Blog

  • অসহায়-নিঃস্ব বলে বক্তব্য দিলেও নিজ পরিবারে ৬ প্লট নেন শেখ হাসিনা

    অসহায়-নিঃস্ব বলে বক্তব্য দিলেও নিজ পরিবারে ৬ প্লট নেন শেখ হাসিনা

    রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) আলোচিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে স্বয়ং নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুধু তিনি একা নন, প্লট নিয়েছেন তার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়) ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এছাড়া প্লট বরাদ্দ প্রাপ্তদের তালিকায় আছেন হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার দুই ছেলেমেয়ে।

    সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের ১৩/এ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের প্লট দেওয়া হয়। ২০২২ সালে তারা প্লট বুঝে পান। পরে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অতি গোপনীয় বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া খোদ রাজউকেরই অনেকে এ বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না। হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ কাঠা আয়তনের প্লট নিয়েছেন।

    এদিকে হাসিনার পতনের পর এ সংক্রান্ত প্লট বরাদ্দের ফাইল রাজউকের রেকর্ড শাখা থেকে সরিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে ফেলা হয়। পরে চেয়ারম্যানের ড্রয়ারে ফাইল রয়েছে এমন খবরে রাজউকে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দেয়। সম্প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে এ সংক্রান্ত ৬টি ফাইল পুনরায় রেকর্ডরুমে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে চুরি বা নথি হারানোর শঙ্কায় সবকটি ফাইল বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

    রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত বরাদ্দপত্রে লেখা হয় ‘কাঠা প্রতি ৩ লাখ টাকা হিসাবে ১০ কাঠার প্লটের মোট মূল্য ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলো।’ হাসিনা ছাড়াও ১০ কাঠা করে প্লট নেন তার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়) ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)। তাদের প্লট নম্বর যথাক্রমে ০১৫ এবং ০১৭।

    এর মধ্যে জয়ের নামে প্লটের বরাদ্দপত্র জারি করা হয় ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর। পরে ১০ নভেম্বর প্লটের মালিকানাসংক্রান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। এর আগে ২ নভেম্বর পুতুলের নামেও ১০ কাঠা প্লটের বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়। এতে এস্টেট ও ভূমি-৩ শাখার তৎকালীন উপপরিচালক হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে।

    তবে শুধু হাসিনা ও তার ছেলেমেয়ে নন; পূর্বাচল প্লকল্পে ১০ কাঠা করে প্লট নেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার ছেলেমেয়ে। তাদের নামেও যথারীতি প্লট বরাদ্দ করা হয় ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডের একই জায়গায়। সেখানে শেখ রেহানার প্লট নম্বর ০১৩, তার ছেলে রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিকের প্লট নম্বর ০১১ ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের প্লট নম্বর ০১৯।

    প্লটে সরেজমিন: বুধবার সরেজমিন পূর্বাচল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রস্তাবিত কূটনৈতিক জোনের মাঝ বরাবর মনোরম লোকেশনে বিশাল জায়গা উঁচু সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। ভেতরে নারিকেল, সুপারি, আম ও জামসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করা হয়েছে। একদিকে বিভিন্ন ধরনের শাক ও সবজি চাষ করা হচ্ছে। প্লটের তিন দিকেই রাস্তা। পেছন দিকে প্রবহমান গঙ্গুর নদী।

    বুধবার দুপুরে সেখানে বেশ কয়েকজন যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, এখানে হাসিনা ও তার বোন রেহানাসহ পরিবারের সদস্যদের প্লট রয়েছে। ১০ কাঠা করে ৬ জনের ৬০ কাঠা জায়গা একত্রিত করে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়। প্রাচীর নির্মাণ হয় রাজউকের প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে।

    পরে দুপাশে দুটি লোহার গেট লাগিয়ে দেওয়া হয়। এখানে আগে একাধিক নিরাপত্তারক্ষী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতেন। তবে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধরা ৫ আগস্ট রাতে এখানে হামলা চালায়। এ সময় তারা লোহার গেট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়।

    সূত্র জানায়, হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের সময় রাজউক চেয়ারম্যান ছিলেন আনিসুর রহমান। সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসাবে তিনি চাকরি শেষে একদফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চেয়ারম্যান পদে বহাল ছিলেন।

