Blog

  • চুক্তি বাতিল অতটা সহজ নয়: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

    চুক্তি বাতিল অতটা সহজ নয়: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

    বিদ্যুৎ খাতে চুক্তি বাতিলের কথা বলাটা সহজ হলেও তা থেকে বের হয়ে আসাটা অনেক ব্যয়বহুল বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিল অতটা সহজ নয়। নাইকো চুক্তি বাতিল করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে হয়েছে। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার চ্যালেঞ্জটা নিয়েছে। এখন চুক্তিগুলো পর্যালোচনার মধ্যে আছে।

    বুধবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সমৃদ্ধি-২০৫০’ নিয়ে দ্বিতীয় জ্বালানি সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

    কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত জোট বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

    উপদেষ্টা বলেন, অনেকের বক্তব্যে আগের সরকারের কিছু চুক্তি বা প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো প্রথম থেকেই বিরোধিতার মুখে ছিল। যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেছে, সেগুলোর ঋণের বোঝাও টানতে হচ্ছে। বসিয়ে বসিয়ে টাকা দিতে হচ্ছে। আবার একই সময়ে জ্বালানি রূপান্তরেরও একটা চাপ আছে। যে ধরনের অসম চুক্তি হয়েছে, অস্বাভাবিক খরচে করা হয়েছে, তার দায় বহন করতে হচ্ছে। ‘ড‍্যামেজ কন্ট্রোল’ (ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ) করতেই সরকারের অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে।

    কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং উপদেষ্টা বেনজীর আহমেদ ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাপক ফাহমিদা হকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বিডব্লিউজিইডির সদস্যসচিব হাসান মেহেদী।

  • আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন মাদক অধিদপ্তরের ৫৭৯ কর্মকর্তা

    আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন মাদক অধিদপ্তরের ৫৭৯ কর্মকর্তা

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের উপ–পরিচালক থেকে উপ–পরিদর্শক পর্যায়ের ৫৭৯ জন কর্মকর্তা অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল মোমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বিধি রেখে অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহার নীতিমালা ২০২৪ জারি করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নাইন এমএম সেমি অটোমেটিক পিস্তল টি–৫৪ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (কর্মকর্তা–কর্মচারী) অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহার নীতিমালা ২০২৪’ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ নীতিমালা জারি করা হয়।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে- বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোডাল এজেন্সি (সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থা) হিসেবে কাজ করে। অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত জনবল নিয়মিত মাদক উদ্ধার অভিযান, মাদক চোরাকারবারিদের গ্রেফতার, মামলা তদন্ত ও পরিচালনার কাজে নিয়োজিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করতে এবং অভিযানকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে- অধিদপ্তরের বর্তমান মোট জনবল ৩ হাজার ৫৯। এর মধ্যে মহাপরিচালক একজন, পরিচালক ৪ জন, অতিরিক্ত পরিচালক ৯ জন, উপ–পরিচালক ৯০ জন, সহকারী পরিচালক ৯৩ জন, পরিদর্শক ১৮৬ জন, উপ–পরিদর্শক ২১০ জন, সহকারী উপ–পরিদর্শক ২৮৫ জন এবং ৯২৮ জন সিপাইসহ মোট ১ হাজার ৮০৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদক অপরাধ দমন কাজে জড়িত।

    এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে উপ–পরিচালক ৯০ জন, সহকারী পরিচালক ৯৩ জন, পরিদর্শক ১৮৬ জন, উপ–পরিদর্শক ২১০ জনসহ মোট ৫৭৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য (প্রাধিকার অনুযায়ী) অস্ত্র সংগ্রহ করা আবশ্যক বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন নির্দেশনা জারি

    সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন নির্দেশনা জারি

    সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এ নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে না যেতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (৯ ডিসেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

    বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

    ১. সাধারণভাবে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে।

    ২. বছরের সম্ভাব্য বিদেশ ভ্রমণের একটা তালিকা জানিয়ে রাখতে হবে।

    ৩. বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এর কাঠামো তৈরি করে দেবে এবং এর তথ্য সংরক্ষণ করবে।

    ৪. সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা একাধারে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করবেন।

