অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ায় মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী বিএনপি নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
সাজা হওয়ার প্রায় ৭ বছর পরে রোববার (২৫ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের জনতা বাজার থেকে তাকে আটক করে।
সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬ পদাতিক ব্রিগেডের অর্ন্তগত ৬২ ইস্ট বেঙ্গল এর দায়িত্বপূর্ন এলাকা বানারীপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন লেফটেন্যান্ট মোঃ মাহফুজুর রহমান ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ করিমুলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতে তাকে বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নাসির উদ্দিন পশ্চিম ইলুহার গ্রামের মৃত মোঃ আকবর আলীর ছেলে ও উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) সকালে তাকে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মাদক মামলা সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর নাসির উদ্দিন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে র্যাবের হাতে ৮শ’ পিস ইয়াবা ও দুটি মুঠোফোনসহ গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাস করেন।
র্যাব-১০’র কর্পোরাল কেনেডী বড়ুয়া বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানায় মাদক দ্রব্য আইনে তখন মামলা দায়ের করেন।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারী ওই মামলার রায়ে তার ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের জেলের সাজা দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় জামিনে বের হয়ে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে একই সঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। ধূূর্ত নাসির উদ্দিনকে গত প্রায় ৭ বছরেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী নাসির উদ্দিন তিনি নন এ মর্মে ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন নিয়ে ধুরন্ধর নাসির উদ্দিন পুলিশ ও আদালতকে বিভ্রান্ত করে এতদিন গ্রেফতার এড়িয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে গত বছরের (২০২৫ সাল) ১২ মে একই আদালত তার বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে প্রতিপক্ষদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।
প্রসঙ্গত, নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক ধরে কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের বিশাল চালান এনে বিস্তৃত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বানারীপাড়াসহ সারা দেশে সরবরাহ করে যুবসমাজকে ধংশের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।















