Blog

  • পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

    পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা অর্থ পাচার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। আর পাচারের অর্থ ফেরানো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির মতে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। তবে সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে পারলে ২০২৬ সালে তা ৫ শতাংশ ছাড়াবে।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এসব কথা বলেন। দেশের সাবেক কূটনৈতিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডর (আওফা)’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনার বিষয় ছিল : ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উপায়।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। আওফার সভাপতি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এএফএম গাউসূল আজম সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহেদ আখতার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাশফি বিনতে শামস এবং রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রমুখ। এ সময়ে বক্তারা প্রকল্প অর্থায়নের পরিবর্তে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চেয়েছেন।

    আবদুলায়ে সেক বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের পোর্টফোলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকেই এ দেশকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে দেশটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এখানে বড় কয়েকটি সমস্যার মধ্যে অন্যতম দেশ থেকে অর্থ পাচার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা চেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে সরকারের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানে আমরা সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছি। তবে অর্থ ফেরানো কঠিন। কারণ অনেক আইনকানুনের ব্যাপার রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক কথা আছে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে আমাদের মতে, চলতি অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। কিন্তু ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বেশকিছু খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছাড়াতে পারে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার।

    সংস্কার ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, অন্যান্য খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশে বাণিজ্য খাতে সংস্কার খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার চাইলে বিশ্বব্যাংক এখানেও সহায়তা দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সমস্যাটির টেকসই সমাধান দরকার। আর এর টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে। এছাড়া সংস্থাগুলো তাদের সহায়তাও অব্যাহত রেখেছে। এই ইস্যুতে তারা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।

    ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতা সম্মিলিতভাবে বিশাল ত্যাগের মাধ্যমে ৫ আগস্ট বড় একটি অর্জন করেছে। এটিকে আমরা ধরে রাখতে চাই। আমরা চাই আমাদের সেই অতীত, ভবিষ্যতে আর যাতে ফিরে না আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আমাদেরকে ৪৫ বিলিয়ন ডলার (এক বলিয়ন ডলার সমান ১২ হাজার কোটি টাকা) সহায়তা দিয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের দাতা নয়, উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা বৈষম্য। দেশের নিম্ন আয়ের ৫ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের ৫ শতাংশের মধ্যে সম্পদের পার্থক্য বিশাল। বিশ্বব্যাংকও বিষয়টি বারবার বলে আসছে। আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটা আরও পরিষ্কারভাবে সামনে এসেছে। আরেকটি বিষয় হলো অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সরকারের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। এরমধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মূল্যস্ফীতি অন্যতম। তার মতে, বতর্মানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ ডলারের দাম বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। ৩ বছর আগেও এক ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। বর্তমানে সেটি ১২০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের হার ৪ শতাংশ।

    পাচারের অর্থ ফেরানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তা ফেরানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ যে সব দেশে গেছে, ওই দেশের আইনকানুন, আন্তর্জাতিক আইন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক চাইলে তা সম্ভব। কারণ তাদের তদন্ত সক্ষমতা এবং ফরেনসিক সাপোর্টসহ সব ধরনের সক্ষমতা আছে। ড. মোস্তাফিজ বলেন, বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ একেবারে কম। বর্তমানে দেশের রাজস্ব আয় জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ আয় এক-তৃতীয়াংশ। আর বাকি দুই-তৃতীয়াংশই পরোক্ষ আয়। তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়, পুরোটাই রাজস্ব ব্যয়। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের পুরো টাকাই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় চলে যায়। আর উন্নয়নের অর্থ পুরোটাই ঋণ করে আনতে হয়। ফলে এই উন্নয়ন টেকসই নয়। এ অবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সংস্কারের ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে বড় ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে টাস্কফোর্স এবং শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সংস্কারের জন্য অর্থ এবং কারিগরি সহায়তা জরুরি। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে প্রকল্প সহায়তার পরিবর্তে বাজেট সাপোর্টে জোর দেন তিনি। তার মতে, বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে রয়েছে। বাজেট সহায়তা পেলে রিজার্ভ বাড়বে। অর্থনীতির অন্যান্য সূচকেও এর প্রভাব পড়বে। এছাড়াও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট সহায়তা চেয়েছেন তিনি। সিপিডির এই বিশেষ ফেলো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আদানি গ্র“পের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বিদ্যুতের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ভবিষ্যতে তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দাম নিয়ে তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু আগে যে চুক্তি করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সেই বিল পরিশোধ না করার বিকল্প নেই।

  • নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে নাহিদের সতর্কবার্তা

    নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে নাহিদের সতর্কবার্তা

    যেসব গণমাধ্যম নিষিদ্ধ সংগঠন এবং ফ্যাসিস্টদের প্রচার-প্রচারণা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে করা পোস্টের মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমের এক অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে অতিথি করার কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এই খবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পরে অবশ্য সে সংবাদমাধ্যম সাদ্দাম হোসেনকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

    এই ঘটনার পরই ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট করেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সব সময় দুইটা চরিত্র। একদিকে সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট, নৃশংস বাহিনী দিয়ে হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন চালায় অন্যদিকে সুশীল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীদের দিয়ে ফ্যাসিবাদের বয়ান ও বৈধতা তৈরি করে’

    এসময় আওয়ামী লীগ-সমর্থক একটি ফেসবুক পেজের নাম উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম যোগ করেন, ‘এটিমের কুখ্যাত প্রোপাগান্ডিস্টরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৃশংস খুনী নেতাদের জনপরিসরে হাজির করার পর সেটাকে এখন নরমালাইজ করতে বিভিন্ন মিডিয়া প্লাটফর্ম ও সাংবাদিকরা উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    ‘তারা এমনভাব করছে যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ এখন বিরোধী দল। বিরোধী মত হিসেবে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বক্তব্য প্রচার করার চেষ্টা করছে’-যোগ করেন নাহিদ।

    জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘তারা ভুলে গেছে বাংলাদেশে একটা ম্যাস কিলিং ঘটেছে জুলাই-অগাস্টে যেখানে ছাত্র, শিশু, নারী, শ্রমিকসহ অসংখ্য মানুষের নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং অসংখ্য জীবন পঙ্গু হয়ে গেছে। সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এখনো গণহত্যা ও পঙ্গুত্বের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ এখন বিচারের কাঠগড়ায়। অথচ আওয়ামী লীগকে নানা কৌশলে নানা আন্দোলনে সমাজে হাজির করতে সচেষ্ট বিভিন্ন শক্তি।’

    পোস্টের শেষদিকে গণমাধ্যমের উদ্দেশে সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দেন নাহিদ, ‘যারা মিডিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন, গণহত্যার আসামী ও ফ্যাসিস্টদের প্রচার প্রচারণা করার সুযোগ করে দিবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

    আজ ৭ নভেম্বর। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটেছিল, যা দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পালটে দিয়ে দেশ ও জাতিকে নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সেনা অভ্যুত্থান ও পালটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যখন চরম নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তখন সিপাহি-জনতার মিলিত ঐক্যের বিপ্লব দেশ ও জাতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়েছিল। অভূতপূর্ব সেই বিপ্লব-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাময়িক বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। বিএনপি সরকারের আমলে এ দিনটিতে সরকারি ছুটি ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এ ছুটি বাতিল করে। আওয়ামী শাসনামলে দিবসটি স্বচ্ছন্দে উদযাপনও করতে পারেনি দলটি। এবার দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঘোষণা করেছে ১০ দিনের কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রভাবমুক্ত হয়ে শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়। এই দিন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।

    সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমানের লেখা ‘কিছু স্মৃতি কিছু কথা’ বইয়ে তিনি উলে­খ করেন, ‘৭ নভেম্বর গোটা দেশজুড়ে সৈনিক-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত এক অভূতপূর্ব উত্থান ঘটে। আর জেনারেল জিয়া সে অভ্যুত্থানের উত্তাল তরঙ্গমালার শৃঙ্গে আরোহণ করে উঠে আসেন জাতীয় নেতৃত্বে পাদপ্রদীপে।’ ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সম্পর্কে তদানীন্তন দৈনিক বাংলার রিপোর্টে বলা হয়, ‘সিপাহি ও জনতার মিলিত বিপ্লবে চার দিনের দুঃস্বপ্ন শেষ হয়েছে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন। ৭ নভেম্বর ভোরে রেডিওতে ভেসে আসে, ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।’ জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ওইদিন রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। পথে পথে সিপাহি-জনতা আলিঙ্গন করে একে অপরকে। সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের নলে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এই আনন্দের ঢেউ রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের সব শহর-নগর-গ্রামেও পৌঁছে যায়।’

    বাণী : দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত। ৭ নভেম্বরের চেতনায় সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের পথচলাকে অবারিত এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। পৃথক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মহান দিনে দেশবাসী সবাইকে আহ্বান জানাই, এখনো দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত উত্তরণ হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন, নাগরিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ সাধন করতে হবে।

    তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই একই চেতনা বুকে ধারণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, স্বাধীনতার সুফল তথা অর্থনৈতিক মুক্তি, শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    কর্মসূচি : মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে দশ দিনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এ উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ১০টায় দলের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ। এদিন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) গেটসংলগ্ন বহিরাংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আগামীকাল ৮ নভেম্বর দুপুর ৩টায় ঢাকায় ও জেলায় জেলায় র‌্যালি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে। এছাড়া পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে।

    এদিকে এক বিবৃতিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা ও ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। দিবসটি উপলক্ষ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি, ১২ দলীয় জোটসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোও নানা কর্মসূচি পালন করবে।

  • তেল আবিবের সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর

    তেল আবিবের সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর

    লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, প্রথমবারের মতো ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের দক্ষিণে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।

    বুধবার (৬ নভেম্বর) হিজবুল্লাহ এই হামলা চালায়। খবর আলজাজিরার।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা প্রথমবারের মতো তেল আবিবের দক্ষিণে বিলু সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণ চালায়। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হতাহতের বা অবকাঠামোর ক্ষতির কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।

    এর আগে, হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বন্দর শহর হাইফার কাছে নৌ-ঘাঁটি এবং তেল আবিবের কাছে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে।

    এ বিষয়ে ইসরাইলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহ নতুনকরে দখলদার ইরসাইলের একটি সামরিক ঘাঁটি, বিস্ফোরক তৈরির একটি কারখানা এবং একটি সেনাসমাবেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু করেছে, যা এখনো চলছে। এর মোকাবিলায় হিজবুল্লাহ ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে দখলদারের ইসরাইলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

  • আমির হোসেন আমু ৬ দিনের রিমান্ডে

    আমির হোসেন আমু ৬ দিনের রিমান্ডে

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহিন রেজা আমুর ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।

    অন্যদিকে আমুর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে বুধবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আমুকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

  • অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ বাইডেনের

    অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ বাইডেনের

    বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। খবর এপি’র।

    ফোনকলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আলাপের জন্য হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প-বাইডেন বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হবে।

    এদিকে নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে বাইডেনের।

    ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে হারিয়েই হোয়াইট হাউজে জায়গা করে নিয়েছিলেন বাইডেন। এবারের নির্বাচনেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল, তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলের পরামর্শে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

    নির্বাচনে বাইডেনের বদলে ডেমোক্রেটদের প্রার্থী হন বর্তমান সরকারে তার ডেপুটি কমলা হ্যারিস। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পেরে উঠলেন না তিনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ২৯২টিই গিয়েছে ট্রাম্পের পকেটে, ২২৪ ভোট পেয়েছেন কমলা। প্রেসিডেন্ট হতে অবশ্য ২৭০ ভোটই যথেষ্ট।

  • তাপসের গ্রেফতার প্রসঙ্গে যা বললেন ঐশী

    তাপসের গ্রেফতার প্রসঙ্গে যা বললেন ঐশী

    রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন গান বাংলা চ্যানেলের চেয়ারম্যান কৌশিক হোসেন তাপস। সোমবার উত্তরা পূর্ব থানার পক্ষ থেকে তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারের বিষয় নিশ্চিত করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    কৌশিক হোসেন তাপসকে গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশের পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন সংগীত শিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। সেখানে তিনি তাপসকে অরাজনৈতিক হিসেবে দাবি করেছেন।

    ঐশী পোস্টে বলেন, ‘তিনি (কৌশিক হোসেন তাপস) তো রাজনৈতিক কেউ ছিলেন না। সাংস্কৃতিক লোককে রাজনৈতিক বানায় দিলেন প্রতিহিংসার জেরে। মিউজিক নিয়ে এত অ্যাগ্রেসিভ কাউকে আমি দেখিনি। বরং মিউজিকের নামে…করতে অনেককেই দেখলাম। সেই মানুষগুলাকে আবার বড় গলায় কথাও বলতে দেখি। সত্যকে জেতাতে চাইলে সঠিক তথ্য বের করে উপস্থাপন করেন মানুষের সামনে, যদি সাহস থাকে। সব রহস্য উন্মোচন করে দেন। সবাই জানুক সত্যটা কী! ভিত্তিহীন মজা তো বহুত নিলেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এবার সত্যকে জেতার সুযোগ করে দেন! নাহলে বৈষম্যই তো হইলো। লাভটা কি হইলো তাহলে?’

    গায়িকা ঐশী তার সংগীত জীবনে তাপসের অবদানের কথা বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ছোট জীবনে কত কিছু দেখলাম। অন্যায় করে দিনের পর দিন রাজার হালে পার করতে দেখলাম, আবার নিরপরাধকে কারাগারে যেতেও দেখলাম। আমি তাপস ভাইয়াকে চিনি ঠিক দশ বছর। এই দশ বছরে আমি তাকে শুধু গান নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখতে দেখেছি। একা না দেখে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন তিনি। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে সংগীতাঙ্গন বদলানোর ইচ্ছা পোষণ করার মতো পাগলামি কেউ করে? এটাই ওনার ভুল ছিল।’

    প্রসঙ্গত, ‘নিজাম উদ্দিন আউলিয়া’, ‘রঙে রঙে দুনিয়া’, ‘দুষ্টু পোলাপাইন’, ‘দুই কূলে সুলতান’-এর মতো গানগুলো দিয়ে শ্রোতামহলে পরিচিতি পেয়েছেন ঐশী। ২০০০ সালে রংপুর শিশু একাডেমিতে গান শেখা শুরু করেন তিনি। ২০০৩ সালে নোয়াখালীতে মুহাম্মদ শরীফ ও পরে হাফিজ উদ্দীন বাহারের কাছে উচ্চাঙ্গ ও নজরুল সংগীতে তালিম নেন। ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’ সিনেমার ‘মায়া’ গানটির জন্য ২০২০ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ঐশী।

  • বিয়ের ৮ মাসে মা হওয়া নিয়ে কটাক্ষ, জবাবে যা বললেন শ্রীময়ী

    বিয়ের ৮ মাসে মা হওয়া নিয়ে কটাক্ষ, জবাবে যা বললেন শ্রীময়ী

    চলতি বছরের মার্চের ২ তারিখে মহা ধুমধাম করে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে সাত পাক ঘুরেছেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। অবশ্য আইনি বিয়েটা ১৪ ফেব্রুয়ারি সেরে ফেলেছিলেন দুজনে। তবে বিয়ের ৯ মাস পূর্তির আগেই জীবনের সেরা উপহার পেয়েছেন এই তারকা দম্পতি।

    শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন শ্রীময়ী।

    মেয়ের বয়স সবে তিন দিন! এখনও মেয়েকে নিয়ে শ্রীময়ীর ঠিকানা ভাগীরথী নেউটিয়া হাসপাতালের কক্ষ। হাতে স্যালাইনের চ্যানেল এখনও খোলা হয়নি। কিন্তু সব যন্ত্রণা মেয়ের হাসি মুখ দেখে সইছেন শ্রীময়ী। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই মা হলেন তিনি।

    তবে আইনি বিয়ের মাত্র সাড়ে ৮ মাস যেতে না যেতেই অভিনেত্রীর মা হওয়ার খবর নিয়ে শুরু করেছে নানান কাটাছেঁড়া।

    যদিও শ্রীময়ী-কাঞ্চনের বিয়ের তারিখ আর সন্তানের জন্মের তারিখ নিয়ে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে নেট দুনিয়ায়। শিশু কন্যাকে ঘিরে কটাক্ষ-ট্রোলিং চলছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে সেইসব নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন শ্রীময়ী।

    তিনি বলেন, আমার জীবনের সবটাই খোলা খাতার মতো। যখন যেটা হয়েছে সব জানিয়েছি। এখন শুধু মেয়েটাকে নিয়ে ভালোভাবে বড় করতে চাই।

    এদিকে ব্যক্তিগত জীবনটা আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন কাঞ্চন। বরের আর পরিবারের বড়দের কথা মেনে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর গোপনে রেখেছিলেন শ্রীময়ী। তার কথায়, সাত মাস পর্যন্ত শুটিং করেছেন তিনি। কাউকে টেরও পেতে দেননি প্রেগন্যান্সির বিষয়ে। মা হওয়ার পর কতখানি বদলেছে শ্রীময়ীর জীবন? তার কথায়, মেয়ের ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয়ে এখন আস্তে আস্তে কথা বলেন। আর সারাক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে মেয়ের দিকেই তাকিয়ে থাকেন। তিনি বললেন, ‘মনে হচ্ছে চোখের সামনে একটা তুলোর পুতুল শুয়ে আছে’।

    মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রীময়ী বললেন, আমি ওকে হাত নেড়ে হ্যালো বলেছি।

    বউয়ের এই কীর্তি দেখে হেসেখুন কাঞ্চন। তিনি জানান, আরে তুই ওর মা রে। হ্যালো বলছিস কী! বউয়ের সঙ্গে সারাক্ষণ কেবিনেই রয়েছেন কাঞ্চন। আর বাবার গলা শুনলেই গোল গোল চোখ করে তাকাচ্ছে মেয়ে।

    শ্রীয়মী আরও জানিয়েছেন, গত শনিবার চিকিৎসকের কাছে চেকআপের জন্য গিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ করেই সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক।

    বেবি বাম্পের ছবি প্রকাশ্যে এনে গত রোববার সামাজিক মাধ্যমে শ্রীময়ী লেখেন, এটা লম্বা একটা সফর, টানা ৯ মাসের জার্নি। বহু আবেগঘন মুহূর্ত রয়েছে। শারীরিক দিক থেকেও ওঠাপড়া লেগে থেকেছে। আমার মধ্যে এক ছোট্ট প্রাণ নড়েচড়ে উঠত। এই অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।

    ‘অবশেষে সেই অপেক্ষা শেষ, আমার পরী এখন আমার সামনে, ওকে নিজের চোখে দেখার পরে বুঝেছি, সেই সব যন্ত্রণা, আবেগের ওঠাপড়া এই আনন্দের কাছে কিছুই না’।

  • যে কারণে গ্রেফতার হন গান বাংলার তাপস

    যে কারণে গ্রেফতার হন গান বাংলার তাপস

    বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গান বাংলার প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপসকে সোমবার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান তাপসকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।

    রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। আসামিকে জামিনে মুক্তি দিলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মামলার তদন্তে ব্যাঘাতসহ আসামির দেশ ত্যাগ করার আশঙ্কা রয়েছে। আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেতাকর্মীদের উসকানি প্রদান করেছেন।

    তিনি একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগের কর্মী। তিনি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। মামলার সঙ্গে জড়িত অপরাপর অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য এবং মামলায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামি সনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবি রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

    তবে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় আগামী ৬ নভেম্বর রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদালত। একইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    তাপস একাধারে গায়ক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। এর আগে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের একমাত্র সংগীতভিত্তিক টিভি চ্যানেল গান বাংলায় ভাঙচুর করা হয়।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য ইশতিয়াক মাহমুদসহ অন্যরা ছাত্রজনতার সঙ্গে একত্রিত হয়ে উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৪নং সেক্টরস্থ আজমপুর নওয়াব হাবিবুল্লাহ হাই স্কুলের সামনে ফাঁকা রাস্তার উপর পৌঁছামাত্র ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ক্যাডাররা দেশী ও বিদেশী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হত্যার উদ্দেশে ইশতিয়াকের ওপর অতর্কিত হামলা, মারধরসহ গুলি বর্ষণ করতে থাকে। আসামিদের ছোড়া গুলির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনিসহ ছাত্রদের অভিভাবক ও ছাত্রজনতা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। পরে আসামিদের ছোড়া গুলি তার পেট, পিঠ, হাতে ও মাথায় লাগলে তিনি গুরুতর আহত হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

    এ ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর ব্যবসায়ী ইশতিয়াক মাহমুদ বাদী হয়ে পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার এজাহারনামীয় ৯ নং আসামি হলেন তাপস।

  • আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে আমি প্রস্তুত: কমলা

    আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে আমি প্রস্তুত: কমলা

    নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই চলছে আমেরিকায়। ভোটারদের নিজের দিকে টানতে মরিয়া ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। ভোটের আগের দিনের প্রচারে ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে শেষ বক্তৃতার শুরুতেই কমলা নিজ সমর্থকের ধন্যবাদ জানান।

    এরপর কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে আমি প্রস্তুত আছি।’

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সর্বশেষ প্রচারণায় অংশ নিয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেমোক্রেট দলের এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    কমলা হ্যারিস বলেন, আমেরিকাকে দেখার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাদের প্রচারাভিযান আমেরিকার জনগণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমরা আশাবাদী এবং আমরা একসঙ্গে যা করতে পারি তা নিয়ে আমরা বেশ উত্তেজিত।

    যদি তিনি নির্বাচিত হন তাহলে এবারই প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পাবেন আমেরিকার জনগণ। ২০১৬ সালে কমলার প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইলেক্টোরাল ভোটে পরাজিত হন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

    তিনি আশা করেন, আমেরিকার জনগণ এবার তাকে নির্বাচিত করে এক নয়া ইতিহাসের দ্বার উন্মোচন করবেন।

    কমলা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক দশকের রাজনীতির পাতা উল্টানোর এক বিশাল সুযোগের কাছাকাছি রয়েছে আমেরিকার জনগণ। তাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে ভয় ও বিভাজনের রাজনীতির ইতি টানবে জনগণ।

    যুক্তরাষ্ট্রে মোট ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ভোট পেতে হয়। এই ভোট আবার ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে গণনা করা হবে। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়ে পাকাপাকিভাবে হোয়াইট হাউসে বসবেন।