Blog

  • সারা দেশে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি

    সারা দেশে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত উপসচিব পুলে কোটা পদ্ধতি বহাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিসের বহির্ভূত করার প্রতিবাদে এবং কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

    মঙ্গলবার ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’র আহ্বানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রশাসন ক্যাডার বাদে বাকি ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    কয়েকদিন আগে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস হতে আলাদা করার সুপারিশ করে। ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ এর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিষদ কলম বিরতি ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তারা।

    এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৬ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব অফিসে স্ব-স্ব কর্মস্থলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি, ৪ জানুয়ারি (শনিবার) ঢাকায় সমাবেশ আয়োজন। সেখান থেকে বড় কর্মসূচি আসবে।

    ইতোমধ্যে পরিষদের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন থেকে সব সদস্যকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কাজের তাগিদ

    রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কাজের তাগিদ

    আইন, সংবিধান এবং বিবেক মাথায় রেখে দেশের মানুষের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল থেকে র‌্যাবকে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তির প্রতি মাথা নত না করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র‌্যাবকে কাজ করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

    মানবাধিকার বিষয়ক আইন-কানুন সম্পর্কে র‌্যাব সদস্যদের ধারণা দিতে মানবাধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

    সোমবার র‌্যাব সদর দপ্তরের এলিট হলে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। র‌্যাবের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে, র‌্যাব ফোর্সেসের সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ে সংবেদনশীল হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য সংস্থার মাধ্যমে তাদের মানবাধিকার বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তবে মানবাধিকার, সিআরপিসি, পেনালকোড, জাতিসংঘের ডিকলিয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটস ১৯৪৮ সহ অন্যান্য কনভেনশগুলো আমলে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর চীফ প্রসিকিউটর এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    সেমিনারে র‌্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালক, অতিরিক্তি মহাপরিচালক, র‌্যাব সদর দপ্তরের সকল পরিচালক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকাস্থ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং কর্মকর্তাসহ ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

    এছাড়াও ভিটিসির মাধ্যমে র‌্যাবের ব্যাটালিয়নগুলোর সক কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

    র‌্যাবের মিডিয়া শাখা থেকে আরও জানানো হয়েছে, সেমিনারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবাধিকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আলোচক হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছেন, যা র‌্যাব ফোর্সেসের দৈনন্দিন কার্যাবলির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

    আলোচনার দ্বিতীয় অংশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবাধিকার বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।

  • সোনার দাম কমল

    সোনার দাম কমল

    দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৪৮ টাকা ক‌মিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    দাম কমানোর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হবে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৮ টাকা। যা আজ ছিল এক লাখ ৪০ হাজার ৫৮৬ টাকা।

    সোমবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন এই দর কার্যকর হবে।

    দাম কমানোর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ১৪ হাজার ৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ৯৩ হাজার ৬০৪ টাকায় বিক্রি করা হবে।

    সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটে প্রতি ভরি রুপার দাম দুই হাজার ৫৭৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৫৮৬ টাকা।

    এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর সোনার দাম কমানো হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

  • জাহাজে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয় ৭ জনকে

    জাহাজে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয় ৭ জনকে

    চাঁদপুরের নদীবেষ্টিত হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীতে থামানো অবস্থায় থাকা মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের আল বাখেরাহ নামক জাহাজ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

    সোমবার বিকালে ওই ইউনিয়নের মাঝেরচর নামক স্থান থেকে মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ। পুলিশের ধারণা জাহাজে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।

    নিহতরা হলেন- জাহাজের মাস্টার কিবরিয়া, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি, গ্রিজার সজিবুল, আজিজুল ও মাজেদুল ইসলাম। নিহত একজনের নাম জানা যায়নি। আর আহত ব্যক্তি হলেন জুয়েল। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের বাড়ি নড়াইল জেলায়।

    মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের অপর জাহাজ মুগনি-৩ এর মাস্টার বাচ্চু মিয়া ও গ্রিজার মো. মাসুদ জানান, সারবহনকারী আল বাখেরাহ রোববার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসে। এরই মধ্যে কোম্পানির মালিক শিপন বাখেরাহ জাহাজে ফোন করে কাউকে পাননি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মুগনি জাহাজ থেকে যোগাযোগ করার জন্য বলে। ওই সময় মুগনি জাহাজটি মাওয়া থেকে ঘটনাস্থল দিয়ে অতিক্রম করার সময় বাখেরাহ জাহাজটি দেখতে পায়। ওই সময় তারা জাহাজের লোকদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নাম্বারে কল দেন।

    এদিকে ৯৯৯ নাম্বারে কলের সূত্র ধরে চাঁদপুর থেকে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমানের উপস্থিতে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ জাহাজ থেকে প্রথমে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ৩ জনকে আহত অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

    চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, জুয়েল নামে আহত একজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলা ও শ্বাসনালীও কাটা ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। আর উদ্ধার করে আনা সজিবুল ও মাজেদুলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, জাহাজে ডাকাতি করতে বাধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তিনি বলেন, আহত একজন হাতের ইশারায় জানিয়েছে তারা ৮ জন ছিলেন। ঘটনাটি কিভাবে হয়েছে এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। ডাকাতি, কিংবা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। তদন্ত করার পরে জানা যাবে। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলেছি। কারণ এই রুটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

  • হাসিনাকে ফেরানোর চিঠি পেয়ে যা বলল ভারত

    হাসিনাকে ফেরানোর চিঠি পেয়ে যা বলল ভারত

    ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘(হাসিনাকে) প্রত্যর্পণের অনুরোধ সম্পর্কিত একটি কূটনৈতিক পত্র আজ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আমরা হাতে পেয়েছি। তবে এ মুহূর্তে এই বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।’

    এর আগে ভারতকে কূটনৈতিক পত্র পাঠানোর তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সোমবার (২৩) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান তিনি।

    সোমবার সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, গত ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    কোন উপায়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী হবে।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পিলখানার বিজিবি সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, এরইমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এক্সট্রাডিশন করার জন্য, এটি প্রক্রিয়াধীন।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কথা গত কয়েকদিন ধরেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিছুদিন আগেই হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • বুয়েট ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তিন আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

    বুয়েট ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তিন আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে প্রাইভেট কার চাপায় বুয়েট শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনকে ২ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। রোববার শুনানি শেষে পুলিশকে রিমান্ড কার্যকরের এ আদেশ দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাজী নূর মোহসীন।

    আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড পেতে গত শুক্রবার বিকালে আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ। আর রোববার আসামিদের জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

    নারায়ণগঞ্জ আদালতে পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক কাইউম খান জানান, বিচারক শুনানি নিয়ে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মুবিন আল মামুন (২০), মিরাজুল করিম (২২) ও আসিফ চৌধুরী (১৯)।

    বৃহস্পতিবার গভীররাতে পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফুট সড়কে প্রাইভেট কার চাপায় রূপগঞ্জ পুলিশের চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা বুয়েট শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদ মারা যান। আর গুরুতর আহত হন সহপাঠী মেহেদী হাসান খান ও অমিত সাহা।

    ঘটনার সময় প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার ছেলে মুবিন আল মামুন। ঘটনাস্থল থেকে মামুনের পাশাপাশি তার বন্ধু মিরাজুল ও আসিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ডোপ টেস্টে মামুন ও মিরাজুলের ফল ‘পজিটিভ’ আসে।

    তাদের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন রূপগঞ্জ থানার এএসআই মেহেদী হাসান। এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর প্রাইভেট কার তল্লাশি করে একটি বিদেশি মদের খালি বোতল এবং এক ক্যান বিয়ার পাওয়া যায়।

    এর আগে শুক্রবার সকালে সড়ক পরিবহন আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মাসুদ মিয়া।

    এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন বুয়েট ছাত্র মুহতাসিম মাসুদ। পরে তার দুই বন্ধুসহ ৩০০ ফুট সড়কে বেড়াতে যান।

    সেখানে নীলা মার্কেটে তারা রাতের খাবার খান। ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাসায় ফেরার সময় নীলা মার্কেটের অদূরে একটি পুলিশ চেকপোস্টে তাদের থামানো হয়।

    ওই সময় বেপরোয়া গতির একটি গাড়ি চেকপোস্ট অতিক্রম করে বুয়েট ছাত্রদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মুহতাসিম মাসুদ। আহত হন বাকি দুজন।

    পরে মেহেদীকে স্কয়ার হাসপাতালে এবং অমিত সাহাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এদিকে গাড়ি চাপায় বুয়েটের তিন শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সতীর্থরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

  • এনআইডির তথ্য বেহাত, বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

    এনআইডির তথ্য বেহাত, বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

    জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন চুক্তি করলেও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল শর্ত লঙ্ঘন করেছে। শর্তানুযায়ী দ্বিতীয় কমিশনের তথ্য-উপাত্ত কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ব্যক্তি, স্বত্ত্বা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর, বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো পন্থায় প্রদান করতে পারবে না বলা হলেও সংগঠনটি তা মানেনি। এমন অভিযোগ এনে কম্পিউটার কাউন্সিলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    রোববার (২২ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন হতে এনআইডির তথ্য-উপাত্ত যাচাই সেবা গ্রহণকারী সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ১৮৩টি। যার মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিটার কাউন্সিল (বিসিসি) অন্যতম। গত ৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখ নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিসিসির দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী দ্বিতীয় পক্ষ (বিসিসি) কমিশনের তথ্য-উপাত্ত কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ব্যক্তি, স্বত্ত্বা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর, বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো পন্থায় প্রদান করতে পারবে না মর্মে শর্ত থাকলেও বিসিসি কর্তৃক তা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

    হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, এ বিষয়ে ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বিসিসির নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও বিসিসি জবাব দানে বিরত থাকে। পরবর্তীতে গত ৬ অক্টোবর তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য বলা হলে বিসিসি কর্তৃক যে জবাব দেওয়া হয় তা নির্বাচন কমিশনের নিকট সন্তোষজনক নয় মর্মে গণ্য হয়েছে।

    অন্যদিকে, চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি/চার্জসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসিসি কর্তৃক পরিশোধ না করায় চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিকট চুক্তিটি বাতিলযোগ্য মর্মে বিবেচিত হয়েছে।

    জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তক্রমে নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিসিসির ৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে সম্পাদিত চুক্তিটি ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিসিসিকে দেওয়া API সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া চিঠি দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সমুদয় বকেয়া ফি/চার্জ পরিশোধপূর্বক চালানের কপি দাখিল করার জন্য বিসিসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডার থেকে অন্তত ৫ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য বিক্রি হয়েছে। তা নিয়েছে সরকারি-বেসরকারি দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় আছে এনজিও-ও। এসব তথ্য বিক্রি করে আসছে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতি একজন ব্যক্তির তথ্যের জন্য ৫, ১০ ও ১৫ টাকা হারে আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘পরিচয়’। ‘সরকারি ই-সেবা’ দেওয়ার নামে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারের ডেডিকেটেড সংযোগ এপিআই (অ্যাপলিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) নেয় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ওই সংযোগ ব্যবহার করেই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রি করে আসছে পরিচয় প্ল্যাটফরম।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনও নাগরিকদের তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা করেনি। বিসিসিকে তথ্যভান্ডারের মিরর কপি দিয়েছে। ফলে নাগরিকদের সব তথ্যই সরকারের হাতে চলে যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন দুই কমিশনের সময়ে এসব তথ্য অন্যদের হাতে যায়। এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিদায়ি আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন, সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন, আইসিটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিসিসিকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের এপিআই ব্যবহার করে শুরু থেকে এ পর্যন্ত কতজন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই ও বিক্রি করা হয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান ইসির কাছে নেই। এক হিসাবে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে ইসি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিন বছর আড়াই মাসে তথ্যভান্ডার থেকে কতসংখ্যক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়, এর হিসাব ইসির কাছে নেই।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসির তথ্যভান্ডারে ১২ কোটি ১৮ লাখের বেশি মানুষের তথ্য আছে। কারণ হিসাবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, কোনো চুক্তি ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের এপিআই ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের গেটওয়ে ‘পরিচয়’ প্ল্যাটফরম তৈরি করা হয়।

    ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ‘পরিচয়’ উদ্বোধন করেন বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বিসিসিকে দেওয়া এপিআই চুক্তি ছাড়া ব্যবহার করতে থাকায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি সই করে বিসিসি।

    তারা বলেন, চুক্তি না থাকায় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের হিসাব রাখার আইনগত ভিত্তি ছিল না এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের পুরোনো সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই তিন বছর আড়াই মাসে কী সংখ্যক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়েছে তার হদিস নেই।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর ইসির সঙ্গে চুক্তি সইয়ের আগ পর্যন্ত তথ্যভান্ডারে থাকা একজন নাগরিকের ৪৬ ধরনের তথ্যের সবই পাওয়ার সুযোগ ছিল কম্পিউটার কাউন্সিলের। ইসির সঙ্গে চুক্তিতে একজন নাগরিকের ১৫ ধরনের তথ্য পেয়ে আসছে বিসিসি। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ছবি, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পিতা ও মাতার নাম এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পেশা, লিঙ্গ, জন্ম তারিখ ও ধর্ম।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, তথ্য-উপাত্ত দেওয়ায় নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ব্যক্তির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে তার পুরো পরিবারকে শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিগত দিনে এ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগবিরোধীদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা।

    নির্বাচন কমিশনে ভোটার হওয়া নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খানের কাছে, যিনি ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ’ কমিটিরও প্রধান।

    রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত যোগাযোগ করা হলেও এ কমিশনার কোনো বক্তব্য দেননি। এমনকি তার কার্যালয়ে গেলেও তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করেননি। সর্বশেষ হোয়াটসঅ্যাপে তিনটি প্রশ্ন করা হলে তার কোনোটিরই উত্তরও দেননি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়গুলো তার নেতৃত্বাধীন কমিটি দেখভাল করে।

    আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার বিসিসির মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের কাছে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার যতদূর মনে পড়ে, নির্বাচন কমিশনের কোনো সভায় বিষয়টি এজেন্ডা হিসাবে আসেনি।

    তিনি বলেন, চুক্তির বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ যদি তৃতীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে থাকে, যা ইসির জন্য ক্ষতিকর, তাহলে আমাদের টেকনিক্যাল অফিসাররা কমিশনের নজরে আনবেন। তখন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের কোনো বিষয়ে আমার নজরে আসেনি।

    যেভাবে বিক্রি হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত : জানা যায়, ‘পরিচয়’ প্ল্যাটফরম মূলত একটি তথ্য প্রদান ও যাচাইকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আদলে এ প্রতিষ্ঠানের নামে ‘পরিচয় ডট জিওভি ডট বিডি’ নামের ওয়েবসাইট রয়েছে। এটি পরিচালনা করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠান।

    এ প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য-উপাত্ত সংক্রান্ত তিন ধরনের প্যাকেজে তাদের গ্রাহকদের তথ্য সেবা দিয়ে থাকে। প্যাকেজগুলো হচ্ছে বেসিক (জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই), অটোফিল (এনআইডির তথ্য ও অরিজিনাল ছবি সরবরাহ করে স্বয়ংক্রিয় ফরম পূরণ) এবং অটোফিল প্লাস ফ্রি ম্যাচ (অটোফিল প্যাকেজের সব ফিচার, ম্যাচ সেলফি উইথ অরিজিনাল এনআইডি পিকচার, একক এপিআই)।

