বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে অতি দ্রুত বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত,
বরিশাল উত্তর জেলা
যুবদলের পদ পেতে মরিয়া বিএনপি নেতারা!
সাংগঠনিক ব্যর্থতার অভিযোগে বিলুপ্ত হওয়া বরিশাল উত্তর জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোর চলছে।
আর নতুন এই নেতৃত্ব পেতে সাবেক ব্যর্থ কমিটির ব্যর্থ, বিতর্কিত এবং বিএনপির শীর্ষ পদধারী নেতারা জোড় তদ্বির চালাচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
এক প্রকার জেলা যুবদলের শীর্ষ দুই পদে আসার জন্য মরিয়া তৃনমূল থেকে বিচ্ছিন্ন একাধীক নেতা।
এদিকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির ইতি টানা সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃনমূল পর্যায়ে বেশিরভাগই যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
কিন্তু বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের আগামীর নতুন নেতৃত্ব গঠনে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে অনেক ক্লিন ইমেজধারী পদপ্রত্যাশী হলেও তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে পদবঞ্চিত করার পায়তারা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং একাধীক অভিযোগের
এবং একাধীক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের ৫ সদস্যের (সুপার ফাইভ) কমিটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় যুবদল।
ওই কমিটি বাতিল করার পরপরই কেন্দ্র বরিশাল বিভাগীয় টিমের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গঠনের জন্য পদপ্রত্যাশী নেতাদের আবেদন সংগ্রহ করেন।
জানা যায়, নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের গত রবিবার কেন্দ্রীয় বিএনপি কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য ডেকে পাঠান যুবদলের কেন্দ্রীয় এবং বিভাগীয় টিম।
বরিশাল বিভাগীয় টিমের দায়িত্বশীল এক সদস্য জানান, বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলে যারা পদপ্রত্যাশী তাদের মধ্যে বেশীরভাগ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে শীর্ষ পদধারী।
তাদেরকে যুবদলের পদে বসানো হলে বিগত দিনে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া নেতাকর্মীরা দলের আগামীদিনের কার্যক্রম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তাতে সংগঠন যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তেমনি তৃনমূলের নেতাকর্মী ধরে রাখা অসম্ভব হবে বলে জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই যুবদল নেতা।
সংগঠনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেলা যুবদলের শীর্ষ (আহবায়ক/সভাপতি) পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যারা গত রবিবার কেন্দ্রে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাদের মধ্যে কাজী কামাল হোসেন জেলার মুলাদী উপজেলার পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।
তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির অভিযোগ- অধিকাংশ সময় রাজধানীতে তার বসবাস। দলীয় কর্মকান্ডে তার দেখা মেলেনা। অধিকাংশ সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করার গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে 2008 সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ওপেন এ কাজ করেন সে সময় দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় এমনকি বর্তমান পৌরসভার নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তার সম্পর্কে যুবদলের এক নেতাকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস তুলে ধরেন
শীর্ষ পদপ্রত্যাশী কাজী কামাল সম্পর্কে তাঁর লেখা
তার সম্পর্কে খোকন শরীফ নামের ১ জন এ ভাবে তুলে ধরেন,
কাজী কামাল বিএনপির মূল দলের যুগ্ম সম্পাদক মুলাদী পৌরসভার।
আজ ১২ যাবত বিএনপি’র এই পথ ব্যবহার করার পরেও আজ কেন এই পদত্যাগের নাটক করে যুবদলের রাজধানীতে ব্যাক করতে হবে নিশ্চিত এতো দূর্বল হয়ে যায় নি যে মূল দল থেকে এনে তাকে যুবদলের বড় পোস্ট দিতে হবে?
পাঁচটি থানায় যুবদলের ত্যাগী নেতা আছে না! সাবেক ছাত্রনেতা রয়েছে এবং বর্তমান যারা যুবদল করেছে,সংগ্রাম করেছে,গুলি খেয়েছে,জেল খেটেছে তাদের কে পোস্ট দেন।
আপনারা অভিভাবক,ঈমানদার ত্যাগী নেতা। ঈমান দিয়ে বিচার করে দায়িত্ব পালন করছেন।আপনার বিবেক কে প্রশ্ন করে দেখেন এই পোস্ট পাওয়ার উপযুক্ত কে।
আপনার ভুল সিদ্ধান্তে কয়েকটি ছেলে রাজনীতি নষ্ট হয়ে যাবে যারা গুলি খেয়েছে,জেল খেটেছে,লক্ষ লক্ষ টাকা দলের জন্য নেতাকর্মীদের চালিয়ে রেখেছেন।
দল করতে সাহস দরকার, ভালো বক্তা দরকার, শিক্ষিত লোক প্রয়োজন এবং থানায় কার পেশি শক্তি আছে, ১২ বছর বিএনপি’র পদ পরিচয় দিয়ে এখন পদত্যাগ নাটক করে যুবদলের পদে আসীন হওয়ার চেষ্টায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভালো চোখে দেখছে না
কাজী কামালের সাথে কথা বলার জন্য তার ব্যবহৃত সেলফোনে একাধীকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ব্যর্থ কমিটির একজন সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির দেওয়ান পেশায় একজন আইনজীবী সব সময় তিনি ঢাকায় আইন পেশায় নিয়োজিত তাছাড়া তিনি হিজলা উপজেলা বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক পদবিটি ব্যবহার করেন ,
অভিযোগের বিষয়ে দেওয়ান মনির বলেন, আমি ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। যোগ্যতার কারণে আমাকে বিএনপিতে পদ দেওয়া হয়েছে। যুবদলের অন্য পদ প্রত্যাশীরা আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ তুলছে।
সালাহউদ্দিন পিপলু। বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। পূর্বের কমিটিতে পদ পেয়ে তিনি অনেকটা ঘর বন্ধি হয়ে পড়েছেন রাজনীতি থেকে। এছাড়া সাবেক কমিটির সভাপতির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে অর্থের বিনিময়ে জেলা ও উপজেলা কমিটিতে পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অর্থ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগের কারণেই মূলত কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের কমিটি বিলুপ্ত করেছে। পিপলুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তার বড় ভাই লঞ্চ ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগ নেতা স্বপন জমদ্দার ১/১১ সরকারের মেয়াদে তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে টেলিভিশনে বিষেদাগার করেছেন। সে সময় তার বড় ভাই কোক লন্ঝ ঘাটে ভিড়তে দেয়নি এবং আরাফাত রহমান কোক গ্রেপ্তার হলে লঞ্চ ব্যবসায়ীরা অভিশাপমুক্ত হয়েছে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখেন,
পিপলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে- তার রাজনীতিতে যারা বিরোধীতা করে তাদেরকে বড় ভাই স্বপন জমদ্দারের মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাদের মাধ্যমে দমন-পিড়ন করা।
তাছাড়া তার নামে ১ টা মাদকদ্রব্য মামলা চলমান,, তাদের নারকীয় হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরন করেছে স্থানীয় অনেক নেতা,সরকারি দলের যোগসূত্রে পরিবারের তিন ভাই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে তাদের দাপটে বিএনপি’র তৃণমুলের নেতাকর্মীরা আতঙ্কগ্রস্থ থাকেন,
অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন পিপলু জানান, রাজনীতিতে প্রত্যেকটা লোকের প্রতিপক্ষ থাকে। আমার প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। সদস্য-সচিব প্রার্থী আসাদুজ্জামান লাভলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ঢাকা থাকার অভিযোগ ,রাজপথে তেমন একটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে না,
এলাকার বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছ থেকে অর্থ ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার মতো নোংরা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে, আরেক আহ্বায়ক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুজন যদিও বরিশালের রাজপথের সকলের পরিচিত মুখ কিন্তু ভাগ্যাহত,
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক এই যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমান কমিটির আহবায়ক প্রার্থী, প্রভাবশালী ছাত্র নেতার পদে আসীন রয়েছে বয়সের প্রতিবন্ধকতা,
এ ছাড়া আহ্বায়ক প্রার্থী ভূইয়া স্বপন,স্বপন শরীফ,মাসুদ আছেন যদিও তারা রাজপথে তেমন ভূমিকা চোখে পড়ার মতো নয় এবং অতীতেও বড় কোন পদে আসীন ছিলেন না
এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন ওই কমিটিতে পদ লাভের আশায় দলের শীর্ষ নেতাদের ধারস্থ হচ্ছেন। যাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান ধরনের বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ।
