স্টাফ রিপোর্টার// মোঃ হানিফ হাওলাদার(রিয়াজ) বাকেরগঞ্জের ভরপাশা রঘুনাথপুর গ্রামের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নিহত ১জন আহত ৩জন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত গুরতর আহত হওয়া মনির মল্লিকের আজ রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত হয় ও ইতি বেগম (১৮) মুমূর্ষ অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অপর আহত নাজমা বেগম (৩৪) ও রিমি আক্তার (২৪) প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত মনির মল্লিক ভরপাশা গ্রামের মৃত চাঁন মল্লিকের ছেলে ও আহত ইতি বেগম নিহত মনির মল্লিকের ছোট ভাই শামিম মল্লিকের স্ত্রী। আহত সূত্রে জানা গেছে মনির মল্লিক গংদের সাথে প্রতিপক্ষ হাসেম মল্লিক গংদের দীর্ঘদিন থেকে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।এ নিয়ে স্থানীয় মেম্বার এর মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ মীমাংসা ডাকা হলেও হাসেম মল্লিক গংরা সালিশ মীমাংসা প্রত্যাখ্যান করে। পরে মনির মল্লিক গংরা বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই হুমায়ুন ও এস আই মনির উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিসি মিমাংশা করার উদ্দেশ্যে ৬ দিন জমিজমা মাপামাপি করে সালিশ মীমাংসার ব্যবস্থা করলে প্রতিপক্ষ হাসেম মল্লিকের মন মত না হওয়ায় সালিশ না মেনে সেখান থেকে চলে যায়। পরে তারা হাসেম মল্লিক গংদের বিরুদ্ধে একটি ৭ ধারা মামলা দায়ের করে।এদিকে জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ হাসেম মল্লিক গংরা একাধিকবার নিহত’র পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ে আসছিল। সালিসি বানচালের পরে প্রায় মাসখানেক আগে আহতের বড় ভাই বাদল মল্লিককে বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তায় প্রতিপক্ষরা পথরোধ করে মারধর করে গুরুতর জখম করে। এরপর বাদল মল্লিক বাকেরগঞ্জ থানায় আরো একটি অভিযোগ দায়ের করে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকলে সেখানে হাসেম মল্লিক গংরা পুলিশকে তোয়াক্কা না করে তাদের ক্ষমতা দেখিয়ে থানায় উপস্থিত হয়নি বলে জানিয়েছন নিহত’র স্বজনরা। এখানেই ক্ষান্ত নয় প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে আহতদের বাড়িঘরে ইটপাটকেল মেরে ভয়ভীতি সৃস্টি করে আসছিল। গেছে রবিবার ২তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মনির মল্লিক মির্জাগঞ্জ চরখালী বাজারে চুল কাটার উদ্দেশ্যে গেলে প্রতিপক্ষ হাসেম মল্লিকের গংয়েরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনির মল্লিক এর উপর হামলা চালায়। এসময় হায়দার মল্লিক, কামাল মল্লিক, স্বপন মৃধা,সোহরাব মৃধা, শমসের মল্লিক, ওমর ফারুক,ও হাসেম মল্লিক সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন বগিদা রামদা রড ও চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য করে মনির মল্লিককে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে মনির মল্লিককে মৃত্যু ভেবে সেখানে ফেলে রেখে মনির মল্লিকের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও লুটপাট চালায়। এতে গৃহবধূ ইতি বেগম, নাজমা বেগম, ও রিমি আক্তার গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা মনির মল্লিক সহ- আহতদের মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন ০৪/০১/২২ তারিখ মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডক্টর মনির মল্লিক কে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ঢাকা নেওয়ার পথে মাদারীপুর থাকা অবস্তায় রাত অনুমান ১:৪০ মিনিটের সময় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদারীপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা এসময় মাদারীপুর হাসপাতালের ডক্টর মনির মল্লিককে নিহত ঘোষণা করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় বর্তমানে মনির মল্লিকের মৃতদেহ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এদিকে প্রতিপক্ষরা নিজেদের দায় এড়াতে ও নিহত’র পরিবারকে ফাঁসাতে মামলার ৪নং বিবাদী সোহরাফ মৃধা নামের এক হামলাকারীকে নিজেরাই মারধোর করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহত মনির মল্লিক ও তার পরিবারের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী জানায় এলাকাবাসী ও নিহত’র আত্মীয়-স্বজনরা।
মির্জাগঞ্জ থানায় মনির মল্লিকের ভাই হত্যা মামলা দায়ের করে হত্যা মামলার ৬নং আসামী সোহরাব মৃধা পুলিশের হেফাজতে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে

















