ক্লাস

    দশম-দ্বাদশে সপ্তাহে প্রতিদিন, প্রাথমিকে একদিন ক্লাস

    শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা একটি নির্দেশনা দিয়েছি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবার যে প্রাক প্রস্তুতি সেটি সম্পূর্ণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস খুলে দেবার জন্য যা যা প্রস্তুতির প্রয়োজন সেই সমস্ত প্রস্তুতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়ে নেবে। তারপর আমরা অবস্থা বুঝে এবং আমাদের জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী কোন দিন থেকে খুলব সেটি ঘোষণা করব।

    রোববার (২৪ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল ২০২১ বিলের ওপর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবের ওপর এমপিদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একথা বলেন।

    ক্লাস কিভাবে হবে তার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যখন খুলব যাদের এসএসসি এবং এইচএসসি আছে ২০২১ সালে তাদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর পরীক্ষা হবে। সেই ক্ষেত্রে দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তারা প্রতিদিন ক্লাস করবে আর অন্যান্য ক্লাসগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে হয়তো একদিন করে আসবে এবং সেই দিন সারা সপ্তাহের কাজ নিয়ে যাবে আবার পরের সপ্তাহে এসে সেই কাজ নিয়ে শিক্ষকদের সাথে আলাপ আলোচনা করবে। ক্লাস সাইজটা অনেক বড়।

    তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই গাদাগাদি করে আমাদের শিক্ষার্থীদের বসতে হয় সেটি এই মহামারির মধ্যে তো আমরা বসাতে পারব না। তাদের সেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই বসতে হবে। সেক্ষেত্রে সবাইকে এক সঙ্গে আনার সুযোগই থাকবে না। কাজেই আমরা দশম এবং দ্বাদশকে নিয়ে আসব তাদের পরীক্ষা দেবার স্বার্থে। বাকিদের প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে এই কারণেই বলছি, তারা একদিন করে আসবে। যখন দেখব মহামারি আর সেই অবস্থায় নেই এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের আর সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই, আশঙ্কা নেই-তখন তারা পুরোদমে ক্লাস করবে সেইরকমই চিন্তাভাবনা রয়েছে।

  • পরীক্ষা ছাড়াই প্রকাশ করা যাবে এইচএসসির ফলাফল

    পরীক্ষা ছাড়াই প্রকাশ করা যাবে এইচএসসির ফলাফল

    অনিবার্য পরিস্থিতিতে পরীক্ষাগ্রহণ ব্যতীত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সনদ প্রদান করার সুযোগ দিয়ে তিনটি বিল পাস করা হয়েছে।

    রোববার (২৪ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে তিনটি পৃথক বিল পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    এর মধ্য দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে পরীক্ষা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা দূর হলো। এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। এখন যে কোন দিন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    পৃথক তিনটি বিলে যা আছে- ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২১ ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১-১৮(২) এর (vi)(vii)(viii) উপধারায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।

    উল্লেখ্য ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয় নাই। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    অতিমারি (pandemic), মহামারী(epidemic), দৈব দুর্বিপাক (Act of God) এর কারণে বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত কোন অনিবার্য পরিস্থিতিতে পরীক্ষাগ্রহণ ব্যতীত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সনদ প্রদান করা যাবে।

    বিলের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স-১৯৬১ সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২০ এর খসড়া প্রস্তুত করে মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে ১১ জানুয়ারি তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক খসড়া আকারে প্রকাশ করে।

    এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন ২০২০ (২০২০ সালের ২৭ নং আইন) ধারা ৯ এর (ঙ) উপধারায় মাদরাসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।

    উল্লেখ্য ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশে মাদ্রাসার স্তরে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বর্ণিত পেক্ষাপটে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন ২০২০ সালের ২৭ নং সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিমারি, মহামারী ,দৈব দুর্বিপাক এর কারণে বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত কোন অনিবার্য পরিস্থিতি কোন পরীক্ষা গ্রহণ ফল প্রকাশ এবং সনদ প্রদান করা সম্ভব না হলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা কোন বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ ব্যতীত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষা গ্রহণ করে উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ প্রদানের জন্য নির্দেশনাবলী জারি করার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।যা কমিটি চূড়ান্ত বলে গণ্য করেছে। একইভাবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল ২০২১ সংশোধন করা হয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রস্তুতির নির্দেশ

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রস্তুতির নির্দেশ

    দেশের সব মাধ্যমিক, স্কুল ও কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরযুক্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এর আগে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

    এ নিয়ে শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, এখন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

    ‘আপনারা জানেন কোভিড-১৯ অতিমারী চলাকালীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। সেই লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে এ গাইডলাইন অনুযায়ী আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়া মাত্র প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া যায়। ’

    চিঠিতে আরও বলা হয়, শুধু করোনাকালীন সমস্যা মোকাবিলা নয়, বরং মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের এখনই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও আনন্দময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বিষয়টি অতি জরুরি উল্লেখ করে সব মাধ্যমিক, স্কুল ও কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরযুক্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    এরআগে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক অনলাইন সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার আগে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    ওই সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, প্রস্তুতি শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে।

    গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। সবশেষ ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

    জুনে এসএসসি এবং জুলাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আর ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছিলেন তিনি।

  • শ্রেণি পাঠের নতুন গাইডলাইন

    শ্রেণি পাঠের নতুন গাইডলাইন

    করোনার কারণে বন্ধ থাকা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলা হলেও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিখন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার চাহিদা পূরণের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    শনিবার (২৩ জানুয়ারি) এ গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    নির্দেশিকা প্রণয়নে অনুসরণ করা মূলনীতির মধ্যে রয়েছে-

    শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া।

    জাতীয় পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে হবে

    এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রশাসন এবং কমিউনিটি) সম্পৃক্ত করতে হবে

    স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুকরণ এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি, বাছাই ও তা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাসঙ্গিক করতে হবে।

    দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত, জেন্ডার, নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধিতা বিবেচনা করে সবার জন্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    প্রতিটি শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আনন্দঘন শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রতিটি শিক্ষার্থীর পুষ্টি উন্নয়নের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুষ্টি শিক্ষা এবং পুষ্টিসেবা প্রদান নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

    কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে নতুন স্বাভাবিকতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সরকারি/বেসরকারি, আবাসিক/অনাবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) জন্য বিবেচনা করতে হবে।

    সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা, জনবল ও দক্ষতা ইত্যাদি বিবেচনায় বাস্তবসম্মতভাবে নির্দেশনা প্রণয়ন করতে হবে।

    নির্দেশিকা প্রণয়নে যেসব স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সূচককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো-
    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবার সর্বদা মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা।

    প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে নির্দেশিত (৩ ফুট) শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
    একসঙ্গে অধিক সংখ্যক মানুষের জমায়েতকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পর পর নিয়ম মেনে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার পালন করা ও উৎসাহিত করতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেঝেসহ সব এলাকা প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পানি, স্যানিটেশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা রাখা এবং পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

    শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা এবং কেউ অসুস্থ/আক্রান্ত থাকলে/হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কন্টাক্ট ট্রেসিং করে অন্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে গুজবের আতঙ্ক ও মহামারির বিস্তার রোধে শিক্ষার্থীসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও গাইডলাইনে বলা হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সরকারি/বেসরকারি, আবাসিক/অনাবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এই নির্দেশিকা ব্যবহার করতে পারবে।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে থেকে পুনরায় চালু হবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করবে সরকার। তবে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশকিছু উদ্যোগ (বিশেষ করে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থসংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ) গ্রহণ করবে। প্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি ঘোষণা অনুসরণের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নিয়ে এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার বিষয়ে সবাইকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

    এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, করোনা সংক্রমণের বিস্তার বিবেচনায় নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে দেখার কথা বলা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবে কিনা, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার প্রভাব সেখানকার শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে পড়েছে এবং প্রতিষ্ঠান খোলা হলে এবং চালু রাখলে, তা ওই এলাকায় সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে কিনা ইত্যাদি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে।

    সব পরিস্থিতি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

  • এইচএসসির ফল প্রকাশে তিন বিল পাস রোববার

    এইচএসসির ফল প্রকাশে তিন বিল পাস রোববার

    পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের বাধা দূর করতে সংসদে তিনটি বিল উত্থাপন করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আগামীকাল রোববার সংসদের বৈঠকের কার্যসূচিতে ওই তিনটি বিল পাসের সূচি রাখা হয়েছে।

    গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’, সংসদে উত্থাপন করেন।

    পরে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন বিলটি একদিনের মধ্যে এবং বাকি দুটি দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনটি বিলই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সংসদে পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

    বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল দেওয়ার বিধান রয়েছে। সংশোধিত বিলে পরীক্ষা ছাড়াই বিশেষ পরিস্থিতিতে ফলাফল প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে।

    কিন্তু করোনাভাইসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় গত ৭ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মত এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া যাচ্ছে না।’

    সেদিন তিনি জানান, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে। কিন্তু আইনে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের বিধান থাকায় গতবছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আর ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে নতুন বছরের শুরুতেই ফল প্রকাশের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু সংসদ অধিবেশন বসার সময় হয়ে যাওয়ায় অধ্যাদেশের ঝামেলায় না গিয়ে একেবারে সংসদে বিল পাস করার পক্ষে মত দেয় মন্ত্রিসভা। গত ১১ জানুয়ারি ওই আইন তিনটি সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।

  • হাসপাতালের ১০ জরুরি পরীক্ষার ফি নির্ধারণ

    হাসপাতালের ১০ জরুরি পরীক্ষার ফি নির্ধারণ

    দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীকে দেওয়া অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন সরকার। শুধুই অক্সিজেন নয়, কোভিড-১৯ সম্পর্কিত আরো ১০টি বিষয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি (মূল্য তালিকা) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। এই তালিকা সংশ্লিস্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উন্মুক্ত স্থানে (দৃশ্যমান) টাঙ্গাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমুহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞার স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নতুন মূল্য তালিকা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইে তালিকা শিগগিরই হাইকোর্টে দাখিল করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

    হিউম্যান রাইটস ল’ইয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিং এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলমের করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতবছর ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে তা উš§ুক্তস্থানে প্রদর্শনের জন্য সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মূল্য তালিকা র্নিধারণ করে তা মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে।

    নির্ধারিত অক্সিজেনের মূল্য

    নতুন নির্দেশনায় একক অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মেনিফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার সিস্টেমে ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১০০ টাকা, ৬ থেকে ৯ লিটারের জন্য ১২৫ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ১৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (জেনারেটর বেইজড) ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০ টাকা, ৬ থেকে ৯ লিটারের জন্য ৩শ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ৩৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (লিক্যুইড অক্সিজেন ট্যাংক বেইজড) ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০টাকা, ৬ থেকে ৯ লিটার ব্যবহারের জন্য ২৫০ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ৩শ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের মূল্য ৫শ টাকা নির্ধারণ করার হয়েছে।

    অন্যান্য জরুরি ১০টি পরীক্ষার মূল্য

    সিবিসি পরীক্ষার স্থিরকৃত সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৪শ টাকা। এছাড়া সর্বনিম্ন ৪শ ও সর্বোচ্চ মূল্য ৬শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিআরপি পরীক্ষার স্থিরমূল্য ৬শ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬শ থেকে ৯শ টাকা।এলএফটি পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করেছে একহাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৯৫০ থেকে একহাজার ৬শ টাকা। এস.ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য ৪শ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৩শ থেকে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এস ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে একহাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৮৫০ থেকে ১৪৫০ টাকা।

    ডি. ডিমার পরীক্ষার স্থিরমূল্য দেড় হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ১১শ থেকে ৩ হাজার ২শ টাকা। এস. ফেরিটিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২শ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে একহাজার টাকা থেকে ২২শ টাকা। এস.প্রোকালসিটোনিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য দুইহাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫শ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা।

    সিটি স্কেন (চেস্ট) এর স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৫ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা। চেস্ট এক্স-রে (এ্যানালগ)’র স্থিরমূল্য ৪শ টাকা, এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৩শ থেকে ৫শ টাকা এবং চেস্ট এক্স-রে (ডিজিটাল)’র স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬শ টাকা। এর সর্বনিু ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫শ থেকে ৮শ টাকা।

  • ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা

    ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা

    করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে খুলে দেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। ১৭ জানুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের গণমাধ্যমে এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।’

    তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের আংশিক উপস্থিতিতে ক্লাস নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতি বছরের এসএসসি সমমান ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    ফেব্রুয়ারি থেকে সব শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরু হবে না বলেও জানিয়েছে মাউশি। চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করতে ক্লাস শুরু করা হবে। ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস শুরু করা হবে।

    ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী পাওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে

  • এইচএসসি ও সমমানের ফল ২৮ জানুয়ারির মধ্যে

    এইচএসসি ও সমমানের ফল ২৮ জানুয়ারির মধ্যে

    আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

    সোমবার (১১ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

    এর আগে মন্ত্রিসভায় করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশোধিত আইন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা এ অনুমোদন দেয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রান্ত থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

    বৈঠকে ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ১৯৬১’ এবং সংশোধিত ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৮’ও ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০২০’এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে আনা হয়েছিল অধ্যাদেশ করে আগামী বুধবার, বৃহস্পতিবার বা শনিবারের মধ্যে (এইচএসসি) ফলাফল দেওয়া যায় কিনা।

    যে পদ্ধতিতে ওনারা চিন্তা-ভাবনা করছেন, ফলাফল ক্যালকুলেশন করে প্রস্তুত করে রেখেছেন, কিন্তু আগের আইনের বিধান হলো- পরীক্ষা নিয়ে ফলাফল দিতে হবে। কিন্তু এখন যেহেতু পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ওনারা যে পদ্ধতিতে ফলাফল প্রস্তুত করে রেখেছেন, সেই পদ্ধতিতে আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে ফলাফল দিয়ে দেবেন।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কেবিনেটে আলোচনার পর দেখা গেল, আর মাত্র সাতদিন পর সংসদ বসবে (১৮ জানুয়ারি)। পার্লামেন্ট যেহেতু কল করা হয়েছে, এটা যেহেতু একেবারেই কাছে, কেবিনেট সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এখন যদি আমরা অর্ডিন্যান্স করি, তবে আবার অর্ডিন্যান্স গিয়ে পার্লামেন্ট থেকে এসে ভেটিং করতে করতে সময় পাওয়া যাবে না। কারণ মাত্র ১০ দিন পার্লামেন্ট বসবে। অধিবেশনের প্রথম দিনই পাস করে ফেলা হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে এটা অর্ডিন্যান্স করার দরকার নেই। এটা ভেটিং সাপেক্ষে সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হলো। প্রথম দিনই এটা পুটআপ করে দুই-তিনদিনের মধ্যে আইন করে যাতে ২৫, ২৬ বা ম্যাক্সিমাম ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ফলাফল দিয়ে দেওয়া যায়, এটাই আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এর আগে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৮ জানুয়ারি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংশোধিত আইন উপস্থাপন ও পাসের পর এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

    তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশে সংশোধিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আইন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন আর অধ্যাদেশ হচ্ছে না। সংশোধিত আইন অনুযায়ী দুর্যোগকালীন পরীক্ষা নিতে সক্ষম না হলে মূল্যায়ন তথা ফলাফল দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে পরীক্ষা ছাড়া ফল প্রকাশের বিধান নেই।

    প্রতি বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে থাকলেও এবার মহামারির কারণে পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

    করোনা মহামারির কারণে এ বছর পরীক্ষা না নিয়ে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

    গত ৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে এবারের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। এজন্য অধ্যাদেশও জারি করা হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষার ফল দেওয়া হবে। এজন্য জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে ফল ঘোষিত হবে।

  • ঘরে বসে যেভাবে পাবেন এইচএসসির ফল

    ঘরে বসে যেভাবে পাবেন এইচএসসির ফল

    ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পেতে শুরু হয়েছে প্রি-রেজিস্ট্রেশন। রেজিস্ট্রেশনের ফলে ফল প্রকাশের দিন ঘরে বসেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়েছে টেলিটক।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলের প্রি-রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। ঘরে বসে ফল পেতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে। প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নাম দিয়ে স্পেস দিয়ে রোল লিখে স্পেস দিয়ে ২০২০ লিখে 16222 নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে। [HSC BordName Roll Year]’

    এদিকে, ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা না নিয়ে এইচএসসি’র ফল প্রকাশ করতে আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অধ্যাদেশ জারির সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির কারণে বাতিল করা হয় ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা ছাড়াই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল গড় করে প্রকাশ করা হবে এইচএসসির ফল। যেখানে জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ পার্সেন্ট বিবেচনায় নিয়ে ঘোষণা করা হবে ২০২০ সালের এইচএসসির ফলাফল। অধ্যাদেশ জারির পর আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হবে।