Category: শিক্ষাঙ্গন

  • প্রশ্ন ফাঁস- জড়িতদের ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার

    প্রশ্ন ফাঁস- জড়িতদের ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার

    শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদশিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদচলতি মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সভা শেষে এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

    আজ সচিবালয়ে পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত জাতীয় মনিটরিং কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে ওই কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়াচ্ছে যারা, তারা ধরা পড়বেই। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছড়ানো বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) বলা হয়েছে।
    তিনি আরও জানান, কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে গেলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কোনো পরীক্ষার্থী হলে মোবাইল ফোন নিয়ে গেলে তার পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

    উল্লেখ্য, পূর্বসিদ্ধান্ত অনুসারে কেন্দ্রসচিব পরীক্ষার হলে শুধু একটি সাধারণ মানের ফোন নিতে পারবেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এবার ব্যাপক কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রথম দুই দিনে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। মূল প্রশ্নের সঙ্গে তা মিলেও যায়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিটিআরসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখা এবং শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা।
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই কমিটি পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
    এদিকে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সেমিনার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১০ বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে শুধু আট বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন।

  • অভিন্ন প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা চলছে

    অভিন্ন প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা চলছে

    অভিন্ন প্রশ্ন এবং কড়া নজরদারিতে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশব্যাপী একযোগে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

    শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এদিন সকাল ৯টায় ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি পরীক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

    আজ এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা রয়েছে।

    এ বছর পরীক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস রোধে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে পরীক্ষার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

  • গৌরনদীতে এসএসসি পরীক্ষায় প্রবেশপত্র নিতে গুনতে হয় টাকা

    গৌরনদীতে এসএসসি পরীক্ষায় প্রবেশপত্র নিতে গুনতে হয় টাকা

    তানজীল শুভ:

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি’র নামে ৩শ থেকে ৫শ করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলায় ২৩টি হাইস্কুলের ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৪ হাজার ও ৪শ পরীক্ষার্থী রয়েছে।

    ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু । উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক খাঞ্জাপুর গ্রামের মো. কামাল হোসেন (৪৮)জানান, তার ভাতিজার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে তিনশত পঞ্চাশ টাকা দিতে হয়েছে। অভিভাবক মিজান মুন্সী জানান, তার কন্যার ফরম পুরনে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এখন আবার প্রবেশপত্র আনতে সাড়ে তিন শত টাকা দিতে হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. জামাল হাওলাদার জানান, তার পুত্রের প্রবেশ পত্র আনতে গেল স্যারেরা ৪শত টাকা দাবি করেন। একই অভিযোগ করেন কমপক্ষে আরো চার অভিভাবক। প্রধান শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রবেশ পত্রের জন্য নয়, কেন্দ্র ফি বাবদ টাকা রাখা হচ্ছে।

    বার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, তার ভাতিজার প্রবেশ পত্র আনতে চারশত টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। গৌরনদী উপজেলার প্রায় সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গৌরনদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরনের সময় অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই কেন্দ্র ফির টাকা বাকি রেখে ফরম পুরন করেছে। তাদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি’র টাকা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবেশপত্রের জন্য কোন টাকা রাখা হচ্ছে না গৌরনদী উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিটু ব্যানার্জি বলেন, প্রবেশপত্র প্রদানে টাকা নেওয়ার কোন বিধান নেই। অভিভাবকগণ লিখিত অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • সরকারি বরিশাল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের ১১তম বার্ষিক ক্রীয়া প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান উৎযাপিত

    সরকারি বরিশাল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের ১১তম বার্ষিক ক্রীয়া প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান উৎযাপিত

    কলেজ প্রতিবেদকঃ

    বরিশাল মাহানগরের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। আজ এই প্রতিষ্ঠানে উৎসাহ,উচ্ছাস ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়ে গেল ১১তম বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার(অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ শহিদুজ্জামান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেজর ড. সিরাজুল ইসলাম উকিল অধ্যক্ষ, সরকারি বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।

    সকাল ১০টা ৫মিঃ এ পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও গীতা থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশ এবং ক্রীয়াবিদদের মার্চপাস্ট হয়। তারপর সভাপতি স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং তিনি সকলকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিয়া ও সহ-শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বলেন। তারপর সকাল ১০.৪০মি এ বেলুন উড্ডয়ন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উরিয়ে ক্রীয়া অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। তারপর মনজ্ঞ ডিসপ্লে এবং গ্রুপভিত্তিক উল্লখযোগ্য ক্রীয়া নৈপুন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে পুরুষ্কার বিতরনী ও সভাপথির সমাপনী বক্তব্যের দ্বারা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোসনা করা হয়।

  • কর্তৃপক্ষের ভুলে বিশ্বনাথে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত দুই ছাত্র

    কর্তৃপক্ষের ভুলে বিশ্বনাথে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত দুই ছাত্র

