Blog

  • রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে?

    রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে?

    প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

    উত্তর: রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরূহ। আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোজাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করা যাবে না। টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করতে হলে সেহরির সময় শেষ হওয়ার আগেই করে নিবে।

    ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙে না। তবে ব্রাশ করার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন পেস্ট পেটে চলে না যায়। ভুল করে পেস্ট যদি পেটে চলে যায় তাহলে কিন্তু রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।

    এছাড়াও কেউ কেউ বলেছেন, টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে রোজা মকরুহ হয়ে যায়। তবে, ভেঙে যায় এমনটা কেউই বলেননি।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ হচ্ছে, গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহার।

    সুনানে আবু দাউদে যায়েদ বিন খালেদ আলজুহানী (রা.) বরাতে এক হাদিসে তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি—আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হলে তাদের ওপর মিসওয়াককে প্রতি নামাজের জন্য ফরজ করে দিতাম।

    এজন্য যদি ব্রাশ করতেই হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়, সাহরি শেষে পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, আবার ইফতারের পরও দাঁত ব্রাশ করা যায়। আর দিনের বেলা মিসওয়াক ব্যবহার করা।

    আমাদের মহানবী (সা.) মিসওয়াক ব্যবহার করতেন। আমরাও মিসওয়াক ব্যবহার করতে পারি। তাতে আমার রোজা নিয়ে কোনো প্রশ্নও উঠবে না, উলটো সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। তাছাড়া, মিসওয়াক করে নামাজ পড়লে তা উত্তম। রাসুল (সা.) প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে মিসওয়াক করতেন।

    সূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৫১৮

  • সোনা পাচারের অভিযোগে অভিনেত্রী গ্রেফতার, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    সোনা পাচারের অভিযোগে অভিনেত্রী গ্রেফতার, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    দুবাই থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে দক্ষিণ ভারতের কন্নড় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল রান্যা রাও। গত ৩ মার্চ রাতে বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

    ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ১৪.৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে অভিনেত্রী রান্যা রাওয়ের কাছ থেকে। পরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। তিনি এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে এসেছিলেন। কিছুদিন পরপর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের কারণে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

    গত ৩ মার্চ রাতে অভিনেত্রীকে গ্রেফতারের পর অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায় রান্যা রাওকে।

    তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিনেত্রী রান্যা রাও স্বর্ণ সম্বলিত পোশাক পরে এবং তার পোশাকের মধ্যে স্বর্ণের বার লুকিয়ে তা পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে চারবার দুবাই ভ্রমণ করেছেন। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সন্দেহ প্রকাশ করে এবং রান্যা রাও ফেরার পর তাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণী এই অভিনেত্রী তার খ্যাতি ব্যবহার করে কাস্টমস চেক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি অবতরণের সময় নিজেকে কর্ণাটকের পুলিশ মহাপরিচালকের মেয়ে দাবি করেছিলেন। এমনকি সেখান থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন।

    এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন যে, অভিনেত্রী রান্যা রাওয়ের আত্মীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা তার এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন কিনা, নাকি নিজেকে রক্ষার জন্য বিভ্রান্ত করছিলেন। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেঙ্গালুরুর এইচবিআর লেআউটে ডিআরআই সদর দপ্তরে নেওয়া হয়।

    এ ছাড়া স্বর্ণা পাচারের এ ঘটনায় সে একাই জড়িত, নাকি দুবাই ও ভারতের মধ্যে বৃহত্তর চোরাচালান নেটওয়ার্কের কোনো অংশ জড়িত রয়েছে―সেটিও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ‘মানিক্য’ সিনেমায় কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির সুপরস্টার সুদীপের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি লাভ করেন রান্যা রাও। পরে আরও কয়েকটি দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।

  • বিয়ের আগেই তামান্না-বিজয়ের ভাঙন!

    বিয়ের আগেই তামান্না-বিজয়ের ভাঙন!

