সরকারি বরিশাল কলেজের নাম পরিবর্তন করে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত্বে¡র নামে করার পক্ষে-বিপক্ষে উত্তপ্ত বরিশালের রাজপথ। কলেজের নাম অপরিবর্তিত রাখার দাবীতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
অপরদিকে কলেজের নাম পরিবর্তন করে অশ্বিনী কুমারের নামে করার দাবীতে সাংস্কৃতিক ও সুশীলদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন এবং কমিটি গঠন করেছে। এই ইস্যুতে এবার একই স্থানে পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টিতে কর্মসূচীতে উত্তাপ ছড়ায় বরিশালের রাজপথে।
অশ্বিনী কুমারের নামে কলেজের নাম করনের দাবীতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১ টায় নগরীর সদর রোডে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে জেলা বাসদ সহ ৭টি সংগঠন। একই সময়ে সদর রোডের অপরপাশে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে কলেজের নাম অপরিবর্তিত রাখার দাবীতে গনসাক্ষর সংগ্রহ এবং সমাবেশ করেন কলেরে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে সাময়িক উত্তাপ ছড়ায় নগরীর সদর রোডে। তবে পুলিশ সতর্ক থাকায় কোন অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃস্টি হয়নি।
সদর রোডে পশ্চিমপাশে বাসদ সহ অন্যান্য ৭টি সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশে অশ্বিনী কুমারের বসত ভিটায় প্রতিষ্ঠিত সরকারি বরিশাল কলেজের নামকারন তার নামে করার দাবী জানানো হয়। এই দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন বাসদ নেতারা।এদিকে কলেজের নাম অপরিবর্তিত রাখার দাবীতে একই সময় সদর রোডের পূর্ব পাশে মঞ্চ করে গনসাক্ষর আদায় কর্মসূচী পালন করেন কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। ওই কলেজের সাবেক ভিপি মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর সহ ক্ষমতাসীন দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে গনসাক্ষর আদায় কর্মসূচীতে ব্যাপক সমাগম হয়। এতে পুরো সদর রোডে অচলাবস্থার সৃস্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারন মানুষ।
গনসাক্ষর আদায় কর্মসূচীর সমাবেশে ওই কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, এই কলেজের সাথে তাদের আবেগ-অস্তিত্ব জড়িত। জেলা প্রশাসন কিছু লোকের পরামর্শে ব্যক্তিগতভাবে এটা করেছে। গুরুত্বপূর্ন ইস্যুতে সব দল-মতের মতামত নিলে আজ এই পরিস্থিতির সৃস্টি হতো না। নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তারা কোনভাবেই মানবেন না। এর বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
দুই পক্ষের কর্মসূচী ঘিরে দেড় ঘন্টার অসহনীয় জানজট ও উত্তেজনার পর স্বাভাবিক হয় সদর রোডের পরিস্থিতি। এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায় নগরবাসী।
