Blog

  • স্ত্রীসহ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    স্ত্রীসহ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

    সাবেক এই সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১২ সাল থেকে চার বছর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির নেতৃত্ব দেন। তার ভাই হারিস ও জোসেফের নাম বদলে পাসপোর্ট করার বিষয়ে আজিজ আহমেদের সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ আছে। এছাড়া তার কারণেই জোসেফের সাজা মওকুফ করা হয়েছে— এমন আলোচনাও আছে। তার দুর্নীতি নিয়ে আলজাজিরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    আজিজ আহমেদ ২০২১ সালের ২৩ জুন অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না।

  • তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন?

    তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন?

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে দেশে ফিরে আসবেন সেটি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না দলটির নেতাকর্মীরা। তাকে দেশে ফিরে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার ভূমিকা পালন করতে পারে।

    তার দেশে ফিরে আসার আগে মামলাগুলো প্রত্যাহার করানো সম্ভব হলে সেটি তার জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হবে। তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তারেক রহমান চান তার প্রতিটি মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়।

    তারেকের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার করার জন্য বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ধীরে ধীরে সোচ্চার হতে শুরু করেছেন। সোমবার বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

    অন্যদিকে তারেক রহমান কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন সেটি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরাও বিষয়টি বুঝতে চাইছেন।

    প্রশ্ন হচ্ছে, মামলা চলমান থাকায় তিনি কি দেশে ফিরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন? নাকি মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন?

    তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কবে?

    গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাবার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই ভেবেছিলেন তারেক রহমান হয়তো দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় আড়াই মাস পার হতে চললেও রহমান কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারেন সেটি নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে।

    তারেক রহমান কবে দেশে ফিরে আসবেন সেটি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না বিএনপি নেতারা।

    ‘বিএনপির তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কেউ হয়রানি থেকে বাদ যাননি। তারেক রহমান শুধু তার নিজের মামলা নিয়ে চিন্তা করছেন না। বিএনপির নেতা-কর্মী, সমমনা রাজনৈতিক দল ও স্বাধীনচেতা মানুষের বিরুদ্ধে গত ১৬ বছরে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি চান প্রতিটি মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়, বিবিসি বাংলাকে বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    বিএনপির বরাবরই দাবি করছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বিএনপির এ দাবি কতটুকু সত্য যেটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আমিন বলেন, তারেক রহমান যাতে দেশে ফিরে আসতে পারেন সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে আইনগত এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    ‘এমনও হতে পারে যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেল, কিন্তু অন্য নেতাকর্মীদের নামে মামলা রয়ে গেল। তিনি চাচ্ছেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতা পর্যন্ত সবার মানবাধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে এবং তারা যেন আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত না হয়,’ বলছেন আমিন।

    ‘বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হলে তিনি দেশে ফিরবেন।’

    মামলা প্রত্যাহারের দাবি কেন?

    বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ইতোমধ্যে তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার করার জন্য দাবি তুলে ধরেছেন।

    তাদের অনেকের আশঙ্কা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং নানা ধরনের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। এমন অবস্থায় মামলা প্রত্যাহার করার আগে তিনি দেশে আসলে বিষয়টি ইতিবাচক নাও হতে পারে।

    এজন্য রহমান দেশে ফিরে আসার আগে মামলাগুলো প্রত্যাহার করানো সম্ভব হলে সেটি তার জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হবে।

    ‘প্রায় আড়াই মাস হতে চললো কিন্তু এখনো পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহার করার কোন সাইন (লক্ষণ) দেখা যাচ্ছে না,’ বলেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও তারেক রহমানের অন্যতম আইনজীবী কায়সার কামাল।

    ‘প্রতিটা মামলা ভিত্তিহীন। গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ৫ অগাস্টের পর সারা দেশের মানুষের এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল এসব মামলা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে,’ বলেন কায়সার কামাল।

    ঠিক এর এক সপ্তাহ আগে কায়সার কামাল বলেছিলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কায়সার কামাল তখন বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে আসছি, আইন-আদালত-সংবিধানের প্রতি তারেক রহমান সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। তিনি জানেন তার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়েছে, প্রতিটি মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও বানোয়াট।’

    ‘ভিত্তিহীনভাবে কয়েকটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। তার পরও তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলাগুলো মোকাবিলা করা হবে।’

    তারা কি সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন? এমন প্রশ্নে কায়সার কামাল বলেন, ‘না, কোনো অবস্থাতে সরে আসি নাই। মামলা প্রত্যাহার করার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ।’

    কামাল বলেন, শুধু তারেক রহমানের মামলা নয়, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে’ আওয়ামী লীগের সময় যেসব রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল সেসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। দেশের বিভিন্ন জেলায় এখনো বিগত সরকারের নিয়োগ করা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রয়েছে। তাদের পদ থেকে না সরালে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

    তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা?

