Blog

  • আইরিশদের হোয়াইটওয়াশ করতে সহজ লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

    আইরিশদের হোয়াইটওয়াশ করতে সহজ লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

    তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আগেই জেতা হয়ে গেছে বাংলাদেশের মেয়েদের। এবার ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পালা। সেই ম্যাচে অবশ্য সহজ লক্ষ্যই পেয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আইরিশদের ১৮৫ রানে বেধে ফেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

    এদিন শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৯ রানে প্রথম উইকেট পড়লেও পরের উইকেটের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে লম্বা সময়। ৫৭ রানে আগের দিন ফিফটি করা অ্যামি হান্টার ফিরলে খানিকটা স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশ দলে। এরপর ফের ভয়ঙ্কর হতে থাকে আইরিশরা। ফিফটি তুলে নেন অধিনায়ক গ্রেভি লুইস।

    তবে এরপর তাকে ফেরান ফাহিমা খাতুন। ৭৯ বলে ৫২ রান করে ফেরেন তিনি। ৯৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ বলে ১৮৫ রানে অলআউট হয় আইরিশরা।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার।

  • ঘূর্ণিঝড় ফিনজালে ভারত ও শ্রীলংকায় নিহত ১৯

    ঘূর্ণিঝড় ফিনজালে ভারত ও শ্রীলংকায় নিহত ১৯

    ঘূর্ণিঝড় ফিনজালে ভারত ও শ্রীলংকায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারি বৃষ্টির মধ্যে ভারতের তামিল নাডু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

    শনিবার ফিনজাল বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের পূর্ব উপকূল অতিক্রম করে স্থলে উঠে আসে। এছাড়াও ভারি বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। যার প্রভাবে ভারতে তিনজন ও প্রতিবেশী শ্রীলংকায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে।

    রোববার ভারতের আবহাওয়া দপ্তর সামাজিক মাধ্যমে জানায়, পুদুচেরিতে ৩০ বছরের মধ্যে একদিনে সবচেয়ে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তুমুল বৃষ্টিতে তামিল নাডু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের বিভিন্ন অংশ ডুবে গেছে। শনিবার রাজ্যতে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল, কিন্তু রোববার ভোর থেকে চলাচল ফের শুরু হয়েছে বলে ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    রয়টার্স স্থানীয় গণমাধ্যমে আসা ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে জানায়, ঝড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টির মধ্যে রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে ছিল আর লোকজনকে উদ্ধার করতে নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি পুদুচেরির কাছ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়ায় সেখানে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরদিকে চেন্নাইয়ে বৃষ্টি অনেকটা কমে এসেছে।

    কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির কারণে শ্রীলংকায় মোট এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, সেখানে জাতপাতের ভেদাভেদ থাকবে না’

    ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, সেখানে জাতপাতের ভেদাভেদ থাকবে না’

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। কেউ কোন হস্তক্ষেপ করবে না ও জাতপাত ও ধর্মের ভেদাভেদ থাকবে না। যেখানে লেখাপড়া করে এদেশের যুবকেরা বেকারত্বের অভিশাপে আত্মহত্যা করবে না। যেখানে শিক্ষা অর্জন করে সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাবেন। এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মীয় উপসনালয়গুলোতে পাহারা দেওয়া লাগবে না।

    সোমবার সকালে ঝালকাঠির শহরের ব্রাকমোড় এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতে ধৈর্য্য ধরেছি, এখনও ধরছি, আগামীতেও ধরবো। আমরা যে ত্যাগ শিকার করে এসেছি আগামীতেও ত্যাগ শিকার করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চাই অফিস–আদালতে কোথাও গিয়ে লাঞ্ছিত হতে হবে না। যেখানে জনগণ তাদের অধিকার সম্মানের সঙ্গে পাবেন। আমরা কথা দিচ্ছি এ দায়িত্ব যদি আমরা পাই তাহলে এর প্রতিদান দেব।

    ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ ও স্যালুট জানাই।

    জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন। অনন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী।