    ৫. মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ সাধারণভাবে পরিহার করবেন। তবে জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ ভ্রমণ একান্ত অপরিহার্য হলে তেমন অপরিহার্যতার বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

    ৬. মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীনস্থ অধিদফতর বা সংস্থা প্রধানগণ একান্ত অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ব্যতিরেকে একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন না।

    ৭. বিদেশে অনুষ্ঠিতব্য সেমিনার বা ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের জন্য উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অপরাপর অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাতে অংশ নিচ্ছেন সেই তথ্য সন্নিবেশ করবেন।

    ৮. বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পেশের সময় ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রস্তাবিত কর্মকর্তার ওই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।

    ৯. কেনা-কাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন কিংবা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেন্ট্যান্স টেন্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ প্রেরণের বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

    ১০. সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

    ১১. সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে বিনোদন ভ্রমণ পরিহার করবেন।

    ১২. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষণ ছুটিতে যাওয়া পরিহার করবেন।

    ১৩. বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর্মকর্তার পূর্ববর্তী এক বছরের বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত সংযুক্ত করতে হবে।

    এর আগে ডলার-সংকটের কারণে গত অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

  • বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি জাপানের

    বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি জাপানের

    বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।

    বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে জাপানি রাষ্ট্রদূত একথা বলেন।

    রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাপান সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক- এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এই তিনটি স্তম্ভের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

    তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনি ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমে টোকিওর ‘দৃঢ় সমর্থনের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    অধ্যাপক ইউনূস উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখায় জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সম্পর্ক সবসময় খুব শক্তিশালী ছিল।’

    সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে জাপানি কোনো কোম্পানি চলে যায়নি। তারা এখানে থাকতে আগ্রহী।’

    তিনি নিক্কেইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারবেন।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, টোকিও এই বৈঠককে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।

    অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের গ্যারান্টিযুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সংঘাত শেষ হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে তাদের বাড়িতে ফেরার পূর্বে সাময়িকভাবে পুনর্বাসিত করা যেতে পারে।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল বশির

    সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল বশির

    সিরিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ আল বশির।

    মঙ্গলবার সিরিয়ার টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এ সরকারসহ সিরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে প্রেসিডেন্ট আসাদের পতনের পর দুইদিনে ৩১০টি বিমান হামলা চালিয়ে সিরিয়ার সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। খবর রয়টার্স, স্কাই নিউজ, আলজাজিরার।

    সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বিদ্রোহী জোটের প্রধান কমান্ডার আবু মোহাম্মদ আল জোলানি। তিনি একটি স্থিতিশীল প্রশাসন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন।

    রয়টার্স জানিয়েছে, আল জোলানি ইতোমধ্যে আসাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জালালি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল মেকদাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর আগে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহী নেতা মোহাম্মদ আল বশির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দামেস্ক দখলের নেতৃত্বে ছিল হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস)।

    সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে এইচটিএস পরিচালিত সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ৪১ বছর বয়সি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল বশির। ১৯৮৩ সালে সিরিয়ার ইদলিবে জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ আল বশির ২০০৭ সালে আলেপ্পো ইউনিভার্সিটি থেকে যোগাযোগ স্পেশালাইজেশনসহ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি সিরিয়ান গ্যাস কোম্পানিতে কাজ করেন।

    সিরিয়ার বিদ্রোহের পর আল বশির ২০২১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন এবং বাশার আল আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইদলিবভিত্তিক স্যালভেশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার মেয়াদে ই-গভর্ন্যান্সের প্রসার, রিয়েল এস্টেট ফি হ্রাস এবং পরিকল্পনাসংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারে তার নেতৃত্বে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সরকার গঠনের পরই অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, নির্বাসিত এবং বাস্তুচ্যুত সিরিয়ানদের পুনর্বাসন করাও হবে তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাধারণ জনগণও এখন ভেবে পাচ্ছে না সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার আসলে কেমন হবে। কারণ, বিদ্রোহীদের মধ্যে বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠীর মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে।