    গত বছর থেকে গণমাধ্যমে শিরোনামে বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া ও বিজয় ভার্মার সম্পর্ক। শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন তারা এমনটাও শোনা গিয়েছিল। দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করা এ জুটির সম্পর্কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম পিংক ভিলা নিজেদের এক প্রতিবেদনে এমনটি দাবি করেছে। তবে, তামান্না কিংবা বিজয় এখনও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেনি। খবর এনডিটিভির।

    সূত্রের বরাতে পিংক ভিলা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তামান্না ও বিজয় সম্পর্ক শেষ করতে একমত হয়। তবে তারা দুজন ভালো বন্ধু থাকা নিয়ে দৃঢ়। বর্তমানে নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত রয়েছে তারা।

    সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামান্না জানিয়েছিলেন, আগামী বছর তারা বিয়ে করবেন। সাক্ষাৎকারে এ বলিউড অভিনেত্রী বলেন, আমি জীবন নিয়ে খুশি রয়েছি। বিয়েও হতে পারে, কেন নয়? আমার মতে, বিয়ে ও ক্যারিয়ারের মধ্যে কোনো কানেকশন নেই। আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। বিয়ের পরও আমি অভিনয় চালিয়ে যেতে চাই।

    ২০২৩ সালে নতুন বছরের এক পার্টিতে বিজয় ও তামান্নাকে একসঙ্গে দেখা যায়। এরপরই দুজনের সম্পর্কের গুঞ্জন উঠে। এ গুঞ্জন আরও দৃঢ় হয় কারণ এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে একসঙ্গে দেখা যায়। লাস্ট স্টোরি-২ এর প্রচারের সময় নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে সবাইকে জানান এ জুটি। এ ওয়েব সিরিজের সময় তামান্না ও বিজয় সম্পর্কে জড়ায় বলে জানা গেছে।

  • আনিসুল শাজাহানসহ নতুন মামলায় গ্রেফতার ৯

    আনিসুল শাজাহানসহ নতুন মামলায় গ্রেফতার ৯

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর বিভিন্ন থানার হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    গ্রেফতার দেখানো অন্যরা হলেন—সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম, সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রূপা ও শাকিল আহম্মেদ এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হোসেন।

    এর মধ্যে আনিসুল হক, শাজাহান খান, আতিকুল ইসলামকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। খিলগাঁও হত্যাচেষ্টা ও পল্টন থানার হত্যা মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে, মিরপুর থানার হত্যা মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদার ও লালবাগ থানার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    এছাড়া সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রূপা ও শাকিল আহম্মেদকে যাত্রাবাড়ী থানার দুই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

    এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুই হত্যা ও এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

  • উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

    উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

    বুধবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রথমে শহিদদের স্মরণে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।

    এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সি আর আবরারকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    অধ্যাপক সি আর আবরার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেছেন পিএইচডি।

    পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন সি আর আবরার। পাশাপাশি মানবাধিকার ইস্যুতে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ তিনি। বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিক, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্যাপক পরিসরে কাজ করেছেন অধ্যাপক আবরার। নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অভিন্ন অবস্থানের কঠোর সমালোচনাও করেছেন এই অধ্যাপক।

    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। এবার আরেকজন নতুন উপদেষ্টা দায়িত্ব নিচ্ছেন।

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। ওই দিনই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা। পরদিন ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই সময় নিয়োগ পান ১৬ জন উপদেষ্টা। ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকায় তিনজন উপদেষ্টা ওইদিন শপথ নিতে পারেননি। তারা পরে শপথ নেন। পরে আরও চারজন উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হন। সর্বশেষ গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনজন উপদেষ্টা যুক্ত হন।

  • সাংবাদিকরা ভুয়া নিউজ করে আমাদের ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে

    সাংবাদিকরা ভুয়া নিউজ করে আমাদের ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে

    অনেক সাংবাদিক ভুয়া নিউজ করে আমাদের ১২ টা বাজিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিম।

    বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীক লালবাগ থানার আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে তোলা হলে তিনি এ কথা বলেন।

    এদিন সকাল ১০ টা ৮ মিনিটের দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে সোলাইমান সেলিম ছাড়াও কয়েকজন এমপি-মন্ত্রীকে হাতে হাতকড়া, গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে হাজির করা হয়। এরপর সবাইকে কাঠগড়ায় রাখা হয়। অন্যান্য দিনের মতো কাঠগড়ার পাশে পুলিশ সারি করে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে দাঁড়ান। প্রত্যেক আসামির আইনজীবীরাও কাছে চলে আসেন। এসময় আসামিরা ওকালতনামায় স্বাক্ষরসহ তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।

    সোলাইমান সেলিম এক আইনজীবীকে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে থাকেন। কথা বলার সময় আইনজীবী সোলাইমান সেলিমের কাছে কারাগারে কেমন জীবন কাটাচ্ছেন জানতে চান। এসময় সোলাইমান সেলিম বলেন, ‘রোজা আছি। বই পড়ি। পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলা যায়। সেহরি ও ইফতারে খাবার নরমাল দেয়। দেখছেন না সবার মুখ কেমন শুকনো।’