  • ১৫ বছরে এডিপির ৪০ শতাংশ অর্থ লুটপাট

    ১৫ বছরে এডিপির ৪০ শতাংশ অর্থ লুটপাট

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ গত ৫ বছরে দেশের জাতীয় বাজেটের চেয়ে বেশি। আলোচ্য সময়ে প্রতিবছর পাচার হয়েছে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৫ বছরের পাচারের অর্থ দিয়েই ৭৮টি পদ্মা সেতু করা সম্ভব। অর্থনীতির অবস্থা মূল্যায়নে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) রিপোর্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে রোববার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শ্বেতপত্র সংক্রান্ত কমিটির প্রধান বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নেতৃত্বাধীন কমিটি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে দুর্নীতি হয়েছে-ব্যাংকিং খাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে। ২৯টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি বড় প্রকল্প পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটিতে অতিরিক্ত ব্যয় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্যয়ের সুবিধা বিশ্লেষণ না করেই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এর ৪০ শতাংশ অর্থ আমলারা লুটপাট করেছে। এ সময়ে কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি অর্ধেকে নামিয়ে আনা গেলে শিক্ষা বাজেট দ্বিগুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট তিনগুণ করা যেত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর ১০ শতাংশ অবৈধ লেনদেন ধরা হলে পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ব্ল্যাকহোলের গভীরে ব্যাংকিং খাত। খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ পাচারে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিচারকাজ শুরুর সুপারিশ করেছে কমিটি। রিপোর্ট প্রদান অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, এটি ঐতিহাসিক দলিল। বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সমস্যাটি আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও গভীর। শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে কীভাবে চামচা পুঁজিবাদ অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে।

    দেশের আর্থিক খাতের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে প্রধান করে ২৮ আগস্ট ১১ সদস্য বিশিষ্ট শ্বেতপত্র প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিটিকে যেসব বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে সেগুলো হলো-সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বহির্খাত (আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, এফডিআই, রিজার্ভ এবং বিদেশি ঋণ), ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, সরকারের ঋণ, পরিসংখ্যানের মান, বাণিজ্য, রাজস্ব, ব্যয়, মেগা প্রকল্প, ব্যবসার পরিবেশ, দারিদ্র্য ও সমতা, পুঁজিবাজার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও জলবায়ু ইস্যু, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান। কমিটি রোববার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কমিটির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। বছরে পাচার হয়েছে ১৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। পাচারের অর্থ দেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্স মিলিয়ে মোট বৈদেশিক মুদ্রার এক-পঞ্চমাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়ের ১১ দশমিক ২ শতাংশ। বিভিন্ন উপায়ে এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং, নগদ মানি লন্ডারিং, ব্যাংক, শেয়ারবাজার এবং বিমা খাত ব্যবহার, অনলাইন পেমেন্ট, হুন্ডি, ব্যাংক গ্যারান্টির অপব্যবহার এবং স্বর্ণ স্মাগলিং অন্যতম। প্রতিবেদনে পাবলিক খাতে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট কিছু খাত উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুস, করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, পাসপোর্ট ইস্যুতে দুর্নীতি, ডিজিটাল সিকিউরিটি সার্ভিস। এছাড়াও ৭টি মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো-পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পায়রাবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পূর্বাচল নিউটাউন প্রকল্প। এছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এখানে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো-নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান, খেলাপি ঋণ, ঋণ নবায়ন এবং হলমার্ক এবং বেসিক ব্যাংকসহ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়। এসব দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম চাপে ছিল। গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    বিদ্যুৎ খাতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বড় বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়েছে। আইপিপি ইন্ডিপেডেন্টে পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে বিশাল লুট হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

    এদিকে শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলের গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার শাসনামলের দুর্নীতি, লুণ্ঠন এবং ভয়ংকর রকমের আর্থিক কারচুপির যে চিত্র রিপোর্টে পাওয়া গেছে, তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস এই যুগান্তকারী কাজের জন্য কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা উচিত। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের পড়ানো উচিত।’ ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অর্থনীতিকে যে ভঙ্গুর দশায় আমরা পেয়েছি, তা এই রিপোর্টে উঠে এসেছে। জাতি এই নথি থেকে উপকৃত হবে।’ প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের গরিব মানুষের রক্ত পানি করা টাকা যেভাবে তারা লুণ্ঠন করেছে, তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো। দুঃখের বিষয় হলো, তারা প্রকাশ্যে এই লুটপাট চালিয়েছে। আমাদের বেশিরভাগ অংশই এর মোকাবিলা করার সাহস করতে পারেনি। পতিত স্বৈরাচারী শাসনামলে ভয়ের রাজত্ব এতটাই ছিল, দেশের অর্থনীতি পর্যবেক্ষণকারী বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোও এই লুণ্ঠনের ঘটনায় অনেকাংশেই ছিল নীরব।’

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সমস্যাটি আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও গভীর। এই ৩০ অধ্যায়ের ৪০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে কীভাবে চামচা পুঁজিবাদ অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে। কীভাবে তারা নীতি প্রণয়ন নিয়ন্ত্রণ করেছে।’ কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তারা ২৯টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি বড় প্রকল্প পরীক্ষা করে দেখেছেন। প্রতিটিতে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। ২৯টি বড় প্রকল্পে মোট ব্যয় ৮৭ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৭ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। পরীক্ষা করা সাতটি প্রকল্পের আনুমানিক প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। অতিরিক্ত উপাদান যোগ করে, জমির দাম বেশি দেখিয়ে এবং ক্রয়ের ক্ষেত্রে হেরফের করে প্রকল্পের ব্যয় সংশোধিত করে ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

    তিনি বলেন, ব্যয়ের সুবিধা বিশ্লেষণ না করেই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থ পাচারে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিচারকাজ শুরুর পরামর্শও দেন তিনি।

    কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক একে এনামুল হক বলেন, গত ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এর ৪০ শতাংশ অর্থ আমলারা লুটপাট করেছে। কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, বিগত শাসনামলে কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি অর্ধেকে নামিয়ে আনা গেলে শিক্ষা বাজেট দ্বিগুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট তিনগুণ করা যেত। কমিটির আরেক সদস্য এম. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর ১০ শতাংশ অবৈধ লেনদেন ধরা হলে পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৩ বিলিয়ন ডলার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন সাথী এবং সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ।

    শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনকিসের ডিন প্রফেসর একে এনামুল হক, গবেষণা সংস্থা বিল্ডের নির্বাহী পরিচালক ফেরদৌস আরা বেগম, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্ভন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল, বুয়েটের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নীলর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল সায়েন্সের সাবেক অধ্যাপক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন।

  • গুমের মামলায় সাবেক ২ র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

    গুমের মামলায় সাবেক ২ র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

    গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় র‌্যাবের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ফলে এই প্রথম কাউকে ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।

    গ্রেফতার দুই কর্মকর্তা হলেন- রাঙ্গামাটি ট্রেনিং সেন্টারের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মহিউদ্দিন ফারুকী ও বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন।

    এর আগে গত ২৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    ওইদিন শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানিয়েছিলেন, সাবেক এই দুজন র‍্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসংখ্য গুম ও গুমের সময় সরাসরি নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    তামীম বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনালে দুটি আবেদন করা হয়। আবেদন দুটি মঞ্জুর করে আদালত সোমবার তাদের হাজির করতে নির্দেশ দেন।

    উল্লেখ্য, ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর শনিরআখড়ায় জোবায়ের ওমর খানের মৃত্যুর মামলায় এ দুই কর্মকর্তা গত ১৩ নভেম্বর গ্রেফতার হন।

  • এবার ওয়ানডে সিরিজেও খেলা হচ্ছে না শান্তর

    এবার ওয়ানডে সিরিজেও খেলা হচ্ছে না শান্তর

    সবশেষ আফগানিস্তান সিরিজে চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। যে কারণে শেষ ম্যাচে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে। ধারণা করা হচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে দিয়ে ফিরবেন শান্ত। এবার হচ্ছে না সেটিও।

    চোট পুরোপুরি সেরে না উঠায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে না বিসিবি। যে কারণে টেস্টের পর এবার ওয়ানডে স্কোয়াড থেকেও ছিটকে যেতে হয়েছে শান্তকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শর্ট কাভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কুচকিতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। সেই চোট এখনও ভোগাচ্ছে শান্তকে।

    এদিকে দলে চোট সমস্যা আছে আরও। উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম আঙুলে চোট পেয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তারও না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শঙ্কা আছে তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহকে নিয়েও। আফগানিস্তান সিরিজে চোট পেয়েছেন তারাও। তবে তাদের চোট সেই অর্থে ততোটা গুরুতর নয়।

    উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ এখন চলমান। এই সিরিজ শেষে ওয়ানডে মুখোমুখি হবে দু’দল। ম্যাচ তিনটি হবে আগামী ৮, ১০ ও ১২ ডিসেম্বর।

  • ‘১০ শতাংশ মানুষ ভোগ করছে ৮৫ শতাংশ সম্পদ’

    ‘১০ শতাংশ মানুষ ভোগ করছে ৮৫ শতাংশ সম্পদ’

    দেশের ১০ শতাংশ মানুষ ৮৫ শতাংশ সম্পদ ভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

    সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন শ্বেতপত্র কমিটি সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সব সদস্য সংক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানান।

    এর আগে রোববার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি তিন মাসের অনুসন্ধান শেষে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, চামচা পুঁজিবাদ থেকে অর্থনীতিতে ভর করেছিলো চোরতন্ত্র। বড় প্রকল্পে ৭০ শতাংশ ব্যয় বাড়ানো হতো।

    দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান বলেন, মোট ১২ জন নামজাদা অর্থনীতিবিদ নিয়ে শ্বেতপত্র কমিটি গঠন করা হয়েছিল। একটি প্রতিনিধিত্বশীল কমিটির মাধ্যমে এই শ্বেতপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এই শ্বেতপত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, দুর্নীতির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছি। এই কমিটির কাজ চোর ধরা না, চুরির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা।

    কমিটির প্রতিটি সদস্য বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিন মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই শ্বেতপত্র তৈরি করা হয়েছে। এমনকি যতটি সভা হয়েছে সেখানে একটি পয়সা সিটিং অ্যালাউন্স নেয়া হয়নি।

    তবে বিদেশি পরামর্শক এনে এই শ্বেতপত্র করা হলে ন্যূনতম ২৫ কোটি টাকা খরচ হতো বলে জানান ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, কমিটি এটি দেশের জন্য নিঃস্বার্থ অবদান হিসেবে করেছে, যা দেশের স্বার্থে উদহারণ হয়ে থাকবে।

    তিনি বলেন, রিপোর্টটিকে সাবধানতার কারণে এখনো খসড়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিছু পরিসংখ্যান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। আগামী ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে এটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করা হবে। এই রিপোর্টের গ্রন্থস্বত্ব স্বয়ং বাংলাদেশ সরকার। এটিকে সরকার নিজস্ব দলিল হিসাবে স্বীকার করে নিয়েছে।

    প্রথাগত গবেষণা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশি-বিদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রতিবেদনের নানা দিক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে আমরা নিজেরা ১৮ বার সভা করেছি। নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ২২ বার সভা করেছি। আমাদের প্রথম সভা ছিল ছাত্রদের সঙ্গে। তাদের সর্বোচ্চ জোর ছিল মানসম্মত শিক্ষার ওপরে। শ্বেতপত্রের পুরো প্রক্রিয়া না বুঝলে এই দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। জনমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখে এটি প্রস্তুত হয়েছে।

    শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘৩০ অধ্যায়ের ৪০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে কীভাবে ক্রোনি পুঁজিবাদ অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে, কীভাবে তারা নীতি প্রণয়নকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেশের ৮৫ শতাংশ সম্পদ ১০ শতাংশ মানুষ ভোগ করছেন বলেও জানান দেবপ্রিয়।

    দেবপ্রিয় বলেন, চামচা পুঁজিবাদ থেকে চোরতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল পুরো কাঠামো। এর উৎস ২০১৮ এর নির্বাচন। পরবর্তী সময়ে যে ভোট হয়েছে সেখানে স্বচ্ছতার জায়গা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নষ্ট করা হয়েছে। জাতিসংঘ এখনো মনে করছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে কোনো বাধা নেই।

    তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম করা যাবে না। পরবর্তী জাতীয় বাজেট আসার আগে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে বর্তমান সরকার কি কি উদ্যোগ নেবে সেগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে। আরও দায়বদ্ধতা আনতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এই সরকার পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকবে না। তবে অন্তত আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা সামনে থাকতে হবে।

    ড. এ কে এনামুল হক বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় তছরুপ বা লুটপাট করা হয়েছে।

    কমিটির সদস্য ড. আবু ইউসুফ বলেন, রাজস্ব বোর্ড যে পরিমাণ টিন সার্টিফিকেট থাকার দাবি করে, সেই পরিমাণ রাজস্ব আহরণ হয় না। এমনকি কেউ মারা গেলে সেই সার্টিফিকেট বা নম্বর কি হবে, সেটির কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই। রাজস্ব বোর্ড সেটা কমিটিকে দিতে পারেনি। কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা খাতকে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে তার কোনো সঠিক কাঠামো নেই।

    কমিটির সদস্য ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসনের জন্য মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিবাসনের মাধ্যমেও অর্থপাচার হয়েছে বলে জানান তিনি।

    কমিটির আরেক সদস্য ড. সেলিম রায়হান বলেন, যেসব খাতে সংস্কার দরকার সেখানে শক্তিশালী উদ্যোগ নিতে হবে।

    সদস্য ড. ইমরান মতিন বলেন, ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ৮৫ ভাগ সম্পদ। টোকা দিলে যে দারিদ্র্য বিমোচন শেষ হয়ে যাবে, সেটিকে কার্যকর উদ্যোগ বলে না।

    কমিটির সদস্য ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব টাকা লোপাট করা হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ঘাড়ে সেই বোঝা থেকে গেল।

    ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি তথ্য-উপাত্তে বড় গলদ রয়েছে।

  • পটুয়াখালীতে বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, মহাসড়ক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    পটুয়াখালীতে বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, মহাসড়ক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    পটুয়াখালীতে গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

    ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘন্টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানযটের সৃষ্টি হয়, এতে ভোগান্তিতে পরে যাত্রী ও পথচারীরা।

    রবিবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী চৌরাস্তা এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। জানা যায়, রবিবার সকাল ৯ টার দিকে লেবুখালী সেনানিবাস এলাকা থেকে আবির পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান মিম বরিশাল কুয়াকাটাগামী বাস আব্দুল্লাহ পরিবহনে করে পটুয়াখালী আসছিলেন।

    বাসের সুপারভাইজার মোঃ সুজন মিমের কাছে বাস ভাড়া চাইলে তিনি ৪০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা দিতে চান। আর এখানেই বাজে বিপত্তি হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় বাসের সুপারভাইজার কলেজ শিক্ষার্থী মিমকে রীতিমতো হেনস্থা করেন।

    কলেজ শিক্ষার্থীর অভিযোগ করেন এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। স্টুডেন্ট হইছো তো কি হইছে..? দেশটা কি কিনে ফেলছো..? এই রুটে স্টুডেন্টদের কোনো হাফ ভাড়া নাই। যদি পারো..ফালাইয়া দেখাইস।

    এই ঘটনার পর মিম কলেজের আভ্যন্তরীণ মেসেঞ্জার গ্রুপে ঘটনাটি সকলকে জানায়। এর পরই কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সুপার ভাইজার ও ড্রাইভারের বিচারের দাবিতে চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় দুইঘন্টা ব্যাপি এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকলে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে দীর্ঘ যানযটে সৃষ্টি হয়।

    বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিবৃত করতে জেলা প্রশাসক তাবু হাসনাত মুহাম্মদ আরেফিন, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ, সদর সেনাবাহিনী ক্যাম্প এর কর্মকর্তা মেজর মোঃ ফয়সাল, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছুটে আসেন। প্রশাসন, শিক্ষার্থী, বাস মালিক সমিতি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের শর্তে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারমিন জাহান বলেন, ‘আমি ওই সুপারভাইজারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এমন শাস্তি দাবি করছি যার পরে নারী শিক্ষার্থীদেরকে কেউ আর বুলিং না করতে পারে। আমরা যেন গণপরিবহনে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারি এবং আমাদের যৌক্তিক দাবি হাফ ভাড়া এইটা যাতে মেনে নেয়া হয়।’

    পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনার সমাধানের জন্য ডিসি স্যারের দরবার হলে একটা বৈঠক হবে। আশা করছি পটুয়াখালী-বরিশাল এই রুটের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের জন্য বাসমালিক সমিতির সাথে একটা স্থায়ী সমাধান হবে।’

    সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ডিসি স্যারের অফিসে ছাত্র প্রতিনিধি ও বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের পরই একটি সঠিক সমাধান হবে বলে আমি আশা করি।’

