Blog

  • বাংলা পড়তে পারেন না সালমান এফ রহমান

    বাংলা পড়তে পারেন না সালমান এফ রহমান

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এখন পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চলছে তার। সালমান এফ রহমানের সঙ্গী সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। 

    তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে সালমান এফ রহমান ছোটবেলা থেকে পাকিস্তানে বেড়ে ওঠায় বাংলা পড়তে না পারায় সঙ্গী আনিসুল হক তাকে অভিযোগ পড়ে শুনিয়েছেন। ওই সময় সালমান এফ রহমান মন্তব্য করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

    শুক্রবার ছিল সালমান ও আনিসুলের রিমান্ডের তৃতীয় দিন। তাদের ইন্ধনে দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যা করা হয়েছে-এমন অভিযোগে গ্রেফতার করা হলেও সার্বিক বিষয় নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

    গ্রেফতার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজিসহ কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ‘দরবেশ’ হিসাবে বহুল পরিচিত সালমান এফ রহমানের শেয়ারবাজার কারসাজিতে নিঃস্ব হয়ে অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেন। এসব বিষয় নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ওঠা আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

    এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্রজনতাকে হত্যার নীল নকশার পেছনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারা কারা জড়িত ছিল সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হচ্ছে সালমান ও আনিসুলকে।  

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিনভর ডিবির শীর্ষ কর্তারা, নিউমার্কেট থানার ওসি ও হত্যা মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) ডিবি কার্যালয়ে সালমান ও আনিসুলকে জিজ্ঞাসবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, কোর্টে সাবমিট করার জন্য যে কাগজপত্র বা অর্ডার শিট তার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল সেগুলো বাংলায় লেখা ছিল। এ সময় সালমান জানান, তার বাবা পাকিস্তানে ব্যবসা করায় ছোটবেলাতে সেখানে ছিলেন। এ কারণে তিনি বাংলা পড়তে পারেন না। তখন সাবেক আইনমন্ত্রী পড়ে শোনান। পরে সালমান এফ রহমান কোর্টে সাবমিট করার কাগজে স্বাক্ষর করেন। শাহজাহান হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কখন মার্ডার হয়েছে, কারা নির্দেশ দিয়েছে এসব বিষয়ে কোনো কিছু জানি না।’ সালমান এফ রহমান তার কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত না বলে জানান জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বাভাবিক ও স্থির ছিলেন তিনি।

    গ্রেফতার সালমান ও আনিসুলকে ডিবির তত্ত্বাবধানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মহা. আশরাফুজ্জামান। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। যদি কিছু থাকে-আমার যেটা বলার আপনাদের আমি দাওয়াত দিয়ে বলব।’

    কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন টিটি কলেজের বিপরীত পাশে কাদের আর্কেড মার্কেটের সামনে সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন ওই এলাকার একটি পাপোশের দোকানের কর্মচারী শাহজাহান আলী। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হককে। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নৌপথে পালানোর সময় মঙ্গলবার রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তারা বর্তমানে ডিবি হেফাজতে আছেন। তবে হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। 

    নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যা মামলাটি এখনো আমরা তদন্ত করছি। থানা এখনো ভালনারেবল হওয়ায় আসামিদের ডিবিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

    সূত্র আরও জানায়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জিজ্ঞাসাবাদে একেবারেই স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি পুলিশের কোনো প্রশ্নের উত্তরই দেননি। প্রশ্ন করা হলে শুধু হাসেন। নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে শুনে মুচকি হেসেছেন তিনি। এ সময় তিনি পুলিশের কাছে সুপ্রিমকোর্টের বর্তমান অবস্থা ও বিচারক কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এসব বিষয়ে জানতে চান। তাকে বিস্তারিত জানান তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

    তাদের খাবারের বিষয়ে জানা গেছে, ডিবি অফিসে যে খাবার রয়েছে সেগুলোই খাচ্ছেন তারা। চিকেন জাতীয় খাবার পছন্দ করেন সালমান। তিনি শুক্রবার মুরগি ও ডিম দিয়ে খেয়েছেন। আর সাবেক আইনমন্ত্রী পছন্দ করেন মাছ। তিনি ডিম ও শিং মাছের ঝোল দিয়ে খেয়েছেন। এছাড়া ডিবির হাজতখানার ফ্লোরে ঘুমাচ্ছেন দুজনই। কিভাবে তাদের সময় কাটছে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বসে থাকেন, ঘুমান, খান এবং নামাজ পড়ে সময় কাটান তারা।

  • ৫ জনকে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল অন্তর্বর্তী সরকার

    ৫ জনকে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল অন্তর্বর্তী সরকার

    অবসরে যাওয়া ৫ জন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সচিব হওয়া এই কর্মকর্তাদের ৫জনই বিসিএস ৮২ ব্যাচের।

    শনিবার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- ড.নাসিমুল গনিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, এম এ আকমল হোসেন আজাদকে রেলপথ মন্ত্রণালয়, ড. শেখ আব্দুর রশিদকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, এহছানুল হককে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনকে জননিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে যা বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

    নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে যা বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

    সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যাত্রা ১৫ বছর আগে শুরু হলেও সম্প্রতি এই আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা কমিটিতেও রয়েছে শিক্ষার্থীদের দু’জন সমন্বয়ক।

    এসবের মধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন হবে কি না এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে। তবে এ বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়গুলো আমরা গণমাধ্যম থেকেই জানছি। আমরা সারাদিন জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়েই ব্যস্ত আছি। রাজনৈতিক বিষয়গুলো আলাপ-আলোচনার বাইরে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে এগুলো নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে চিন্তা করার ফুসরত পাইনি। আমাদের মূল কনসার্ন এখন আহতদের পাশে দাঁড়ানো, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভূমিকা রাখা।

    এই সমন্বয়ক আরও বলেন, মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ফলে তারা আমাদের নিয়ে চিন্তা করছে ও ভাবছে। আমরা মনে করি ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত থাকা উচিত। ফলে জনমত গঠন হবে। এতে রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে। সুতরাং আমরা মনে করি জনমত গঠন হওয়া উচিত। পরবর্তীতে জনমত গঠনের ভিত্তিতে যদি প্রয়োজন হয় রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের বিষয়টি চিন্তা করা যেতে পারে।

  • মিথ্যা মামলায় বারবার যেতে হয়েছে লোহার খাঁচায়: উপদেষ্টা আসিফ

    মিথ্যা মামলায় বারবার যেতে হয়েছে লোহার খাঁচায়: উপদেষ্টা আসিফ

    সব অমানবিক, ফ্যাসিবাদী উপকরণ উপড়ে ফেলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    শনিবার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ ‘আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে সরানো হচ্ছে লোহার খাঁচা’ এই শিরোনামের একটি সংবাদ শেয়ার করেন।

    আসিফ মাহমুদ লেখেন, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের দেওয়া মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বারবার যেতে হয়েছে এই লোহার খাঁচায়। শুনানি-হাজিরায় ছোট্ট একটা খাঁচায় আমাদের ২৪ জনকে ঢোকাতো।

    শুক্রবার বর্তমান উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করে আসিফ মাহমুদকে এবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে। 

    মো. বিল্লাল হোসেন ছেলে আসিফ রাজধানীর নাখালপাড়া হোসাইন আলী হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

  • মক্কা বিজয় ও নবীজির সাধারণ ক্ষমা

    মক্কা বিজয় ও নবীজির সাধারণ ক্ষমা

    বিজয় উদযাপনে করণীয় সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নির্দেশনা এসেছে।

    বিজয় শিরোনামে নাসর ও ফাতহ নামে দুটি সূরাও রয়েছে পবিত্র কোরআনে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আল্লাহর সাহায্যে বিজয় আসবে, তখন মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে। তখন তোমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করো। আর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল’ (নাসর, আয়াত : ১-৩)।

    এ সূরায় বিজয় উদযাপনের দুই দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ১. আল্লাহর প্রশংসাগাথায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করা। ২. যুদ্ধকালীন অজান্তে যেসব ভুলত্রুটি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

    অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা (বিজয়) দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত দান করবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে (সূরা হজ, আয়াত : ২২)।

    হাদিসে বিজয় উদযাপনে যেসব কর্মসূচির উল্লেখ পাওয়া যায় তা হল আট রাকাত শোকরিয়া নামাজ আদায় করা। কেননা নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন শোকরিয়া হিসেবে আট রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন (জাদুল মায়াদ, আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওজি)।

    নবীজির দেখাদেখি অনেক সাহাবিও তাঁর অনুকরণে আট রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। দশম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা.) আনন্দ উদযাপন করেছেন। প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীনতায় তিনি এত বেশি খুশি হয়েছিলেন, যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।

    বিজয়ের আনন্দে তিনি সেদিন ঘোষণা করেছিলেন, ‘যারা কাবাঘরে আশ্রয় নেবে তারা নিরাপদ। এভাবে মক্কার সম্ভ্রান্ত কয়েকটি পরিবারের ঘরে যারা আশ্রয় নেবে, তারা যত অত্যাচার-নির্যাতনকারীই হোক না কেন তারাও নিরাপদ। এই ছিল প্রিয়নবীর মক্কা বিজয়ের আনন্দ উৎসবের ঘোষণা।

    এভাবে মহানবী (সা.) বিনা রক্তপাতেই বিজয়ীরূপে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, যুগযুগান্তরে সবার মুখে আজও যা আলোচিত হয়ে আসছে, যেই কুরাইশরা মুসলমানদের ক্ষতি সাধনে সামর্থের শেষ সময় পর্যন্ত অপচেষ্টা চালিয়েছিল তাদেরকে তিনি ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেন, তাও কখন-যখন তিনি মক্কার অধিপতি, ইচ্ছে হলে নিয়মানুযায়ী সবাইকে মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারতেন।

    আসলে আল্লাহর রাসুলরা উত্তম চরিত্র নিয়েই দুনিয়ায় আগমন করেন, যেন উম্মত তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

  • শেখ হাসিনার ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

    শেখ হাসিনার ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

    প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে এখন ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে কোন দেশে যাবেন, তা এখনও জানা যায়নি। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন সরকার।

    মঙ্গলবার কূটনৈতিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাস জানায়, কোনো ব্যক্তির ভিসা নিয়ে মন্তব্য করবে না দূতাবাস।

    এর আগে দেশ ছেড়ে শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানায়।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি লিখেছেন, মার্কিন সরকার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসা প্রত্যাহার করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘনিষ্ঠ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে এক্সে জানিয়েছেন বার্গম্যান। তবে পদত্যাগের পর ভারতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি।

    এই বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র স্টিফেন ইবেলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, ভিসা রেকর্ড মার্কিন আইনের অধীনে একটি গোপনীয় বিষয়। সেজন্য আমরা পৃথক ভিসা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি না। তবে মাসুদ বিন মোমেনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ডেভিড বার্গম্যান লিখেছেন, শেখ হাসিনা সোমবার বিকালে বাংলাদেশ ছেড়েছেন এবং ভারতে বসেই তার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভার্জিনিয়ায় থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাসিনার ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।
    ব্রিটিশ এই সাংবাদিক লিখেছেন, হাসিনা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন, সেখানে তার বোন (শেখ রেহানা) এবং ভাগ্নি (এমপি টিউলিপ সিদ্দিক) থাকেন। হাসিনা যে পদ্ধতিতে ব্রিটেনের কাছে আশ্রয় চেয়েছেন, অভিবাসন আইন অনুযায়ী তা সম্ভব নয়।

    সোমবার ছাত্র-জনতার তোপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতের উত্তরপ্রদেশে যান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তাকে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে ইচ্ছুক নয় যুক্তরাজ্য।

    সোমবার শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান তার ছোট বোন শেখ রেহানাও। তবে রেহানার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব রয়েছে।
    একটি সূত্র জানিয়েছে, রেহানা অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যে যাবেন। তবে তার সঙ্গে হাসিনা যাবেন কি না সেটি নিশ্চিত নয়।

    এদিকে গতকাল ভারতে পৌঁছে প্রথমে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক অজিত দোভাল এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, শেখ হাসিনা তাদের কাছে ‘অল্প সময়ের মধ্যে’ জরুরিভিত্তিতে আশ্রয় চান। এ সময় হাসিনা আরও জানান, ভারতে অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করবেন তিনি।

    জয়শঙ্কর বলেছেন, খুবই অল্প সময়ের নোটিশে, অল্প সময় অবস্থানের জন্য শেখ হাসিনা ভারতে আসার অনুমতি চান।

    ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির সংসদে আরও বলেছেন, তারা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এমন আশাও ব্যক্ত করেন জয়শঙ্কর।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা যে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

    জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশে ২০ হাজার ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৮ হাজার জন ফিরে এসেছেন। এছাড়া তাদের নজর সংখ্যালঘুদের ওপর থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • ‘তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরবেন’

    ‘তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরবেন’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দ্রুতই দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মঙ্গলবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, উনি (তারেক রহমান) যখনই মনে করবেন ‘হি ক্যান কাম ব্যাক’ আমরা অলরেডি অনুরোধ জানিয়েছি যে, দ্রুত চলে আসেন। সেই ব্যবস্থা হবে ইনশাল্লাহ।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এখানে আমাদের সমর্থন করার ব্যাপার না। এটা হচ্ছে যে, যখনই প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে প্রস্তাব দেবেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের নামের জন্য, আমরা সে সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম দেব।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমি আজকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে। শুভেচ্ছা জানাচ্ছি একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যাশায় এবং একই সঙ্গে আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আপনারা এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা কাজ করেছেন।

  • ভারতে যাওয়ার সময় রাসিকের হিসাবরক্ষক আটক

    ভারতে যাওয়ার সময় রাসিকের হিসাবরক্ষক আটক

    ভারতে যাওয়ার সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) হিসাবরক্ষক নিজামুল হোদাকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আইসিপি সংলগ্ন এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা তাকে আটক করেছেন।

    বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, নিজামুল হোদা ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। নিজামুল হোদা রাজশাহী মহানগরীর সপুরা এলাকার বাসিন্দা বলে বিজিবি জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে কি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা পরে জানানো হবে।

  • চলতি সপ্তাহে বিচারকাজে বসছেন না সুপ্রিম কোর্ট

    চলতি সপ্তাহে বিচারকাজে বসছেন না সুপ্রিম কোর্ট

    চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ বন্ধ থাকবে। তবে সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্টে দাফতরিক কাজ পরিচালিত হবে।

    মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোছাইন এ তথ্য জানান।

    তবে আগের নির্দেশনা অনুসারে মঙ্গলবার থেকে দেশের সব অধস্তন আদালতে বিচারকাজ চলবে বলেও জানিয়েছে কোর্ট প্রশাসন।

  • আ.লীগ নেতা আমুর বাসা থেকে ডলারসহ পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার

    আ.লীগ নেতা আমুর বাসা থেকে ডলারসহ পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার

    ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে ডলার, ইউরোসহ প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, সোমবার ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের আমির হোসেন আমুর বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাগেজ ভর্তি এই টাকা দেখতে পান। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানালে তারা এসে লাগেজ ভর্তি এই টাকা উদ্ধার করেন।

    সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা সোমবার দুপুরে পদত্যাগ করার পর বিকালে বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমু ঝালকাঠির বাসভবনে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কয়েক দফা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই ভবনের তিন তলায় আবার আগুন দেখতে পান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে এসে আগুন নেভানোর সময় পানি নিক্ষেপ করলে কয়েকটি পোড়া লাগেজ থেক টাকার বান্ডিল বেড়িয়ে আসে।

    ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা এসে ওই টাকার লাগেজগুলো উদ্ধার করেন। এরমধ্যে থেকে তারা গণনা করে একটি লাগেজে অক্ষত এক কোটি এবং অপর লাগেজগুলো থেকে গণনা করে আংশিক পোড়া দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া ডলার ও ইউরো উদ্ধার করেন। সবমিলিয়ে টাকা ও বিদেশি মুদ্রা মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।

    ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভবনটির তৃতীয় তলার কক্ষে অনেকগুলো কম্বলের লাগা আগুন নেভানোর সময় কিছু টাকার বান্ডিল বের হয়ে আসে। এর সাথে কয়েকটি লাগেজও পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসককে জানানোর পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে টাকাগুলো উদ্ধার করে।