Blog

  • ১২৫ কুমিরকে বিদ্যুতায়িত করে হত্যা

    ১২৫ কুমিরকে বিদ্যুতায়িত করে হত্যা

    থাইল্যান্ডের একটি খামারে বিদ্যুতায়িত করে ১২৫টি কুমির হত্যা করা হয়েছে। কুমিরগুলো চলমান বন্যার মধ্যে পালিয়ে গিয়ে মানুষের জীবনের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে- এমন আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন খামার মালিক।

    বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

    এ মাসে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলজুড়ে ভারি মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এসব দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২০ জন মারা গেছেন।

    বেশ কয়েক দিন ধরে উত্তরের লামফুন প্রদেশে ভারি বৃষ্টির কারণে নাত্থাপাক খুমকাদের খামারের নিরাপত্তা বেষ্টনীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তিন মিটার (১০ ফুট) দীর্ঘ সিয়ামিজ জাতের কুমিরগুলো পালিয়ে গিয়ে গ্রামবাসী ও গবাদিপশুর ওপর হামলা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    খামারের মালিক নাত্থাপাক বলেন, খামারের প্রাচীরগুলো বন্যার কারণে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ১২৫টি কুমিরকে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়েছি। তিনি ও তার কর্মীরা প্রাণিগুলোকে বিদ্যুতায়িত করে হত্যা করেছেন বলে জানান নাত্থাপাক।

    তিনি বলেন, ওরা আমাদের সঙ্গে ১৭ বছর ছিল।

    তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, একটি ডিগার ব্যবহার করে তিনটি বড় কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    মুক্ত চারণভূমিতে সিয়ামিজ কুমির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। তবে থাইল্যান্ডের অসংখ্য খামারে এ ধরনের কুমিরের চাষ বেশ জনপ্রিয়। মূলত চামড়ার জন্য এই কুমিরগুলোকে লালন-পালন করা হয়।

    থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক, ওয়াইল্ডলাইফ ও প্ল্যান্ট কনজারভেসশন বিভাগের পশু চিকিৎসক পাতারাপোল মানিওর্ন বলেন, তিনি মালিকের সিদ্ধান্তের পেছনের চিন্তা ধরতে পেরেছেন। তবে তার মতে, কুমিরগুলোকে বন্যাকবলিত নয় এমন কোনো জায়গায় স্থানান্তর করা যেত।

    তবে নাত্থাপাক বলেন, তিনি কুমিরগুলোর জন্য সাময়িক আশ্রয় পেতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন; কিন্তু এদের বড় আকৃতির জন্য তার এই অনুরোধ মানতে অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

    পাতারাপোল এএফপিকে বলেন, দুর্যোগের সময় বিপজ্জনক প্রাণীদের বিষয়টি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বোঝাতে এ ধরনের একটি শিক্ষার প্রয়োজন ছিল।

  • ‘পুরো সিস্টেম’ ধ্বংসের পথে, কেন বললেন ইমরান খান?

    ‘পুরো সিস্টেম’ ধ্বংসের পথে, কেন বললেন ইমরান খান?

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান দেশটির বিচারব্যবস্থা ও সামগ্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    বুধবার আদিয়ালা কারাগারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ইমরান দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট ও অর্থনীতিসহ পাকিস্তানের পুরো সিস্টেম ধ্বংসের পথে রয়েছে। সেই সঙ্গে বর্তমান শাহবাজ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তার দেশের বিচার বিভাগকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা এ সময় সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সবাই জানে সুপ্রিম কোর্টে গতকাল থেকে কী চলছে’।

    তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং বিচারকরা যেন সরকারের অধীনে কাজ করে, তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

    ইমরান খান বলেন, ‘তারা দেশকে ধ্বংস করেছে এবং এখন সুপ্রিম কোর্টকে ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে’।

    সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার সমালোচনা করে বলেন, তারা একে অপরের মতো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ৬নং ধারা অনুযায়ী অভিযোগের মুখোমুখি হতে পারেন বলে তিনি ভীত। তাই তিনি নির্বাচনী জালিয়াতির বিষয়টি আড়ালে রাখছেন।

    ইমরান খানের দাবি, ‘তাদের লক্ষ্য হলো যাতে তাদের জালিয়াতি ফাঁস না হয় এবং পিটিআই-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি না পায়- সেজন্য সবকিছু করা’। তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জালিয়াতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে’।

    এছাড়াও গত ৯ মে-র ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, যখন তার গ্রেফতারের পর সহিংসতা দেখা দেয় এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তখন তিনি সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ কোথায়, তা জানতে চান।

    ইমরান খান অভিযোগ করে বলেন, ‘আসলে ৯ মে-র ঘটনাগুলোর সময় তারা নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে’।

    পিটিআই নেতার অভিযোগ, সরকার তার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে এবং তাদের জনসভা ও র‌্যালি আয়োজন করতে বাধা দিচ্ছে। তিনি এ সময় প্রশ্ন তোলেন, ‘গ্রীষ্মকালে কোনো রাজনৈতিক র‌্যালি কী সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়?’