    কিছুক্ষণ পরেই এজলাসে বিচারক আসেন। তবুও কর্ণপাত করেন না সোলাইমান সেলিম। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সোলাইমান সেলিম বলতে থাকেন, ‘অনেক সাংবাদিক ভুয়া নিউজ করে। তারা লিখেছে শাহজাহান খানসহ অনেকে নাকি কারাগারে ভালো খাবার খাচ্ছে। এসব ভুয়া নিউজ করে আমাদের ১২ টা বাজিয়ে দিচ্ছে।’

    এসময় কাঠগড়ার পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে বারণ করেন। তখন সোলাইমান সেলিম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জবাই তো দেবেন। একটু সময় দেন।’

    এরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করে সোলাইমান সেলিম আইনজীবীকে বলেন, যেকোনো সময় ফাঁসির আদেশ আসলেও এতে আমি অবাক হব না। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির যেভাবে ভাঙা হয়েছে। বুঝা শেষ।’

    পরবর্তীতে শুনানি শেষে সোলাইমান সেলিমকে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এসময় তিনি তার আরেক আইনজীবীকে ডেকে বাবা হাজি সেলিমের খোঁজ নেন। তার বাবার শরীর খারাপ। কী অবস্থা খোঁজ খবর জানাতে বলেন। এরপর হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সোলাইমান সেলিমকে তার বক্তব্য ‘যেকোনো সময় ফাঁসির আদেশ’ এর বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে বিচার হয় না।’

  • হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সকল সহযোগীর বিচার হবে

    হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সকল সহযোগীর বিচার হবে

    মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত হাসিনার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদেরও বিচার হবে বলেও জানান তিনি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি স্থানীয় সময় বুধবার (৫ মার্চ) প্রচারিত হয়।

    সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

    তিনি বলেন, ‘বিচার হবে। শুধু তার (হাসিনা) নয়, তার সাথে জড়িত সকল লোক — তার পরিবারের সদস্য, তার ক্লায়েন্ট বা সহযোগীদেরও। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। কিন্তু তিনি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই। তাই প্রশ্ন হলো আমরা কী তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারব কি না- এটি নির্ভর করছে ভারতের উপর এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্দেশনার ওপর। ’

    ড. ইউনূস আরও বলেন, তাকে ফেরত দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ।

    সম্প্রতি ‘হাউস অফ মিররস’ বা আয়নাঘর নামক কুখ্যাত গোপন কারাগারগুলোর মধ্যে একটি পরিদর্শন করেছেন ড. ইউনূস। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরগুলো যখন আপনি (সাংবাদিক) নিজের চোখে দেখবেন এবং নির্যাতিতদের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে, কতটা ভয়ঙ্কর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। আয়নাঘরগুলো সেনাবাহিনীর আওতাধীন। তাই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, এগুলো জাদুঘরে রূপান্তরিত করার। যাতে জনগণ সেখানে আসতে পারে এবং ইতিহাস জানতে পারে। ’

    হাসিনার বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশকে ব্যবহার করে শত শত নেতাকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে। হাসিনা, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রায় ৮০০ গোপন কারাগারের নেটওয়ার্ক তদারকি করার দায়ে অভিযুক্তদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অভিযুক্ত অপরাধের সাথে জড়িত লোকের সংখ্যা এবং পরিসর (বেশি হওয়ায়) কাজ করতে ‘সময় লাগছে’।

    তিনি বলেন, ‘সবাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এর সাথে জড়িত ছিল। সুতরাং এটা বের করা কঠিন যে— কারা সত্যিই এবং উৎসাহের সাথে এই অপরাধগুলো করছিল, আর কারা উচ্চপদস্থদের আদেশের অধীনে এসব কাজ করেছিল এবং কারা পুরোপুরি এসব অপরাধের সমর্থনকারী না হলেও এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গিয়েছিল। ’

    ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। নাটকীয় এই পটপরিবর্তনের পর একে একে বের হয়ে আসছে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ নানা চিত্র।

    শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশ ছেড়ে পলায়নের পর তার পরিবারের সদস্যসহ অনেকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ বের হয়ে আসছে এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত চলছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তাদের একজন শেখ হাসিনার ভাগ্নি সাবেক ব্রিটিশ লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্তে নাম আসার পর গত জানুয়ারি মাসে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলাটি খুবই গুরুতর। দেশে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে এবং সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।

  • এবার গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন থাকবে?

    এবার গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন থাকবে?

    ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত। অর্ন্তবর্তী সরকারের গত প্রায় সাত মাসে সেই পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আসন্ন সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতেও দেখা গেছে সরকারকে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাড়িঘরে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি না চালানোর নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি পরিপত্র জারি করেছে সরকার।

    যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করেই অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

    ফলে ৩১ হাজার মেগাওয়াটের উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও সেটার অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। তারওপর বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে।

    পেট্রোবাংলার হিসেবেই বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে গ্যাসের সরবরাহ করা রয়েছে দুই হাজার আটশ’ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক প্রায় এক হাজার দুইশ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে।

    অন্যদিকে, ডলার সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গ্যাস, কয়লা এবং জ্বালানি তেলের পুরোটা আমদানি করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি সংকটে ইতোমধ্যেই বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো কেন্দ্র ধুকছে।

    জ্বালানি বিষেশজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে আমরা দেখছি না। সংকটগুলো রয়েই গেছে। গত কয়েক বছর ধরেই বিদ্যুৎখাতের প্রধান সংকটের জায়গা হলো জ্বালানি।

    আরেক জ্বালানি বিষেশজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, এর মধ্যেই এবার রোজা, সেচ মৌসুম এবং গরম একসঙ্গে শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত তারা দৈনিক সাড়ে বারো হাজার মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে।

    তারপরও অনেক এলাকায়, বিশেষতঃ ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হতে দেখা যাচ্ছে। যদিও উপদেষ্টা বলছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণেই কিছু এলাকায় বিভ্রাট দেখো যাচ্ছে।

    সরকার বলছে যে, এখন পর্যন্ত তারা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছেন। তবে গরম বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য আগেভাগেই সাশ্রয়ী নীতিতে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    সামনে সংকট বাড়বে?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে।

    অধ্যাপক ম. তামিম বলছেন, তখন গরমে বিদ্যুতের চাহিদা কতটুকু বাড়ে এবং সেই চাহিদা পূরণে সরকার বিদ্যুতের জ্বালানির যোগান কতটুকু দিতে পারেন, তার ওপর লোডশেডিং নির্ভর করবে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, এবছরেও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। তাই সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ড. এম শামসুল আলম বলেন, উৎপাদনের ক্যাপাসিটি আমাদের রয়েছে। এখন জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কোনো সমস্যা থাকবে না। ফলে সরকারকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    সরকারও বলছে যে, তারা ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। এছাড়া কয়লার সরবরাহও যেন ঠিক থাকে, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টো।

    বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলছেন, চাহিদার তুলনায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন যেমন ঠিক আছে, সেটাই আমরা ধরে রাখতে চাই।

    সরকার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, ওমানসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে গ্যাস আমদানি করছে।

    ফাওজুল কবির খান বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা। ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩৫টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সরকারের এই উপদেষ্টা।

    ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যেন অসুবিধা না হয়, সেজন্য গরমকালে স্যুট-কোট পরিধান করে অফিসে না আসার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো ঠিকমত মানা হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় শিগগিরই নজরদারি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অফিস কিংবা বাড়িঘরে কেউ যদি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এসি চালান, তাহলে সরকার নজরদারি করে সেটা চিহ্নিত করবে কীভাবে?

    তবে ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘এটা করা কঠিন কিছু হবে না, খুব সহজ।’

    এদিকে, গ্রাহক যেখানে টাকা দিয়ে কিনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, সেখানে সরকার এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে কী-না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

    ঢাকার বেসরকারি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার খন্দকার জাহিদুল ইসলাম বলছেন, সরকার পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না, সেটা তাদের ব্যর্থতা। আমাকে কেন সেটার খেসারৎ দিতে হবে? আমি তো বিল পরিশোধ করেই প্রতিমাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শীতকালের তুলনায় গরমকালে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। এ বছর গ্রীষ্মে গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করছে সরকার। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাও দেশটির রয়েছে। কিন্তু চলমান আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাহিদার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন, ‘এক্ষেত্রে সবাই সহযোগিতা করলে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এতে রোজা ও গরমের সময় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

    নজরদারি হবে কীভাবে?

    সরকারের পক্ষ থেকে এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে কীভাবে নজরদারি করা হবে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কাজে আদৌ নজরদারি করা সম্ভব কী-না, সেই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।

    তবে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলছেন যে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার এবং মোটেও কঠিন কিছু হবে না।

    বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফাওজুল কবির খান বলেন, বিদ্যুৎ যেহেতু একটা ফিডারের মাধ্যমে যায়, কাজেই সেই ফিডার পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে যে, কোথায় স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি সনাক্ত করা হবে কীভাবে?