    সিলেটের বিশ্বনাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক গাফিলতির কারণে ১লা ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না দুই ছাত্র। কামরান আহমদ ও আবদুল গাফ্ফার লিমন নামের এই দুই ছাত্র উপজেলার তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবার কথা ছিল।

    দু’ছাত্রের পরীক্ষা অনিশ্চিতের খবর ছড়ানোর পর মঙ্গলবার সকালে রীতিমত তুলকালাম কাণ্ড ঘটে তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসায়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে প্রহৃত হন অফিস সহকারী দিলহুর আলম। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন এলাকাবাসীও। পরে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মাদরাসার অফিস সহকারীকে। এছাড়া, ঘটনার তদন্তে মাদরাসার উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

    জানা যায়, ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্যে রেজিস্ট্রেশন করে উপজেলার তেলিকোনা আলিম মাদরাসার ৬২ শিক্ষার্থী। তারা যথারীতি প্রি-টেস্ট ও টেস্টেও অংশ নেয়। গত ২৯ জানুয়ারী সোমবার ৬০ জন শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ড এলেও সেটা পাননি দাখিল পরীক্ষার্থী উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের হাজী জমশিদ আলীর পুত্র কামরান আহমদ ও সিলেটের খাদিমনগর নোয়াগাঁও গ্রামের আবদুন নুরের পুত্র আবদুল গাফ্ফার লিমন। মঙ্গলবার সকালে মাদরাসায় এসে তারা এ বিষয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অফিস সহকারী দিলহুর আলমের কাছে এর কারণ জানতে চান। এসময় তিনি কোনো সদুত্তর না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার উপর চড়াও হয়।

    খবর পেয়ে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পরিস্থিতি সামাল দেন। এসময় সকলের উপস্থিতিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অফিস সহকারী দিলহুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং ঘটনাটি তদন্তে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বশীল মাওলানা মুখলিছুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর দুই সদস্য করা হয় ইংরেজীর প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিনকে।

    এব্যাপারে দাখিল পরীক্ষা অনিশ্চিত হওয়া দুই ছাত্র কামরান আহমদ ও আবদুল গাফ্ফার লিমন কান্নাজড়িত কন্ঠে  জানান, তারা যথাক্রমে
    ৩৮০০টাকা ও ৩০০০টাকা দিয়ে দাখিলের রেজিস্ট্রেশন করেন। তবে, সে সময় শুধুমাত্র তাদের ছবি নেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তাদের দস্তখত নেয়া হয়নি।

    অফিস সহকারী দিলহুর আলম নিজেই সব পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফরমে ডান হাতে বাম হাতে দস্তখত করেন। এছাড়াও, কামরান ও লিমন সব পরীক্ষার্থীর সাথে
    প্রি-টেস্ট ও টেস্টে অংশ নেন। অথচ, সোমবার অন্যদের এডমিট কার্ড এলেও তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে রেজিস্ট্রেশনই হয়নি। এসময়
    তারা দিলহুর আলমের বিরুদ্ধে বৃত্তির টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন।

    এদিকে অভিযুক্ত অফিস সহকারী দিলহুর আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৬০ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৬২ জনের
    ছবি ও টাকা নেয়া হলেও ৬০ জনের রেজিস্ট্রেশন কেন কেন্দ্রে পাঠানো হল-এমন প্রশ্নের কোনো উত্তরই দিতে পারেননি দিলহুর আলম। তবে বিষয়টি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও শ্রেণিশিক্ষকরা জানেন বলে তিনি জানান।

    মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির মো. হুসাইন ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, অফিস সহকারীর ভুলের কারণেই এমনটি ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ দুই ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের সাথে আমরা কথা বলে একটা সমাধানের চেষ্টা করছি।

    খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, দু’ছাত্রের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হওয়াটা দুঃখজনক। এর দায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের। আমরা বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। সকলের সাথে কথা বলেছি। একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।

    এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বিষয়টি দেখার জন্যে এখনই উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিচ্ছি। এ ঘটনায়
    দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট চলছে

    চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আজ থেকে সারা দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগাতার ধর্মঘট চলছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের ছয়টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এর আহ্বায়ক আবদুল খালেক মিয়া গতকাল এ ঘোষণা দেন।

    এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল ‘আমরণ অনশন’-এর ১৪তম দিন কাটিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এর আগে তারা চার দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাতে সাড়া না পেয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। এবার সারা দেশে ধর্মঘটের ডাক দিলেন তারা।

    শিক্ষকরা দাবি করেন, টানা আন্দোলনে এ পর্যন্ত ১৪২ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবারও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অনেকে আবার শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুজন শিক্ষক ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছেন।

