Blog

  • শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে

    শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র এবং বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কথা বলেছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। এক্ষেত্রে ড. ইউনূস তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিজেদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

    ৩০ নভেম্বর নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

    ড. ইউনূস বলেন, এই দায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ কতদিন বহন করবে? রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য আমাদের একটি সুস্পষ্ট গন্তব্য ঠিক করা দরকার। মিয়ানমারে জাতিসংঘ-শাসিত নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার অনুমতি দিলে বিপুল পরিমাণ এই রোহিঙ্গা তাদের দেশেই থাকতে পারবে। সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তারা অন্য দেশে স্থানাস্তরিত না হয়েই তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারবে বলে উল্লেখ করেন মুহাম্মদ ইউনূস।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থা-আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন ড. ইউনূস। কেননা বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগ দেওয়াকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আগামী জানুয়ারি থেকে আসিয়ানের সভাপতিত্ব করবে মালয়েশিয়া।

    ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, আসিয়ানে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি হবে একটি সর্বসম্মত রেজুলেশন নিশ্চিত করা। আমরা আসিয়ানের মধ্যে একটি সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের আশা করছি। আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

    ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী সংশোধনীসহ সাংবিধানিক ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের পর সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. ইউনূস। নির্বাচনের আগে দেশের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র এবং বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ৮৪ বছর বয়সি নোবেলজয়ী ক্ষুদ্রঋণের এই অগ্রদূত।

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিশনগুলোর সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানান তিনি। বলেন, এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কেননা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা একদম গোড়া থেকে কাজ শুরু করেছি। তবে নির্বাচন ঠিক কখন হবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নির্ভর করছে সংস্কার কাজের ওপর। কাজের ফলাফলই সময় নির্ধারণ করে দেবে।

    সাধারণ নির্বাচনে ড. ইউনূস প্রার্থী হবেন কি না তা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি নাকচ করে দেন। বলেন, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সবসময়ই রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি। রাষ্ট্রের যেসকল ব্যক্তিরা নীতিকে সমুন্নত রাখেন, নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেন এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখেন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন ড. ইউনূস।

    তিনি বলেন, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গছে, আমরা এখন তা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের মুখোমুখি হয়েছি। গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা আমাদের কাজ।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্রের মূলনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। টানা তিন মেয়াদে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিলেন হাসিনা। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে এবং তার দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। একজন ফ্যাসিবাদী শাসক হিসেবে এসব করেছিলেন হাসিনা। এ বছরের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েকশ শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপরই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ই আগস্ট ছাত্র-নাগরিকের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান। অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

    এই বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হলে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারতকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এলে আমরা ভারতের কাছে হাসিনার আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের অনুরোধ করব। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আইন মানতে ভারত বাধ্য থাকবে।

    কূটনৈতিক ফ্রন্টে বাংলাদেশের উচিত ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব করেছেন। ভারত এবং পাকিস্তানের বৈরি সম্পর্কের ফলে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। সার্কের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মতো নিজেদের মধ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা। সার্কের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ভারতেকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস।

    ওদিকে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত সরকার। তাদের দাবি বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরে ‘হামলা’ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকাকে অবশ্যই হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জোর দিয়েছে দিল্লি। তবে ভারত সরকারের এসব ঢালাও বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে তার বেশির ভাগই প্রোপাগান্ডা। এগুলো সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে না বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন ড. ইউনূস। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এসব ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য কাজ করছি।

    আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ড. ইউনূস চীনকে বন্ধু দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত চীন বিভিন্নভাবে আমাদের সহায়তা করেছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব অব্যাহত থাকবে: ড. ইউনূস

    চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব অব্যাহত থাকবে: ড. ইউনূস

    চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৩০ নভেম্বর নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

    ড. ইউনূস বলেন, এই দায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ কতদিন বহন করবে? রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য আমাদের একটি সুস্পষ্ট গন্তব্য ঠিক করা দরকার। মিয়ানমারে জাতিসংঘ-শাসিত নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার অনুমতি দিলে বিপুল পরিমাণ এই রোহিঙ্গা তাদের দেশেই থাকতে পারবে। সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তারা অন্য দেশে স্থানাস্তরিত না হয়েই তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারবে বলে উল্লেখ করেন মুহাম্মদ ইউনূস।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থা-আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন ড. ইউনূস। কেননা বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগ দেওয়াকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আগামী জানুয়ারি থেকে আসিয়ানের সভাপতিত্ব করবে মালয়েশিয়া।

    ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, আসিয়ানে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি হবে একটি সর্বসম্মত রেজুলেশন নিশ্চিত করা। আমরা আসিয়ানের মধ্যে একটি সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের আশা করছি। আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

    ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী সংশোধনীসহ সাংবিধানিক ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের পর সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. ইউনূস। নির্বাচনের আগে দেশের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র এবং বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ৮৪ বছর বয়সি নোবেলজয়ী ক্ষুদ্রঋণের এই অগ্রদূত।

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনি ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিশনগুলোর সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানান তিনি। বলেন, এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কেননা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা একদম গোড়া থেকে কাজ শুরু করেছি। তবে নির্বাচন ঠিক কখন হবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নির্ভর করছে সংস্কার কাজের ওপর। কাজের ফলাফলই সময় নির্ধারণ করে দেবে।

    সাধারণ নির্বাচনে ড. ইউনূস প্রার্থী হবেন কি না তা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি নাকচ করে দেন। বলেন, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সবসময়ই রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি। রাষ্ট্রের যেসকল ব্যক্তিরা নীতিকে সমুন্নত রাখেন, নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেন এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখেন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন ড. ইউনূস।

    তিনি বলেন, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গছে, আমরা এখন তা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের মুখোমুখি হয়েছি। গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা আমাদের কাজ।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্রের মূলনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। টানা তিন মেয়াদে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিলেন হাসিনা। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে এবং তার দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। একজন ফ্যাসিবাদী শাসক হিসেবে এসব করেছিলেন হাসিনা। এ বছরের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েকশ শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপরই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ই আগস্ট ছাত্র-নাগরিকের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান। অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

    এই বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হলে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারতকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এলে আমরা ভারতের কাছে হাসিনার আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের অনুরোধ করব। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আইন মানতে ভারত বাধ্য থাকবে।

    কূটনৈতিক ফ্রন্টে বাংলাদেশের উচিত ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব করেছেন। ভারত এবং পাকিস্তানের বৈরি সম্পর্কের ফলে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। সার্কের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মতো নিজেদের মধ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা। সার্কের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ভারতেকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস।

    ওদিকে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত সরকার। তাদের দাবি বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরে ‘হামলা’ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকাকে অবশ্যই হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জোর দিয়েছে দিল্লি। তবে ভারত সরকারের এসব ঢালাও বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে তার বেশির ভাগই প্রোপাগান্ডা। এগুলো সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে না বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন ড. ইউনূস। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এসব ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য কাজ করছি।

    আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ড. ইউনূস চীনকে বন্ধু দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত চীন বিভিন্নভাবে আমাদের সহায়তা করেছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

    বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

    ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সীমান্তের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ চলছে।

    দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।

    ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগানে পুরো নয়াপল্টন এলাকায় মুখরিত করেছেন নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • টঙ্গীতে জোড় ইজতেমার আখেরি মোনাজাত কাল

    টঙ্গীতে জোড় ইজতেমার আখেরি মোনাজাত কাল

    গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ নদের তীরে তাবলিগ জামাতের শূরায়ে নেজামের (জুবায়েরপন্থি) ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমার আখেরি মোনাজাত কাল মঙ্গলবার। এদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে যেকোনো এক সময় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

    কাঙিক্ষত মোনাজাত পরিচালনা করবেন শূরায়ে নেজামের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। মোনাজাত শেষে সমবেত চিল্লাধারী মুসল্লিরা দেশ-বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্বীনের দাওয়াতি কাজে ছড়িয়ে পড়বেন।

    ফের বিশ্ব ইজতেমায় সময় তারা ময়দানে সমবেত হবেন। সোমবার তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আসকার ও নফল ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে জোড় ইজতেমার চতুর্থ দিন।

    জোড় ইজতেমায় আসা আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জোড় ইজতেমায় মোট ৪ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শূরায়ে নেজামের (জুবায়েরপন্থি) গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

    সোমবার যারা বয়ান করলেন: বাদ ফজর সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা। সকাল ১০টায় ওলামাদের উদ্দেশে বিশেষ বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। একই সময়ে আম-মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করেন ভারতের বেঙ্গালুরের মুরুব্বি ফারুক।

    বাদ আসর বয়ান করেন পাকিস্তানের মুরুব্বি ডা. নওশাদ। বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। তার বয়ানের বাংলা তরজমা করেন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। মঙ্গলবার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমানের আম-বয়ানের মধ্য দিয়ে পঞ্চম দিনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু: ইজতেমা ময়দানে আসা আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকাল ও সন্ধ্যায় তারা মারা যান। মৃতরা হলেন- দিনাজপুর জেলা সদরের মোস্তাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে কাউসার আলী (২৮) ও সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের শহিদুল ইসলাম (৬৫)। রোববার তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে আশুলিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ নিয়ে গত চার দিনে ৪ জন মুসল্লির মৃত্যু হলো।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শূরায়ে নেজামের ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা।

  • ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী এ রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

    রিটে ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬ এর ২৯ ধারা মোতাবেক ভারতীয় সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) সহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    রিটকারীর আইনজীবী বলেন, ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা, রিপাবলিক বাংলাসহ সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া ভারতীয় চ্যানেলে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিরোধী বিভিন্ন অনুষ্ঠান অবাধ সম্প্রচারের ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন। তারা কোনো আইন মানছে না। এসব কারণে ভারতীয় সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চাওয়া হয়েছে।

  • সাভারে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    সাভারে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, নিহত ৩

    সাভারের বলিয়ারপুরে প্রাইভেটকারের সঙ্গে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে প্রাইভেটকারের চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রাইভেটকারের আরও দুই যাত্রী। তাদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল ও ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এলাকার এসএন সিএনজি অ্যান্ড এলপিজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান।

    নিহতরা হলেন- সাভারের নগরকুন্ডা এলাকার ইব্রাহিম, বলিয়ারপুরের সাবেক মেম্বার নাজিমউদ্দীন ও একই এলাকার আব্দুল আলেকের ছেলে মজিবুর। মজিবুর রহমান নিজের গাড়ি নিজেই চালাচ্ছিলেন। আহত দুইজন হলেন শাহাবুদ্দিন ও আব্দুল জলিল।

    নিহত মজিবুর রহমানের ভাগিনা হাকীম বলেন, মজিবুর মামাসহ গাড়িতে ৫ জন ছিল। তারা প্রাইভেটকারযোগে সাভারের দিকে যাচ্ছিলেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর এলাকায় ঢাকামুখী লেন থেকে সাভারমুখী লেনে ইউটার্ন নিচ্ছিলেন তারা।

    এ সময় ঢাকামুখী সি-লাইন পরিবহণের একটি দ্রুতগতির বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় কারটিতে থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও দুই জন। আহতদের উদ্ধার করে একজনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে ও অপরজনকে ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) সাওগাতুল আলম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে জব্দ করা হলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়েছে। আমরা চালক ও হেলপারকে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য কাজ করছি।

    তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে কোনো মরদেহ পাইনি। তবে মরদেহ উদ্ধার করে যেখানে নেওয়া হয়েছে সেখানে আমরা যাচ্ছি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের ব্যাপারে নিশ্চিত করা যাবে।

  • বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা, যা বলল ঢাকা

    বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা, যা বলল ঢাকা

    ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, সোমবার আগরতলার হিন্দু সংগ্রাম সমিতির বিক্ষোভকারীদের দ্বারা বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ও আক্রমণের জন্য বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে, বিক্ষোভকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রধান ফটক ভেঙে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এ সময় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা পতাকার খুঁটি ভাঙচুর করে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা করে এবং সহকারী হাইকমিশনের অভ্যন্তরের সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুঃখের বিষয়, হাইকমিশন প্রাঙ্গণ রক্ষার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। সহকারী হাইকমিশনের সব সদস্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    বাংলাদেশ সরকার আরও জানাতে চায় যে, বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক মিশনের ওপর এই জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অসম্মান একটি প্যাটার্নে এসেছে, গত ২৮ নভেম্বর কলকাতায় একই ধরনের হিংসাত্মক বিক্ষোভ হয়েছিল। আগরতলায় কূটনৈতিক মিশনের ওপর এমন হামলা ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশন, ১৯৬১ লঙ্ঘন হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, যেহেতু কূটনৈতিক মিশনগুলোতে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সেই দেশের সরকারের দায়িত্ব, তাই বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানায়। ভারতে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও অকূটনীতিক সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কূটনৈতিক মিশনে যেকোনো সহিংসতা প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানায়।

  • আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর, ফের পতাকা অবমাননা

    আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর, ফের পতাকা অবমাননা

    বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

    সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    ওই ঘটনার সময়কার কিছু ভিডিওতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার পর তাতে আগুনও ধরিয়ে দিয়েছে।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সভা ছিল আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে।

    সভা শেষে সংগঠনের ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে যায় স্মারকলিপি জমা দিতে।

    এ সময় বাইরে থাকা কিছু হিন্দু যুবক হঠাৎ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিড়ে ফেলে, ঘটনাস্থল থেকে এমন কিছু ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে।

    পরে হাইকমিশন কার্যালয়ের কিছু সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে ও আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।