    ইমরান খান এ সময় তার দেশের প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে যা ঘটছে তা স্পষ্ট— প্রধান বিচারপতি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার একই ভূমিকায়’।

    ইমরান খান দেশের অর্থনীতির অব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এবং বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বলেন, জাতি বিচার ব্যবস্থার চলমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। সূত্র: সামা নিউজ

  • মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন গয়েশ্বর, রিজভীসহ ১০২ জন

    মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন গয়েশ্বর, রিজভীসহ ১০২ জন

    রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের পুরোনো এক মামলা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ১০২ জন অব্যাহতি পেয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া এই আদেশ দেন।

    মামলা থেকে আরও অব্যাহতি পেয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট মাজারের সামনে পুলিশের কাজে বাধা ও যান চলাচল বন্ধের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

  • চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে পরিবহণ সেক্টর বাঁচাতে হবে: জিএম কাদের

    চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে পরিবহণ সেক্টর বাঁচাতে হবে: জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে পরিবহণ সেক্টর বাঁচাতে হবে। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের বাঁচাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবহণ মালিকদের দাবি, সড়কের চাঁদার জন্য গণপরিবহণের ভাড়া বেড়ে যায়। গণপরিবহণের ড্রাইভার ও হেলপার নিয়োগ দেয় শ্রমিক ইউনিয়ন, মালিকদের কর্তত্ব থাকে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে মুক্তি দিতে হবে। পরিবহণ সেক্টরের সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জিএম কাদের বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছে, এটা আল্লাহর রহমত। এদেশের ছাত্র-জনতা গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচার হাসিনার পতন নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় আন্দোলনের নজির নেই। আন্দোলনে এত নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের ইতিহাসও নেই আমাদের দেশে। আমাদের বীর সন্তানরা জীবন দিয়ে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছে, যা আমরা পারিনি। শেখ হাসিনার পতন না হলে একদলীয় সরকারব্যবস্থা কায়েম হতো। দেশে মাত্র একটি দলই থাকত।

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমরা যেতে চাইনি। আমাদের নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আমাদের দলের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি কারেছিল আওয়ামী লীগ। একটি গোষ্ঠীকে আমাদের দল ও প্রতীকের নামে কাউন্সিল করতে অন্যায়ভাবে অনুমতি দিয়েছিল তারা। হাস্যকর একটি মামলায় আমাকে রাজনীতি থেকে চার মাসের বেশি সময় দূরে রাখা হয়েছিল। আমরা নির্বাচন বর্জন করতে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলোম, সবকিছুই রেডি ছিল। কিন্তু বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা আমাদের অফিস কর্ডন করে রাখে। আমাদের নির্বাচন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে দেয়নি, এটা সবাই জানে।

    জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আতিকুর রহমান আতিক, মনিরুল ইসলাম মিলন, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মনির আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুম্মন, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ সেলিম, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, যুগ্ম মহাসচিব মো. সামছুল হক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এমএ রাজ্জাক খান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শিপন।

  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো

    বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, নির্বাচনি রোডম্যাপ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, পাহাড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ছাত্র রাজনীতি ও সাংগঠনিক নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্র রাজনীতি বন্ধের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটির বিপক্ষে অবস্থান নেবে বিএনপি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বরং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক রাজনীতির ধারা চালু করতে চায় দলটি। কারণ হিসাবে দলটি বলছে, দেশ গঠনে ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬২ সালের পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা, ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির বড় ভূমিকা রয়েছে।

    নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়ালি), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ভার্চুয়ালি), সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (ভার্চুয়ালি), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

    সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের বিষয়টি আলোচনায় আনেন। তারা বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু গত ১৫ বছরের গুম, খুন, অন্যায়-নির্যাতনের দায়ে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। ডাক্তার, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনার কথা, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেই। দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় হলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা বলেন, দেশ চালায় মূলত রাজনীতিবিদরা। এই সরকারকে বুঝতে হবে আওয়ামী লীগ শেষ হয়েছে শুধু ভারতের সহযোগিতায় দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে। ফলে বর্তমান সরকার নির্বাচন দিতে দেরি করলে দেশ আবারও শেষ হয়ে যাবে। জনগণের চাহিদার গুরুত্বকে তাদের উপলব্ধি করতে হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে কোনো কোনো নেতা বলেন, স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ক্ষেত্রে ভিন্ননীতি বর্তমান সরকারের। দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই পালিয়ে বা আত্মগোপনে রয়েছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা পেতে জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ব্যাপারে অন্তর্র্বর্তী সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়তে পারে।

    এই বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি অঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। বৈঠকে কেউ কেউ মত দেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ইন্ধনে তার দোসররা দেশে অস্থিরতা করার চেষ্টা করছে। পাহাড়ে হঠাৎ অস্থিরতা কেন হচ্ছে তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এর পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর হাতে সন্ত্রাসীদের দমন করার পরামর্শ দেন কেউ কেউ।

  • ভারতে ইলিশ রপ্তানি বাতিলে হাইকোর্টে রিট

    ভারতে ইলিশ রপ্তানি বাতিলে হাইকোর্টে রিট

    ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি বাতিলসহ পদ্মা, মেঘনার ইলিশ রপ্তানিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান হাইকোর্টে রিটটি করেছেন।

    ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির প্রতিবাদে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পর রিটটি করলেন এই আইনজীবী। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আমদানি-রপ্তানির কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রককে বিবাদী করা হয়েছে।

    এই রিটের আগে দেওয়া লিগ্যাল নোটিশে বলা হয় যে, ইলিশ মাছ বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিশাল ও বিস্তৃত সমুদ্র সীমা রয়েছে। ভারতের জলসীমায় ব্যাপকভাবে ইলিশ উৎপাদন হয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ভারতের ইলিশ মাছ আমদানির কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভারত মূলত বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ আমদানি করে থাকে।

    বাংলাদেশে ভারতীয় এজেন্টরা ও মাছ রপ্তানিকারকরা সারা বছর ধরে পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ মজুদ করে রাখে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচার করে। বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি ও পাচার হ‌ওয়ার কারণে বাংলাদেশের জনগণ বাজারে গিয়ে পদ্মার নদীর ইলিশ পায়না। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জনগণকে সামুদ্রিক ইলিশ খেতে হয়, যা পদ্মার ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়।

    ওই নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র ভারত থেকে আমদানি করে থাকে কিন্তু ভারত সরকার কখনোই তার নিজের দেশের জনগনের চাহিদা না মিটিয়ে বাংলাদেশে কোন পণ্য রপ্তানি করে না। আর বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মাছ মুক্তভাবে রপ্তানি যোগ্য কোন মাছ নয়। এমতাবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছেন। তাই এই নোটিশে পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।

  • দাবদাহের মধ্যে স্বস্তির বৃষ্টি

    দাবদাহের মধ্যে স্বস্তির বৃষ্টি

    রাজধানীতে কয়েক দিনের দাবদাহের মধ্যে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। সকাল থেকে কখনো জোরালো বৃষ্টি আবার কখনো থেমে থেমে চলা বৃষ্টিতে বহু মানুষকে দেখা গেছে ছাতা মাথায়। বৃষ্টি হতে পারে সেটি আঁচ করতে পারেননি অনেকেই। তারা সকালে ছাতা ছাড়াই কাজে বেরিয়ে পড়েছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে পথে বের হওয়া ব্যস্ত নগরের মানুষ।

    বুধবার সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। তবে বৃষ্টি মূলত শুরু হয়েছে ৯টার পর, সারাদিনই এমন বৃষ্টি থাকবে।

    এমন বৃষ্টি বৃহস্পতিবারও দিনভর ঝরবে বলে জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান।

    বুধবার দেখা গেছে, কেউ কেউ মেট্রো থেকে নেমে রিকশায় উঠতে গিয়েই অনেকটা ভিজে গেছেন। আবার বৃষ্টির আগেই বাসা থেকে বের হয়েছেন। বৃষ্টি হতে পারে তখন সেটি ভাবেননি। সঙ্গে ছাতাও নেননি। বৃষ্টি শুরু হয়েছে, ভিজে ভিজে ফিরতে হচ্ছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। অবশ্য কাউকে কাউকে ছাতা নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

    এদিকে দিনভর বৃষ্টিতে জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় পানি জমতে দেখা গেছে। ঢাকার শাহবাগ, ফার্মগেট, বাংলামোটর, মিরপুর-১০ নম্বর এসব এলাকার কোথাও পানি জমতে দেখা যায়নি।