    কায়সার কামাল জানান, ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া ১৭টি মামলার মধ্যে অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা এবং সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় সাজা হয়েছে। এছাড়া কর ফাঁকি, চাঁদাবাজির বাকি ১৫টি মামলা স্থগিত রয়েছে।

    মোট পাঁচটি মামলায় তারেক রহমানের সাজা হয়েছে। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৭০’রটির বেশি মানহানির মামলা আছে রহমানের বিরুদ্ধে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ও ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

    তারেক রহমানকে ওই বছরের সাতই মার্চ গ্রেফতার করা হয়। পরের বছর তেসরা সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়ে লন্ডন চলে যান তিনি।

    সরকারের উদ্যোগ কী?

    আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে হওয়া ‘হয়রানিমূলক মামলা’ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুটি কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এর মধ্যে একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি এবং অন্যটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি।

    এনিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ‘হয়রানিমূলক মামলা’ প্রত্যাহারের জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হবে।

    জেলা কমিটি সুপারিশ দেবার পর সেগুলো পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হবে এবং প্রত্যাহারযোগ্য মামলা চিহ্নিত করা হবে। এরপর তালিকা তৈরি করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করবে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি।

    জেলা পর্যায়ের কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের সঙ্গে এজাহার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।

    আবেদন পাবার সাত কর্মদিবসের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি জেলার পাবলিক প্রসিকিউটরের (ক্ষেত্রবিশেষে মেট্রোপলিটান পাবলিক প্রসিকিউটর) কাছে মতামতের জন্য পাঠাবেন।

    এরপর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউটর (ক্ষেত্রবিশেষে মেট্রোপলিটন পাবলিক প্রসিকিউটর) তার মতামত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠাবেন। পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত সংগ্রহ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে জেলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করবেন।

    জেলা কমিটির কাছ থেকে সুপারিশ পাবার পর মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি সেগুলো পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবে। প্রত্যাহারযোগ্য মামলা চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

  • ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

    ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

    ‘পালাব না, কোথায় পালাব, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব’—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে গত বছর ২৯ জানুয়ারি এ কথা বলেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। তার দলের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা ওবায়দুল কাদের কোথায়, তার কোনো হদিস নেই। শারীরিকভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। নেই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়াতেও। সরকার পতনের আগে যিনি প্রায় প্রতিদিন বক্তব্য-বিবৃতি দিতেন, গত ২ মাস ১০ দিন ধরে তার কোনো বক্তব্য-বিবৃতি ও তার অবস্থানে কোনো হদিস নেই।

    এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের ‘পালাব না’ বক্তব্য নিয়ে গান তৈরি হয়েছে, যা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ ছাড়া তার নানা বক্তব্য নিয়ে ‘মিম’ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তার বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে ‘প্যারোডিও’ হচ্ছে।

    ‘খেলা হবে’ বলে নিজেই লোকচক্ষুর আড়ালে

    ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কথা প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি ৫ আগস্টেই যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে গেছেন। কারও কারও মতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন।

    ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এর পর থেকে তার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছে, এমন তথ্য নেই।

    অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

    আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ও বিদেশে থাকা অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন, এমন বেশ কিছু অডিও প্রকাশ পেয়েছে। দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওবায়দুল কাদের কারও সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ৫ আগস্টের আগেও প্রায় প্রতিদিন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধীদের আন্দোলনের সময় তিনি পাল্টা সভা-সমাবেশে নিয়ে মাঠে থেকে বক্তব্য দিয়েছেন। ‘খেলা হবে’ বলে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই চলে গেলেন লোকচক্ষুর আড়ালে, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ নেতারা বলছেন, ছাত্রজীবন থেকেই ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দিতে পারদর্শী ছিলেন। এক–এগারোর আগে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেওয়ার বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তখন তিনি আওয়ামী লীগের ভুঁইফোড় নানা সংগঠনের ব্যানারে আলোচনা সভা ও গোলটেবিলে অংশ নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়েছেন। তখন দলের অনেকেই তাকে ‘জাতির বিবেক’ বলে টিপ্পনী কাটতেন।

    ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দলের অন্য নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতেন না। এখন সুযোগ না পাওয়া নেতারা সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন। ওবায়দুল কাদের পুরোপুরি নীরব আছেন।

    আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের যে কোনোভাবে গণমাধ্যমের প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করতেন। কী পরিস্থিতিতে তিনি গত আড়াই মাস গণমাধ্যম ও নেতাকর্মীদের থেকে দূরে আছেন, তা তিনিই ভালো জানেন।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ যখন উত্তাল, সেই সময় ৩১ জুলাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বরাবরের মতো অন্যদের সুযোগ না দিয়ে নিজে বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে চেয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। ওই দিন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। এ সময় সাবেক ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলেও স্লোগান দেন। একপর্যায়ে মিলনায়তন ছেড়ে তড়িঘড়ি চলে যান তিনি।

    সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকে সেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন, দল বিপদে পড়ার পর সাবেক ছাত্রনেতাদের ডাকা হয়েছে। অথচ অন্য সময় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন দলের সাধারণ সম্পাদক। মুষ্টিমেয় কিছু ‘চাটুকার’ নিয়ে চলতেন তিনি। এ জন্যই তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    ওবায়দুল কাদের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্ট দেন গত ৫ জুলাই। ওই দিন তিনি পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ নামের এলাকায় নানা ভঙ্গিমায় নিজের ১২টি ছবি পোস্ট করেন। এই পোস্টে এক লাখের বেশি লাইক, লাভ, হা হা রিয়েক্ট হয়।

    এর আগে নিয়মিত বিরতিতে নিজের বাসার সামনে, অফিসকক্ষে, পদ্মা সেতু এলাকায় নানা ভঙ্গিতে দাঁড়ানো ও বসা ছবি পোস্ট করেছেন ওবায়দুল কাদের। কখনো কখনো বিদেশি রাষ্ট্রদূত কিংবা অতিথির সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিতেন। তবে দলীয় কর্মসূচির ছবি দিতে তাকে খুব একটা দেখা যায়নি।

    ৫ জুলাইয়ের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এর এক মাস পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে নিরুদ্দেশে এক সময়ের প্রবল ক্ষমতাধর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

  • মুলাদীতে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ জামায়াতের

    মুলাদীতে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ জামায়াতের

    বরিশালের মুলাদীতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। গত ১২ অক্টোবর ইসলামী আন্দোলনের জনসভায় কয়েকজন আলেমের ওই দলে যোগদান নিয়ে নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন বলে দাবি করেন। এঘটনায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মুলাদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানান।

    লিখিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আবু ছালেহ উল্লেখ করেন, গত ১২ অক্টোবর মুলাদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ইসলামী আন্দোলনের একটি সভা হয়েছিল। ওই সভায় কে বা কাহারা ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করেছিল। উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের কতিপয় নেতাকর্মী তাদেরকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা পরিচয় দিয়ে অপপ্রচার করছেন। কিন্তু উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা, কর্মী কিংবা কোনো সমর্থক ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করেননি।

    মো. আবু ছালেহ আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় নীতি আদর্শে দৃঢ় বিশ্বাসী। তারা অন্য কোনে দলে যোগ দেওয়ার চিন্তা করেন না। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠন বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আব্দুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি মো. আব্দুল মোতালেব, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য ডা. মো. মোর্শেদ আলম, মো. সিদ্দিকুর রহমান, কাজিরচর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুস ছাত্তার সিদ্দিকী, গাছুয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. দিদারুল আহসান প্রমুখ। 

  • অভিযোগ ওঠা বিচারপতিদের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

    অভিযোগ ওঠা বিচারপতিদের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

    প্রধান বিচারপতির চায়ের আমন্ত্রণে আসা ৬ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছয় জন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির চায়ের দাওয়াতে এসেছেন। তারা হলেন- বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ মো. নুরউদ্দিন, বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম। তাদের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

    বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে, আওয়ামী বিচারপতিদের অপসারণের জন্য আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দুপুর ২টার মধ্যে বিচারালয় থেকে আওয়ামী মদদপুষ্ট বিচারকদের অপসারণ এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

    আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে বলো ১১টায় হাইকোর্ট ঘেরাও করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ১১টায় প্রথমে হাইকোর্টের সামনে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে বের হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

  • শাহিন বাবর নাসিম বাদ, যা বললেন আফ্রিদি

    শাহিন বাবর নাসিম বাদ, যা বললেন আফ্রিদি

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি দুটি টেস্ট ম্যাচের জন্য পাকিস্তানের সেরা ক্রিকেটার বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহকে বিশ্রাম দেওয়ার জাতীয় নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি।

    সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

    শহিদ আফ্রিদি বলেন, বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি এবং নাসিম শাহকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিরতি দেওয়ার জন্য নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছি। এই পদক্ষেপটি কেবল এই চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার রক্ষা এবং দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে না বরং উদীয়মান প্রতিভাদের পরীক্ষা এবং উন্নত করার একটি দুর্দান্ত সুযোগ দেয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী বেঞ্চ শক্তি গড়ে তুলতে।

    তিনি আরও বলেন, তাদের বিশ্রামের ফলে দলে তরুণ প্রতিভা লালন-পালনের জন্য দরজাও খুলে দেবে।

    সম্প্রতি ভালো সময় যাচ্ছে না বাবরের। ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯ টেস্টের ১৭ ইনিংস মিলিয়ে বাবর রান করেছেন ৩৫২, গড় মাত্র ২০.৭০।

    তাদের বাদের বিষয়ে পাকিস্তানের সহকারী কোচ আজহার মাহমুদ বলেন, বাবর আমাদের নং ওয়ান প্লেয়ার। তার কৌশল ও ক্ষমতা অপরিসীম। তার বর্তমান অবস্থান দেখে নির্বাচক কমিটি মনে করেছে তাকে বিশ্রাম দেওয়া সঠিক সময়। সামনে আমাদের অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ সফর রয়েছে।

    মাহমুদ আরও বলেন, এটি নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে তৃতীয় টেস্ট। এর আগে, আমরা ২০ উইকেট নেওয়ার উপায় খুঁজতে সংগ্রাম করছিলাম। এখন আমরা মনে করি স্পিনের সঙ্গে আমাদের আরও অপশন রয়েছে। কিছু খেলোয়াড়ের সামান্য ইনজুরি আছে—নাসিমের কিছু সমস্যা আছে এবং শাহীন অনেক দিন একটানা ক্রিকেট খেলেছে। তাই তাদেরকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচক কমিটি।

  • সিআইডি নৌ রেল ও হাইওয়ে পুলিশে নতুন প্রধান

    সিআইডি নৌ রেল ও হাইওয়ে পুলিশে নতুন প্রধান

    অতিরিক্ত আইজিপি মো. মতিউর রহমান শেখকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে নৌ পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএনে নতুন প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদেরকে পদায়ন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব আবু সাঈদ।

    নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদ, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে।

    একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে মো. আলমগীর আলম, গোলাম কিবরিয়া, সেলিম মো. জাহাংগীর এবং মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে।

    এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরীর পিবিআইতে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

    গত ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের সবগুলো ইউনিটের প্রধানকে বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

    প্রায় দুই মাস ইউনিট প্রধান ছাড়ায় চলছিল সিআইডি।

  • যেসব স্থানে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হচ্ছে আলু-ডিমসহ ১০ কৃষিপণ্য

    যেসব স্থানে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হচ্ছে আলু-ডিমসহ ১০ কৃষিপণ্য

    রাজধানীর ২০টি স্থানে কৃষি পণ্যের ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্বল্পমূল্যে ৬ থেকে ১০ ধরণের এসব কৃষিপণ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারের তুলনায় কম দাম হওয়ায় এসব স্থানে ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি দেখা গেছে।

    সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর খাদ্য ভবনের সামনে এসব পণ্য কিনতে অনেকে ভিড় জমিয়েছেন। সেখানে প্রতিকেজি আলু ও পটল ৩০ টাকা, এক ডজন ডিম ১৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা কেজি এবং ৬০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

    প্যাকেজ হিসেবে সরবরাহ করা হচ্ছে এবব পণ্য। প্যাকেজ মূল্য ৪শ থেকে ৬শ টাকা। বাজারে সবজির অস্বাভাবিক দাম হওয়ায় সকাল থেকেই ক্রেতাদের চাপ তৈরি হয়েছে।

    পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্বল্পমূল্যে এসব কৃষিপণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকবে। আরও কয়েকটি পয়েন্টে বিক্রির আওতা বাড়ানো হতে পারে বলেও জানা গেছে।