    এ বিষয়ে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি কার্যকরী সদস্য বিকে রয় জানিয়েছেন, ডেপুটেশন দেওয়ার সময় বাইরে কী ঘটনা ঘটেছে তা তারা দেখেননি এবং তারা ডেপুটেশন দিয়ে আসার পরও কাউকে অফিসের ভেতরে দেখতে পাননি।

    ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের অফিসটি ঘুরে দেখেন এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন।

    তবে এ বিষয়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

    একই ঘটনায় বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের কোচবিহারেও। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় সনাতনী হিন্দু মঞ্চ। সংগঠনটির সদস্যরা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চ্যাংড়াবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিলও করে। এই কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ছিল সীমান্ত এলাকায়।

    এদিকে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের পেট্টাপোল সীমান্তেও। সেখানে সমাবেশ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।

    সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এটি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

  • ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা, ঢাবিতে বিক্ষোভের ডাক হাসনাতের

    ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা, ঢাবিতে বিক্ষোভের ডাক হাসনাতের

    আগরতলার ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আজ রাত নয়টায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় তিনি পোস্টে লিখেছেন, ভারতের আগরতলার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। সময়: রাত নয়টা, স্থান: রাজু ভাস্কর্য।

    দুপুরে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার সময়কার কিছু ভিডিওতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার পর তাতে আগুনও ধরিয়ে দিয়েছে।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সভা ছিল আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে। সভা শেষে সংগঠনের ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে যায় স্মারকলিপি জমা দিতে। এ সময় বাইরে থাকা কিছু হিন্দু যুবক হঠাৎ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিড়ে ফেলে, ঘটনাস্থল থেকে এমন কিছু ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে। পরে হাইকমিশন কার্যালয়ের কিছু সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে ও আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।

    এ বিষয়ে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি কার্যকরী সদস্য বিকে রয় জানিয়েছেন, ডেপুটেশন দেওয়ার সময় বাইরে কী ঘটনা ঘটেছে তা তারা দেখেননি এবং তারা ডেপুটেশন দিয়ে আসার পরও কাউকে অফিসের ভেতরে দেখতে পাননি।

  • মমতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    মমতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    বাংলাদেশের পরিস্থিতি কেন্দ্র করে শান্তিরক্ষী পাঠানো নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে মন্তব্য করেছেন তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘তার অবস্থানের জন্য সহায়ক হবে না’ বলে মতপ্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

    মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যকে আমরা মমতা ব্যানার্জী ধরনের মন্তব্য হিসাবেই দেখতে চাই, কারণ উনি এই বক্তব্য কেন দিলেন, এটা আমি বুঝতে পারছি না। কলকাতায় আমি দীর্ঘদিন ছিলাম, তার সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা তার জন্য খুব সুষ্ঠু পদক্ষেপ না, রাজনৈতিকভাবে। রাজনৈতিক বিতর্ক সবসময় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তার অবস্থানের জন্য সহায়ক হবে না। এটা অবশ্য আমার মত।

    সোমবার বিকালে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    ভারতের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক তাহলে কেমন হতে যাচ্ছে, এই প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, পাঁচ তারিখের পর থেকে আগের সম্পর্ক আর পরের সম্পর্ক এক না। সম্পর্কে যে সমস্যা আছে, সেটা আমরা স্বীকার করি। একটা সমস্যা স্বীকার করলে সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা যায়। আমরা ভারতের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক ভালো সুসম্পর্ক চাই, পরস্পরের স্বার্থ ঠিক রেখে।’

    তিনি বলেন, আসলে পাঁচ তারিখের আগের আর পরের সরকারের সঙ্গে কিছু তফাৎ আছে। সেটার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে কেউ কিছু সময় নিতে পারে। কিন্তু বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে, বাস্তবতা মেনে নিয়েই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকভাবে খারাপ অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে – এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে রয়েছে। সেই প্রচেষ্টা যেন সফল না হয় সে প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছি।

    ‘প্রধানত ভারতের মিডিয়া’ এই ধরনের ধারণা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে এবং আরো কিছু দেশের মিডিয়া ভারতের মিডিয়ার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে একই ধরনের খবর প্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কোন পরিস্থিতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে ও তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও কূটনীতিকদের বিস্তারিত জানিয়েছেন বলে জানান তৌহিদ হোসেন।

    তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের যে অবস্থান, সেটা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এটা অবশ্যই তারা তাদের দেশে রিপোর্ট করবেন, যেটা নিয়ম।

    কূটনীতিকদের কিছু কিছু বিষয়ে প্রশ্ন ছিল, সেগুলোর উত্তর দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এসব আলোচনায় তারা ‘কনভিন্সড’ বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও কূটনীতিকদের বার্তা দিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।