Blog

  • অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কাছে ম্যাজিক নাই: আইজিপি

    অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কাছে ম্যাজিক নাই: আইজিপি

    সারা দেশের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কাছে ম্যাজিক নাই। ছিনতাই খুনের মতো অপরাধ কমাতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান আইজিপি বাহারুল আলম।

    শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বাহারুল আলম বলেন, আগুনের ঘটনা তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটি বিস্তারিত জানাবে। এছাড়া সমন্বয়কদের হুমকির প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি। জানান, এখনো সিরিয়াস কিছু পাওয়া যায়নি।

    তিনি বলেন, অপরাধ কমাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঢাকাসহ সারা দেশের পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। ছাত্রদের সহযোগিতা চাই।

    এসময় ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, স্বাধীনতার পর এমন পুলিশ বাহিনী দেখতে চায়নি জনগণ। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

    তিনি বলেন, কী কারণে মানুষের এতো ক্ষোভ পুলিশের ওপরে তা বিশ্লেষণ করা উচিত। ৫ আগস্টে ৭২ ঘণ্টা আগেও যদি পুলিশ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতো তাহলে এতো প্রাণহানি হতো না বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

  • পূর্বাচলে হাসিনা পরিবারের প্লট নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

    পূর্বাচলে হাসিনা পরিবারের প্লট নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

    ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬টি প্লট বরাদ্দ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

    অবৈধ উপায়ে প্লট বরাদ্দ নেওয়া ৬ জন হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি এবং রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকী।

    দুদক জানায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের ১৩/এ ধারার ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি এবং রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকীর নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩নং রোড থেকে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠার ৬টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ২২ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তারও আগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের টিম গঠন করে কমিশন। ওই দুটি অভিযোগ একই অনুসন্ধান টিম অনুসন্ধান করছে। তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত করে। ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম রিজভী আহমেদ মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম প্রথম নজরে আসে।

    এফবিআইয়ের তদন্তে সজীব ওয়াজেদ জয়ের গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে, তার নামে থাকা হংকং এবং কেম্যান আইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে টাকা পাচারের তথ্য উঠে আসে। এফবিআই তাদের লন্ডনের প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং প্রমাণ পেয়েছে যে সেখানে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম এবং মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের (ডিওজে) সিনিয়র ট্রায়াল এটর্নি লিন্ডা সেমুয়েলস স্পেশাল এজেন্ট লা প্রিভোটের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।

    আর গত ১৭ ডিসেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বা ৫৯ হাজার কোটি টাকাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেখানে শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে রূপপুর ছাড়াও আশ্রয়ণসহ ৮টি প্রকল্পে দুর্নীতির তথ্য আমলে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রকল্পগুলোতে ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

    এরপর ১৮ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপ-পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুল হাসান ও সহকারী পরিচালক একেএম মর্তুজা আলী সাগর।

    গত ১৫ ডিসেম্বর হাসিনা পরিবারের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

    গত ৩ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

    গত ১৯ আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বেশ কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাট করেছেন। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানকারী গ্লোবাল ডিফেন্স করপোরেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদন করা হয়।

  • পুষ্পা-২ দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট শিশুর অবস্থার উন্নতি, পাশে দাঁড়িয়েছেন আল্লু অর্জুন

    পুষ্পা-২ দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট শিশুর অবস্থার উন্নতি, পাশে দাঁড়িয়েছেন আল্লু অর্জুন

    দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা-২’ সিনেমা দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়েছিল শ্রী তেজ। গত ২০ দিন ধরে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল আট বছরের সেই শিশু। সম্প্রতি জানা গেছে, চিকিৎসায় সেভাবে সাড়া দিচ্ছে না। এর আগে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ভেন্টিলেশনে রয়েছে শ্রী তেজ। চিকিৎসায় কাজ হচ্ছে না। তাই এ অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম।

    তবে আশার বিষয় হচ্ছে— মঙ্গলবার বাবা ভাস্কর জানিয়েছেন, ২০ দিন পর তার ছেলে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে। জ্ঞানও ফিরেছে তার। তিনি বলেন, আমার সন্তান অবশেষে ২০ দিন পর চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে। আল্লু অর্জুন ও তেলেঙ্গানা সরকার আমাদের সাহায্য করছে।

