বোরকা পরে বাড়ি থেকে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৯ জুন) তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- শিল্পী বেগম (৪০) ও তার সহযোগী সেতু (২০)।
এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল থেকে মেয়েটির ওপর কয়েকবার হামলা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বোরকা পরা চার ব্যক্তি বাড়ি থেকে মেয়েটিকে ধরে পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
ওই ছাত্রীর বাবা জানান, গত ১২ এপ্রিল দুপুরে তাঁর মেয়ে সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে একটি রিকশায় নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। রিকশাটি বাড়ির পার্শ্ববর্তী দেওয়ানপাড়া মোড়ে পৌঁছলে অজ্ঞাতপরিচয় চার ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে রিকশা থেকে নামিয়ে টেনেহিঁচড়ে পাশের জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে মারধর করে এবং চাকুর ভয় দেখিয়ে তার পোশাক লণ্ডভণ্ড করে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করে এবং ওই ছবি আসামি শিল্পী বেগমের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তী সময়ে আসামি শিল্পী ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর মেয়ের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের বাড়িতে বোরকা পরিহিত অজ্ঞাতপরিচিত চার ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা মেয়ের মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনে থাকা একটি পাটক্ষেতের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওড়না দিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে শরীরের সামনের অংশ সামান্য পুড়ে যায়। তখন সে জীবন রক্ষার্থে মাটিতে গড়াগড়ি করে। সে সময় মেয়ের গোঙানির শব্দে তার মাসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে যায় এবং তার শরীরের আগুন নেভায়। পরে তাকে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, রবিবার সকালে প্রধান আসামি শিল্পী বেগম ও তার এক সহযোগী সেতুকে (২০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। যে কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। ইতোমধ্যেই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ, এর আগে গত এপ্রিল মাসে একই কায়দায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা করা হয়। সে মামলায় সব আসামিদের আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিচার এখনও চলছে।