    এর আগে, এসব পণ্য বিক্রির এমন উদ্যোগ গ্রহণ করে কৃষি বিপণন অধিদফতর। তারা জানায়, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনে রাজধানীর নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে সুলভ মূল্যে এই সবজিগুলো বিক্রি করা হবে।

    উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির আওতায় একজন গ্রাহক ৩০ টাকায় এক কেজি আলু (জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি) , ১৩০ টাকায় এক ডজন ডিম, ৭০ টাকায় এক কেজি পেঁয়াজ, ২০ টাকায় ১ কেজি কাঁচা পেঁপে ও পাঁচ কেজি বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি প্যাকেজ আকারে কিনতে পারবেন।

    কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ২০টি স্থানে ট্রাক সেলের (ট্রাকে করে বিক্রি) মাধ্যমে এসব কৃষিপণ্য বিতরণ করা হবে। স্থানগুলো হচ্ছে সচিবালয় এলাকার খাদ্য ভবন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, মিরপুর-১০, বাসাবো, বছিলা, রায়ের বাজার, রাজারবাগ, মুগদা উত্তর, মুগদা দক্ষিণ, পলাশী মোড়, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, বেগুনবাড়ী, উত্তর খান, দক্ষিণ খান, কামরাঙ্গীরচর, রামপুরা ও জিগাতলা।

  • বরিশাল বোর্ডে সেরা ঝালকাঠি, পিছিয়ে পটুয়াখালী

    বরিশাল বোর্ডে সেরা ঝালকাঠি, পিছিয়ে পটুয়াখালী

    এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হারে সবার শীর্ষে রয়েছে ঝালকাঠি জেলা। এ জেলায় মোট পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯৫।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী।

    তিনি বলেন, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভোলা জেলার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩৬। আর গত বছর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরিশাল জেলা ৮৩ দশমিক ৯৪ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবার।

    এ ছাড়া চতুর্থ অবস্থানে থাকা পিরোজপুর জেলার পাসের হার ৮২ দশমিক ৯৪। পঞ্চম অবস্থানে থাকা বরগুনা জেলার পাসের হার ৭৯ দশমিক ০২। আর সবার শেষে থাকা পটুয়াখালী জেলার পাসের হার ৭৪ দশমিক ৮২। তবে বিগত বছরের থেকে এবারে সব জেলায় গড় পাসের হার বেড়েছে।

    অপরদিকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সব থেকে বেশি। এ বিভাগে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫১। এরপর মানবিক পাসের হার ৭৯ দশমিক ১৮ ও ব্যবসায়ী বিভাগে পাসের হার ৭৭ দশমিক ২০।

    এ ছাড়া জিপিএ-৫ সবচেয়ে বেশিও পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে মোট ২ হাজার ২৯২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর মানবিক বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৮২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

  • নগরে নতুন নতুন অটোরিকশা: কারখানা বন্ধে ওসিদের নির্দেশ

    নগরে নতুন নতুন অটোরিকশা: কারখানা বন্ধে ওসিদের নির্দেশ

    মহানগর এলাকায় অবৈধ যানবাহন চলাচল রোধে গুরুত্ব দিচ্ছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    এরই মধ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ট্রাফিক বিভাগকে রেজিস্ট্রেশনহীন মোটরসাইকেল ও সিটি করপোরেশনের অনুমোদন (টোকেন) ছাড়া হলুদ অটোরিকশার বিরুদ্ধে জরিমানা করাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় শেষে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সড়কে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি কারখানায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরির কার্যক্রম বন্ধের জন্য মেট্রোপলিটনের চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

    বরিশাল নগরে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেল, হলুদ অটোরিকশা, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ায় যানজট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদররোড ও গির্জামহল্লা এলাকার সড়কে মোটরসাইকেল পার্কিং, বিবির পুকুর পাড়, জেল খানার মোড়, কাকলীর মোড়, চৌমাথা এলাকায় সড়ক আটকে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করায় মূল সড়ক সরু হয়েও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সভায় এসব বিষয়েও আলোচনা করা হয়। যা নিয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধনে রাতে পুলিশের মুভমেন্ট বৃদ্ধির কথা জানিয়ে পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা আরও জোরদার করতে যাচ্ছি। আপনাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত আমাকে জানাবেন। আর আপনাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখার দায়িত্ব আমার। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বরিশাল গড়তে চাই।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলী আশরাফ ভূঞা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) এস এম তানভীর আরাফাত, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) মো. রিয়াজ হোসেন, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহসহ পুলিশ ও সাংবাদিকবৃন্দ।