16 C
Dhaka
January 25, 2026
Bangla Online News Banglarmukh24.com
অপরাধ জেলার সংবাদ প্রশাসন

যে কারণে আদরের সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করলেন বাবা

অনলাইন ডেস্ক:

মূলত নিজেকে বাঁচাতে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু তুহিনকে হত্যা করেছেন বাবা আব্দুল বাছির। তুহিনকে হত্যায় বাবার সঙ্গে অংশ নিয়েছেন চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার।

ঘটনার দিন শিশু তুহিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবা আব্দুল বাছির ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর তুহিনের বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাই মিলে হত্যা করেন। এরপর তুহিনের পেটে দুটি ছুরি বিদ্ধ করে গাছে ঝুলিয়ে দেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মূলত প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর সঙ্গে আছে পারিবারিক বিরোধ। তুহিন হত্যায় অংশ নেয়া বাবা-চাচা এবং চাচাতো ভাই আগে থেকেই হত্যা মামলার আসামি।

তুহিনের বাবা একটি হত্যা মামলার পাশাপাশি আরও দুটি মামলার আসামি। এই এলাকায় আরও দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ওসব মামলার আসামি তুহিনের বাবা-চাচা এবং চাচাতো ভাইসহ অন্যরা। তবে তুহিন হত্যায় জড়িত মূলত তিনজন। তারা হলেন বাবা আব্দুল বাছির, চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। মূলত প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই তুহিন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ ও হত্যা মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে সন্তান তুহিনকে বলি দিয়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আগে থেকেই আব্দুল বাছির প্রতিপক্ষের করা হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তুহিনের বাবা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে শিশু তুহিনের পরিবারের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০০৫ সালে ওই গ্রামে মুজিব নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। নিহত মুজিব আনোয়ার মেম্বারের আত্মীয়। এরপর ২০১৫ সালে নিলুফা নামে এক নারীকে হত্যা করা হয়। নিহত নিলুফা তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরের আত্মীয়। তবে দুটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে যান তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির।

এ নিয়ে গ্রামে মারাত্মক বিরোধ দেখা দেয়। নিলুফা হত্যা হামলায় আসামি হওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল বাছিরের সঙ্গে আনোয়ার মেম্বারের পরিবার বিভক্ত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে গ্রামে শুরু হয় আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। মাঝে দীর্ঘদিন তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে না এলেও শিশু তুহিন হত্যাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ পায় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।

এদিকে, তুহিন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিতে ছালাতুল ও সোলেমান নামে দুজনের নাম লেখা রয়েছে। তারা দুজন মূলত আনোয়ার মেম্বারের লোক। ছুরিতে প্রতিপক্ষের দুজনের নাম লেখা দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় পূর্ববিরোধকে কেন্দ্রে করে তুহিন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ছুরিতে যে দুই ব্যক্তির নাম লেখা রয়েছে তারা মূলত আনোয়ার মেম্বারের লোক এবং তুহিনের পরিবারের প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দুজনের নাম ছুরিতে লেখা হয়েছে। তুহিনের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে দুটি ছুরির ওপর থেকে হাতের ছাপ ও যে নামগুলো লেখা আছে তা হ্যান্ড রাইটিং বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রতিবেদন আসার পরই আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরও বলেন, পৃথিবীতে শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বাবার কোল। কিন্তু তুহিনকে বাবার কোলেই হত্যা করা হয়। পরে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এরপর পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরের সঙ্গে চাচা নাছির মিয়া ও ভাতিজা শাহরিয়ার ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসাবশত হতে পারে তুহিন হত্যা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হতে পারে, আবার মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এখনই বলছি না।

এর আগে বিকেলে তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুর মুছাব্বির এবং প্রতিবেশী জমশেদ আলীকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। একই সময় আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিনের আরেক চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। তারা পাঁচজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে তুহিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিরাই থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের মোল্লা বলেন, তিনজন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে তাদের কাছ থেকে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

সোমবার রাতে এ ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগম অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারের আগে তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এর মধ্যে তুহিন দ্বিতীয়। গত ১৫ দিন আগে তার এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

রোববার রাতে খেয়ে-দেয়ে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। রাত আড়াইটার দিকে তার এক ভাতিজি ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলে তাদের ঘরের দরজা খোলা। এরপর সবাই জেগে ওঠে দেখেন তুহিন নেই। তখন প্রতিবেশীদেরও ডেকে তোলা হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে রাস্তায় একটি কদম গাছের ডালে তুহিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

এ ব্যাপারে রাজানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৌম চৌধুরী বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড দিরাই উপজেলার মানুষ এর আগে দেখেনি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।

সম্পর্কিত পোস্ট

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

banglarmukh official

শিশু আছিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মাগুরায় মামুনুল-হাসনাত-সারজিস

banglarmukh official

অটোরিকশায় ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভিডিও ভাইরাল

banglarmukh official

বগুড়ায় স্কুলছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

banglarmukh official

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ: ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ হাইকোর্টের

banglarmukh official

বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার শিশু, ভগ্নিপতি ও শ্বশুর আটক

banglarmukh official