    সংগঠনের মহাসচিব কামাল হোসেন বলেন, শর্ত অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের কথা থাকলেও তা হয়নি। তালিকাভুক্ত থাকার পরও নানা কৌশলে বাতিল করা হয়েছে। আমরা তা মেনে নেব না। জাতীয়করণ আদায়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা রাস্তায় পড়ে থাকবেন।

    উল্লেখ্য, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তার পাশে গত ১০ জানুয়ারি থেকে তারা বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও ১৫ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন পালন করে যাচ্ছেন।

  • কখনো বলিনি ফেসবুক বন্ধ করে দেব : শিক্ষামন্ত্রী

    কখনো বলিনি ফেসবুক বন্ধ করে দেব : শিক্ষামন্ত্রী

    পরীক্ষা চলাকালে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়ার কোনো কথা কখনো বলেননি বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, এটা বন্ধ করার ক্ষমতাও আমাদের নেই। আমারা বিটিআরসির সাথে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা কয়েকঘণ্টার জন্য ফেসবুক বন্ধ রাখতে পারেন কি-না, সেটা নিয়ে আলাপ করেছি। বিটিআরসি জানিয়েছে, বিভিন্ন পদ্ধতিতে এসব প্রশ্ন আসে, তাই পরীক্ষার সময়টাতে তারা সেখানে লোক নিয়োগ করে রাখবেন।

    সংসদরে শীতকালীন অধিবেশনে রবিবারের বৈঠকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রশ্নকর্তা সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা চলাকালে ফেসবুক বন্ধের কথা বলেছেন। বিষয়টি সংসদে পরিষ্কার করতে বললে, এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি এই কথা কখনো বলিনি যে, আমরা ফেসবুক বন্ধ করে দেবো। এই ক্ষমতাও আমাদের নেই। তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় যদি কিছু হয়, তাৎক্ষণিকভাবে জানাবেন, সে অনুসারে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে। আমরা কখনো বন্ধ করে  ফেলবো, এই কথা বলতে পারি না, আমাদের ক্ষমতাই নেই। বিটিআরসি বলেছে সহযোগিতা করবে, তারা বলেছে বন্ধ না করেও অন্যভাবে সহযোগিতা করবে। জনগণের ব্যাঘাত সৃষ্টির জন্য আমরা কিছু বলিনি।

    তিনি আরও বলেন, দেড় মাস ধরে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হয়। এই দীর্ঘ দিন হাজার হাজার কেন্দ্রে পাহারা দিয়ে প্রশ্ন রাখা বড় কঠিন কাজ। প্রশ্নগুলো যখন স্কুলে পৌঁছায়, কিছু শিক্ষক আছেন, তারা প্রশ্ন বিলির আগে খুলে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। আমরা এই জায়গাটায় আটকে গেছি। তাই বলেছি, বিটিআরসি’র (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সঙ্গে আলাপ করবো।

    প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল
    মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি মমতাজ বেগমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন-১৯৮০ (সংশোধিত ১৯৯২) এর ধারা ৪ অনুযায়ী প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের অন্যূন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

  • টানা ধর্মঘটে বরিশালে ২ সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা

    টানা ধর্মঘটে বরিশালে ২ সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা

    ১১ দফা দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের টানা ধর্মঘটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগের ২ সহস্রাধিক বেসরকারী স্কুল, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এই দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা পর্যায়ক্রমে মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু সরকার তাদের দাবি অগ্রাহ্য করায় বাধ্য হয়ে গত ২২ জানুয়ারী থেকে টানা ধর্মঘট শুরু করেন তারা।

    এদিকে ধর্মঘটের কারণে বরিশালে বেসরকারি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়কারী অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুল জানান, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার তাদের দাবি মেনে নিলেই ক্লাশে ফিরবেন তারা।

  • প্রণব মুখার্জিকে ডি-লিট ডিগ্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের

    প্রণব মুখার্জিকে ডি-লিট ডিগ্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের

    ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

    মঙ্গলবার দুপুুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুর রব হল মাঠে এ সম্মানসূচক ডিগ্রি তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ডিগ্রি গ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।বক্তৃতায় প্রণব মুখার্জি শিক্ষার মান বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

    তিনি বলেন, আমি যখন ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। তখন শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে সেসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও আমার উপর বর্তায়। এটি পালন একটি বড় কাজ।

    এছাড়া বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্রের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া যায়।’

  • সরকারের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেছেন ইবতেদায়ির শিক্ষকরা

    সরকারের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেছেন ইবতেদায়ির শিক্ষকরা

    চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশনরত ইবতেদায়ি শিক্ষকরা সরকারের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেছেন।

    এর আগে দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে গত ৯ দিন টানা অনশন করেন শিক্ষকরা। এসময় আমরণ অনশনে অন্তত ১৮৬ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩০ জন। এছাড়া, মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৯ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    উল্লেখ্য, সারাদেশে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৮ হাজার ১৯৪টি। এর মধ্যে চালু আছে ১০ হাজারের মতো। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন প্রায় ৫০ হাজার।