Blog

  • হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ২৮ অভিযোগ

    হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ২৮ অভিযোগ

    পদত্যাগের পর দেশত্যাগ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে এ পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তার দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগে রয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, পুলিশের তৎকালীন আইজিসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কয়েকজন ওসি, পরিদর্শক, এসআই, এএসএসআই, কনস্টেবল, র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতার নাম। এমনকি কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এর মধ্যে বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ ১০ জনকে নতুন করে তদন্ত সংস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো বিচারিক প্যানেল না থাকায় এসব অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া তথা আসামি গ্রেপ্তারের কোনো আদেশ নিতে পারছে না প্রসিকিউশন।

    বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, আজকের তিনটিসহ ট্রাইব্যুনালে (প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায়) এ পর্যন্ত ২৮টি অভিযোগ এসেছে। সবগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম রয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশন পর্যালোচনা করে যাদের মূল আসামি মনে হবে, তাদের নাম ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হবে। বাদী পক্ষ যেটা নিয়ে এসেছেন পর্যালোচনা করে তার সাথে সংযোজন বিয়োজন হতেই পারে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর যেটা দাখিল করব, সেটাই হবে প্রোপার মামলা। কোর্ট বসামাত্র আমরা এ বিষয়ে যথাযথ আবেদন করব।

    প্রথম অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল ১৪ আগস্টে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শহীদ আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবির এ অভিযোগ তদন্ত সংস্থায় দায়ের করেন। আবেদনে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ সময়ে আহত হয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে নিহতরা এর আওতায় থাকবেন। ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমগ্র বাংলাদেশকে।

    অপরাধের ধরনে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অপরাধ।

    অভিযোগে ব্যক্তি ছাড়াও সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    সবশেষ বৃহস্পতিবার অভিযোগটি প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে ৩ আগস্ট উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনের পরিবার।

  • কম বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইনস্টাগ্রাম

    কম বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইনস্টাগ্রাম

    সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা ও তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার নিশ্চিত করার জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। প্ল্যাটফর্মটিতে ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টগুলোকে ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ সেটিংস যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লাখ লাখ কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাইভেট করা হবে এবং অ্যাপটিতে তারা কোন ধরনের কনটেন্ট দেখতে পারবে তা সীমিত করা হবে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    কিশোর–কিশোরীদের অ্যাপের মাধ্যমে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে আসতে উৎসাহিত করার জন্যও নতুন বিধিনিষেধগুলো তৈরি করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ বছরের নিচের সব ব্যবহারকারীর জন্য নতুন ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ সেটিংস প্রয়োগ করবে ইনস্টাগ্রাম। নতুন আপডেটের পরে ১৬–১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীরা অ্যাপটিতে সেটিংস নিজেদের পছন্দমতো সাজাতে পারবে। কিন্তু ১৩–১৫ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক হবে।

    গত কয়েক বছরে চালু করা ৩০টির বেশি স্বাস্থ্য বিষয়ক ও ‘প্যারেন্টাল ওভারসাইট’ টুলসের ওপর ভিত্তি করে নতুন ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ সেটিংস তৈরি করেছে মেটা। এর আগের আপডেটগুলোর পরেও কোম্পানিটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ তারা নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিভাবকদের এবং কিছু ক্ষেত্রে কিশোর–কিশোরীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্যারেন্টাল সুপারভিশন টুলগুলো কিশোর–কিশোরীদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এর মাধ্যমে তারা অ্যাপে রয়েছে তা অভিভাবকদের জানানো হয়।

    গত নভেম্বরে সিনেট সাবকমিটির শুনানিতে আর্টুরো বেজার নামের নতুন এক ফেসবুক কর্মী মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় কিশোরদের সুরক্ষায় কোম্পানিটির আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ আবারও বেড়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, সিইও মার্ক জাকারবার্গসহ মেটার উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহীরা বছরের পর বছর ধরে কিশোর–কিশোরীদের প্ল্যাটফর্মগুলোর কীভাবে ক্ষতি করছে সে বিষয়ে সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন।

    ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ আপডেটের ফলে ১৮ বছরের নিচে নতুন এবং বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাইভেট করা হবে এবং সবচেয়ে কঠোর ম্যাসেজিং সেটিংসে রাখা হবে। এই সংশোধনের মাধ্যমে কিশোর–কিশোরীরা কেবল ফলো করা অ্যাকাউন্টের কাছ থেকে মেসেজ পাবেন। আরা কেবল সেই সব ব্যক্তিরা কিশোর–কিশোরীদের ছবিতে বা মন্তব্যে ট্যাগ করতে পারবে যাদের কিশোর–কিশোরীরা ফলো করে।

    এসব পরিবর্তন আগামী সপ্তাহ থেকে কিশোর–কিশোরীদের জানাতে শুরু করবে ইনস্টাগ্রাম। এছাড়া কিশোর–কিশোরীদের ইনস্টাগ্রাম সবচেয়ে কঠোর কনটেন্ট কন্ট্রোল সেটিংসে রাখা হবে। এই পরিবর্তনের ফলে তাদের এক্সপ্লোর পেজ ও রিলসে ‘সংবেদনশীল’ কনটেন্ট কম দেখাবে। যেমন–প্লাস্টিক সার্জারির প্রচারমূলক পোস্ট।

    এই ধরনের কৌশল সীমিত আকারে বছর শুরুর দিকে বাস্তবায়ন শুরু করেছিল ইনস্টাগ্রাম। কিশোর–কিশোরীরা প্রতিদিন অ্যাপে ১ ঘণ্টা কাটানোর পর বের হওয়ার জন্য একটি নোটিফিকেশন পাবে। এছাড়া অ্যাপটি রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ‘স্লিপ মোড’ থাকবে। মোডটি যা নোটিফিকেশন বন্ধ করে এবং ডাইরেক্ট মেসেজে স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠাবে। অর্থাৎ এই সময়ে অন্য কারও মেসেজ অ্যাপে আসবে না। মেসেজগুলো এই সময়সীমার পরে দেখাবে।

    আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ নির্বাচিত দেশগুলোতে সব কিশোর অ্যাকাউন্টের জন্য পরিবর্তনগুলো প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করছে ইনস্টাগ্রাম।

    অ্যাপটিতে নতুন প্যারেন্টাল সুপারভিশন টুল ফিচারও যোগ করা হবে। এর মাধ্যমে সন্তানেরা সম্প্রতি কী কী অ্যাকাউন্টে মেসেজ পাঠিয়েছে তা অভিভাবকেরা দেখতে পারবেন। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের জন্য মোট দৈনিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন, রাতে বা নির্দিষ্ট সময়ে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার থেকে সন্তানদের ব্লক করতে পারবেন এবং কিশোর–কিশোরী যেসব ধরনের কনটেন্ট দেখতে চায় সেগুলো সম্পর্কে তথ্য পাবেন অভিভাবকেরা।

    আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার সব কিশোর–কিশোরীদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য দেশেও তা কার্যকর করা হবে।

    মেটা দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। সমালোচকেরা দাবি করেন, নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা এড়ানোর জন্য কিশোর–কিশোরীরা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় বয়স সম্পর্কে মিথ্যা বলার বিরুদ্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

    কোম্পানিটি বলেছে, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে যা ভুল জন্মতারিখ উল্লেখ করা কিশোর–কিশোরীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্তে সাহায্য করবে।

    নতুন ফিচারগুলো তাদের সেফটি অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করে তৈরি করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে স্বাধীন অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠন, যুব পরামর্শদাতা গোষ্ঠী, এবং অন্যান্য কিশোর, অভিভাবক ও সরকারি কর্মকর্তা রয়েছে।

  • সকালে যে তিন খাবার খেয়ে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক রাখবেন

