চাঁদা তুলে খুন করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরকে

Date:

কুমিল্লার তিতাসের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল একই গ্রামের মমতাজ হোসেনকে খুনের বদলা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার। বিগত প্রায় ১৫ বছর আগে তিতাসের মমতাজ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও অন্যান্য আসামি ৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলে ঘাতক ভাড়ায় এনে খুন করেন হাজী মনিরকে।

মামলার প্রধান আসামি ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। শুক্রবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জালাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে হত্যার পরিকল্পনা, ঘাতক ভাড়া আনা, হত্যার কারণ ও জড়িত অপর আসামিদের নাম জানায় ঘাতক জাহাঙ্গীর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম। জাহাঙ্গীর আলম তিতাসের ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে।

মামলার অভিযোগ ও ডিবি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিতাসের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেনকে বাড়ির অদূরে তিতাসের ভাটিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি এবং পরে কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন রাতে নিহতের ছেলে আইনজীবী মো. মুক্তার হোসেন নাঈম বাদী হয়ে তিতাস থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জগতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার কাজী আশেক, নবীর হোসেনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়। ২৬ মার্চ মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, ১৫ বছর আগে তিতাসের ভাটিপাড়া গ্রামের মমতাজ খুন হন। ওই খুনের নেপথ্যে হাজী মনিরের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছে ঘাতক জাহাঙ্গীর। এছাড়াও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাজী মনিরের সাথে এলাকার লোকজনের বিরোধ চলছিল। তাই ঘাতক জাহাঙ্গীর তার ভাই মমতাজ হত্যার প্রতিশোধ  নিতে ও এলাকায় হাজী মনিরের আধিপত্য শেষ করতে তার সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলে। পরে এসব টাকা হত্যার মিশনে অংশ নেয়া ঘাতকদের দেয়া হয়। হত্যার আগে ঘাতকরা একাধিকবার গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। হত্যার সময় ঘাতকরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি স্থানে অবস্থান নেয়। কয়েক মিনিটেই কিলিং মিশন শেষ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে নিরাপদেই ঘাতকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, আদালতে ঘাতক জাহাঙ্গীরের দেওয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী অনুসারে হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া, হত্যার জন্য চাঁদা দাতাসহ অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে, ইতিপূর্বে এ মামলায় মমতাজ হোসেনের স্ত্রী বিলকিস বেগমসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

জাতিসংঘের ডব্লিউএসআইএস ফোরামে উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণকারী নির্বাচিত বজলুর রহমান

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন, বিএনএনআরসি-এর প্রধান...

বরিশালে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার, বাড়ছে মাদকাসক্তি

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন দেশজুড়ে কোটি মানুষের চোখ মাঠের...

বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক উপসচিব মো. মামুন খন্দকার

বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো....

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস...