
মেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়,ক্ষুদে বিজ্ঞানিদের তৈরি প্রজেক্ট, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তিতা,সাইন্স অলেম্পিয়াড। সিনিয়র গ্রুপে উপস্থিত বক্তিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে সরকারি বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র মোঃ আবু সুফিয়ান শেখ।





প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন। এইসব কাজে (পরীক্ষা) যারা বাধার সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে সোপর্দ করেন।
আজ শুক্রবার এফডিসি মিলনায়তনে নবম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘বিতর্ক বিকাশ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসে ইতোমধ্যে ৫২টি মামলা করে ১৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করছি। আগামী এইচএসসি পরীক্ষায় অতি অল্প সময়ে বড় পরিবর্তনে যাব না, সেখানেও কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছি যেগুলো আগে নিইনি। এতে আশা করছি বেশি কার্যকর হবে। এর পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনব।
নাহিদ বলেন, ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার হলে ৩০ মিনিট আগে ঢুকিয়ে ফেলছি। প্রশ্নের খাম খোলার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩০ মিনিট আগে। তার পরেও কেউ না কেউ একটা স্টেপ নিয়ে প্রচার করে দিচ্ছে।
এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনালে বরিশালের বাবুগঞ্জের রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে; রানারআপ হয়েছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ইসহাকপুর পাবলিক হাই স্কুল।

শেখ সুমন :
বই পড়া কার্যক্রমে কৃতিত্বের জন্য বরিশাল নগরীর ৩৩টি স্কুলের এক হাজার ৮১২ জন স্কুল শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করেছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র।
শুক্রবার সকালে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে গত ৪০ বছর ধরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সারাদেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়া কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের ১৪ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৪ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির সদস্য।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অভিনেতা ও লেখক খায়রুল আলম সবুজ, এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ, গ্রামীণ ফোন বরিশাল সার্কেলের হেড অব মার্কেটিং দ্বীপেশ কুমার দাশ এবং বরিশাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছারাও আরো উপস্থিত ছিলেন ড. বাহউদ্দিন গোলাপ।
২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বই পড়া কর্মসূচিতে এই শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দেয়ায় তাদের বই উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকের দ্বায়িত্ব পালন করেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্রের বরিশাল মহানগরের ১০ জন সদস্য ।

মাহামুদ হাসান :
প্রশ্নপত্র স্টীলের আলমিরায় তালাবদ্ধ করে রেখে প্রধানশিক্ষক গিয়েছিলেন একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে। তাই উন্মূক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘন্টা পর। প্রধানশিক্ষকের এহেন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সচেতনমহলের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার জেলার বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশন (পাইলট) স্কুল কেন্দ্রে। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী শুক্রবার দুপুর দুইটায় তাদের শারিরীক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথাছিলো। সেমতে তারা কেন্দ্রে এসে জানতে পারেন বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ও কেন্দ্র সুপার কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদার পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলায় একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গেছেন।
তিনি (প্রধানশিক্ষক) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়ে তার কক্ষের স্টীলের আলমিরায় তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। ফলে ৪৮ জন পরীক্ষার্থী প্রশ্নের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্য ও শিক্ষকরা একাধিকবার প্রধানশিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি ভোজে ব্যস্ত থাকায় ফোন রিসিভ করেননি। প্রায় সোয়া এক ঘন্টা পরে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে প্রধানশিক্ষক স্কুলে এসে আলমিরা থেকে প্রশ্নপত্র বের করে দেয়ার পরে পরীক্ষা শুরু করা হয়।
সূত্রমতে, পাশবর্তী উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে দুপুর দুইটায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্ন মোবাইলফোনে মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এ ব্যাপারে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের বরিশালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শামীম জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আসাদুজ্জামান উকিল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় নেমেছেন।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেওয়া হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমসিকিউ প্রশ্ন পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হবে। তাহলে প্রশ্নফাঁসের সুযোগ থাকবে না। এসময় একটি চক্র প্রশ্নফাঁস করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইতিমধ্যে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসময় সংসদে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চরম ব্যর্থতা বলব না। মনে হয় সাহসী সৎ নিষ্ঠাবান লোক সেখানে নেই। তিনি বলেন, শিক্ষা বোর্ড দুর্নীতির আখড়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সৎ নিষ্ঠাবান লোক খুঁজে বের করে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কোচিং ব্যবস্থাও দায়ী। এটা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে বিভিন্ন কৌশল নেয়ার পরও এই পর্যন্ত সব বিষয়েরই এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগেই ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে ফাঁস হয়েছে। এর আগে শিক্ষা সচিবও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কড়া হুশিয়ারি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস করার যারা হোতা, যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সে ধরনের যারা অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাতেও রোধ করা যায়নি প্রশ্নফাঁস।

সিফাত :
২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিভিন্ন ধরনের ভুলত্রুটি করায় ৬৯ পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বরিশাল মাধ্যমকি ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এসব ভুলত্রুটি হওয়ায় বিষয়টি প্রধান পরীক্ষকের প্রতিবেদন এবং উত্তরপত্র পুননিরীক্ষণের সময় প্রমাণিত হয়েছে।
ব্যবস্থাগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ঘ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষকদের ২০১৮ সালের (১ বছরের জন্য) এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যারমধ্যে প্রধান পরীক্ষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪ এবং পুননিরীক্ষণের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪২ জন শিক্ষক রয়েছেন।
অপরদিকে ‘ঙ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষকদের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের (২ বছরের জন্য) এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান পরীক্ষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮ এবং পুননিরীক্ষণের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।
ভুলত্রুটি সংগঠিত হওয়া উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অবহেলার সামিল, তাই এসব পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আজিম।

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রিফাত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিএম কলেজের জিরো পয়েন্টে এই ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে এক গ্রুপ বহিরাগত।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ চলছিল কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র রিফাত এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা সাউথের মধ্যে। এই নিয়ে রোববার সকালে বিএম কলেজের অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত তার প্রতিপক্ষ সাউথের অনুসারী তাজিন ও সিহাবকে বেধড়ক মারধর করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাউথ ধারালো অস্ত্র নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে শোডাউন দেয়। এতে মূহুর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে ক্যাম্পাসে। একপর্যায়ে কলেজের মসজিদ গেটের সামনে বসে রিফাতকে কুপিয়ে জখম করে সাউথ ও তার অনুসারীরা।
এই ঘটনার পরপরই রিফাতের ও সাউথের অনুসারীদের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে রিফাতকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রিফাতের অনুসারীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কলেজের সামনের সড়কে অবরোধ ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এরপরে পুনরায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, থানায় কয়েকজনকে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে আটক বলা যাচ্ছে না। এছাড়া ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা রয়েছে।

সরকারি বরিশাল কলেজে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপু ও তার সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা হৃদয় নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধর করেন। এরপরপরই দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
কিছু সময় বাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সটকে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে থাকা ছাত্রদলের সব ব্যানার-পোস্টার খুলে ও ছিঁড়ে ফেলেন। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আটক করে।
বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান মাসুম জানান, ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আমরা সকাল থেকে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক দাবিদার রফিকুল ইসলাম টিপু তার সহযোগীদের নিয়ে আমাদের একটি ছেলেকে মারধর করেন। এনিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী শাহাদাৎ জানান, আগে থেকেই হামলার প্রস্তুতি নিয়ে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের লোকজনকে মারধর করেছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন হাওলাদার জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ার শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৬ সালের এমসিকিউ’র প্রশ্নপত্রে ৮১ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই কেন্দ্রের সচিব ও হল সুপারের দায়িত্বে অবহেলায় আজ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন গণিত পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটে। সৃজনশীল পরীক্ষার প্রশ্ন সংকটের কারণে ফটোকপি প্রশ্ন সরবরাহ করায় ৩ ঘন্টার স্থলে ৪ ঘন্টা পরীক্ষা নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী অপূর্ব বাড়ৈ, অমিও অধিকারী এবং অরিন্দমসহ একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, যথা সময়ে তাদের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অন্তত ত্রিশ মিনিট পর তারা বুঝতে পারেন, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা। সাথে সাথে বিষয়টি হল সুপার ও কেন্দ্র সচিবকে অবহিত করেন তারা। কেন্দ্র সচিব শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও হল সুপার কাঠিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র কর পরীক্ষার্থীদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে সরবরাহকৃত প্রশ্নেই উত্তর লেখার নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক ভুল প্রশ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয় ওই কেন্দ্রের ৮১ পরীক্ষার্থী।
এমসিকিউ পরীক্ষার পর সরবরাহকৃত সৃজনশীল প্রশ্ন বিতরণকালে প্রশ্নপত্রে সংকট ধরা পরে। এ সময় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী পরীক্ষা কেন্দ্র ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমী ও গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফটোকপি করে সেগুলো পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফটোকপি প্রশ্নপত্র সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিন ঘন্টার স্থলে চার ঘন্টা পরীক্ষা দিয়েছে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানান, ওই কেন্দ্রে মোট ৩৮৩ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৮১ জনকে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। তবে তাদের ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের খবর কেন্দ্র সচিব বা হল সুপার তাকে জানায় নি। সৃজনশীল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার পর পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুলের বিষয়টি ধরা পরে। তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিক বরিশাল শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
বোর্ডের বরাত দিয়ে ইউএনও আরো জানান, বোর্ড তাকে মৌখিকভাবে অবিহিত করেছে উত্তরপত্র দেখার সময় ওই ভাবেই মূল্যায়ন করা হবে।
চার ঘন্টা পরীক্ষা নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে ইউএনও বলেন, প্রশ্নপত্র দেরিতে দেয়ায় তাদের পরীক্ষার সময় বাড়ানো হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব, হল সুপারসহ অন্যন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করবেন বলে জানান ইউএনও।

বেগম রোকেয়া ও সুফিয়া কামালের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশজুড়ে নারী জাগরণের ধারাবাহিকতায় এবার বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেজে নারী অধ্যক্ষ হিসেবে মোসাম্মৎ আফরোজা বেগম যোগদান করেছেন।
রোববার তিনি শুধু বানারীপাড়ায় নয় গোটা বরিশালের ইতিহাসে ডিগ্রী কলেজে একমাত্র ও প্রথম নারী অধ্যক্ষ হিসেবে বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেজে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করেছেন।তার যোগদান উপলক্ষে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি শিক্ষানুরাগী সদস্য বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল সহ কলেজ গর্ভনিং বডির সদস্য ও শিক্ষক-কর্মচারী]বৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেছেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু জাহের,শাহে আলম হাওলাদার,বিনোদ বিহারী হালদার ও বিউটি মজুমদার,প্রভাষক ও পৌর কাউন্সিলর এমাম হোসেন,প্রভাষক কামরুল হাসান ও গোলাম সরোয়ার,গর্ভনিং বডির শিক্ষানুরাগী সদস্য জাহিদ হোসেন জুয়েল,অভিভাবক সদস্য আলতাফ হোসেন,দিলীপ কুমার দাস শিবু ও আ. সালাম,পৌর আওয়ামীলীগের ক্রীড়া সম্পাদক রিপন বনিক,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন,সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেবনাথ,স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান হোসেন সিকদার,সৃজন বন্ধু সংঘের সভাপতি ডা. সাগর চন্দ্র শীল প্রমূখ।
প্রসঙ্গত কলেজ গর্ভনিং বডির সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ওয়াহিদুজ্জামান চান,উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুক,পৌরসভার মেয়র এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানার উপস্থিতিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ১২ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে মেধাবী মোসাম্মৎ আফরোজা বেগম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।