    এছাড়া রাজউকের তৎকালীন স্টেট ও ভূমি শাখার পরিচালক (পরে সদস্য) নুরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয় সর্বোচ্চ গোপনীয়তায়। এ কারণে বাইরের কেউ এ বিষয়ে তেমন কিছুই জানতে পারেননি।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খোদ সরকারপ্রধানের নামে প্লট বরাদ্দের ঘটনা জানাজানি হলে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির শঙ্কা ছিল। এ কারণে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অতি গোপনীয় বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা ছাড়া এ বিষয়ে অন্য কেউ তেমন কিছুই টের পাননি। এমনকি সরকার পতনের পরও এ সংক্রান্ত নথি তড়িঘড়ি লুকিয়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

    এক কর্মকর্তা বলেন, হাসিনা-রেহানার ফাইল চেয়ারম্যানের দপ্তরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে এমন খবর পেয়ে অনেকে বিক্ষোভ করেন। দ্রুততম সময়ে সব নথি যথাস্থানে ফেরত দেওয়ার দাবি তোলেন তারা।

    একপর্যায়ে গত সপ্তাহে চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে নথিসহ সংশ্লিষ্ট ৬টি ফাইল পুনরায় রেকর্ডরুমে পাঠানো হয়। এরপর থেকে ফাইলগুলো বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সরকারি প্লট নেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি পরিষ্কারভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার।

    যারা এমন বৈষম্যমূলকভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন মূল দায়টা তাদের। তবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট যারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারাও দায় এড়াতে পারেন না। কারণ অবৈধ নির্দেশ এলেই তারা কেন তা প্রতিপালন করবেন।

    ফলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজউকসহ অন্য যেসব জায়গায় বৈষম্যমূলক ধারা তৈরি করা হয়েছে নতুন বাংলাদেশে সেগুলো বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সমাজের সর্বত্র ন্যয় প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজের যে চেতনা তা কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হবে না।

  • শিশু ধর্ষণচেষ্টা, মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি

    শিশু ধর্ষণচেষ্টা, মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৮) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাসুম বিল্লাহ (২৪) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন জনতা।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লেবুডাংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃত ওই শিক্ষক স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি একই ইউনিয়নের নগরপাড়ার সামিউল ইসলামের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, ওই শিক্ষক বুধবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানাজানি হলে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহমেদ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ‘শহিদি মার্চে’ ছাত্র জনতার ঢল

    ‘শহিদি মার্চে’ ছাত্র জনতার ঢল

    স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের এক মাস পূর্তিতে গণজাগরণের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিকাল তিনটা থেকে সারাদেশে ‘শহিদি মার্চ’ শুরু করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।Advertisement

    স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারও শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই মার্চে যোগ দিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। মুখে স্লোগান, হাতে লাল সবুজের পতাকা। কেউ কেউ মাথায় পতাকা বেঁধেছেন। অনেক শিশুরাও স্কুলের পোশাক পরে এতে যোগ দিয়েছে। মার্চ চলাকালে আশপাশের দোকানিরা হাত নাড়িয়ে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছেন। 

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম জানিয়েছেন, আজ বিকাল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু স্মৃতি ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে কেন্দ্রীয় পদযাত্রা শুরু হয়।

    রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব, কলাবাগান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে যায়। এটি বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার হয়ে শাহবাগ হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হবে।

    ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে যান। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর গত ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ শপথ নেয়।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের গুণগান করে বিদায় আউয়াল কমিশনের

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের গুণগান করে বিদায় আউয়াল কমিশনের

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন তার সরকারের নিয়োগ দেওয়া নির্বাচন কমিশন। বিদায় বেলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর গুণগান করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সামনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দিয়েছেন। 

    বিরোধী দলবিহিন বিতর্কিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা আউয়াল কমিশন মেয়াদ শেষ হওয়ার আড়াই বছর বাকি থাকতেই সাংবিধানিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিল।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বিদায়ী বিফ্রিং দেন।

    বলেন, আমিসহ মাননীয় কমিশনাররা দেশের পরিবর্তিত বিরাজিত অবস্থায় পদত্যাগ করতে মনস্থির করেছি। আমরা অদ্যই পদত্যাগপত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতির সমীপে উপস্থাপনের নিমিত্তে কমিশনের সচিব মহোদয়ের কাছে দেব।

    হাবিবুল আউয়াল বলেন, ১৯৯১ এর নির্বাচন সম্মত রাজনৈতিক রূপরেখার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছিল। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন সাংবিধানিক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, সুক্ষ্ম বা স্থূল কারচুপির সীমিত সমালোচনা সত্ত্বেও, সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। 

