18 C
Dhaka
January 25, 2026
Bangla Online News Banglarmukh24.com
জেলার সংবাদ দূর্ঘটনা বরিশাল

চলতি বছরে বরিশাল বিভাগে পানিতে ডুবে ৬১ জনের মৃত্যু

 খাল-বিলের পানি বাড়তে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় পুকুর-ডোবা তাও প্রায় ডুবে গেছে। ভরাজলে মাছ ধরার ছবি ছাপা হচ্ছে কাগজে কাগজে। অনেক জায়গায় প্রবল পানির স্রোতে বসতঘরও আস্ত নেই। তার উপর পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর খবরেরও যেন ঘাটতি নেই।
চলতি বছরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর খবর এসেছে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। আবার এসব দুর্ঘটনার অনেক খবর মিডিয়ার অগোচরে থেকে যায়। বরিশালে এখন প্রতিবছর প্রায় শতাধিক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এটা পাঁচ বছরের কম বয়সী মোট শিশু মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি। প্রতিষেধকের আবিষ্কার আর টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য অসুখ-বিসুখে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কিন্তু সে জায়গা এখন দখল করছে নানা রকমের দুর্ঘটনা। যেখানে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে রয়েছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু। ২০১৯ সালের ঘটনাপুঞ্জিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন পানিতে ডুবে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। নদীতে বা পুকুরে ডুবে সবাই মারা যাচ্ছে না। অনেক পৌর শহরে বাথরুমে পানি ধরে রাখা বালতিতে ডুবে মারা যাওয়ার মর্মান্তিক খবরও রয়েছে।
সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট বরিশাল সদর উপজেলার চরকরনজি গ্রামে আবু রায়হানের ছেলে রিয়ান পুকুরে ডুবে মারা যায় ও একই দিন সকালে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে সবুজ মাঝি(১৬) নামে এক মৃগী রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
অনেক খবরে দেখা যায় একটি নয়, শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে জোড়ায় জোড়ায়। যেমন উদয় বেপারীর দুর্ঘটনার আগে ১৬ এপ্রিল বরিশাল হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে মামাতো-ফুফাতো বোন ইভা আর রাইশা বাড়ির ঠিক পাশেই পুকুরে পড়ে মারা যায়।ধারণা করা যায়, দুজন একসঙ্গে খেলতে খেলতে কেউ একজন পুকুরে পড়ে গেলে আরেকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে দুজনেরই মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের মে মাসে ঠিক এমনটি ঘটেছিল পটুয়াখালীতে। দুই চাচাতো বোন শাহানাজ (৪) আর ফাতেমা (৫) বাড়ির পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। প্রথমে শাহানাজ পানিতে পড়ে গেলে ফাতেমা তাকে উদ্ধারের জন্য পানিতে লাফিয়ে পড়লে দুজনেই ডুবে মারা যায়।কিন্তু তাদের আরেক খেলার সাথী মিম সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বেঁচে যায়। আপন চাচাতো ভাইবোন ছাড়াও নানাবাড়ি বা দাদাবাড়ি কিংবা মামার বাড়ি ঈদ কিংবা অন্যান্য উৎসবে বেড়াতে এসে মামাতো-ফুফাতো বা খালাতো-চাচাতো ভাইবোনের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার কথা হরহামেশা খবরে আসছে।
চলতি বছরের ৪ মার্চ ভোলা সদরের পূর্ব চরকাজি গ্রামে মনোয়ারা বেগম (৫০) ও শারমিন আক্তার (১৯) নামের দুই গৃহবধূ খালে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরে পানিতে ডুবে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদের মধ্যে ৫৫ জন হচ্ছে শিশু ও কিশোর। বরিশাল নগরের কাশিপুরের শিার্থী শফিকুল ইসলাম(২২) ও চরকরনজী গ্রামের রিয়ান,বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ইয়াসিন (৩),আগৈলঝাড়া উপজেলায় উদয় বেপারী(৫), জোবায়ের(২), বিথী(৩),নিটুল(১), উজিরপুর উপজেলায় হাফিজ(২),প্রমী পান্ডে(৬),গৌরনদী উপজেলায় মারুফ সিকদার (৫), হিজলা উপজেলায় মামাতো-ফুফাতো বোন ইভা আক্তার ও রাইশা আক্তারের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। মুলাদী উপজেলায় ওমর আলী(২),বানারীপাড়া উপজেলায় জিহাদ হোসেন(৭),বাবুগঞ্জ উপজেলায় সারামনি(২), মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ইব্রাহিম বিশ্বাস (৭), সোলায়মান বিশ্বাস(৫)ও সবুজ মাঝি(১৬)। পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রুমী(৭),হবিব(৫),ফাহিমা(৫), সাজিম (৩), ওমর ফারুক (৪), কলাপাড়া উপজেলায় আব্দুর রহমান আকন (৭৫), সারামনি (২),ফাইজুল করিম (৮), আল আরাফাত(৫), জিদনী(২),আব্দুল্লাহ(৩), ফাতেমা (৭),শাহনাজ (৮),হাফিজুল (২),শাহানাজ (৪), ফাতেমা (৫), আমানুল্লাহ(২), গলাচিপা উপজেলায় শাহরিয়ার শাওন (৭), সিফাত (৬),মরিয়ম আক্তার মৌসুমী (৬),বাউফল উপজেলায় আবু সুফিয়ান (৩), রাঙ্গাবালী উপজেলায় আব্দুল আলী (২), দুমকি উপজেলায় রুবেল(১৭), দশমিনা উপজেলায় মোসাম্মত খাদিজা (২), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় আল আমিন(৫),দুর্জয় (০২), বামনা উপজেলায় বাইজিদ (৬),মোঃ হৃদয়(৮),আমতলী উপজেলায় ইমন খাঁন (১৭), ভোলা সদর উপজেলায় মনোয়ারা বেগম (৫০) ও শারমিন আক্তার (১৯), দৌলতখানে রাবেয়া (২),লালমোহনে মো. সিয়াম (৫),নূর হাফেজ (৪), পিরোজপুর সদর উপজেলায় সেতু আক্তার (১০),কাউখালী উপজেলায় মুরসালিন(৫),নওয়াব আলী (৬০), মঠবাড়িয়া উপজেলায় মুন্নি আক্তার (১৫)। এছাড়াও ঝালকাঠী রাজাপুর উপজেলায় খাদিজা আক্তার (৬),সানিহা আক্তার(৫),কাঁঠালিয়া উপজেলায় জিসান (২),জাহিদ হাসান (৫),নলছিটি উপজেলায় সামিরা আক্তার (৩) পানিতে ডুবে মারা গেছে।
দেখা গেছে, বেশির ভাগ ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের খুব কাছে এক শ থেকে দেড় শ গজের মধ্যে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। ডুবে মারা যাওয়ার সময়টাও কাকতালীয়ভাবে খুব কাছাকাছি। বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যে মায়েরা রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত থাকেন। শিশু একটু চোখের আড়াল হলে এই সময় বিপত্তি ঘটে যাচ্ছে। ঘরে কাজ করার সময় মা তাঁর ছোট্ট শিশুকে শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখছেন । আবার কেউ বিভিন্ন পাত্রের(গামলা) মধ্যে শিশুকে বসিয়ে কাজ করছেন। ঘরের দরজার(চৌকাঠ) সঙ্গে ছোট ছোট কাঠ দিয়ে পেরেক মেরে দিয়েছন। যেন অল্পতে শিশুরা ঘরের বাইরে যেতে না পারে।  যদিও এগুলো হচ্ছে নিরুপায় মায়ের এক জুতসই সমাধান।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ এর সঙ্গে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি বলেন,“এসব দুর্ঘটনা রোধে সবার আগে সচেতন হতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি শ্রেণী কক্ষে শিশুদের নিয়ে কাউন্সিলিং করেন তাহলে এসব মৃত্যুর হাত থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব হবে।
আব্দুল লতিফ বলেন, বরিশালে একটি বেসরকারি সংস্থা এক্ষেত্রে পরীামূলকভাবে একটা সামাজিক ব্যবস্থপনা গড়ে তুলেছে । তিনি মনে করেন স্থনীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে সমাজের সবার অংশগ্রহণে এই প্রক্রিয়ার একটা স্থায়ী রূপ দিতে হবে।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন এসব দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের আওতায় এনে সহায়

সম্পর্কিত পোস্ট

সহকর্মীদের চোখের জলে সাংবাদিক তুষারের শেষ বিদায়

banglarmukh official

বরিশালে যুবলীগ কর্মীর তাণ্ডব: মা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম

banglarmukh official

সাতলায় বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে আ’লীগ নেতা মিজানকে অর্থের বিনিময়ে দলীয় সনদপত্র প্রদান করার অভিযোগ

banglarmukh official

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম পুলিশের বসত ঘরে ভাংচুর

banglarmukh official

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ উপহার দিলো ছাত্রদল

banglarmukh official

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

banglarmukh official