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দু’পক্ষের বাকবিতন্ডা, হাতাহাতি

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দু’পক্ষের বাকবিতন্ডা, হাতাহাতি

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    তালা অপসারণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এ ঘটনার সুত্রপাত ঘটে। এর আগে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেয় শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ।

    রবিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ভিসি বিরোধী আন্দোলনের পক্ষের শিক্ষার্থীরা, ভিসির পক্ষে অবস্থানকারীদের তালা অপসারণ কর্মসূচির ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি শুরু হয়। পরবর্তীতে উপাচার্য জীবনানন্দ কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনাসভায় বসেন।

    তবে আলোচনাসভার শুরুতেই দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। আলোচনা সভার পরিবেশও অশান্ত হয়ে ওঠে। উপাচার্যের পক্ষ বিপক্ষের শিক্ষার্থীদের উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

    দীর্ঘ আলোচনা সভায়, শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগগুলো উপাচার্যের সামনে তুলে ধরেন। তবে আলোচনা শেষে কোনো কার্যকর সমাধান ছাড়াই উপাচার্য কক্ষ ত্যাগ করেন।

    এর আগে, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাতের আধারে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেয় কিন্তু পদত্যাগ না করলে পরবর্তীতে উপাচার্য কার্যালয়ে তালা দেয়।

  • সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন ভূমি উপদেষ্টার

    সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন ভূমি উপদেষ্টার

    ভূমি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ জনবান্ধব ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চারটি সফটওয়্যারের মানোন্নয়ন ও একটি নতুন উদ্ভাবিত সফটওয়্যার জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।

    রোববার উপদেষ্টা ভূমি ভবনে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একটি সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব সফটওয়্যারের ব্যবহার উন্মুক্ত করেন।

    এ এফ হাসান আরিফ বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অটোমেশন প্রকল্পের অধীন নতুন সফটওয়্যার চালুর ফলে ঘরে বসেই মানুষ ঝামেলাহীন ও স্বাধীনভাবে অনলাইনে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং নম্বর ও খতিয়ানসহ ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। এতে করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম, সামাজিক হানাহানি, মামলা-মোকদ্দমা হ্রাস পাবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহিদদের অন্যতম স্বপ্ন ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। আর নিরাপদ বাসস্থান হচ্ছে অন্যতম মৌলিক অধিকার। এজন্য প্রয়োজন একখণ্ড মান সম্মত ও নির্ভেজাল ভূমি।

    ভূমি উপদেষ্টা বলেন, ২০১৭ সালে সারা দেশে অনলাইনে নামজারি সেবা চালু হলেও বর্তমানের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি উন্নততর সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নামজারি আবেদন পদ্ধতি আরও সহজীকরণ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে ডাটা শেয়ারিং এর সুযোগ থাকায় নাগরিক আবেদনের অনেক তথ্য সিস্টেম থেকে অটোমেটিকভাবে যাচাই করা যাবে। নামজারি প্রক্রিয়ার মধ্যেই অটো হোল্ডিং ও অটো সংশোধনের প্রভিশন থাকায় নাগরিকের ভোগান্তি আগের তুলনায় অনেক কমবে। একই জমি বারবার মিউটেশন হওয়ারও ঝুঁকি থাকবে না।

    অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন।

    ডি এল আর আয়োজিত পঞ্চাশ দিনব্যাপী সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ভূমি উপদেষ্টার

    দুপুরে ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ ডেমরা করিম জুট মিলস্ মিলনায়তনে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডি এল আর) আয়োজিত পঞ্চাশ দিন ব্যাপী সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভূমি খাতের সংশ্লিষ্ট মাঠ প্রশাসনের বি সি এস ক্যাডার কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক এবং আধুনিক-যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণলব্দ জ্ঞানের আলোকে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    ডিএল আর মহাপরিচালক মনিরুজ্জামনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহেমেদ, ভুমি সংস্কার বোর্ডের চেয়াম্যান এ. জে. এম. সালাহউদ্দিন নাগরী ও ডিএল আর পরিচালক মো. মোমিনুর রশীদ। এ কোর্সে বি সি এস (প্রশাসন) পুলিশ, বন ও রেলওয়ে এবং বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৫২ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।