পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরের গুলশান রোডের একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশের কোন তৎপরতা না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করে দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।গত ৯ জুলাই
বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে সংঘবদ্ধ চোরচক্র টিভি, ফ্রিজ, সেলাই মেশিন এমনকি পরনের কাপড়চোপড় পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ঘটনার সময় ওই বাড়ির মালিক সিরাজুল হক শরীফ ও তার স্ত্রী দিলারা হক বরিশালে তার মেয়ের বাড়িতে ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিরাজুল হক ও দিলারা হক দম্পতি পৌরশহরের ৭ নং ওয়ার্ডের ভিআইপি এলাকা গুলশান সড়কে বসবাস করেন। কয়েকদিন আগে বাউফলের বাসা তালাবদ্ধ করে বরিশালে তারা মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। গত ৯ জুলাই বিকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন তাদের বাসার পেছনের দেয়াল ভাঙা। এরপর তারা দ্রুত বরিশাল থেকে বাউফলে বাসায় ফিরে দরজা খুলে দেখতে পান সংসারের প্রয়োজনীয় কিছুই নেই। দেয়াল ভেঙ্গে চোরচক্র সবকিছু নিয়ে গেছে। দিলারা হক স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, চোরচক্র টিভি, ফ্রিজ, সেলাই মেশিন, দলিলপত্র, খাট, চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার, সিলিং ফ্যান, হাড়ি-পাতিলসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশের পরামর্শে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ফলাফল পাইনি। দিলারা হকের জামাতা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি বাউফলে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তাদের তৎপরতায় আমি পুরোপুরি হতাশ। কারণ যা হচ্ছে তার সাথে বর্তমান পুলিশিং সিস্টেমের সাথে কোন মিল নেই। পুলিশ তৎপর হলে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করি। এছাড়া ঘরের ফ্যান, বাল্বসহ রান্নার সামগ্রী চুরি হওয়ায় বিষয়টিকে আমি শত্রুতাবশত কাজ বলে মনে করছি।
বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, বাসাটি অনেকদিন ফাঁকা ছিল। আমরা চোর শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত অপরাধী সনাক্তের মাধ্যমে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

















