Blog

  • যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সফল উদ্যোক্তা বরিশালের মেয়ে রোজা

    যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সফল উদ্যোক্তা বরিশালের মেয়ে রোজা

    দীর্ঘ ৭ বছর সিঙ্গেল থাকার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী-অভিনেতা তাহসান খান। তার স্ত্রী বরিশালের মেয়ে রোজা আহমেদ, পেশায় মেকওভার আর্টিস্ট।

    স্ত্রীকে একজন সফল উদ্যোক্তা জানিয়ে তাহসান বলেছেন, পড়াশোনা শেষ করে কসমেটোলজি লাইসেন্স অর্জন করে পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের কুইন্সে রোজাস ব্রাইডাল মেকওভার প্রতিষ্ঠা করেছেন রোজা। তার ফেসবুক পেজ ‘রোজাস ব্রাইডাল মেকওভার’ পেজে অনুসারী সংখ্যা ১২ লাখের ওপরে।
    তবে বরিশাল শহরে বড় হওয়া রোজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা পেতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। স্কুলে পড়ার বয়সে বাবাকে হারিয়ে মা-ভাইসহ রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েন রোজা। সেখান থেকে কীভাবে আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মেকওভার আর্টিস্ট – সে কথা নিজের ‘রোজাস ব্রাইডাল মেকওভার’ পেজে গত ২০২৪ সালের ৪ জুন এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জানান রোজা।

    তিনি জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর অনেকটা একা একাই সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন রোজা। টিউশনি করে আর এলাকায় বিয়ের কনেকে সাজিয়ে নিজের খরচ জোগাতেন তিনি।

    স্ট্যাটাসে রোজা লিখেছেন, কোচিংয়ের পড়া আমার ভালো লাগত না তাই আমি নিজে নিজে বুঝে পড়তাম। কিন্তু বাসার কথা ছিল কোচিংয়ে পড়তেই হবে। তাই কোচিংয়ের সময়টা আমি স্টুডেন্ট পড়াতাম লুকিয়ে লুকিয়ে আর সেই টাকা জমিয়ে ভাই উৎসকে ঘুরতে নিতাম। কিছু একটা পছন্দ করলে কিনে দিতাম। বাবার যে আদর আমি পেয়েছি ও সেই আদর পায়নি সে। তাই বাবার আদর হয়তো দিতে পারতাম না তবে কখনো যাতে আফসোস না করে সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতাম। আবার নিজের খরচটাও একটু বাড়ল। ওয়াইফাই ছিল না তাই এমবি কিনে ফেইসবুকিং শুরু করি। এভাবেই তিন মাস চলল। হঠাৎ বাজারে দাদা ভাইয়ের সঙ্গে স্যারের দেখা, স্যার বললেন রোজা আসে না কেন? এরপর কি হতে পারে যারা ফেইস করেছেন তারা বুঝবেন। শুরু হয়ে গেল বাসায় বিচার-সালিশ। যেহেতু সত্যি আমি কোচিংয়ে যাইনি তাই আমার জোর গোলায় কথা বলার মুখ ছিল না। আর কোচিংয়ের টাকা বন্ধ করে দিল আর বলল, তুই তো একা একাই সব পারিস তো কোচিংয়ে পড়তে হবে না। আর টিউশন দুটাও বাদ দিতে হলো। এখন স্কুল আর বাসা। স্কুলে আমি অনেক পপুলার ছিলাম নাচের জন্য। ওহ ক্লাস থ্রিতে থাকতে নাচের জন্য আমি জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলাম। আর তখন থেকেই একা একা সাজতাম আর যারা আমার সাথে নাচ করত ওদেরকেও সাজিয়ে দিতাম। আর সবাই আমার সাথে চলতে চাইত বিশেষভাবে মেয়েরা কারণ আমি খুব ভালো সাজাতে পারি।

    তিনি লেখেন, আমার এক দূরের কাজিনের বিয়ের প্ল্যান ছিল ঢাকা থেকে আর্টিস্ট আনবে। তখন বরিশালে ফ্রিলান্সার আর্টিস্টের নামটার সাথে কেউ পরিচিত ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেয়েটা ঢাকার আর্টিস্ট আনতে পারেনি। আমাকে কল দিয়ে খুব মন খারাপ করে বলল, পরিবার বিয়েতে অনেক খরচ করছে, এতো বড় আয়োজন কিন্তু মেকআপের জন্য এতো টাকা দেবে না। আর বরিশালের কোনো পার্লারের সাজ আমার পছন্দ না, তোর সাজটা আমার খুব ভালো লাগে। আমি একটু চুপ থেকে বললাম, আপু তোমার এতো বড় বিয়ের আয়োজনে আমার কাছে সাজবা শিওর তুমি? বলল হ্যাঁ, তোর মতো করে আমাকে সাজিয়ে দিস তাহলেই হবে। সেই থেকে মেকআপের প্রফেশনাল জার্নিটা শুরু। এর পর আপুকে সাজালেও খুব ভয় হচ্ছিল আমি কি বিয়েতে যাব? কারণ কেমন না কেমন হয়েছে সাজ? মা জোর করে নিয়ে গেলেন। সবার এতো প্রশংসা আর ফিডব্যাক পেয়ে আমি হতভম্ব। এরপর থেকেই আপুর অনেক ফ্রেন্ড আমার কাছে সাজা শুরু করল। মাত্র ২ হাজার টাকা করে নিতাম। তবে সেই বাসার সমস্যায় আবার পড়লাম। দাদা ভাইকে বলা হলো আমি পার্লারের কাজ করি, পার্লারের মেয়ে আমি। আমি বললাম হ্যাঁ তো? পার্লারে যারা কাজ করে ওরা কি মানুষ না? তাদের কি পরিবার নাই? দেখ তোমাদের মতো এক একটা পরিবার চালায় তারা। আমি তাদের রেস্পেক্ট করি। সেদিন সবাই অনেক উচ্চকণ্ঠে আমাকে বলল, এই মেয়ে আমাদের মানসম্মান ডোবাবে। সেদিন অনেক জেদ হলো! শুরু করলাম ফ্রিলান্সার মেকাপ আর্টিস্টের কাজ। বরিশাল শহরে কেউ এই টার্মটার সাথে পরিচিত ছিল না। কিন্তু এখন শত মেয়ে ফ্রিলান্সার মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছে দেখে খুব গর্ব হয়। যেহেতু বিয়েগুলো দুপুরে হতো মেক্সিমাম তাই অনেক সময় ব্রাইডের কাজ করতে গিয়ে স্কুল বন্ধ দিতাম। স্কুল ব্যাগে মেকাপ প্রডাক্ট নিয়ে চলে যেতাম সোজা ক্লায়েন্টের বাসায়, ছুটির সময়ে চলে আসতাম বাসায়। আর সেই খবর বাসায় চলে আসে। ওইদিন রাতে বুঝে যায়, আমাকে যদি কিছু বলতে আসে আমি কাউকে ছাড় দেব না। তাই এবার আর আমাকে না বলে আমার মাকে অনেক মন্দ বলে। মায়ের সেই সরল কান্না যতবার দেখেছি নিজের জেদকে আরও শক্তিশালী করেছি। নিজেকে তৈরি করেছি মানুষ হিসেবে, একবারও নারী হিসেবে নয়।

    তিনি আরও লেখেন, ব্রাইডের সংখ্যা বাড়তে থাকে বরিশাল থেকে পুরো দেশে নাম ছড়িয়ে পড়ল। বাসায় ফাইনান্সিয়াল্লি কন্ট্রিবিউশন করা শুরু করলাম। বাহ এবার আমার পরিবারের সবাই আমাকে নিয়ে গর্ব করছে, পরিচয় দিচ্ছে। আমি সবার মধ্যমনি। কিন্তু ওইদিনটাতে বাবার কথা খুব মনে পড়ছিল যে বাবা তোমার মৃত্যুর পর যতটা কষ্ট পেয়েছি তোমাকে হারিয়ে তার থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছি এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে।

    রোজা বলেন, ব্রাইডাল মেকাপ ট্রান্সফরমেশন ভিডিও আপলোড শুরু করলাম, নিজের ব্লগ, সব কিছু মিলিয়ে ভাইরাল হওয়া শুরু হলো। ঢাকা থেকে ক্লায়েন্টের নক আশা শুরু করল। কিন্তু ঢাকাতে তো কারো বাসায় উঠব না। অন্যদিকে পরের দিন বরিশালে ৪-৫ টা ক্লায়েন্ট। তাই সারাদিন কাজ করে রাত ৯ টায় লঞ্চে করে ঢাকা এসে সারাদিন কাজ করে আবার বরিশালে ব্যাক করি। এই যাতায়াতে করতে গিয়ে রাস্তাঘাটে কতো মানুষের কথা শুনেছি, তবে আমাকে কেউ নারী বলে হ্যারেসমেন্ট করার সাহস পায়নি। কারণ আমার চোখ তাদের বলে দিত যে আমি জীবনে কাউকে ছাড় দিই না, দেব না। তা বাসায় হোক আর বাইরে হোক।

    তিনি বলেন, ঢাকার ক্লায়েন্ট বাড়ল, বাজেট বাড়ল। বিবিএ’র স্টুডেন্ট ছিলাম, কাজের পাশাপাশি পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে বেশ একটা কঠিন সময় যাচ্ছিল। যাই হোক খুব সাহস করে বসুন্ধরাতে একটা ছোট বাসা নিয়ে স্টুডিও সেটাপ দিই। বাড়িওয়ালা খুব ভালো ছিলেন। তার পরিবার নিয়মিত আমার ব্লগ দেখতেন। কিন্তু এতো ক্লায়েন্ট আসত যে পাশের বাসা থেকে কমপ্লেইন আসা শুরু করল। পরে বাসাটা ছেড়ে একটু বড় পরিসরে বাসা নিয়ে আবার নতুন সেটাপ দিই। এবার দারোয়ান মামাকে বেশ ভাল বকশিস দেই তাই আর ঝামেলা হয় না। এভাবেই আস্তে আস্তে রোজাস ব্রাইডালকে ক্লায়েন্টের দোরগোড়ায় নিয়ে যাই। ঢাকা-বরিশাল সব সময় ক্লায়েন্ট। পরে ফ্লাইটে যাতায়াত শুরু করি। এমন হয়েছে সকালে বরিশালে ক্লায়েন্ট করে দুপুরে ঢাকাতে করেছি। আর সব সম্ভব হয়েছে মনের মধ্যে একটা জেদের কারণে। কারণ, এই সেক্টরের মেয়েরা অনেক অবহেলিত। আমাকে যে কথা শুনতে হয়েছে আমি আর একটি মেয়েকেও সেই কথা শুনতে দিতে চাই না। তাই শুরু করলাম মেকআপ ক্লাস। এক বছরে ৫০০ জনের বেশি মেয়েকে মেকআপ শেখালাম। শত শত মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াল। হঠাৎ একদিন মায়ের কল, ইউএসএ অ্যাম্বাসি তে দাঁড়াতে হবে ইমেগ্রেশন ভিসার জন্য। বড় মামা অনেক আগে থেকে আবেদন করেছিল। দেখতে দেখতে ভিসা হয়ে গেল। উৎস আর মায়ের জন্য দেশ ছাড়তে হবে। নিজের সাজানো সংসার বলা যায়, তা ছেড়ে যেতে যেমন লাগে দেশ ছেড়ে আমার যেতে ঠিক তেমন লেগেছে। একটু একটু করে এ দেশে নিজের অবস্থান তৈরি করেছি আর সেই সব ছেড়ে যাব? মজার কথা হল, যেদিন আমার ফ্লাইট ওইদিনও আমি ব্রাইডের কাজ করি। দেশে আমার সার্কেলটা খুব ভালো, দেশ ছাড়ার সময়ে আমি নিজের লাগেজ পর্যন্ত গুছাইনি। যা কিছু করার সব ওরা করেছে। ওদের ছেড়ে থাকাটাও আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।

    এরপর রোজা বলেন, নিজের ক্যারিয়ার, নিজের সার্কেল আর নিজের স্বপ্ন সব ফেলে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যত নিয়ে চলে এলাম ইউএসএতে। এখানে আমি আসার আগেই বার্গারের দোকানে কাজ থেকে শুরু সব কাজ আমার জন্য দেখা হয়েছিল, আমাকে না জানিয়েই। আমি তো করবোই না, ওইযে আমি খুব জেদি, শুরু করলাম নিউইউর্কে প্রচারণা। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ক্লায়েন্ট পেলাম। আস্তে আস্তে ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানের প্রবাসীরাও আমার কাছে সাজা শুরু করল, ক্লাস করা শুরু করালাম। নিজেকে আবার এই দেশেও একজন প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দাড় করালাম। কসমেটোলজির মাধ্যমে স্কিন, হেয়ার এবং মেকআপ রিলেটেড স্টাডি করলাম কলেজে। আর সেখান থেকেই আজকের স্টুডিও। কসমেটোলজির ওপর নতুন করে আবার পড়াশোনা, লাইসেন্স নেওয়া সব চ্যালেঞ্জ নতুন করে আবার ফেইস করেছি। সেলুনে সব থেকে এক্সপেন্সিভ এবং কোয়ালিটিফুল প্রডাক্ট দিয়ে সাজিয়েছি সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট।

    তাহসানপত্মী বলেন, কথাগুলো খুব আবেগ নিয়ে লেখা। শুরুতেই বলেছিলাম, আমার মা একজন সরল মানুষ। বাবা মারা যাওয়ার পর জীবনে উচ্চস্বরে কথা বলতে পারেনি, কখনো হাসতে দেখিনি। আর আজ সেই মা উচ্চগলায় সবাইকে ফোনে বলে ‘হ্যাঁ আমার বড় মেয়ে রোজাই তো আমাকে দেখছে, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ অনেক ভালো রাখছেন আমাদের। তিনি হয়ত স্বপ্ন দেখতে পারেননি কিন্তু তার মেয়ে হিসেবে একটু হলেও নতুনভাবে বাঁচতে শেখাতে সাহায্য করেছি। আজ খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে, বাবা তোমার সেই ছোট্ট পরীটা অনেক বড় হয়েছে! আমার সব স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু তুমি বাবা। আমি শুধু একটা কথাই বলব, আপনাদেরকে ভেঙে দেওয়া জন্য হাজার মানুষ থাকবে কিন্তু প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনাকে একাই চলতে হবে।

  • বরিশালে আদালতের তলবে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন ওসি, শোকজের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা

    বরিশালে আদালতের তলবে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন ওসি, শোকজের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এক চুরি মামলায় আদালতের তলবের মুখে পড়েন থানার ওসি জাকির শিকদার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাসুদেব। ৩০ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় জনতা সায়েম নামে এক অটোরিকশা চালককে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে, ৩১ ডিসেম্বর সিরাজ সরদার নামে এক ব্যক্তিকে বাদী করে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: জিআর ২৯৮/২৪)।

    সায়েমের পরিবার জানায়, তিনি ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার রাতে সুজন নামে একজনকে ভাড়া নিয়ে কিছু মালামাল পরিবহনের সময় জনতা অটোরিকশা থামায়। সায়েমের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    পহেলা জানুয়ারি সায়েমকে আদালতে হাজির করার পর তিনি জানান, তাকে আগের রাতে আটক করা হলেও আদালতে সময়মতো হাজির করা হয়নি। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন।

    আদালতে হাজির হয়ে ওসি জাকির শিকদার নিজেকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করে ক্ষমা চান। বিচারক তাকে সতর্ক করে ক্ষমা করলেও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাসুদেবকে শোকজ নোটিশ জারি করেন।

    সায়েমের মা অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ। শুধুমাত্র ঘুষ না দেওয়ার কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”

    এ ঘটনায় বরিশাল বারের সিনিয়র আইনজীবী উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, “আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে এটি আদালত অবমাননার শামিল।”

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) রুনা লায়লা জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা নেই। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ঘটনার পর আদালতপাড়ায় বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়, যা পুলিশি কার্যক্রম ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে ইসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে ইসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।সিইসি বলেন, ১৮ কোটির মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ভোটার হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    কাজ করতে গিয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল কমিশন করবে না উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দেশের ১৮ কোটি মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা যে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আমরা তা ঘোচাতে চাই, বঞ্চনার কষ্ট দূর করতে চাই। আমরা আমাদের কমিটমেন্টে অটল আছি। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের কমিটমেন্ট হলো, জাতিকে একটি ফ্রি-ফেয়ার-ক্রেডিবল ইলেকশন উপহার দেওয়া। আমি প্রায়ই বলি, আমাদের বঞ্চিত কর্মকর্তারা জনপ্রশাসনে যাচ্ছেন, আন্দোলন করছেন, তাদের বঞ্চনার তথ্য তুলে ধরছেন, দেশের ১৮ কোটি বঞ্চিত মানুষ কোথায় যাবেন? সামনে নির্ভুল ভোটার তালিকার পাশাপাশি ও নির্বাচনে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আমরাও ক্রান্তিকালীন সময়েরই নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব ছাড়াও দেশবাসীর প্রত্যাশা সরকারের কাছে যেমন বেশি, আমাদের কাছেও তেমনি বেশি। সংস্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইন-কানুনের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। এ জন্য পুরোনো মন-মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

    সিইসি বলেন, সব সংস্কারের বড় সংস্কার নিজের আত্মাকে সংস্কার করা। মন-মগজ সংস্কার না হলে আখেরে ভালো কিছু বয়ে আনবে না। আমাদের মন-মানসিকতায় সংস্কার আনতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন ভোটার তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে, এ কাজে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। ধাপে ধাপে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর পৌনে এক লাখ লোকবলকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ বলেন, ‘ভোটে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্ভুল ভোটার তালিকা সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্ব শর্ত। ভোটার তালিকা হালনাগাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

    নির্বাচন কমিশনার তাহমিনা আহমদ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের হাতিয়ার হবে আইন এবং বিবেক। ইসির কোনো কর্মকর্তা দুরভিসন্ধিমূলক কাজ করলে সেই দায় কমিশন নেবে না।’

    নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বিগত নির্বাচন যেভাবে কলুষিত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে যা যা করা লাগে তার সবটুকুই করবে কমিশন। ভোটার হালনাগাদে অনিয়ম, অবহেলা ও অস্বচ্ছতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

    নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘টাকা অর্জনের মোটিভ নিয়ে যাতে কেউ ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্তির কাজে অংশগ্রহণ না করে। মৃত ভোটার, ভুয়া ভোটার ও নতুন ভোটারের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করতে হবে।’

    ভোটের প্রতি মানুষের যে অনাগ্রহ সেখান থেকে কমিশন এবার বেরিয়ে আসতে পারবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যে আস্থার ঘাটতি ছিল, তা কমে এসেছে। মানুষ এবার ভোট দিতে চায়। ভোটকে কেউ যাতে নষ্ট করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • লন্ডনে টিউলিপের বোন আজমিনার উপহার পাওয়া ফ্ল্যাটের সন্ধান

    লন্ডনে টিউলিপের বোন আজমিনার উপহার পাওয়া ফ্ল্যাটের সন্ধান

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পলায়ন করেন। শেখ হাসিনাকে ‘গণহত্যা, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ অভিযোগের মধ্যে অন্তত ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর বিষয়টি আছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তহবিল তছরুপের অভিযোগও রয়েছে।

    হাসিনার পতনের পর একের পর এক সামনে আসছে তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সম্পদের খবর। শেখ পরিবারের অন্যতম সদস্য ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে উপহার দেওয়া বাড়ির সন্ধানের পর এবার বের হয়েছে তারই ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তর নামে উপহার দেওয়া আরেক ফ্ল্যাটের সন্ধান। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবী তাকে ফ্ল্যাটটি উপহার দিয়েছিলেন। আজমিনার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট উপহার নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও সানডে টাইমস।

    ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস প্রকাশ করেছে, লন্ডনের কিংসক্রস এলাকায় টিউলিপ সিদ্দিককে একটি ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী আবদুল মোতালিফ। ব্রিটেনের ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    ভিন্ন এক প্রতিবেদনে আরেক গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, টিউলিপের ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তিকে উত্তর লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডের ফিঞ্চলে রোডে একটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছিলেন বাংলাদেশি আইনজীবী মঈন গনি। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

    ২০০৯ সালে মঈন গনি ফ্ল্যাটটি আজমিনার নামে হস্তান্তর করেন। ভূমি রেজিস্ট্রি নথিতে কোনো আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ নেই। তবে জানা যায়, আজমিনা যখন ১৮ বছর বয়সি এবং অক্সফোর্ডে পড়াশোনা শুরু করছিলেন, তখন তিনি ফ্ল্যাটটি উপহার পান।

    ফ্ল্যাটটি প্রথমে আজমিনার নামে থাকলেও এক সময় সেখানে টিউলিপ সিদ্দিক বসবাস শুরু করেন। তবে তিনি ঠিক কখন সেখানে উঠেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের পর, তিনি ওয়ার্কিং মেনস কলেজের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হলে, কোম্পানি হাউসের নথিতে তার ঠিকানা হিসেবে এ ফ্ল্যাটটি তালিকাভুক্ত হয়।

    ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ক্যামডেন আর্টস সেন্টারের দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং মার্চ ২০১৪-তে হ্যাম্পস্টেড ওয়েলস অ্যান্ড ক্যাম্পডেন ট্রাস্ট নামক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি হিসেবে একই ঠিকানা ব্যবহার করেন।

    টিউলিপের স্বামী ক্রিশ্চিয়ান পার্সিও ২০১৬ সালের শেষের দিকে ফ্ল্যাটটির ঠিকানা ব্যবহার করেন। তখন টিউলিপ হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের লেবার এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    ২০২১ সালে আজমিনা ফ্ল্যাটটি ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করেন।

    এ বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার বোনের ফ্ল্যাটে বসবাস করেছিলেন।

  • হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হামাসের দাবি অস্বীকার করল ইসরাইল

    হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হামাসের দাবি অস্বীকার করল ইসরাইল

    উত্তরা গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের আগুন দেওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছে ইসরাইল। হাসপাতাল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

    তবে হামাসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (আইডিএফ)। তারা দাবি করেছে, হাসপাতালে খালি কক্ষে ছোট অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

    শনিবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।

    আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেছেন, ‘যদিও আইডিএফ সৈন্যরা হাসপাতালে ছিল না, তখন নিয়ন্ত্রণে থাকা হাসপাতালের ভিতরে একটি খালি বিল্ডিংয়ে একটি ছোট অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

    তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে সামরিক কার্যকলাপ এবং আগুনের মধ্যে কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি।এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে অপ্রমাণিত প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতা।’

    গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ল্যাব ও সার্জারি বিভাগসহ কামাল আদওয়ানের বেশ কয়েকটি অংশে ইসরাইলি সেনাদের আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখনো ২৫ রোগী এবং ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালে রয়ে গেছে।

    মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যে ইসরায়েলি সৈন্যরা হাসপাতালে প্রবেশ করেছে, কর্মীদের এবং রোগীদের বাইরে নিয়ে গেছে এবং শীতের আবহাওয়ায় তাদের বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করেছে।

    জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, ইসরাইল গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও বলেছে, প্রাথমিক খবরে এ অভিযানে হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত অযাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রোগী এবং কর্মীদের আইডিএফ ট্যাঙ্কের সামনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানালেন রিজভী

    সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানালেন রিজভী

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতি ঢাকতে সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    শনিবার সকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নে সচিবলায়ের আগুন নেভাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফায়ার কর্মী নয়নের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আবারো পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এসব ষড়যন্ত্র। এর আগে নয়নের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে লাগা আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে ট্রাকচাপায় মৃত্যু হয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্য সোহানুর জামান নয়নের। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টায় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আটপুনিয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

  • আগামী বিজয় দিবসের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে: আসিফ নজরুল

    আগামী বিজয় দিবসের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে: আসিফ নজরুল

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আগামী বিজয় দিবসের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে।

    শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংস্কার নিয়ে জাতীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা আমলের গুম-খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে এই সংলাপ।

    আসিফ নজরুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিল না, তদন্ত কর্মকর্তা ছিল না। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রসিকিউশন টিম করা হয়েছে। তড়িঘড়ি করে বিচার করে বিচারকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে না। বিচার নিয়ে কোনো গাফিলতি হবে না, নিশ্চিত করে বলতে চাই। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো দেরি হচ্ছে না।

    আসিফ নজরুল বলেন, সব বিচার করবে আইন বিভাগ। কোনো গাফিলতি হবে না। হাসান মাহমুদ, ওবায়দুল কাদেরের মত বদমাশরা কেন পালিয়ে গেলো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সেই প্রশ্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবলিক প্রসিকিউটররাও (পিপি) পালিয়ে গেছে। ৫১ জেলা থেকে পিপিরা গায়েবি মামলার তথ্য পাঠিয়েছে।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, মামলার শুনানির সময় ও আসামিদের হাতকড়া না পরানো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে এখন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় আসামিদের আইনজীবী যিনি ছিলেন, তিনি বলেছেন শুনানির জন্য সে সময় ৩ মাস দেওয়া হয়েছিল। এখন শুধু ১ মাস দেওয়া হয়েছে। তখন আসামিদের কাউকে হাতকড়া পরানো হয়নি, এখনো আসামিদের হাতকড়া পড়ানো হচ্ছে না।

  • আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানাল আইএসপিআর

    আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানাল আইএসপিআর

    ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইন সংস্করণে প্রচারিত ‘উর্দিতে বাঙালি গণহত্যার রক্তের ছিটে! ৫৩ বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সেই পরাজিত পাক ফৌজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। শনিবার আইএসপিআর থেকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ লিপিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৭ ডিসেম্বর ভারতীয় গনমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় (অনলাইন) প্রকাশিত ‘উর্দিতে বাঙালি গণহত্যার রক্তের ছিটে! ৫৩ বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সেই পরাজিত পাক ফৌজ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতিতে অটল। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ছাত্র বিনিময় ও প্রশিক্ষনসহ বিবিধ সহযোগিতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে।

    আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোনো প্রশিক্ষক দল বা প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশের কোনো সেনানিবাসে প্রশিক্ষণের জন্য আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। এই দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ সংগ্রহ করে। সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা বিষয়ে অজ্ঞতাপ্রসূত মতামত অনভিপ্রেত, অযাচিত ও আপত্তিকর।

    সাংবাদিকতার সঠিক রীতি অনুসরণ করার বিপরীতে, উক্ত সংবাদপত্রটি প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। এই উপেক্ষা প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথ্যের স্বচ্ছতা এবং সঠিক তথ্য প্রচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করতে বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনা, মেহজাবীনের আবেগঘন পোস্ট

    ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনা, মেহজাবীনের আবেগঘন পোস্ট

    হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। আর এর মধ্যে সেখানে এক বাইকারের স্ত্রী আর সাত বছরের সন্তান নিহত হয়েছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন সেই বাইকার। এ ঘটনা কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নানা পোস্ট করছেন। সেই কাতারে আছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও।

    সেই দুর্ঘটনার একটি ছবি পোস্ট করে মেহজাবীন লিখেছেন, আমি এই বাবার প্রতি সমবেদনা জানানোর কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। নিজের প্রিয়জনকে চোখের সামনে মরতে দেখা মানে নিজের ভেতরেও একটি অংশ মরে যাওয়া।

    তিনি বলেন, এই মানুষটা হয়তো এখন জীবিত, কিন্তু তার ভেতরটা তার পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে ইতোমধ্যে মারা গেছে। আল্লাহ তাকে বেঁচে থাকার তৌফিক দিন।

    অভিনেত্রী বলেন, রাস্তাগুলো কখনই নিরাপদ নয়। সারা বছর ধরে অসংখ্য ঘটনা ঘটে, যা অবহেলার পরিচয় দেয়, কিন্তু এ ধরনের উদাসীনতা থামানোর জন্য কিছুই কার্যকর হচ্ছে না।

    মেহজাবীন বলেন, যতদিন না বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, ততদিন এটা প্রতিদিন শোনা, পড়া, অনুভব করা এবং ভুলে যাওয়া গল্প হয়েই থেকে যাবে।

    উল্লেখ্য, গতকাল ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হন।

  • সাদপন্থিদের শীর্ষ নেতা জিয়া বিন কাসেম গ্রেফতার

    সাদপন্থিদের শীর্ষ নেতা জিয়া বিন কাসেম গ্রেফতার

    টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে চার মুসল্লি নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাদপন্থিদের শীর্ষ নেতা জিয়া বিন কাসেমকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে।

    শনিবার জিএমপির উপকমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) এনএম নাসিরুদ্দিন যুগান্তরকে সংবাদটি নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে চট্টগ্রামে জিয়া বিন কাসেম গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে টঙ্গীতে আনা হচ্ছে। তিনি হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি।

    তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সাদপন্থি কর্তৃক টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়া বিন কাসিম চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানায় শনিবার সকালে গ্রেফতার হয়েছেন৷ বর্তমানে তাকে পুলিশের গাড়িতে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে৷

    গত ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে চার মুসল্লি নিহত ও শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় শুরায়ি নেজামের (জুবায়েরপন্থি) পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার জিয়া বিন কাসেম মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।