    এছাড়া পরিচয় প্ল্যাটফরম থেকে মোবাইল নম্বরের বিপরীতে এনআইডি নম্বর সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বেসিক প্যাকেজে ৫ টাকা, অটোফিল প্যাকেজে ১০ টাকা এবং অটোফিল প্লাস প্যাকেজে ১৫ টাকা হারে ফি নিয়ে থাকে। ওই টাকা ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রি-পেইড সিস্টেমে জমা দিতে হয়।

    আরও জানা যায়, এর ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, ১০২টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর গ্রাহক। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, এনবিআর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ ৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ২৩টি ব্যাংক, ৪টি এনজিও, ৩টি ই-কমার্স, ৩টি ইন্সুরেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানও। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচয় থেকে টাকার বিনিময়ে নাগরিক তথ্য যাচাই বা কিনে থাকে। এর বাইরেও এ প্রতিষ্ঠানের আরও গ্রাহক রয়েছে বলে জানা গেছে।

    জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের আইটি ইঞ্জিনিয়াররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিসিসিকে নাগরিকদের বেশি সংখ্যক তথ্য সরবরাহ করছে ইসি। ভোটার তথ্যভান্ডারে থাকা ১৫ ধরনের তথ্য পায় তারা। ইসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১৮৩টি প্রতিষ্ঠান সাধারণ ৮-১০ ধরনের তথ্য পায়, যা এনআইডির দুই পার্শ্বে থাকে। একমাত্র র্যাব ১৮ ধরনের তথ্য পায়।

    বিসিসির এপিআই ব্যবহার করায় পরিচয় প্ল্যাটফরম ওই ১৫ ধরনের তথ্য পাচ্ছে এবং চাইলে ডাউনলোডও করতে পারবে। ইচ্ছা করলে তারা পৃথক তথ্যভান্ডারও তৈরি করতে পারবে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল। তারা বলেন, একজন ব্যক্তির মোবাইল বা এনআইডি নম্বর দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার পুরো পরিবারের তথ্য বের করা সম্ভব। বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিসিসির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের এপিআই ব্যবহার করে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেডের কর্ণধার ওয়াহেদ শরীফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    আরও জানা যায়, পরিচয় প্ল্যাটফরম চালু, নির্বাচন কমিশনের এপিআই সংযোগ পাওয়াসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলাকালে বিসিসির পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তারেক মোসাদ্দেক বরকতউল্লাহ। তিনি একাধিকবার ওই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও পান। বিসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচয় প্ল্যাটফরমকে অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক মোসাদ্দেক বরকতউল্লাহ সোমবার যুগান্তরকে জানান, করোনাকালীন কঠিন সময়ে নাগরিকদের সুরক্ষায় ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনার সময় তারা বিনামূল্যে সরকারকে সহযোগিতা করেন।

    এ কারণে তাদেরকে সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে ই-সেবা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা যা আয় করবে, তা বিসিসির সঙ্গে ভাগাভাগি করবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করায় তাদের ধার্যকৃত ফি পরিশোধ করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের শর্তে বলা আছে তারা কোনো তথ্য কপি বা চুরি করতে পারবে না। শুধু তথ্য যাচাইয়ের সেবা দেবে।

    আইন লঙ্ঘন করছে বিসিসি : জানা যায়, আইন ও বিধি অনুযায়ী একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে নাগরিকদের তথ্য-উপাত্ত সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ প্রতিষ্ঠানটি এনআইডি যাচাই সংক্রান্ত সেবাও দিয়ে থাকে। বিসিসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন যে চুক্তি করেছে, সেই চুক্তিপত্রের ‘কমিশনের তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা’ বিষয়ক ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বিসিসি কোনো অবস্থায় নাগরিকদের তথ্য-উপাত্ত অন্য কোনো ব্যক্তি, স্বত্বা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর, বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্যপন্থায় প্রদান করতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।

    অথচ ইসির তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে পরিচয় প্ল্যাটফরম শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য সেবা দিয়ে আসছে। তৃতীয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ওই চুক্তি বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা বাতিল হয়নি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ’ কমিটির প্রধান হিসাবে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে এ বিষয়ে ব্রিফ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।

    তথ্য-উপাত্ত নিলেও টাকা দিচ্ছে না পরিচয় প্ল্যাটফরম : একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাইয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান এক টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫ টাকা হারে (২০২৩ সালের ২ মার্চের আগে ২ টাকা ছিল) পরিশোধ করার বিধান রয়েছে। ওই টাকা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়। বিসিসির নামে এপিআই নেওয়ায় তা সরকারি কাজে ব্যবহার হচ্ছে-এমন যুক্তি দেখিয়ে ১ টাকা হারে বিল করছে ইসি। ওই ১ টাকা হারেই ডিজিকনের কাছে ইসির পাওনা ৫ কোটি ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ওই টাকাও পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫-১৫ টাকা হারে ফি আদায় করছে পরিচয় প্ল্যাটফরম। সরকার পরিবর্তন হওয়ায় বকেয়া ওই টাকা আদায়ে চিঠি দিতে যাচ্ছে ইসি।

  • আশ্বস্ত করছি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে না: প্রধান উপদেষ্টা

    আশ্বস্ত করছি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে না: প্রধান উপদেষ্টা

    দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বৃটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।

    বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আশ্বস্ত করছি যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে না। তরুণেরা ধর্ম নিয়ে নিরপেক্ষ। তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এই তরুণেরা পুরো বিশ্ব পরিবর্তন করতে পারে। এটা শুধু একটি দেশ বা আরেকটি দেশ পরিবর্তনের বিষয় না। বাংলাদেশ যা করেছে এটি তার একটি উদাহরণ যে, তরুণরা কত শক্তিশালী।’

    স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর দ্য ইকোনমিস্টের ২০২৪ সালের বর্ষসেরা খেতাব জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকারটি নেয় বৃটিশ সাময়িকীটি।

    ২০২৫ সালে নির্বাচন আয়োজনের পর কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার চাকরি আসলে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাকে জোর করে এ কাজে আনা হয়েছে। আমি আমার কাজ করছিলাম এবং তা উপভোগ করছিলাম। আমি প্যারিসে ছিলাম, সেখান থেকে আমাকে আনা হয়েছে অন্য কিছু করার জন্য। সুতরাং আমি আমার নিয়মিত কাজে ফিরে যেতে পারলে খুশি হব, যা আমি সারা জীবন ধরে করেছি। আর তরুণরাও এটিকে ভালোবাসে। সুতরাং আমি আবার সেখানে ফিরে যাব যেটা আমি সারা বিশ্বে তৈরি করেছি।’

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের উচিত তরুণ-তরুণীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। বিশেষ করে তরুণীদের ওপর। তারা বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তরুণ-তরুণীদের ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত যাতে তারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তাদের সুযোগ এসেছে এবং সক্ষমতাও রয়েছে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তিন তরুণ বর্তমানে আমার ক্যাবিনেটে আছেন। তারা দুর্দান্ত কাজ করছে। এই তরুণেরা গত শতাব্দীর তরুণ নয়। তারা এই শতাব্দীর। তারা অন্যান্যদের মতোই সক্ষম।’

  • বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ

    বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ

    সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমাজের উচ্চপর্যায়ের বিচার হয় না।

    শনিবার রাজধানীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত সড়ক পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার বিষয়ে জাতীয় সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। দিনব্যাপী এই সংলাপে সড়ক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পরিবহণ সেক্টরের অংশীদারজনও উপস্থিত ছিলেন।

    উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, বুয়েটের একজন মারা গেলো। একটা ধারণা যে সমাজের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যারা আছেন তাদের বিচার হয় না, জবাবদিহিতা হয়না। এখানে সাধারণ মানুষদের জীবনটাই আসলে যায়। এই চিত্র আমাদের সমাজে আছে। এটার পরিবর্তন দরকার। সবাইক বিচারের আওতায় আনা দরকার। এখানে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। উন্নয়ন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।

    নাহিদ বলেন, এখন রাস্তায় বের হয়ে মানুষ মারা গেলে সেটাকে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড বলা হচ্ছে। কারণ এটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে হচ্ছে। এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করে রাখা হয়েছে রাস্তায় মানুষ বের হলে মানুষ মারা যেতে পারে৷ এখানে ব্যবস্থাপনাতেই সমস্যা রয়েছে। যে ধরনের প্রতিষ্ঠান সড়কের নিরাপত্তা দিতে পারে সেটাই তৈরি হয়নি।

    পরিবহণ সেক্টরের দুর্নীতি চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের দল দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল আবার এখন আরেক দল রয়েছে। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রয়োজন। কারণ রাজনৈতিক কর্মীরাই এগুলোত জড়িত।

    জাতীয় সংলাপে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকা পরিবহণ সমন্বয়ক কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আরমানা সাবিহা হকসহ অন্যান্যরা।

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ছাড়া মিয়ানমারে শান্তি আসবে না

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ছাড়া মিয়ানমারে শান্তি আসবে না

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ছাড়া মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (শুক্রবার) ব্যাংককে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সাঙ্গিয়ামপোংসার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত মিয়ানমার সংক্রান্ত অনানুষ্ঠানিক পরামর্শ সভার সাইডলাইনে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে মিলিত হন। পরামর্শ সভায় বাংলাদেশ, চীন, ভারত, লাও পিডিআর, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

    তৌহিদ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিস্তৃত রোডম্যাপের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়া রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর রাখাইন রাজ্যে আসিয়ান সদস্য দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।

    রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য তাদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সহায়তা প্রদানে অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে তালিকাভুক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।

    তৌহিদ বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর রোহিঙ্গা সংকট ইতোমধ্যেই মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং বেশি দিন চলতে দিলে এটি আরও প্রকট হবে।’

    থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং গঠনমূলক আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    তারা অকপট ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মতামত ও পরামর্শ আদান-প্রদানের জন্য এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক সংলাপের গুরুত্ব স্বীকার করেন।

    তারা বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষণ করেন যে বিদ্যমান ব্যবধান কমাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনের জন্য মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

    থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের চাহিদা অনুযায়ী রেঙ্গুন ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে উপকূলীয় শিপিং ব্যবস্থা চালু করতে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।

    থাই মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে মৎস্য খাতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।তিনি বিমসটেক অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখতে থাইল্যান্ডের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

    উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে থাইল্যান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে উপদেষ্টা তৌহিদ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পদ্ধতি আরও সহজীকরণের পথ খুঁজে বের করতে থাই কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

    সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা সুবিধা ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪-এ কার্যকর রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

    থাইল্যান্ড কর্তৃক ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত স্বীকার করেন তারা।

    এদিকে একই দিনে অন্য এক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা তৌহিদ থাই রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব রাষ্ট্রদূত তেজ বুন্নাগের কাছে বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে শীতবস্ত্র এবং শুকনো খাবারের একটি চালান হস্তান্তর করেন।

    রাষ্ট্রদূত বুন্নাগ এ অনুদানের জন্য বাংলাদেশের উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক বন্যাকবলিত উত্তরাঞ্চলের জনগণের কাছে এগুলো পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন।তারা রোহিঙ্গা, মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ কিছু প্রাসঙ্গিক আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

    মহাসচিব বুন্নাগ বিজয় দিবস-২০২৪ উপলক্ষে এ মাসে স্বেচ্ছায় রক্তদান অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

    তিন দিনের ব্যাংকক সফরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস এবং জাতীয় প্রবাসী দিবস-২০২৪ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেন।

    তিনি ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শনের মাধ্যমে এই সফরের সূচনা করেন এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে কনস্যুলার এবং কল্যাণমূলক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।