    বৃষ্টির কারণে রাস্তায় হঠাৎ করে মানুষজন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার ফুটপাতের চা বিক্রেতারা। যেখানে লোকজনের ভিড় থাকত; কিন্তু বৃষ্টির কারণে লোক নেই।

    আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

    সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা গেছে।

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারে সমর্থন হোয়াইট হাউসের

    বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারে সমর্থন হোয়াইট হাউসের

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠক নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    এতে বলা হয়, বৈঠকে বাইডেন বলেছেন- বাংলাদেশের নতুন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বৈঠকের বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি (রিড আউট) প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস।

    বিবৃতিতে বলা হয়, মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাতে গতকাল মঙ্গলবার তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন। আর এ সম্পর্কের মূলে রয়েছে পারস্পরিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের মধ্যকার শক্তিশালী বন্ধন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই সরকারের মধ্যে আরও সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

    এছাড়া বৈঠকের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এবং ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সহযোগিতার’ আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

  • সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যায় জড়িত ৬ জন আটক

    সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যায় জড়িত ৬ জন আটক

    লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ৬ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

    বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    অভিযুক্তরা হলেন, মো.বাবুল প্রকাশ (৪৪), মো.হেলাল উদ্দিন (৩৪), মো.আনোয়ার হাকিম (২৮), মো. আরিফ উল্লাহ (২৫), মো.জিয়াবুল করিম (৪৫) ও মো. হোসেন (৩৯)।

    আইএসপিআর জানায়, কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনার সময় মঙ্গলবার রাত ৩টায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) শহিদ হন। ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে আটক করে। আটক সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের ১১ রাউন্ড গুলি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, একটি পিকআপ এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

    জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটকদের মধ্যে ৪ জন প্রত্যক্ষভাবে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাকি ২ জন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। আটকদের মধ্যে মো. বাবুল প্রকাশ এই ঘটনার মূল অর্থ যোগান দাতা। এছাড়াও সে লেফটেন্যান্ট তানজিমকে প্রাণঘাতি ছুরিকাঘাত করে বলে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি প্রদান করে। অন্যান্যদের মধ্যে ডাকাত দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. হেলাল উদ্দিন, গাড়ি চালক মো.আনোয়ার হাকিম, সশস্ত্র সদস্য মো.আরিফ উল্লাহ এবং তথ্য দাতা মো. জিয়াবুল করিম ও মো. হোসেন ওই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

    ডাকাত দলের অন্যান্য জড়িত সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, আটক ৬ জনকে চকরিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেনাসদস্য বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিন প্রস্তাব ড. ইউনূসের

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিন প্রস্তাব ড. ইউনূসের

    মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবগুলো হলো-

    ১. জাতিসংঘের মহাসচিব যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে একটি সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহবান করতে পারেন। সম্মেলনের সংকটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা উচিত এবং উদ্ভাবনী ও অগ্রসর উপায়ে পরামর্শ দেওয়া উচিত।

    ২. ইউএন সিস্টেম ও বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিচালিত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান, শক্তিশালী করা দরকার। স্লাইডিং ফান্ডিং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রিসোর্স বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে আরও রাজনৈতিক চাপ দিতে হবে।

    ৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যামূলক অপরাধ মোকাবিলায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির ব্যবস্থাকে গুরুত্বসহকারে সমর্থন করা। আমি আইসিসিতে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রসিকিউটর করিম খানের কাছ থেকে শুনানির অপেক্ষায় আছি। সামরিক জান্তা দ্বারা সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিকার মিয়ানমার দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার চাবিকাঠি।

    বৈঠকে মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগণের মর্যাদা ও নিরাপত্তা এবং অধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি আমার সরকারের পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা এ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের অপেক্ষায় আছি।

    সভায় ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে ১ দশমিক ২ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। বিশ্ব এই বিষয়ে কম সচেতন যে, বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক শিশু এই জনসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়। গত দুই মাসে আরও ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আতিথেয়তা সত্ত্বেও একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সামাজিক-অর্থনৈতিক-পরিবেশগত ব্যয়ের ক্ষেত্রে এত বেশি খরচ হয়ে চলেছে। এগুলো আমাদের জন্য প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি। আমাদের নিজস্ব উন্নয়ন অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্পষ্টতই বাংলাদেশ তার ধৈর্যসীমায় পৌঁছেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতই মানবিক দিক বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিয়োজিত থাকুক, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।