    সকালে যে তিন খাবার খেয়ে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক রাখবেন

    সকালে অফিস যাওয়ার তাড়া। তাড়াহুড়া করে কিছু মুখে না দিয়েই বেরিয়ে পড়েন? অফিসে কাজে বসতে না বসতেই খিদে পেয়ে যায়। তখন হাবিজাবি যা পাওয়া যায়, তাই দিয়ে পেট ভরাতে হয়। কিন্তু এভাবে দিনের পর দিন চললে শরীর ভালো থাকবে কি? এভাবে দিন দিন আপনার শরীরে ভিন্ন রোগবালাই বাসা বাঁধে। এ অবস্থায় আপনার শরীর ঠিক ভালো যায় না। নিজেকে ঠিক রাখতে অফিস বেরোনোর আগে খাদ্যতালিকায় ভরসা রাখতে পারেন এমন কিছু খাবার, যা আপনার শরীর সুস্থ রাখবে।

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, সকালের খাবারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার পাতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিনের সঠিক পরিমাপ থাকা দরকার। তবে অফিস যাওয়ার সময় গুছিয়ে বসে খাওয়ার সময় না থাকলে বরং চুমুক দিতে পারেন স্বাস্থ্যকর শরবৎ ও শেকে। এতে পেটও খালি থাকবে না, আবার ২ মিনিটে খেয়ে বেরিয়ে পড়তে পারবেন। পাশাপাশি শরীরে কিছুটা জলও যাবে।

    কলা

    কলায় রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন সি ও প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। বাদামের মাখনে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। ছাতুর মধ্যে সহজপাচ্য ফাইবার থাকায় হজম সংক্রান্ত সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কলা, দুধ ও বাদামের মাখন একসঙ্গে মিক্সারে দিয়ে শেক বানিয়ে নেওয়া যায় ২ মিনিটে। আর তা খাওয়াও যায় ২ মিনিটেই।

    ছাতু

    ছাতুতে থাকে প্রোটিন। এতে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিলে ভিটামিন সি যুক্ত হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হাড় মজবুত করে তুলতেও ছাতুর শরবত অত্যন্ত কার্যকরী। ছাতু এমনিতে ওজন কমানোর পক্ষে সহায়ক। ছাতুতে ফাইবার থাকায় হজম সংক্রান্ত সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অফিসে যাওয়ার আগে এক গ্লাস ছাতু-লেবুর শরবত খেয়ে নিলে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন পাবে শরীর। ছাতু পানি দিয়ে গুলে তাতে সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। এর সঙ্গে একটু পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দিলেও স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিগুণ বাড়বে। যদি ওজন ঝরাতে চান, তা হলে চিনি বাদ দিতে পারেন। সেই সংক্রান্ত সমস্যা না থাকলে সামান্য গুড় যোগ করে নিতে পারেন।

    প্রোটিন শেক

    স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর। এতে থাকে নানা রকম খনিজও। ফল, প্রোটিন গুঁড়ো ও দুধ দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন প্রোটিন শেক। অফিসে যাওয়ার আগে প্রোটিন শেক খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ সবই যাবে। এতে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। ফলে কয়েক ঘণ্টা কিছু না খেলেও চলবে।

  • ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম

    অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলমকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. শাহিনুর ইসলামের সইসহ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৩-এর ১১১ ধারা অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শামসুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • কিভাবে দোয়া করলে কবুল হবে?

    কিভাবে দোয়া করলে কবুল হবে?

    দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। অসম্ভবকে সম্ভব করার মাধ্যম। মহান রবের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের সেতুবন্ধন।

    মানবজীবনে দোয়ার গুরুত্ব অনেক। তাই দোয়া না করলে বা উদাসিন থাকলে আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন। এক হাদীসে নবীজি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করে না আল্লাহ তার ওপর রাগ হন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭৩)।

    দোয়া কবুল হওয়ার বেশকিছু শর্ত রয়েছে

    যেমন: ১. আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে না ডাকা

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাসকে (রা.) উদ্দেশ্য করে বলেন: যখন প্রার্থনা করবে তখন শুধু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে এবং যখন সাহায্য চাইবে তখন শুধু আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাইবে। (সুনানে তিরমিযি (২৫১৬), আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন)

    এটাই হচ্ছে আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ ‘আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহ্‌রই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না। (সূরা জিন, আয়াত: ১৮)

    দোয়ার শর্তগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ শর্ত পূরণ না হলে কোনো দোয়া কবুল হবে না, কোন আমল গৃহীত হবে না। অনেক মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মৃতব্যক্তিদেরকে মাধ্যম বানিয়ে তাদেরকে ডাকে। তাদের ধারণা যেহেতু তারা পাপী ও গুনাহগার, আল্লাহর কাছে তাদের কোন মর্যাদা নেই; তাই এসব নেককার লোকেরা তাদেরকে আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিল করিয়ে দিবে এবং তাদের মাঝে ও আল্লাহ্‌র মাঝে মধ্যস্থতা করবে।

    এ বিশ্বাসের কারণে তারা এসব বুজুর্গদের মধ্যস্থতা ধরে এবং আল্লাহ্‌র পরিবর্তে এ মৃতব্যক্তিদেরকে ডাকে। অথচ আল্লাহ্‌ বলেছেন: আর আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন আপনি বলে দিন) নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী। দোয়াকারী যখন আমাকে ডাকে তখন আমি ডাকে সাড়া দিই। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

    ২. শরিয়ত অনুমোদিত কোন একটি মাধ্যম দিয়ে আল্লাহতায়ালার কাছে ওসিলা দেওয়া

    ৩. দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করা। তাড়াহুড়া করা দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে বড় বাধা।

    হাদিসে এসেছে, তোমাদের কারো দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাড়াহুড়া করে বলে যে: ‘আমি দোয়া করেছি; কিন্তু, আমার দোয়া কবুল হয়নি। (সহিহ বুখারী (৬৩৪০) ও সহিহ মুসলিম (২৭৩৫)

    সহিহ মুসলিমে (২৭৩৬) আরও এসেছে- বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে। বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাড়াহুড়া বলতে কী বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: বলে যে, আমি দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি; কিন্তু আমার দোয়া কবুল হতে দেখিনি। তখন সে ব্যক্তি উদ্যম হারিয়ে ফেলে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়।

    ৪. দোয়ার মধ্যে পাপের কিছু না থাকা। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া না হওয়া; যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসে এসেছে- বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে।

    ৫. আল্লাহ্‌র প্রতি ভালো ধারণা নিয়ে দোয়া করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন। (সহিহ বুখারী (৭৪০৫) ও সহিহ মুসলিম (৪৬৭৫)

    আবু হুরায়রার (রা.) হাদিসে এসেছে, তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস (একীন) নিয়ে আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া কর। (সুনানে তিরমিযি, আলাবানী সহিহুল জামে গ্রন্থে (২৪৫) হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন)

    তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র প্রতি ভাল ধারণা পোষণ করে আল্লাহ্‌ তার উপর প্রভুত কল্যাণ ঢেলে দেন, তাকে উত্তম অনুগ্রহে ভূষিত করেন, উত্তম অনুকম্পা ও দান তার উপর ছড়িয়ে দেন।

    ৬. দোয়াতে মনোযোগ থাকা। দোয়াকালে দোয়াকারীর মনোযোগ থাকবে এবং যার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে তার মহত্ত্ব ও বড়ত্ব অন্তরে জাগ্রত রাখবে।

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহ্‌ কোন উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না। (সুনানে তিরমিযি (৩৪৭৯), সহিহুল জামে (২৪৫) গ্রন্থে শাইখ আলবানী হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন)

    ৭. খাদ্য পবিত্র (হালাল) হওয়া। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, আল্লাহ্‌ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। (সূরা মায়েদা, আয়াত: ২৭)

    এ কারণে যে ব্যক্তির পানাহার ও পরিধেয় হারাম সে ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়াকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদূরপরাহত বিবেচনা করেছেন।

    হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘ সফর করেছেন, মাথার চুল উস্কুখুস্ক হয়ে আছে; তিনি আসমানের দিকে হাত তুলে বলেন: ইয়া রব্ব, ইয়া রব্ব! কিন্তু, তার খাবার-খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় হারাম, সে হারাম খেয়ে পরিপুষ্ট হয়েছে তাহলে এমন ব্যক্তির দোয়া কিভাবে কবুল হবে? সহিহ মুসলিম, (১০১৫)

    ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) বলেন, হারাম ভক্ষণ করা দোয়ার শক্তিকে নষ্ট করে দেয় ও দুর্বল করে দেয়।

    ৮. দোয়ার ক্ষেত্রে কোন সীমালঙ্ঘন না করা। কেননা আল্লাহতায়ালা দোয়ার মধ্যে সীমালঙ্ঘন করাটা অপছন্দ করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক; নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫)

    ৯. ফরজ আমল বাদ দিয়ে দোয়াতে মশগুল না হওয়া। যেমন, ফরজ নামাজের ওয়াক্তে ফরজ নামাজ বাদ দিয়ে দোয়া করা কিংবা দোয়া করতে গিয়ে মাতাপিতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা।

    খুব সম্ভব বিশিষ্ট ইবাদতগুজার জুরাইজের (রহ.) কাহিনী থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ জুরাইজ (রহ.) তার মায়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে ইবাদতে মশগুল থেকেছেন। ফলে মা তাকে বদদোয়া করেন; এতে করে জুরাইজ (রহ.) আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন।

    ইমাম নববী (রহ.) বলেন, আলেমরা বলেছেন: এতে প্রমাণ রয়েছে যে, জুরাইজের জন্য সঠিক ছিল মায়ের ডাকে সাড়া দেয়া। কেননা তিনি নফল নামাজ আদায় করছিলেন। নফল নামাজ চালিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে- নফল কাজ; ফরজ নয়। আর মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব এবং মায়ের অবাধ্য হওয়া হারাম….(শারহু সহিহু মুসলিম (১৬/৮২)

  • দেবের প্রতীক্ষায় ফারিণের পর সুযোগ হাতছাড়া হলো ফারিয়ারও

    দেবের প্রতীক্ষায় ফারিণের পর সুযোগ হাতছাড়া হলো ফারিয়ারও

    টালিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা অতনু রায় চৌধুরীর ‘প্রতীক্ষা’ সিনেমাটিতে সুপারস্টার দেবের বিপরীতে অভিনয় করার কথা ছিল বাংলাদেশের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সিনেমাটি থেকে সরে এসেছেন এই অভিনেত্রী।

    এরপর থেকেই ফারিণের পরিবর্তে নতুন নায়িকার খোঁজ চলছিল বলে জানা যায়। তবে এরইমধ্যে গুঞ্জন ওঠে, ফারিণের চরিত্রটির জন্য প্রযোজক-পরিচালক নাকি বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার কথা ভেবেছেন। দেশের পাশাপাশি ফারিয়া ইতিমধ্যেই কলকাতার বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করে সেখানেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। আর তাই ফারিণের পরিবর্তে ফারিয়াকে নিয়েই কাজটি করতে চেয়েছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

    এ বিষয়ে সিনেমাটির প্রযোজক অতনু রায় চৌধুরী আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, তাসনিয়ার মতো নুসরাতও বাংলাদেশের অভিনেত্রী। প্রথম জন ভিসার কারণে আসতে না পারলে দ্বিতীয় জনেরও তো একই সমস্যা! তিনিই বা কী করে আসবেন? ফলে বাংলাদেশের কোনো নায়িকাকে তাই ছবির জন্য নিচ্ছেন না তারা।

    অতনু জানিয়েছেন, আপাতত তারা কলকাতার কোনো নায়িকাকে নিয়ে চিন্তা করছেন।

  • চলন্ত জিপ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া!

    চলন্ত জিপ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন ঐশ্বরিয়া!

    সালটা ছিল ২০০৩। ‘খাকি’ ছবির শুটিং করছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই। ছবিতে অক্ষয় কুমার, তুষার কাপুর, অমিতাভ বচ্চনসহ অন্যরাও ছিলেন। তখনও অভিষেকের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার তেমন কোনো যোগাযোগ হয়নি। নাসিকে চলছিল ছবির শুটিং। একটি দৃশ্যে চলন্ত জিপে থাকার কথা ছিল ঐশ্বরিয়ার। সেই অনুযায়ী জিপে ওঠেন অভিনেত্রী। কিন্তু এক সময় ভারসাম্য হারিয়ে অভিনেত্রী ছিটকে পড়ে যান।

    তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছিল নায়িকাকে। যদিও সেই সময় গাড়ি থামাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন অক্ষয় কুমার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। কারণ ততক্ষণে গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে একাধিক চোট পান ঐশ্বরিয়া। পায়ের একটা অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। ওই সময় ঐশ্বরিয়ার এমন দুর্ঘটনা দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন অমিতাভ।

    সেই সময় অমিতাভ নাকি ঐশ্বরিয়ার মায়ের সম্মতি নিয়ে রাতারাতি তাকে মুম্বাই নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাও আবার অনিল আম্বানীর ব্যক্তিগত বিমানে।

    ওই ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বলেন, আসলে ওই ঘটনা দেখার পর টানা দুই দিন দু’চোখের পাতা এক করতে পারিনি। সব সময় ওই ঘটনাটাই ভাসত চোখের সামনে। ঐশ্বরিয়ার পিঠ ক্যাকটাসের কাঁটায় আটকে গিয়েছিল। সেই দৃশ্য ভয়ংকর। সারা শরীরে অসংখ্য গুরুতর চোট পেয়েছিল।

    যদিও সকলের তৎপরতায় তড়িঘড়ি মুম্বাই নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয় ঐশ্বর্যার। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন অভিনেত্রী। এই ঘটনার প্রায় চার বছর পর বচ্চন পরিবারের বৌ হন ঐশ্বরিয়া।

  • ভারতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘লেডি ডন’ গ্রেফতার

    ভারতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘লেডি ডন’ গ্রেফতার

    এয়ার ইন্ডিয়ার একজন ক্রুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলে থাকা কুখ্যাত গ্যাংস্টার কপিল মানের বান্ধবী কাজল খত্রীকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। দেশটির গণমাধ্যম কাজলকে ‘লেডি ডন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    কাজল খত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত জানুয়ারিতে দিল্লির নয়ডা এলাকার একটি জিম থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রু ৩০ বছর বয়সী সুরজ মান। পরে ধাওয়া করে তাকে তার গাড়ির ভেতরেই গুলি করে হত্যা করা হয়। খুনিরা বাইকে করে এসে সুরজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। এই খুনের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন লেডি ডন কাজল খত্রী।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলে থাকা গ্যাংস্টার কপিল মানের নির্দেশেই তার প্রেমিকা কাজল সুরজ মানকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। নিহত সুরজ মান ছিলেন অপর গ্যাংস্টার পারভেশ মানের ভাই। পারভেশ মানও এখন দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি।

    জানা গেছে, কাজল খত্রী শুটার পাঠিয়ে সূরজ মানকে হত্যা করেছেন। ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত কাজল নয়ডা এবং দিল্লি পুলিশের কাছে ওয়ান্টেড ছিলেন। এবার দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাকে গ্রেফতার করেছে।

    গত ১৯ জানুয়ারি এয়ার ইন্ডিয়ায় কাজ করা সুরজ মানকে দুই বন্দুকধারী গুলি করে হত্যা করেছিল। এই হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, কাজল খত্ৰী নামে এক লেডি ডন দুই শুটারকে ভাড়া করেছিলেন।

    কাজলের প্রেমিক কুখ্যাত গ্যাংস্টার কপিল মানের সঙ্গে অপর গ্যাংস্টার পারভেশ মানের চলমান শত্রুতার জেরেই পারভেশের ভাই সুরজকে হত্যা করা হয়। কপিল মান জেলে থাকার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য কাজলকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার কাজল নিজেকে জেলে থাকা গ্যাংস্টার কপিল মানের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। কারাবন্দি কপিল মানকে খুন করার পরিকল্পনা করছিলেন পারভেশ মান। তাই পারভেশের ভাইকে খুন করে এর প্রতিশোধ নিয়েছেন কপিল।

    পুলিশ আরও জানিয়েছে, জেলে থাকায় কপিলের মানের পুরো গ্যাং পরিচালনা করছিলেন কাজ খত্রী। এবার তাকে গ্রেফতার করে নয়ডা পুলিশের কাছে সমর্পণ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সিনিয়র অফিসার সঞ্জয় ভাটিয়া জানিয়েছেন, ক্রাইম ব্রাঞ্চের নর্দান রেঞ্জের দল কাজলকে গ্রেফতার করেছে।

    সূত্র: এনডিটিভ

  • তুরস্কের বিমান হামলায় ইরাকে ২৪টি পিকেকের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

    তুরস্কের বিমান হামলায় ইরাকে ২৪টি পিকেকের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

    তুরস্কের বিমান হামলা উত্তর ইরাকে পিকেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ২৪টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে দেশটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ডেইলি সাবাহার।

    এতে বলা হয়েছে, বিমান অভিযানটি ইরাকের পার্বত্য হাকুরক, গারা, কান্দিল এবং তুর্কি সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি, আশ্রয়কেন্দ্র ও ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়েছিল। পিকেকে তুর্কি সীমান্তের কাছে উত্তর ইরাককে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে এবং প্রায়ই তুর্কি ও উত্তর সিরিয়ার স্থানীয়দের ওপর আক্রমণ চালায়।

    কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইরাকে পিকেকের উপস্থিতি দৃঢ়, যেখানে কেন্দ্রীয় ইরাকি সরকারের প্রভাব সীমিত।

    তুর্কি অভিযানগুলো পিকেকের অভ্যন্তরীণ উপস্থিতিকে প্রায় বিলুপ্তির দিকে নিয়ে গেছে, ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তাদের অপারেশনগুলোর একটি বড় অংশ উত্তর ইরাকে স্থানান্তরিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাউন্ট কান্দিল অঞ্চলের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি, যা ইরবিল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

    গত ২৫ বছরে তুর্কি সরকার উত্তর ইরাকে পিকেকের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০২২ সাল থেকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস এবং সন্ত্রাসী করিডোর নির্মাণ রোধে ‘ক্লো’ অপারেশনের অংশ হিসেবে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

    তুর্কির ক্রসবর্ডার অপারেশনগুলো বছরের পর বছর ধরে উত্তেজনার কারণ হয়েছে। আঙ্কারা ইরাকের কাছে পিকেকে মোকাবিলায় সহযোগিতা চাইছে এবং বাগদাদ মার্চ মাসে এই গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    প্রায় ৪০ বছরের সন্ত্রাসী অভিযানে থাকা পিকেকে—যা তুর্কি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বারা গঠিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সংগঠনটি নারী এবং শিশুসহ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

  • ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের বিষয়টি সত্য হলে উৎসব করতাম

    ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের বিষয়টি সত্য হলে উৎসব করতাম