    ২০০৮ সালের নির্বাচন সেনাসমর্থিত নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে বিএনপি সংসদে মাত্র ২৭ টি এবং আওয়ামী লীগ ২৩০ টি আসন পেয়েছিল। নির্বাচন বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিলনা। নিরাপদ প্রস্থান (Safe Exit) বিষয়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেনাসমর্থিত অসামরিক তত্বাবধায়ক সরকারের দরকষাকষির বিষয়টি প্রকাশ্য ছিল। সে প্রশ্নে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের অবস্থানও গোপন ছিল না। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন সংবিধানমতে দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে।

    ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক দলই অংশ নেয়নি। ফলে সেই নির্বাচনও ২০২৪ সালের অনুরূপ অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়। আসন পেয়েছিল মাত্র ৬ টি। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২৫৮ টি। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। 

    ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বর্তমান কমিশনের অধীনে। ৪৪ টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮ টি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রধানতম বিরোধ দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সেই নির্বাচন প্রত্যাখান করে। নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। 

    সিইসি বলেন, কমিশন বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য একাধিকবার আহ্বান করা সত্বেও তারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।

    তিনি বলেন, ১৯৭৩ থেকে হওয়া অতীতের অন্যান্য সব নির্বাচন ছাড়াও ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের বিতর্কিত বা সন্দিপ্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কমিশন পরবর্তী সব নির্বাচনগুলো সতর্কতার সঙ্গে আয়োজনের চেষ্টা করেছে। জাতীয় এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে দিনের বেলায় ব্যালট পেপার প্রেরণ, কতিপয় উপনির্বাচনে ভিডিও পর্যবেক্ষণ, ইভিএম ব্যবহার, দেশের সকল জেলায় একই দিনে তবে প্রতিটি জেলার প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে মাঝে ৩/৫ দিন বিরতি দিয়ে ৫/৬ টি ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপকভাবে রদবদল, ইত্যাদি গৃহীত ব্যবস্থা নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে অনেকটাই সহায়ক হয়েছিল। নির্বাচন মূলতঃ একদলীয় হওয়ার কারণে কারচুপি বা সরকারিভাবে প্রভাবিত করার প্রয়োজনও ছিল না। নির্বাচন দলের ভেতরেই হয়েছে। মধ্যে হয়নি। Within হয়েছে Not Between।

    তিনি বলেন, কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দু’বছর সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৯৯২ টি, উপজেলা পরিষদের ৪৯৬ টি, জেলা পরিষদের ৭১ টি, পৌরসভার ৯০টি এবং সিটি কর্পোরেশনের ১৬টি নির্বাচন করেছে। নির্বাচনগুলোর সততা, সিদ্ধতা, নিরপেক্ষতা অবাধ-হওয়া নিয়ে অতীতের ন্যায় ব্যাপক বিতর্ক বা সমালোচনা হয়নি। উপ-নির্বাচনসহ জাতীয় সংসদের মোট ৩১৮ টি আসনে কমিশন নির্বাচন করেছে। দলীয়ভাবে ইনক্লুসিভ না হওয়ার কারণে নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে। এটি সঠিক ও যৗক্তিক। কিন্তু বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো নির্বাচন কমিশন সংবিধান উপেক্ষা করে সেচ্ছায় নির্বাচন বাতিল করে দিয়ে পদত্যাগ করেছে এবং সেই কারণে নির্বাচন হয়নি এমন উদাহরণ নেই। সরকার বারবার বলছেন ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। নির্বাচন বারংবার ব্যর্থ হওয়ার প্রকৃত সত্য ও কারণ এই কথাটির মধ্যেই নিহিত।

  • নজরদারিতে পুলিশের আরও ৯২ কর্মকর্তা

    নজরদারিতে পুলিশের আরও ৯২ কর্মকর্তা

    সাবেক দুই আইজিপি-একেএম শহীদুল হক এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে গ্রেফতারের পর বুধবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের বর্তমান ও সাবেক আরও অন্তত ৯২ কর্মকর্তার পরিণতি এ দুজনের মতো হতে পারে। কারণ তাদের বিরুদ্ধেও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মামলা হয়েছে। তারা ধাপে ধাপে গ্রেফতার হতে পারেন।

    এসবের মধ্যে ২৭৬টি মামলার পরিসংখ্যান যুগান্তরের হাতে এসেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাবেক আইজিপি শহীদুল হকের নামে সাতটি ও চৌধুরী আবদুল্লাহ-আল-মামুনের নামে ৩৬টি মামলা আছে।

    সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (সাবেক এসবিপ্রধান) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১টি এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়েছে। সাবেক র‌্যাব ডিজি হারুন-অর-রশীদের নামে পাঁচটি এবং ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তারের নামে ছয়টি মামলা করা হয়েছে।

    অসহায়-নিঃস্ব বলে বক্তব্য দিলেও নিজ পরিবারে ৬ প্লট নেন শেখ হাসিনা

    এছাড়া ডিএমপি ডিবির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ ৩৭, সাবেক যুগ্মকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ২৭, এসএম মেহেদী হাসান আট এবং ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন আট মামলার আসামি। তারা সবাই গ্রেফতারের তালিকায় টপ লিস্টে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    সূত্রমতে, গ্রেফতারের তালিকায় আরও যারা টপ লিস্টে, তাদের মধ্যে আছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, সিআইডির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, সাবেক অতিরিক্ত আইজি লুৎফর কবির, জামিল আহম্মেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সিটিটিসির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার আসাদুজ্জামান, সিটিটিসির যুগ্মকমিশনার কামরুজ্জামান, সাবেক ডিআইজি রিপন সরদার, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জেয়াদ্দার, যুগ্মকমিশনার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মারুফ হোসেন সরদার, ডিএমপি ডিবির যুগ্মকমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়, ডিএমপি ডিবি রমনা বিভাগের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আশরাফ ইমাম, সাবেক ডিসি (হেডকোয়ার্টার্স) তানভির সালেহীন ইমন, অতিরিক্ত ডিআইজি (সাবেক ডিবি ডিসি) মতিউর রহমান, ডিবির সাবেক ডিসি রাজিব আল মাসুদ, মাহফুজুল আল রাসেল, জাহিদুল তালুকদার, মতিঝিলের সাবেক ডিসি হায়াতুল ইসরাম, উত্তরার সাবেক ডিসি আশরাফুল আজিম, ডিসি এইচএম আজিমুল হক, হাফিজু আল ফারুক, মাহাবুব-উজ-জামান, জাফর হোসেন প্রমুখ। অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে তারা হলেন নুরুল আমিন, গোবিন্দ চন্দ্র, শাহেন শাহ, হাফিজ আল আসাদ, মুহিত কবির সেরনিয়াবাত, শহিদুল ইসলাম, জুয়েল রানা, হাসান আরাফাত, নাজমুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, আফজাল হোসেন টুটুল, ফজলে এলাহী, রওশানুল হক সৈকত এবং শাকিল মোহাম্মদ শামীম। তাদের বেশির ভাগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। গ্রেফতারের তালিকায় সহকারী কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার যেসব কর্মকর্তার নাম আছে তারা হলেন-রেফাতুল ইসলাম রিফাত, শাহীনুর রহমান, শহীদুল হক, মিজানুর রহমান ও তানজিল আহমেদ গোলাম রুহানী। তালিকায় সাবেক যেসব ওসির নাম আছে তাদের মধ্যে আছেন আমিনুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান শাহীন, খন্দকার হেলাল উদ্দিন, মাহাবুব রহমান, ফরমান আলী, মাহফুজুল হক ভূঁইয়া, শিকদার মো. শামীম হোসেন, সেলিমুজ্জামান, মাজহারুল ইসলাম, পলয় কুমার সাহা এবং আতিকুর রহমান মসিউর রহমান।

    আসামির তালিকায় বেশ কয়েকজন পুলিশ পরিদর্শকও আছেন। তারা হলেন নাজমুল হাসান রণজিত রায়, মেহেদী হাসান, ফায়োত উদ্দিন রক্তিম, জাকির হোসেন, আতিকুল হক, রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এবং আবুল বশার। এসআই পদমর্যাদার যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশি মামলা অমিতাভ দর্জির বিরুদ্ধে।

    তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। এছাড়া গুলশান থানার এসআই মামুন মাতব্বরের বিরুদ্ধে তিনটি এবং শাহবাগ থানার এসআই আশরাফুল সিকদারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। একটি করে মামলা হয়েছে এসআই শাহাদাৎ আলী, কাউসার আহম্মদ খান, নূরে আলম মিয়া, মাসুম বিল্লাহ, মো. বশির, রাজিব চন্দ্র সরকার এবং মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে। রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি এবং কোতোয়ালি থানায় কর্মরত তিন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ১১-১২টি মামলা হয়েছে। আমি যখন দেশে ছিলাম না, তখনও মামলা হয়েছে। নোয়াখালীর একটি মামলায়ও আমাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৩ থেকে ২০ জুলাই আমি বিদেশে ছিলাম। ওই সময়ের ঘটনায়ও আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি, আমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার করা হলে আমি বিষয়টি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করব।

    পুলিশের অতিরিক্তি ডিআইজি ও ডিবির সাবেক ডিসি মশিউর রহমান বলেন, পেশাগত কাজের কারণেই মানুষ আমাকে বেশি চেনে। এ কারণে ডিবির যে কোনো ঘটনায়ই আমার নাম জড়িয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ডিবিপ্রধান হিসাবে মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ যোগ দেওয়ার পর আমাকে মিডিয়ায় কথা বলতে বারণ করে দেওয়া হয়। তার বিভিন্ন কাজে আমি প্রতিবাদ করতাম। এ কারণে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে পাহারা দিয়ে রাখতেন।

    তিনি বলেন, সবশেষ আমি ডিবির লালবাগ বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম। ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় ওই এলাকার চিত্র তুলনামূলক ভালো ছিল। তিনি বলেন, আমি কোটায় চাকরি নিইনি। এ কারণে আমি বরাবরই কোটা আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম।

    জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মাইনুল হাসান বলেন, একসময় মানুষ মনে করতেন, মামলা হলেই আসামি গ্রেফতার করতে হবে। এটা ঠিক না।

    তিনি বলেন, পুলিশের যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের সবাইকেই গ্রেফতার করা হবে, তা ঠিক না। আমরা মামলার অভিযোগগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করছি। প্রাথমিক তদন্ত চালাচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

  • বাথরুমে নারীর গোসলের দৃশ্য ধারণ টিকটকারের, অতঃপর…

    বাথরুমে নারীর গোসলের দৃশ্য ধারণ টিকটকারের, অতঃপর…

    নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাথরুমে গোপনে নারীর গোসল করার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে দুই টিকটকার আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আটককৃত দুই টিকটকার ও জব্দকৃত মোবাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    নেত্রকোনা জেলায় দায়িত্বরত ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিসানুল হায়দার জানান, বুধবার বিকালে এক নারী বাথরুমে গোসল করছিলেন। এ সময় পূর্বধলা উপজেলার মেঘশিমুল মধ্যপাড়ার সুজাত খানের ছেলে উজ্জ্বল খান ওই নারীর গোসলের আপত্তিকর দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে অভিযোগ করেন ওই নারী। অভিযোগ পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টিম অভিযুক্ত টিকটকার উজ্জ্বল খানকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার সহযোগী দীন ইসলাম ওরফে সিপনকেও আটক করা হয়েছে।

  • বসতঘরের খাটের নিচে শিশুর লাশ, সৎমা গ্রেফতার

    বসতঘরের খাটের নিচে শিশুর লাশ, সৎমা গ্রেফতার

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে বসতঘরের খাটের নিচ থেকে খাদিজা আক্তার নামে তিন বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই শিশুর সৎমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বুধবার দুপুরে উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

    মৃত শিশু খাদিজা চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া গ্রামের তুহিন শেখের কন্যা।

    মামলার বাদী খাদিজার দাদা মো. কামরুল শেখ বলেন, খাদিজা আক্তারকে তার সৎমা আয়শা আক্তার সহ্য করতে না পেরে আক্রোশবশত গলাটিপে হত্যা করেছে।

    চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে ঘাটের নিচ থেকে খাদিজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। খাদিজার সৎমা আয়শা আক্তারকে (২৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  • দাফনের ৩০ দিন পর তোলা হল আজাদের লাশ

    দাফনের ৩০ দিন পর তোলা হল আজাদের লাশ

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে নিহতের ৩০ দিন পর লাশ উত্তোলন করেছে প্রশাসন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আজাদ সরকারের লাশ ৩০ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করেছে প্রশাসন। মামলার তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার টোরাগড় এলাকার নিহতের পারিবারিক কবরস্থান থেকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল্লাহর তত্ত্বাবধানে এ লাশ তোলা হয়।

    এ সময় চাঁদপুর জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মামলার তদন্তের স্বার্থে আজাদ সরকারের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    নিহত আজাদ সরকারের ছেলে আহাম্মেদ কবির হিমেল ও ভাগ্নে নাসরিন আক্তার জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পানি পান করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী আজাদ সরকারকে কুপিয়ে জখম করে। পরে কুমিল্লায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার বিচারের দাবি করেন তারা।

    এ দিকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয় কাউন্সিলর কাজী মনির হোসেন।

    গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পানি খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে আজাদ সরকারকে কুপিয়ে জখম করে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এ ঘটনায় নিহত আজাদ সরকারের ছেলে আহাম্মেদ কবির হিমেল বাদী হয়ে ১৫ জনকে নামীয় ও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে নুরু কাজী (৫২) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  • বরিশালে শহিদি মার্চ কর্মসূচি পালিত

    বরিশালে শহিদি মার্চ কর্মসূচি পালিত

    বরিশালে পালিত হয়েছে শহিদি মার্চ কর্মসূচি। ব্রজমোহন কলেজের জিরো পয়েন্ট থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এ মিছিল বের করেন।

    এতে বিএম কলেজ ছাড়াও অন্য আরও বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

    বিএম কলেজ হয়ে মিছিলটি কলেজ রোড, নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা, সিএন্ডবি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    মিছিলের সম্মুখে ছিলেন গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ হারানো এক যুবক।

    এ সময় ছাত্র নেতারা বলেন, হাজারও ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে সব ধরনের বৈষম্য প্রতিরোধে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

  • আ.লীগ সরকার পতনের একমাস, যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আ.লীগ সরকার পতনের একমাস, যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ ৫ সেপ্টেম্বর, গত আগস্টের এই দিনেই ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে পতন হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তিতে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

    গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম- শদিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন, সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না।

    যুগান্তর পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের বার্তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

    আসসালামু আলাইকুম,

    আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।

    তারা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে যার নেতৃত্বে নৃশংস একটি গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র এবং একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের।

    আজ আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা জঘন্য হত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

    আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।

    গত মাসে, আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহিদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্তেও এই দায়িত্ব গ্রহণ কেরছি।

    আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

    আমার প্রিয় তরুণেরা,

    তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

    বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাঁদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারা দেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।

    মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা স্বত্তেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এর কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাঁরা এদেশে এসেছেন এবং তাঁদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

    এছাড়া আমি জুলাই এবং আগস্ট মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল তৈরি করার প্রয়াসে শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সাথেও কথা বলেছি। আমরা খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং স্বৈরাচারের সময় দুর্নীতিবা ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও আমলারা যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ শুরু করেছি।

    আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাঁদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূরদূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহিদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাঁদের কখনোই ভুলবো না।

    সম্প্রতি আমরা বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফলে স্বৈরাচার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘গুম সংস্কৃতি’ এর সমাপ্তি ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। আলাদাভাবে, আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে বলপূর্বক গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করছি। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ পিতা, স্বামী, পুত্র এবং ভাইদের পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রণার সাথে অপেক্ষা করছেন, আমরা আপনাদের বেদনায় সমব্যাথী।

    আয়নাঘরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা বলপূর্বক গুমের শিকার ভাইবোনদের কষ্ট ও যন্ত্রণা সম্পর্কে জানতে পারবো।

    গত মাসের শেষের দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া আমার ভাষণে আমাদের সরকার এ পর্যন্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গ্রহণ করেছে আমরা তার একটা প্রতিবেদন তুলে ধরেছি। আমরা রাজনৈতিক দল, সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের নেতা এবং কূটনীতিকদের সাথে ক্রমাগতভাবে বৈঠক করে যাচ্ছি। তারা আমাদের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। আমরা আমাদের বিদেশী বন্ধুদের কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়ে অভিভূত হয়েছি। আমাদের সাহসী এবং দেশপ্রেমিক প্রবাসীরাও জাতি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন। আমি তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    আজ এই স্মৃতিময় বিষাদ দিনে আমি শহিদদের প্রতিটি পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি জানাই অসীম কৃতজ্ঞতা। আমি সকল শহিদ পরিবারের সদস্যদের রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানাবো, কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা কখনই শহিদদের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।

    আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুঃশাসন ও স্বৈরাচার দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত পূরণ করা। এজন্য আমাদের প্রয়োজন একতা ও সমন্বয়।

    আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরী করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে আবারো প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই।

    মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস