Blog

  • শেখ হাসিনার পদত্যাগ, যেভাবে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যম

    শেখ হাসিনার পদত্যাগ, যেভাবে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যম

    প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের পর দুপুরে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতে যান তিনি। এদিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

    সিএনএন, বিবিসি, আলজাজিরা, এনডিটিভি, এএফপির মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা এই পদত্যাগ ঘিরে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

    গতকাল শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ শিরোনামে ওই খবরে বলা হয়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কয়েক শ মানুষ নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাকে ও তার বোনকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    হাসিনার অবস্থান স্পষ্ট নয়। তিনি ভারতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার ওয়েবসাইটের খবর দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থানে রাখা ছিল। ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ, দায়িত্ব নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার’ শিরোনামের খবরে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

    জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে।’

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির শিরোনাম ছিল ‘পদত্যাগ করলেন শেখ হাসিনা’। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, সেনাবাহিনী একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে। বিক্ষোভকারীদের শান্তির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    দিল্লি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর গতকাল সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দেখা করেছেন শেখ হাসিনা।

    বার্তা সংস্থা এএফপির গতকালের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন’। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন গতকাল শেষ হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভে দেশ থেকে পালিয়েছেন তিনি। দেশটির সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে তারা।

    শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ’। তাতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গতকাল পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

    চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

    দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।

    এর আগে দীর্ঘ ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর কার্যালয় খোলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতনের পর সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে দলটির নেতাকর্মীরা মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। এরপর তারা পুরানা পল্টনে মহানগর কার্যালয়েও যান।

    এ সময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা দীর্ঘদিন পর কার্যালয়ে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বিশেষ মোনাজাত করেন।

  • সহিংসতার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হুশিয়ারি সারজিস আলমের

    সহিংসতার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হুশিয়ারি সারজিস আলমের

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সরকার পতনের আন্দোলনে মুখে সোমবার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন হিন্দু ধর্মালম্বীদের বসতবাড়ি এবং উপসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম।

    মঙ্গলবার দুপুরে সঙ্গে আলাপে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সারজিস। নিজের বক্তব্যে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এই ছাত্রনেতা।

    সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা দেখছি যে, আমাদের সংখ্যালঘু ভাইবোন যারা আছে তাদের বাড়িঘর, উপসনালয় এবং বিশেষ করে অন্য মতাদর্শের যারা রয়েছে তাদের ঘরবাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই জায়গায় আমরা একটা কথা পরিস্কারভাবে বলতে চাই, ছাত্রসমাজ যে নামছে এটা কোনো নির্যাতকের বিরুদ্ধে নয়। এই আন্দোলন হচ্ছে নির্যাতন যে প্রথাটা রয়েছে, সিস্টেমটা রয়েছে সেটার বিরুদ্ধে।

    ঢাবির এই ছাত্রনেতা আরো বলেন, ‘একজন নির্যাতক গিয়েছে, আরেকজন নির্যাতক বসবে সেটা আমরা কখনো হতে দিবো না। এটা আমরা কখনো সমর্থনও করি না। সে জায়গা থেকে কেউ যদি এই অপচেষ্টাগুলো করে সবগুলো রিপোর্টই আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারছি, তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, সে ব্যবস্থা নেবো আমরা’।

    এ দিকে মঙ্গলবার ভোররাতে এক ভিডিওতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বিকেল ৩টার মধ্যে সংসদ বিলুপ্তি করার দাবিও দিয়েছেন তারা।

  • ইসরাইলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪০ ফিলিস্তিনি

    ইসরাইলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪০ ফিলিস্তিনি

    চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফের ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। আর এই হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৭১ জন আহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

    এর আগে, অজ্ঞাত ফিলিস্তিনিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর ৯০টি পচন ধরা মৃতদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। যা তাদের বর্বরতার কথা জানান দেয়।

    ইসরাইলের হামলা নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, দখলদার ইসরাইলি বাহিনী সেখানকার স্কুল ও হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। এতে বহু নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ইসরাইলের দাবি, হামাসের কম্যান্ড সেন্টারকে টার্গেট করা হয়েছিল।

    গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি স্কুলে ইসরাইলের সেনা আক্রমণ করেছে। এর ফলে ২৫ জন মারা গেছেন। তার মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু।

  • রাস্তায় নেই ট্রাফিক পুলিশ, সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করছেন শিক্ষার্থীরা

    রাস্তায় নেই ট্রাফিক পুলিশ, সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করছেন শিক্ষার্থীরা

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে চলা সহিংসতার কারণে সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে পুলিশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    আজ রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। কোথাও কোথাও সেনাবাহিনীর সদস্য ও শিক্ষার্থীরা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক সিন্যাল নিয়ন্ত্রণ করছেন।

    মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, বাংলা মোটর, শাহবাগ মোড় ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

    বিজয় সরণির মোড়ে দেখা যায়, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী গাড়ির সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেখানে মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন রফিকুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, আমি সকালে বাসায় ফেরার সময় দেখলাম এখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। এতে চতুর্দিকে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক কয়েকজন মিলে চার রাস্তায় দায়িত্ব নিয়েছি। ট্রাফিক পুলিশ যে দায়িত্বটুকু পালন করে আমরা সেটুকু পালন করছি।

    সেখানে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, গাড়ির শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করছি। যতক্ষণ না ট্রাফিক পুলিশ এখানে আসবে ততক্ষণ আমরা দায়িত্ব পালন করব। ট্রাফিক পুলিশ না এলে আমাদের বিকল্প আরেকটি গ্রুপ প্রস্তুত আছে তারা বিকেল তিনটার পর দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

    একইভাবে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়েও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু

    শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু

    ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারো ফ্লাইট ওটানামা শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বিষয়টা নিশ্চিত করেন।

    এরআগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আইএসপিআর।

    সোমবার কামরুল ইসলাম জানান, বিকাল ৪টা ৫৪ মিনিটে বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    বিমানবন্দরের হালনাগাদ তথ্য পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

    গণ বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সোমবার বিকালে বিমানবন্দরটিতে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে, ঠিক কী কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছিল, তা জানা যায়নি।

  • মুক্তি পেয়েছেন আসিফ মাহতাব

    মুক্তি পেয়েছেন আসিফ মাহতাব

    মুক্তি পেয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আসিফ মাহতাব। কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে মাঠে নামায় সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করা হয়। রাজধানীর সেতুভবনে আগুন দেওয়ার মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।

    বিস্তারিত আসছে….।

  • ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা

    ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা

    নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের রূপরেখা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।

    ভিডিও বার্তায় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের রূপরেখা দিতে আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলাম। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই রূপরেখা ঘোষণা করছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তিনি দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন।

    এ সমন্বয়ক আরও বলেন, আমরা সকালের মধ্যে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দেখতে চাই। রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ থাকবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হোক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাকি সদস্যদের নামও আমরা সকালের মধ্যে ঘোষণা করব।

    এর আগে সারা দেশে সহিংসতা এবং লুটপাট রোধে ওয়ার্ডভিত্তিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা কমিটি গঠনের আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

    সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ আহ্বান জানান।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, সারা দেশে স্ব-উদ্যোগে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা কমিটি’ গঠনের জন্য ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের সকল অংশগ্রহণকারী ও আপামর জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। দ্রুত বাস্তবায়নে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। দেশ গঠনে সচেষ্ট হোন।

    অপর এক পোস্টে তিনি বলেন, আওয়ামী নৈরাজ্য ও ঘৃণ্য রাজনীতি প্রসূত এই সাম্প্রদায়িক উসকানি, হামলা এবং সকল লুটতরাজ রুখে দেওয়ার জন্য ছাত্র-নাগরিকের প্রতি জোরালো আহ্বান থাকল। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ এলাকার মসজিদ থেকে এই সাম্প্রদায়িক হামলা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিন এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ অন্য ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আওয়ামী সন্ত্রাস রুখে দিতে হবে, সবাই এগিয়ে আসুন।

    এর আগে সোমবার দুপুর আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এসময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে একটি ভাষণ রেকর্ড করে যেতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি সে সুযোগ পাননি।

    দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করে হাজারো ছাত্রজনতা।

  • আন্দোলনে শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা করা হবে: নাহিদ

    কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

    সোমবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলনের নামে আমাদের ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আমরা জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করবো। আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছেন, আহত হয়েছেন এ বিজয় আমরা তাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।

    এসময় সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজপথ থেকেই চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করা হবে। আজ রাত ৮টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আলোচনায় যারা

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আলোচনায় যারা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন।

    সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তে এসেছেন তারা। এই প্রস্তাব নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন সেনাপ্রধান। এরপরই ঘোষণা হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন। এসময় সেনাপ্রধান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    সেনাপ্রধানের ভাষণের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কারা থাকছেন সেই আলোচনা চলছে সর্বত্র। এর মধ্যে ১৮ জনের একটি নামের তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যাদের নাম আলোচনায় আছে তারা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী, বুয়েটের অধ্যাপক ইকরামুল হক, সাবেক পরিবেশ সচিব ড. মাহফুজুল হক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্টের সাবেক পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা, বিজিবির সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মঈনুল ইসলাম, নিউএইজ-এর সম্পাদক নুরুল কবির, সাবেক সচিব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম হেলাল মোরশেদ খান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, আইনজীবী শাহদীন মালিক, অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা এবং চাকমা সার্কেল চিফের উপদেষ্টা রানি ইয়ান ইয়ান।