    এসব মতবিরোধ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এদিকে আসাদের পতনের পর মাত্র দুইদিনে ইসরাইলের চালানো ৩১০টির মতো হামলার কারণে সিরিয়ার সামরিক স্থাপনা তছনছ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করেছেন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক স্যামুয়েল রামানি বলেছেন, বাশারের পতনে এইচটিএসের সঙ্গে যে কয়েকটি গোষ্ঠী ছিল, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ)।

    ভিন্নমতের এ গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে এইচটিএস কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, এইচটিএস ও এসএনএ-এর মধ্যে ২০২২ সালের আগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে।

    বিদ্রোহী জোট এখনো সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। এমন একটি অঞ্চলে এ ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো নির্দিষ্ট মডেলও নেই। সোমবার দামেস্কে কিছু বিদ্রোহী যোদ্ধা আশা প্রকাশ করেছেন, শিগ্গিরই একটি নাগরিক প্রশাসন দেশ পরিচালনা করবে।

    ইদলিব প্রদেশের যোদ্ধা ফেরদৌস ওমর বলেন, ‘আমরা চাই রাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা বাহিনী যেন ক্ষমতায় থাকে।’ ফেরদৌস শিগ্গির নিজের আদি পেশা কৃষিকাজে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক লাহিব হিগালও। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, নতুন সরকার গঠনের পর তারা সিরিয়ার অন্য গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থরক্ষায় কীভাবে ভারসাম্য আনবে এবং কীভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনভাতা দেবে-এসব বিষয় পরিষ্কার নয়। সিরিয়ায় ইরাকের মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লাহিব হিগাল।

    এমন পরিস্থিতিতে সিরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা দিয়েছে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করা বাশারবিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশন।

    জোটের প্রধান হাদি আল বাহরা রয়টার্সকে বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সময় প্রয়োজন। এছাড়া ছয় মাসের মধ্যে একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে হবে। সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও।

  • জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত

    জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত

    বাংলাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তঃসরকার এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার জোরদার ও সুরক্ষার জন্য কাজ করে।

    আজ দেশে প্রাপ্ত এক বার্তায় বলা হয়েছে, সোমবার বিকেলে মানবাধিকার কাউন্সিলের সাংগঠনিক অধিবেশনে ২০২৫ সালের জন্যে তাদের কর্মকাণ্ড নির্ধারণী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

    নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেনেভায় জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মানবাধিকার কাউন্সিলের ব্যুরোতে কাজ করবেন।

    মানবাধিকার কাউন্সিলের কার্যালয়ে একজন প্রেসিডেন্ট এবং চারজন ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করেন।

    ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) প্রতিনিধিত্বকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংস্থায় কাজ করার সময় এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

    এপিজি সর্বসম্মতিক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা সমর্থন করে এবং কাউন্সিলের বৃহত্তর সদস্যপদ বিবেচনার জন্য মনোনয়ন প্রদান করে।

    অবশেষে, প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সমাপ্ত হয় যখন বাংলাদেশ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য কাউন্সিল সদস্যদের সর্বসম্মত সমর্থন অর্জন করে।

    ২০০৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের এই মর্যাদাপূর্ণ মানবাধিকার সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নির্বাচন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাস এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা ও ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্বীকৃতির আরেকটি উদাহরণ।

  • অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু

    অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু

    শুরু হয়েছে দেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ। আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে এ শুমারির মূল কাজের উদ্বোধন করা হয়।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস চত্বর থেকে র‌্যালি ও তথ্য সংগ্রহ কাজের উদ্বোধন করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

    মঙ্গলবার থেকে ১৫ দিনব্যাপী এই শুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সারা দেশে ৯৫ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী এবারের শুমারিতে তথ্য সংগ্রহ করবেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে প্রতি ১০ বছর পর এমন শুমারি করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই শুমারি সফল করতে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে জনসচেতনতা বাড়াতেই র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্রসহ নানা উপায়ে প্রচার কার্যক্রম।

