নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: স্বামীকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্ত্রী। এতেই বিপাকে পরতে হয়েছে গৃহবধূ কহিনুর বেগমকে (৩৮)। বিষয়টি মিমাংসার নামে কথিত সালিশ বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্যর হুকুমে ওই গৃহবধূ ও তার মেয়েকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
আহত মা ও মেয়েকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার হিজলা উপজেলায় বরজালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামে।
সোমবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গ্রামের শুক্কুর আলী রাঢ়ীর স্ত্রী কহিনুর বেগম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন থেকে প্রতিবেশী এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন।
বিষয়টি জানার পর একাধিকবার তিনি তার স্বামীকে ফেরাতে ব্যর্থ হন। উপায়ন্তু না পেয়ে অতিসম্প্রতি তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কহিনুর বেগম আরও জানান, বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝন্টু বেপারী গত ১৬ জুলাই দিবাগত রাতে কথিত সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।
বৈঠকের শুরুতেই তাকে (ইউপি সদস্য) না জানিয়ে কেন আমি থানায় অভিযোগ করেছি, সেজন্য আমাকে দোষী করা হয়। এ অপরাধে ইউপি সদস্যর নির্দেশে স্থানীয় ছাত্তার গাজীসহ অন্যান্যরা আমাকে মারধর শুরু করে। এসময় আমাকে রক্ষার জন্য মেয়ে রুবিনা আক্তার (১৪) এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই গ্রামের বাসিন্দা আনছার আলী কাজী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমি মারধরের বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকেও মারধর করেছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ইউপি সদস্য ঝন্টু বেপারীর সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে হিজলা থানার ওসি মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন, মা ও মেয়েকে মারধরের সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতাদের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে আইনী সহায়তা করা হবে।


















