শেখ সুমন :
সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বরিশাল সিটিকর্পোরেশনের নব নির্বাচিত নগর পিতা। জন মানুষের আস্থাভাজন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন জনগন। কারন, নির্বাচনের আগে তিনি অনেক অঙ্গিকার করেছেন । এখনও তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়রের আসনে অধিষ্ঠিত হননি। কিন্তু তার আগেই তিনি অঙ্গিকার পূরনের চেষ্টা করছেন।
বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী নগরবাসীর দুয়ারে কড়া নাড়ার বিষয়টি বেশি মাত্রায় আলোচিত হচ্ছে। অবশ্য এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক পরিবারের গৃহবধূ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র স্ত্রী লিপি আবদুল্লাও। শহরের অবহেলিত এলাকার মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করে সুখ-দু:খের জীবন কাহিনি শুনছেন তিনি। মেয়রপত্নী কীর্তনখোলার তীরবর্তী রসুলপুর কলোনিতে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছেন। পাশাপাশি স্বামীর ওপর আস্থা রাখার আশ্বাস দিয়ে তার পাশে থাকার আহ্বান করেন।
একইভাবে মেয়র সাদিক ও জনগণের বাসাবাড়িতে গিয়ে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলে গেলেন শহরের কাউনিয়া এলাকার হরিজন পল্লীতে। সেখানে বসবাসরত মানুষের খোঁজ খবর নিয়েছেন তিনি। অবশ্য এই কলোনির বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে নির্বাচনের আগে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। পর্যায়ক্রমে নগরীর সকলের সাথে তিনি ও তার স্ত্রী কুশল বিনিময় করবেন বলেও জানা গেছে। নির্বাচিত হয়ে নগরভবনের দায়িত্ব না নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ এই প্রথম বরিশালের কোনো মেয়র সৃষ্টি করলেন।
বিগত সময়ে নির্বাচনপূর্ব প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দেখালেও পরবর্তীতে তাদের পাশে পায়নি নগরবাসী। অবশ্য সাদিকও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে জোরতর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার আঁচ পাওয়া গেছে। নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাজনৈতিক ঝুটঝামেলা এড়াতে ইতিমধ্যে সাদিক নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন। অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনার দায়ভার তিনি নিতে নারাজ, সেই বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে দ্বন্দ্ব সংঘাত বা বিতর্কিতমূলক কর্মকান্ড থেকে সকল নেতাকর্মীকে সেইভ সাইডে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তরুণ এই মেয়র।
এরপরেও যদি কোনো নেতাকর্মী অস্বাভাবিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে দল বা জাতির জনকের সুনাম ম্লান করার অপতৎপরতা দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন তিনি। সংগত কারণে ধারণা করা হচ্ছে, সাদিক সতর্কভাবে পথ চলতে চাইছেন। বরিশালের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মেয়রের এই কৌশলী পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সচেতন মহল।