    র‌্যালিতে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের পরিচালক এস এম শাকিল আখতার, ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমানসহ সংস্থাটির সব পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    বিবিএস জানায়, অর্থনৈতিক শুমারির মাধ্যমে প্রায় ৭০টি প্রশ্ন উঠে আসবে। এবারই প্রথম ট্যাবের মাধ্যমে ক্যাপি পদ্ধতিতে এই শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ১ কোটি ২২ লাখ ইউনিট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখান থেকে এবং এর বাইরে থেকেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এবারের শুমারিতেই প্রথমবারের মতো দেশে কতজন বিদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, তারা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের পদে কর্র্মরত আছেন এবং নারী-পুরুষ কতজন সেসব তথ্য তুলে ধরা হবে।

    এর আগে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন জানান, শুমারির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য জিওগ্রাফিক্স ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জিওকোড সমন্বয় করে ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করা হয়। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবলেটগুলো মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট (এমডিএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) সমৃদ্ধ ডেটা সেন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে বিডিসিসিএল হয়ে বিবিএস সার্ভারে আসার আগ পর্যন্ত সংগৃহীত সকল তথ্য-উপাত্ত গোপন অবস্থায় থাকবে। যার মাধ্যমে পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী একদিকে তথ্য সংগ্রহে শুমারি কর্মীদের সহযোগিতা করা অপরদিকে এই আইন দ্বারা জনসাধারণের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত তথ্যর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।

    সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও প্রবণতা সম্পর্কে সঠিক ও আপডেটেড তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন শমী কায়সার

    হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন শমী কায়সার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রিক রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় ই-কর্মাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাবেক সভাপতি ও অভিনেত্রী শমী কায়সারকে ৩ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    শমী কায়সারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম হামিদুল মেজবাহ।

    এর আগে, রোববার (৮ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন শমী কায়সার।

    গত ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের ৫৩ নম্বর বাসা থেকে শমী কায়সারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত ৯ নভেম্বর শমী কায়সারকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠান আদালত।

    জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই ইশতিয়াক মাহমুদ নামে এক ব্যবসায়ীসহ অন্যরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৪ নম্বর সেক্টরের আজমপুর নওয়াব হাবিবুল্লাহ হাই স্কুলের সামনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। এসময় ইশতিয়াকের পেটে গুলি লাগে। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

    এ ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইশতিয়াক মাহমুদ বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় শমী কায়সার ২৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। রিমান্ড শেষে শমী কায়সারকে ৯ নভেম্বর কারাগারে পাঠান ঢাকার আদালত।

  • আজ থেকে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান নয়

    আজ থেকে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান নয়

    আজ থেকে ‘জয় বাংলা’ আর জাতীয় স্লোগান নয়। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ।

    এর আগে সোমবার জাতীয় স্লোগান হিসেবে জয় বাংলা স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হবার কথা ছিল। ওইদিন সকালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক শুনানির জন্য দাঁড়ালে শুরুতেই আপিল বিভাগ বলেন, এটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হওয়ার দরকার। সে কারণে এটি যখন ফুল কোর্ট বসবে তখনই শোনা হবে।

    ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২ ডিসেম্বর এ তথ্য জানান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

    জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা চেয়ে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় দেন। রায়ে জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে এবং জাতীয় দিবস, সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্লোগানটি উচ্চারণের জন্য পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়। ২০১৭ সালে ওই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

  • মাশরাফি ও তার বাবাসহ ২৯৫ জনের নামে মামলা

    মাশরাফি ও তার বাবাসহ ২৯৫ জনের নামে মামলা

    নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপনসহ ২৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে লোহাগড়া থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছেন সাড়ে ৩০০ জন।

    সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার মূখ্য সংগঠক কাজি ইয়াজুর রহমান বাবু বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন।

    মামলায় বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী ও গুন্ডা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খুনি, অস্ত্রধারী ব্যক্তি। গত ৪ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার কর্মসূচি চলাকালে উপজেলার লোহাগড়ার সিএন্ডবি চৌরাস্তা মোড়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করে বেধড়ক মারপিট করেন অভিযুক্তরা। বর্তমান নড়াইল জেলা সমন্বয়ক নেতা কাজী মো. ইয়াজুর রহমানসহ ১৫/২০ জন শিক্ষার্থীকে রামদা, বাঁশের লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলেও মামলার বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় উপজেলার চরকরফা গ্রামের জুন্নু মুন্সি এবং বয়রা গ্রামের আজাদ শেখ নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।