    দ্বীপ জেলা ভোলায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকার তথ্য সঠিক নয় বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তরফে নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের প্রমাণিত মজুদ রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সচিবালয়ে বলেছেন, ‘ভোলায় ৫ দশমিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই তথ্যটা যদি সঠিক হত, তাহলে আজ আমরা উৎসব করতাম। তাহলে আমাদের গ্যাসের কোনো সংকট থাকত না। আমদানির প্রয়োজন হত না।

    চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রমের এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে ভোলায় ৫ দশমিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

    ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে তখন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছিলেন।

    তবে কয়েকদিন না যেতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এ নিয়ে উচ্ছ্বাস ও সংশয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার এত বিপুল গ্যাস থাকার বিষয়টি নাকচ করা হয়।

    এদিন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী সংস্থা বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম ও তামিমসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে পর্যালোচনায় বসেন।

    মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর উপদেষ্টা বিষয়টি খোলাসা করেন। বলেন, এত বেশি গ্যাস পাওয়া গেলে তা সবার জন্য উৎসবের খোরাক যোগাত।

    তিনি বলেন, যেই জায়গাটার কথা বলা হচ্ছে সেখানে আমরা সাইসমিক সার্ভে ও ড্রিলিং শুরু করব। বুধবার একনেকে ৪টি কূপ খননের জন্য প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোয়েব বলেন, ভোলার চরফ্যাশনে কোনো সাইসমিক জরিপের ডাটা নেই। শাহবাজপুর, ভোলা ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্রে ২ দশমিক ৪৭ টিসিএফ (উত্তোলনযোগ্য ১.৪৩২ টিসিএফ) প্রমাণিত গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে। ভোলা জেলার অন্তর্গত ৩টি (শাহবাজপুর, ভোলা ও ইলিশা) গ্যাসক্ষেত্রে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে।

    ভোলায় বাপেক্স ও গ্যাজপ্রমের যৌথ পরিচালিত ভূকম্পন জরিপের ডাটা বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোলা জেলার দক্ষিণাংশে চরফ্যাশন এলাকায় ১০ শতাংশ সম্ভাব্যতা হিসেবে ২ দশমিক ৬৮৬ টিসিএফ এবং শাহবাজপুর, ভোলা ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র এলাকার নতুন জোনে ও গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী স্থানে ১০ শতাংশ সম্ভাব্যতা হিসেবে ২ দশমিক ৪২৩ টিসিএফ অর্থাৎ মোট ৫ দশমিক ১০৯ টিসিএফ গ্যাস রিসোর্স হিসেবে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে এসেছে।

    তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ওই প্রাক্কলন নিশ্চিত করার জন্য ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    ‘ওই দুটি এলাকায় ১০ শতাংশ সম্ভাব্যতা বিবেচনায় মোট ৫ দশমিক ১০৯ টিসিএফ সম্ভাব্য রিসোর্সের কথা উল্লেখ করে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রমাণিত মজুদ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, গ্যাসের মজুদ নির্ণয়ের জন্য প্রথমে ভূকম্পন জরিপ করা হয়। তারপর তথ্য উপাত্ত দেখে কোম্পানিগুলো ঠিক করে সবচেয়ে বেশি কোথায় সম্ভাবনা রয়েছে গ্যাসের। সেখানে তারা ড্রিল করে। ড্রিল করে যদি গ্যাস পাওয়া যায় তখন তারা এটাকে প্রমাণিত মজুদ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

    তিনি বলেন, প্রমাণিত কিংবা প্রভাবল না হলে আমরা কোনো গ্যাসের মজুদ হিসাবে আনি না। মজুদের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেটা মিস লিডিং। ভোলায় মোট গ্যাসের মজুদ ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

    বদরুল ইমাম বলেন, ভোলাতে যে ৫ টিসিএফ গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ ভুল। এটা রিসোর্স হতে পারে। মজুদ নয়, আপনি ড্রিলিং করে না পেলে মজুদ বলতে পারবেন না।