    কেআইএমএস হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সেই শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, শ্রী তেজের জ্ঞান ফিরেছে। আর ভেন্টিলেশনে তার থাকার প্রয়োজন নেই। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

    এদিকে শ্রী তেজের বাবা জানিয়েছেন, ছেলে চোখ খুলেছে। কিন্তু কাউকে চিনতে পারছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন— পরিবার ওর পাশে থাকলে এবং প্রায়ই নাম ধরে ডাকলে ও ক্রমশ আমাদের চিনতে পারবে। আমরা সোমবার থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি, ও যাতে আমাদের চিনতে পারে।

    উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা প্রেক্ষাগৃহে ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর বিশেষ প্রদর্শন ছিল। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণী তারকাও। তাকে ঘিরে উত্তেজনার কমতি ছিল না দর্শকদের। উপচে পড়েছিল ভিড়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৩৫ বছরের এক নারীর। সেই নারীর পুত্র শ্রী তেজও গুরুতর জখম হয়। পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় আল্লুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এমনকি গ্রেফতারও করা হয় তাকে। তবে একদিনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি।

  • সারাদেশে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, মানববন্ধন

    সারাদেশে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, মানববন্ধন

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত উপসচিব পুলে কোটা পদ্ধতি বহাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিসের বাইরে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

    ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ এর আহ্বানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    মানববন্ধনে কর্মকর্তারা, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে অগ্নিনির্বাপণকালে ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহতের ঘটনায়ও গভীর শোক প্রকাশ করেন তারা। বিগত সময়ের দুর্নীতির নথি গায়েবের জন্য এটা কোনো ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    এ সময় বক্তারা আরও বলেন, উপসচিব পদে পদোন্নতিতে ৫০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে নেওয়ার কথা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।

    তাদের দাবি, নিজ নিজ পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি দিতে হবে, উপসচিব পদে নিয়োগ হবে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করতে হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে আলাদা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।

    এছাড়া এই কর্মসূচি থেকে জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব সিভিল প্রশাসনের দাবিতে পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে কর্মকর্তারা দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। পরিষদের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন সকল সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

  • হাসিনার দালালরা অপকর্মের ফাইল পুড়িয়ে দিল: সারজিস

    হাসিনার দালালরা অপকর্মের ফাইল পুড়িয়ে দিল: সারজিস

    সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সারজিস আলম লিখেছেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের যারা চাটার দল ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম একটা অংশ এই আমলারা। এদের ওপর ভর দিয়েই হাসিনা এই দেশে তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল।

    তিনি আরও লেখেন, যখনই বিপ্লবীরা হাসিনার অপকর্ম, চুরি, লুটপাট, দুর্নীতির দিকে নজর দিয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে তখনই সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে দিল।

    সারজিস আরও লেখেন, রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সবার আগে আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনে যেসব চাটার দল এখনো ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে তাদের শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।

    সবশেষে তিনি লেখেন, সাবধান করার সময় আর নেই।

    প্রসঙ্গত, দুই হাজার ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা তার তেমন কিছুই পূরণ করতে পারছে না। উল্টো পূর্ববর্তী সরকারের অনেক কিছুই বহাল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররাই সুবিধা পাচ্ছে। অথচ গণহত্যার বিচার হচ্ছে না সঠিকভাবে। আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

    ফলে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অঘটন ঘটছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পরই এমন মন্তব্য করলেন সারজিস আলম।

  • গাজায় হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি হামলা, ৫ সাংবাদিক নিহত

    গাজায় হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি হামলা, ৫ সাংবাদিক নিহত

    বৃহস্পতিবার সকালে গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-আওদা হাসপাতালের বাইরে একটি গাড়িতে হামলাটি হয়। নিহত সাংবাদিকরা স্থানীয় কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের জন্য কাজ করছিলেন।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে একটি গাড়ি আগুনে পুড়ে যেতে দেখা গেছে। ভিডিওটি থেকে সাদা রঙের একটি ভ্যানের স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে, যেটিতে বড় লাল অক্ষরে ‘প্রেস’ শব্দটি লিখা ছিল।

    নিহত সাংবাদিকরা হলেন, ফাদি হাসসুনা, ইব্রাহিম আল-শেখ আলী, মোহাম্মদ আল-লাদাহ, ফয়সাল আবু আল-কুমসান ও আয়মান আল-জাদি।

    আল-জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ বলেছেন, আয়মান আল-জাদির প্রসূতি স্ত্রীকে সন্তান জন্মদানের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের সামনে স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।

    কুদস নিউজ জানিয়েছে, বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

    এছাড়া গাজা শহরের জেইতুন পাড়ায় একটি বাড়িতে হামলায় আরো পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। চিকিৎসকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকে আছে বলে সতর্ক করেছে।

    সংবাদকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করে ইসরাইলি হামলা এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলের হামলায় চার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশটিকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হামলার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে।

    সিপিজে অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১৪১ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

    ইসরাইল দাবি করে আসছে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে এবং হামাস যোদ্ধারা বেসামরিক মানুষদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।

  • সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

    সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

    রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন) মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    এ কমিটির সদস্য-সচিব হবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়)।

    সদস্য হিসেবে থাকবেন- জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের প্রতিনিধি।

    সাত সদস্যের ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ উদঘাটন, অগ্নি দুর্ঘটনার পেছনে কারো ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়দায়িত্ব আছে কি না তা উদ্‌ঘাটন, এ জাতীয় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে সুপারিশ প্রেরণ। কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

    বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলা পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

  • বিএনপিতে আ.লীগ নেতাকর্মীদের যোগদান প্রসঙ্গে যা বললেন মির্জা ফখরুল

    বিএনপিতে আ.লীগ নেতাকর্মীদের যোগদান প্রসঙ্গে যা বললেন মির্জা ফখরুল

    দুর্নীতি ফ্যাসিবাদকে উত্তরণের উপায় হলো গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা। জনগণের যে শাসন, সেই শাসনকে পূর্ণপ্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের যে পার্লামেন্ট, জনগণের যে নির্বাচিত পার্লামেন্ট এছাড়া অন্য কোনো উপায় আছে বলে আমার জানা নেই।

    বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা জানা নেই। তবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণহত্যা, সন্ত্রাসীকাজে জড়িতদের বিএনপিতে আসার কোনো সুযোগ নেই।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন

    কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উখিয়া ১নং অগ্নিকাণ্ডের খরব পাওয়া যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফ হোসেন।

    তিনি বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসে আগুন নেভাতে কাজ করছে। কিন্তু বাতাসের কারণে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কি কারণে আগুন ধরেছে, সেটি এখনো জানা যায়নি। আমাদের পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গেছে।

    কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে কাজ করা কামাল বলেন, আমরা অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি মানুষের চিৎকার। পরে দেখি আগুন। পলিথিনের ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা আতঙ্কে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে।

  • আবারও ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি

    আবারও ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি

    তফশিল ঘোষণার পর যে কোনো পর্যায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধের ক্ষমতা আবারও নির্বাচন কমিশনের হাতে ফিরতে যাচ্ছে। ওই ক্ষমতা পেলে তফশিল ঘোষণা থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিরূপ পরিবেশ তৈরি হলে পুরো নির্বাচনই বাতিল করতে পারবে ইসি। এজন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১(এ) উপধারা সংশোধনের সুপারিশ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া প্রার্থীদের হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা যে কোনো সময়ে বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি। এমনকি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তা বাতিল করতে পারবে কমিশন। এটিসহ আরও কিছু ক্ষমতা ইসিকে দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করতে যাচ্ছে এ কমিশন। ১ জানুয়ারির মধ্যে কমিশনের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, আমরা অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাব করার সুপারিশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। এর মধ্যে নির্বাচন বাতিলে ইসির ক্ষমতা বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, ওই ক্ষমতা যখন কমানো হয়েছিল, তখনই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমরা মনে করছি, এই ক্ষমতা ইসির হাতে থাকা উচিত।

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার আরপিও সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাশ করে। ওই সময়ে অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে আরপিওর ৯১(এ) উপধারা ছিল। ওই ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব করেছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। ওই ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইসির মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। যদিও তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল দাবি করেন, ৯১(এ)-এর সঙ্গে আরেকটি উপধারা যুক্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও বেড়ছে।

    জানা যায়, আরপিও ৯১(এ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ বা বিরাজমান বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইসি যদি মনে করে তারা আইনানুগ ও ন্যায়সংগত নির্বাচন করতে সক্ষম হবে না, তাহলে নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার তা সংশোধন করে শুধু ভোটের দিন যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো বন্ধের বিধান করে। পুরো নির্বাচন বাতিলের পথ বন্ধ করে দেয়। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্যরা মনে করছেন, ওই ক্ষমতা ইসির হাতে ফেরত যাওয়া দরকার। প্রয়োজনে ৯১(এ) উপধারার প্রয়োগ আরও সুনির্দিষ্ট করা যেতে পারে।

    এছাড়া আরপিওর ৭৩ থেকে ৯০ ধারায় সংশোধনীর প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সংস্কার কমিশন। ওইসব ধারায় নির্বাচনি অপরাধে সাজার বিধান রয়েছে। নির্বাচনি অপরাধ করলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচনি ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পৃথক সাজার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। কমিশন সদস্যরা মনে করেন, সবার জন্য একই ধরনের সাজা দেওয়ার বর্তমান বিধান যৌক্তিক নয়।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে এ কমিশন। বিদ্যমান আইনে প্রার্থীর সাত ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। ওই তথ্য নির্বাচন কমিশন যাচাই করে না। প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণ করলে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ওই প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো পর্যায়ে হলফনামায় তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই ইসির। এক্ষেত্রে কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার পক্ষে আইন সংস্কার কমিশন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য যাচাইয়ে সময় বাড়ানো, হলফনামায় প্রার্থীর তথ্য সুনির্দিষ্ট করা, সম্পদের প্রকৃত দাম উল্লেখ করাসহ বেশকিছু সংশোধনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এমনকি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারবে ইসি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য বলেন, মাদারীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্য আব্দুস সোবহান গোলাপ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একাধিক বাড়ির তথ্য হলফনামায় গোপন করেছিলেন। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রার্থীরা হলফনামা আমাদের একটা জমা দেবে। কিন্তু সেই হলফনামার সত্য-অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কোনো কিছু করার আইনের ভিত্তি নেই। হলফনামা যেটা দেবে, সেটা জাতিকে তথ্য জানানোর একধরনের দায়িত্ব। সংস্কার কমিশনের ওই সদস্য বলেন, এভাবে সম্পদ লুকানোর প্রবণতা বন্ধে হলফনামার বিধানে সংস্কার প্রস্তাব করার বিষয়ে প্রায় সব সদস্য একমত হয়েছেন। সূত্র আরও জানায়, ভোটার তালিকা আইন ও জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনেও সংস্কার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংস্কার কমিশনের সদস্যরা একমত হয়েছেন। তারা পোস্টাল ব্যালট সহজ করার পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনেও বড় সংশোধনীর প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। ওই প্রস্তাবে জাতীয় সংসদের আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসে ইসির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভূগোলবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক আসনের সঙ্গে আরেক আসনের জনসংখ্যার ব্যবধান ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এতে শহর এলাকায় আসন সংখ্যা বাড়বে। অপরদিকে যেসব এলাকায় জনসংখ্যা কম, সেখানে আসন কমবে। তবে পার্বত্য অঞ্চলে আসন যাতে না কমে, সেজন্য সুপারিশ থাকবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যমান আইনটি আন্তর্জাতিক মানের নয়। এ আইনে সরকারি দলের ইচ্ছামতো সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের ফাঁকফোকর রয়েছে। এতে নির্বাচনের ফলাফলও বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে যায়। ওই ফাঁকফোকর বন্ধ এবং স্বচ্ছতা আনতে এ সংশোধনী প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে খসড়া সীমানা শুনানি মাঠ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের সুপারিশ করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। ভবিষ্যতে সীমানা পুনর্নির্ধারণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনেরও সুপারিশ করা হতে পারে।

    অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে বিদ্যমান আইন বাতিল করে আরেকটি নতুন আইনের প্রস্তাব করা হবে। ওই আইনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হবে। এছাড়া ‘না’ ভোটের বিধান আবারও ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হবে। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ বন্ধ হবে। নির্বাচন কমিশনের জনবল নিয়োগের ক্ষমতা ইসির হাতে দেওয়া, নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটে প্রার্থী চূড়ান্ত করা, একই দলে অন্তত তিন বছর সদস্য থাকা এবং সরকারি খরচে প্রার্থীদের প্রচারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে।

    নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সোমবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে না ভোট এবং নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বন্ধে সুপারিশ করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোয় যারা ইভিএম ব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের বিচারের সুপারিশ করা হবে।