    ফাওজুল কবির খানের ভাষ্য, আমাদের কাছে তো আগের সব তথ্য রয়েছে। আমরা তো জানি যে, ফিডারে গতকাল কত ছিল, আজকে কত হলো। শীতকালে কত ছিল এবং গরমকালে এসে কত বাড়লো, সেই তথ্য দেখলে বিষয়টা বোঝা যাবে।

    বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেলে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলে জানাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

    বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বলছেন, যদি দেখা যায় যে, জেনুইন বা যৌক্তিক কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে, তাহলে সমস্যা নাই। কিন্তু অকারণে অপচয় করা হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেখানে সরকারি কার্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতেও সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ফাওজুল কবির খান বলছেন, সরকারি অফিসগুলোতে প্রতিদিন মনিটরিং করা হবে। যদি কোনো অফিসে বিদ্যুৎ অপচয় করা হয়, তাহলে সেই অফিসের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।

    যদিও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সেটা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালির ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে, সে বিষয়ে অবশ্য পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন উপদেষ্টা।

    এভাবে সংকট কমবে?

    ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এসি না চালানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আসন্ন সংকট মোকাবিলায় সেটি কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে হঠাৎ এ ধরনের আবেদন করে সফল হওয়ার নজির বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায়নি।

    তবে সরকারি অফিস ও বাণিজ্যিক মলগুলোকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা গেলে সংকট কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। এসব জায়গাগুলোতে যদি ঠিকমত মনিটর করা হয়, তাহলে হয়তো কিছুটা ডিমান্ড কমানো সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য যে, ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক মলগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাপক আলোকসজ্জা দেখা যায়।

    এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ বড় বড় সরকারি গুলোতে প্রায় প্রতিটি কক্ষেই আলাদা এসি রয়েছে, যার কারণে প্রতিবছর গরমের সময় সরকারকেই মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎবিল গুনতে হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের ২০২১ সালের খবরে বলা হয়েছে যে, সেবছর গ্রীষ্মকালে কেবলমাত্র ঢাকার পানি ভবনেই প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল গুনতে হয়েছিল ২৫ থেকে ২৭ লাখ টাকা।

    বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের অপচয় রোধে সরকারের স্থায়ী নীতি গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

    ড. ম. তামিম বলেন, ডিমান্ট সাইড ম্যানেজমেন্টের জন্য আসলে একটা পার্মানেন্ট পলিসি গ্রহণ করা দরকার। যেমন: পুরনো প্রযুক্তির এসি বা ফ্যান যেগুলো চালাতে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেগুলো বাদ দিয়ে আধুনিক ও এনার্জি সেভিং এসি-ফ্যান ব্যবহার প্রোমোট করা যেতে পারে। অগ্রাধিকারভিত্তিতেই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা তাগিদ দিচ্ছেন কেউ কেউ।

    আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, কেবল অনুরোধ করে তো কাজ হবে না, সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে। সেজন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

  • সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩৯ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩৯ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩৯ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব অ্যাকাউন্টে ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫ টাকা রয়েছে।

    বুধবার (৫ মার্চ) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

    দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। আজকে দুদক থেকে ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদনে করে। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

    দুদক বলছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে তিনি এসব অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর করতে পারে বলে জানা যায়।

    এর আগে গত ১৭ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা দেশ-বিদেশের ৫৮০ বাড়ি/এপার্টমেন্ট/জমিসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৯টি। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ব্যাংকের হিসাব ও বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৭ অক্টোবর সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

    এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের নামে থাকা সব ধরনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পরে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩ (১) (গ) ধারা অনুযায়ী সাইফুজ্জামানের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আনিসুজ্জামান স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরী ও মেয়ে আনিছা জামানের ব্যক্তিগত হিসাব ও তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত হিসাবের লেনদেন প্রথম দফায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    ২০১৩ উপ-নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে আবার নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরে তিনি ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে আবার নির্বাচিত হন।

  • অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমান ও মামুনের আপিলের রায় ৬ মার্চ

    অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমান ও মামুনের আপিলের রায় ৬ মার্চ

    সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সাজার বিরুদ্ধে আপিলের রায়ের জন্য আগামী ৬ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

    মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।

    গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। মামলায় তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের সাজাও স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জরিমানাও স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।

    সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর একটি মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। ওই মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারেক রহমানকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাইকোর্টে আপিল করেন। ওই আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন।