Blog

  • ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা এখন এক নর্দমা

    ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা এখন এক নর্দমা

    রাজধানীর ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদী। যে নদীকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল ঢাকার নগরায়ণ, সেই বুড়িগঙ্গা আজ নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

    ঢাকার দক্ষিণ এবং পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদী প্রতিনিয়ত দখল ও দূষণে তিলে-তিলে ধ্বংস হচ্ছে। এর কুচকুচে কালো পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে গেছে যে তা স্পর্শ করলে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এর দুর্গন্ধের জন্য নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাস দুঃসাধ্য হয়ে গেছে।

    বিগত ৩০-৪০ বছরের নগর জীবনের বিরূপ প্রভাবে দূষিত হয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা। ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার শিল্প বর্জ্য, কাঁচামাল বর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশন লাইন, ইটভাটা, নদী দখলসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মে নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে বলে মনে করেন নদী বিশেষজ্ঞ আলিমুর রহমান।

    গড়ে ৩০২ মিটার প্রস্থের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটির ৯০ শতাংশ পানি সরবরাহ করে তুরাগ নদী। কমপক্ষে ৯৯টি বর্জ্যের লাইন পড়েছে সেই তুরাগ নদীতে।

    বিগত ২০১৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি নিরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার ঘনমিটারের বেশি বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। কামরাঙ্গীরচর থেকে নারায়ণগঞ্জের পাগলা পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সংযোগ রয়েছে। নদীর তলদেশে জমেছে ১০-১২ ফুট পলিথিন।

    মোঘলরা মনোমুগ্ধকর বুড়িগঙ্গা নদীর জোয়ার ভাটার রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে ঢাকা শহরকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেছিল। কালের পরিক্রমায় পাল্টে গেছে তার রূপ।পলিথিন, বর্জ্য, পুরাতন জাহাজের পোড়া তেল একে বিষে জর্জরিত করে ফেলেছে। দখলদারদের গ্রাস থেকেও রেহাই পায়নি এর খালগুলো। একসময়ের টলমলে পানির খালগুলো এখন হয় দুর্গন্ধযুক্ত নালায় পরিণত হয়েছে, না হয় অবৈধ দখলদারীর কবলে পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। যেখানে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবনসহ রিকশাভ্যানের গ্যারেজ, দোকান আরও কত কি।অথচ এই নদীকে কেন্দ্র করে ২২৭টি সংযোগ খাল ছিল, যাদের অস্তিত্ব এখন আর পাওয়া যায় না। ৭০টি খাল শনাক্ত করা গেলেও পানি প্রবাহ হয় না বেশিরভাগ খাল দিয়ে।

    ইকুরিয়ার খাল, হাসনাবাদ ও আবদার খাল, গদার বাঘ খাল, মান্দাইয়ের খাল, মসূরী খাল এখন আর নেই। বর্তমানে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে শুভাঢ্যা ও আটি বাজার খাল।

    স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, যেকোনো মূল্যে খালগুলো উদ্ধার করা হোক এবং নাব্যতা সচল করা হোক। আগে খালগুলো দিয়ে নৌকার মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বন্দর ও জেলাগুলোতে যাতায়াত করা হতো। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে এই নদী ও খালগুলো বিরাট ভূমিকা রাখতো, যা কালক্রমে হারিয়ে গেছে।

    গ্রাম থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহে এ পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে দ্রব্যমূল্য অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন- নদীপথের চেয়ে সড়কপথে পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি বেশি হয়, যার প্রভাব দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়ে।ফলে ক্রেতাকে বেশি দামে নিত্যপণ্য কিনতে হয়।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই মারা পড়বে বুড়িগঙ্গা।আর বুড়িগঙ্গা মারা পড়লে পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে ঢাকা।

  • ডেভিল হান্টে গ্রেফতার আরও ৬৭৮

    ডেভিল হান্টে গ্রেফতার আরও ৬৭৮

    সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন ডেভিল হান্টে ৬৭৮ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১ হাজার ১২ জনসহ মোট ১ হাজার ৬৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে একটি ৪.৫ এম এম পিস্তল, একটি এলজি ও একটি শুটারগান ছাড়াও একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, একটি ম্যাগজিন, ৭টি কার্তুজ ও একটি রাইফেলের গুলি জব্দ করা হয়েছে।

    এছাড়াও অভিযানে স্টিলের দেশীয় তৈরি একটি কুড়াল ছাড়াও একটি ধারাল চাপাতি, একটি রামদা, একটি লোহার শাবল, একটি ক্ষুর, ২টি সুইচ গিয়ার ও ২টি লোহার রড জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার ঘটে। এর প্রতিবাদে ঘটনার পরদিন গাজীপুরে দিনভর বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। পরবর্তীতে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গাজীপুরসহ সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়।

    সবশেষ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করে ৬৩৯ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সঙ্গে এই সময়ে অন্যান্য মামলার ৯৯৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

  • ফিল্মি স্টাইলে আদালত চত্বর থেকে আসামি ছিনতাই চেষ্টা

    ফিল্মি স্টাইলে আদালত চত্বর থেকে আসামি ছিনতাই চেষ্টা

    গাজীপুরের রাজবাড়ী এলাকায় জেলা জজ আদালত চত্বরে জামিন পাওয়া দুই আসামিকে মারধর করে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে বাদীপক্ষ। এ সময় নারী-পুরুষসহ ১৩ আসামিকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপস্থিত আইনজীবী ও জনতা পদক্ষেপ নিয়ে দুজনকে উদ্ধার করলে বাদীপক্ষ পালিয়ে যায়।

    বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের পশ্চিম পাশে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী দুই জামিনপ্রাপ্ত আসামি হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর থানার তেলিহাটি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মিলন মিয়া (৩৫) ও বাবুল মিয়া (৪০)।

    গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং জিএমপি সদর মেট্রো থানার ওসি মেহেদী হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    এ ঘটনায় মামলার বাদী এসএম নাজমুল হক অপহরণ ও আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে।

    মামলার অপর আসামি এনামুল হক জানান, তাদের বিরুদ্ধে বাদী নাজমুল হক জমিসংক্রান্ত মামলা করেছিলেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পাওয়ার পরপরই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

    তিনি বলেন, আমরা আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বাদী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন দা, চাকু, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের পথরোধ করে। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে জানালে তিনি আমাদের আনতে দুই কর্মচারী পাঠান; কিন্তু তাদের সামনেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

    গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, জামিনের পরপরই আসামিরা বাদীপক্ষের অস্ত্রধারীদের দেখে ভয় পেয়ে বিষয়টি তাকে জানান।

    তিনি বলেন, আমি তাদের নিরাপদে নিয়ে আসতে কর্মচারী পাঠাই; কিন্তু আদালত চত্বরে বাদীপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আইনজীবী সমিতির দুই কর্মচারীও গুরুতর আহত হন। কর্মচারী আইয়ুব আলীর মাথায় সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে।

    তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে দুজন পুলিশ সদস্য ছিলেন, তবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিষয়টি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে এবং আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভায় আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    জিএমপি সদর মেট্রো থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নতুন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

    নতুন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে মো. নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের একদিন পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহফুজ আলম।

    বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা সচিব জাহেদা পারভীন স্বাক্ষরিত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ন্যস্ত আছে।

    আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছে। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন নাহিদ ইসলাম। সে কারণে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

  • কাজের সুযোগের অভাবটা ঘোচাতে চাই: বুবলী

    কাজের সুযোগের অভাবটা ঘোচাতে চাই: বুবলী

    সিনেমার নায়িকার পারে এবার ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন পরিচয়ে হাজির হলেন অভিনেত্রী শবনম বুবলী। এবার প্রযোজনায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। নায়িকার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘বুবলী ইনোভেটিভ গ্রুপ’ বা ‘বিগ’।

    সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় অনুরাগীদের সুখবরটি দেন বুবলী। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নায়িকা জানালেন, চলচ্চিত্রে সংকটকাল চলছে- এমন সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন পথ তৈরির চেষ্টা হিসেবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুললেন তিনি।

    বুবলী বলেন, ‘এই অধ্যায়টা আমার জন্য একদম নতুন নয়। আমি থেমে যেতে আসিনি, একদম সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। শতভাগ এফোর্ট দিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করব। কোয়ালিটির সঙ্গে কোনো আপস হবে না। যেন সবাই বিগ প্রডাকশনসের কাজ নিয়ে প্রশংসা করে, সে চেষ্টাই থাকবে।’

    অভিনেত্রী বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে যে ভালোবাসাটা পেয়েছি, প্রযোজক হিসেবেও সেটা পেতে চাই। কোয়ালিটিফুল কাজ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে একটা নতুন পথ তৈরির চেষ্টা করছি। যেখানে নতুন-পুরনো সবাই কাজ করতে পারবে। কাজের সুযোগের অভাবটা ঘোচাতে চাই।’

    তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্য উন্মুক্ত। বিগ প্রডাকশনস শুধু সিনেমাই নয়, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে নাটক, ওয়েব, বিজ্ঞাপন সব কিছু নির্মাণ করবে।’

    অভিনয়শিল্পীদের প্রযোজনায় নাম লেখানোর ঘটনা নতুন না। দেশের শোবিজঅঙ্গনও এর ব্যতিক্রম নয়। এর আগে অপু বিশ্বাস, ববি হক, মাহিয়া মাহিসহ এ সময়ের কয়েকজন অভিনেত্রী প্রযোজনায় এসেছেন। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলেন শবনম বুবলী।

  • বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেন মেহজাবীন

    বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেন মেহজাবীন

    দেশের শোভিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বিয়ে করছেন- এমন খবরই শোনা যাচ্ছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে এই অভিনেত্রী।

    গতকাল রোববার ঢাকার অদূরে একটি রিসোর্টে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় মেহজাবীনের। অনুষ্ঠানটি বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

    এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে মেহজাবীন ও আদনানের আক্দ সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের দেড় সপ্তাহ পড় ছবি প্রকাশ করলেন মেহজাবীন।

    সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বিয়ের ৫টি ছবি শেয়ার করেন মেহজাবীন।

    পোস্টের ক্যাপশনে তিনি আদনান আল রাজীবকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দেন। সম্পর্কের শুরু থেকে কীভাবে তা প্রণয়ে রুপ নিলো তাই তিনি উল্লেখ করেন।

    পোস্টে তিনি বলেন, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল আদনান আল রাজীবের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেছিল। ১৩ বছর পর সম্পর্কটা বিয়েতে গড়াল।

    তবে বিয়েতে গোপনীয়তা বজায় রেখেছিল এই দম্পতি। ফলে বিয়ের ছবি প্রকাশেও ছিলৈা বিধিনিষেধ। বিয়ে নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নিজেই ছবি প্রকাশ করলেন মেহজাবীন।

    জানা গেছে, ঢাকার বাইরে সেই রিসোর্টে বেশ কয়েক দিন ধরে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। গতকাল সকাল থেকেই সেখানে মেহজাবীন ও আদনানের পরিবারের সদস্যরা পৌঁছাতে শুরু করেন। বিনোদন অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে নুসরাত ইমরোজ তিশা, রেদওয়ান রনি, সিয়াম আহমেদ, সাবিলা নূর, এলিটা করিম, আশফাক নিপুণ, সাদিয়া আয়মান, রায়হান রাফী, তমা মির্জা, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল, মোস্তফা কামাল রাজ, জেফার রহমান প্রমুখ ছিলেন।

    গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একাধিক তারকা ও পরিচালক জানালেন, ছবি তোলার ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি করেছে বর-কনে কর্তৃপক্ষ। আমন্ত্রিত অতিথিদের নিজেদের মুঠোফোনে ছবি না তোলার জন্য বারবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এত কিছুর পরও দুজনের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র ফাঁস হয়েছে।

    আমন্ত্রিত অতিথিদের মতে, গতকাল সন্ধ্যার দিকে মেহজাবীন ও আদনানের গায়েহলুদ অনুষ্ঠান শেষ হয়। আজ সোমবার একই ভেন্যুতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। জানা গেছে, মেহজাবীন নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্থিরচিত্র পোস্ট করবেন। এরপর অতিথিরা তাদের স্থিরচিত্র পোস্ট করার সুযোগ পাবেন। তার আগে কারও ছবি পোস্ট করার অনুমতি নেই।

    জানা গেছে, গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজনে সব মিলিয়ে আড়াই শ অতিথি আমন্ত্রিত ছিলেন। এদিন মেহজাবীনের পরনে ছিল লেহেঙ্গা আর আদনান পরেছেন পাঞ্জাবি-পায়জামা।

    এদিকে গত বছরেই সিনেমায় অভিষেক হয় মেহজাবীন চৌধুরীর। ২০ ডিসেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহ মুক্তি তার অভিনীত সিনেমা ‘প্রিয় মালতী’। এ সিনেমার প্রযোজক অভিনেত্রীর হবু স্বামী আদনান আল রাজীব। দুজনকে সিনেমাটি নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা গেছে।

    প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে একটি রিয়েলিটি শোয়ের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মিডিয়াতে কাজ শুরু করেন মেহজাবীন। নাটকের জনপ্রিয় একজন তারকা হয়ে ওঠেন তিনি।

    বর্তমানে সিনেমা ও ওটিটি কনটেন্টের কাজে বেশি সময় দিচ্ছেন। নাটকে এখন তাকে আর বেশি অভিনয় করতে দেখা যায় না। সম্প্রতি ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে একটি ওটিটির পেইড ভার্সনে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘নীল সুখ’। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘সাবা’। যা এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছে।

  • ‘টগর’ সিনেমা থেকে বাদ দীঘি, নেপথ্য কী?

    ‘টগর’ সিনেমা থেকে বাদ দীঘি, নেপথ্য কী?

    ‘টগর’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। এ সিনেমার টিজারও প্রকাশ হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি থেকে বাদ পড়েন দীঘি। তার পরিবর্তে নেওয়া জয় পূজা চেরীকে।

    এর কারণ হিসাবে সিনেমাটির পরিচালক আলোক হাসান দীঘির অপেশাদার আচরণের কথা উল্লেখ করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন করে মোশন পোস্টার প্রকাশ করে সিনেমাটির নতুন নায়িকার নাম প্রকাশ করে প্রযোজনা সংস্থা। মোশন পোস্টারে দেখা যায় আদরের সঙ্গে পূজা চেরীকে।

    তবে সিনেমা থেকে বাদ পড়ায় শিল্পী সমিতিতে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি মানহানির কারণে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন দীঘি।

    দীঘির এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি টগর সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ আর মুভি নেটওয়ার্ক। দীঘির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে সিনেমার টিমের সঙ্গে তার অডিও বার্তা অনলাইনে প্রকাশের হুমকি দিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।

    এ বিষয়ে এ আর মুভি নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজ থেকে লেখা হয়, ‘(দীঘি) বরং নিজের পেশাদারত্বের দিকে মনোযোগ দিলে ভালো করতেন। একটি প্রজেক্টে অনবোর্ড হওয়ার পর দিনের পর দিন পার হয়ে যায়, তিনি স্ক্রিপ্টের ফাইনাল ড্রাফট পড়ার সময় পান না। পরিচালকের ফোন, মেসেজের রিপ্লাই করতে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, কনটেন্ট প্রমোশনের সময় পান না, এমন পরিস্থিতিতে একটা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের করণীয় কী থাকে? একটা প্রজেক্টের শুরুতেই যদি এত অনীহা ও দায়িত্বহীনতা কাজ করে, তাহলে রিলিজের সময় কী হবে?’

    দীঘির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি লেখেছে, ‘পরিচালক নিজে তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানান। এরপর তিনি পরিচালককে কল করেন। তবে তিনি দাবি করেছেন আমরা যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে পারিনি। অথচ তিনি বাদ পড়েছেন গত ২২ জানুয়ারি। সেদিন তিনি পরিচালকের সঙ্গে ২০ মিনিট কথা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত মেনেও নিয়েছেন। এরপর তিনি তার কো-আর্টিস্ট আদর আজাদের সঙ্গে ৩৪ মিনিট কথা বলেছেন। তারও ঠিক এক মাস পর যখন আমরা তাকে বাদ দিয়ে মোশন পোস্টার প্রকাশ করে টগরের নায়িকার নাম ঘোষণা করলাম, এখন তিনি শিল্পী সমিতিতে অভিযোগের কথা বলছেন। মানহানির কথা বলছেন। অভিযোগ তো আমাদের করার কথা তার অপেশাদারত্বের কারণে।’

    দীঘিকে পাল্টা হুমকি দিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে; আর্টিস্টরা যদি কাজে কমিটেড না থাকেন, তাহলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আমরা তো শুধু অ্যানাউন্সমেন্ট টিজার শুট করেছি, বিশ্বব্যাপী সিনেমার মূল শুটিংয়ের পরও কাস্টিং পরিবর্তনের অসংখ্য নজির রয়েছে। দীঘির অপেশাদারত্বের আরেকটি নমুনা হচ্ছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে এক মাস পর অভিযোগের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি যদি এ বিষয়ে আর জল ঘোলা করেন, তাহলে প্রমানস্বরূপ ২২ জানুয়ারি হওয়া তার সঙ্গে টিমের দুটি কনভারসেশনের অডিও অনলাইনে আপলোড করে দেব।’

    এবারই প্রথম নয়, এর আগেও নির্মাতার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন দীঘি। ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমার ট্রেলার নিয়ে নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। এরপর রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’ থেকে বাদ পড়েও একই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন দীঘি।

  • মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৮

    মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৮

    মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস রাজ্যে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর এএফপির।

    প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, গুয়ানাজুয়াতা রাজ্যে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে বন্দুকধারীরা ৮ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং তিনজন পুরুষ। তবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

    গুয়ানাজুয়াতো একটি সমৃদ্ধ শিল্পকেন্দ্র এবং বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যের আবাসস্থল। তবে সরকারি হিসাব অনুসারে, মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস রাজ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এ রাজ্যকে।

    এ ঘটনায় বন্দুকধারীদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। রাজ্যের কর্টাজার পৌরসভায় ওই হামলা চালানো হয়। এর আগে ২০২৩ সালেও সেখানে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। সে সময় একটি ওয়াটার পার্কে হামলার ঘটনায় এক শিশুসহ সাতজন নিহত হয়।

    ন্যাশনাল গার্ড রোববার গুয়ানাজুয়াতোতে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম তাকে সান্তা রোসা দে লিমা কার্টেলের হিটম্যানদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    সান্তা রোসা দে লিমা গ্যাং এবং জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের কারণে ওই রাজ্যে বার বার সহিংসতার খবর সামনে আসছে।

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৬ সালে সরকার পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পর থেকে মেক্সিকোতে মাদক-সম্পর্কিত সহিংসতায় ৪ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

    ঢাকার ধামরাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক রানী বিলকিস, আনিকা আক্তার ও যুগ্ম সমন্বয়ক পিয়াস মাহমুদসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কমিটি থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সেই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ধামরাই কমিটি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা।

    সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন ও কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে পুনর্বাসন করার প্রতিবাদে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামনুল আহমেদ অনিক ও ধামরাই থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলামকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র সমাজের নেতারা।

    এর আগে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার ধামরাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সাধারণ ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা। মিছিল সমাবেশে মুখ্য সংগঠক ও যুগ্ম সমন্বয়কারীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করার ঘোষণা ও সদ্য গঠিত আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও আন্দোলনকারী ছাত্রদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে বারবার অবহিত করার পরও তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে ধামরাই উপজেলা ছাত্রলীগের এ পুনর্বাসিত কমিটি গঠন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ধামরাই পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের মো. উজ্জ্বল হোসেনকে ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হয়ে মাঠে কাজ করেছেন। তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তাদের আমাদের পাশে পাওয়া যায়নি।

    এসব তথ্য-উপাত্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করার পরও তাকেসহ ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটির অন্তর্ভুক্ত করে আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলন চলাকালে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের অনেককে বাদ দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে সদ্য গঠিত কমিটি বাতিলের দাবি এবং আমরা মুখ্য সচিব ও সমন্বয়কসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ দাবি করছি।

    এ ব্যাপারে মুখ্য সংগঠক আনিকা আক্তার বলেন, আন্দোলনের বিষয়টি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা আপনাদের অবহিত করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা কাউকে পাশে পাইনি। তখন আমাদের কোনো বড় ভাই আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক কষ্ট করে আন্দোলন করেছি। আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

    তখন ধামরাই পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল হোসেন ছাত্রলীগের পক্ষে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করেছি। এ সত্ত্বেও তাকেসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ওই উজ্জ্বল হোসেনকে আহবায়ক করে ১৯ ফেব্রুয়ারি ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই প্রতিবাদে আমাদের পদত্যাগ এবং ওই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।

    এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়ক পিয়াস মাহমুদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছি। অথচ আমাদের মূল্যায়ন না করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য তাদের নিয়ে ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা বারবার অবহিত করার পরও তারা আমাদের কথায় কাউকে বাদ দেয়নি।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছেন বলে জানান ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন আহমেদ অনিক।

  • উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রায় বাধা

    উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রায় বাধা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে গণপদযাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ গণপদযাত্রা শুরু হয়ে টিএসসি পেরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে এগিয়ে যায়।

    বেলা তিনটার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলকারীদের আটকে দেয়। এ সময় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী-তরুণদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি। আন্দোলনকারীরা পুলিশের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেছে। তবে পুলিশের বাধার মুখে সামনে সচিবালয়ের দিকে এগুতে পারেনি। পরে রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেলা সোয়া ২টার দিকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

    জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবিলম্বে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচার এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এ গণপদযাত্রা হচ্ছে।

    পদযাত্রা শুরুর আগে শহীদ মিনারে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ‘পুরুষের ক্ষমতা, ভেঙে হোক সমতা’, ‘নারী থেকে নারীতে, ছুঁয়ে যাক প্রতিবাদ’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়া হয়।

    এর আগে শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির মূল ব্যানার ও বিভিন্ন পোস্টার-প্ল্যাকার্ড লিখেন। এ সময় পোস্টার-প্ল্যাকার্ডে ‘পাহাড় থেকে সমতল, সকল ধর্ষণের বিচার চাই’, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ধর্ষণের রাজনীতি’,‘আমরা জন্ম থেকে শহীদ’, ‘তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার কই’—ইত্যাদি প্রতিবাদী স্লোগান লেখা হয়।

    পদযাত্রায় আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। উপদেষ্টার নেতৃত্বে থাকা পুলিশও নির্লিপ্ত। এ অবস্থায় নারীরা অনিরাপদ। তাই আমরা চাই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে গদি ছেড়ে দেবেন। গণঅভ্যুত্থানের পর যেমন বাংলাদেশ আশা করা হয়েছিল, তেমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই রাজপথে নেমেছি।