মা হয়ে ছাত্রদের ক্ষমা করুন, প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদ

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে রাস্তায় নেমে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধানের প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মাতৃজ্ঞানে’ গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিয়ে ‘মহানুভবতা’ দেখাবেন বলে আশা করছেন এরশাদ। একইসঙ্গে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে যারা ‘ভিন্ন খাতে’ নিতে চেয়েছে- তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ করেছেন তিনি।

এরশাদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের কাছে মায়ের সমান। তিনিও যথার্থ উপলব্ধি করে বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে’। তিনি মাতৃজ্ঞানে কোনো কালবিলম্ব না করে ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তার এই মহানুভবতাকে সম্মান দেখিয়ে হলেও গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের মুক্তি দেওয়া উচিত।”

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের গত ৫ আগস্ট থেকে রাস্তা ছেড়ে দিলেও পরদিন থেকে রাস্তায় নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ৬ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং রামপুরায় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এরপর আটক করা হয় ২২ জন শিক্ষার্থীকে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে তারা এখন কারাগারে।

এই শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে বিভিন্ন সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

আন্দোলন থেমে আসার পর এক বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার এখতিয়ারের নয় বলে জানিয়ে দেন।

এরশাদ আরও বলেন, ‘এদেশের সর্বস্তরের মানুষ এবং দলমত নির্বিশেষে যে ছাত্রদের অভিনন্দন জানিয়েছে- এখন তাদের মধ্যে আর কাউকে গ্রেপ্তার করে রাখা ঠিক হবে না।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘সফল এবং যৌক্তিক’হিসেবে বর্ণনা করে জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আন্দোলনের মধ্যে কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতেই পারে। তার মধ্যে কোনো কোনো আন্দোলনকারী ছাত্র অবুঝের মতো হয়ত নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। কিন্তু যখন তাদের ঘরে এবং ক্লাসে ফিরে যাবার জন্য বলা হয়েছে- তখন তারা ফিরেও গেছে।’

‘এখানে কেউ (শিক্ষার্থী) যদি কোনো ভুল করে থাকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন তাদের মাতৃজ্ঞানে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *