ড্রাইভার সংকটে চরখালী-টগড়া ফেরি চলাচল ব্যহত, এ্যাম্বুলেন্সের রোগীযাত্রীর মৃত্যু

বলেশ্বর নদের শাখা কঁচানদীর পিরোজপুরের চরখালী-টগড়া ফেরি সার্ভিস গতকাল মঙ্গলবার সকালে ড্রাইভার সংকটের কারণে ছয় ঘন্টা বন্ধ থাকে। এ ফেরি ঘাটের চলাচলকারী দু’টি ফেরীর ই ড্রাইভার গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় এই দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়। ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় পিরোজপুর অংশে এবং ভা-ারিয়ার চরখালী অশেংর দুই পারে কয়েক’শ যানবাহন আটকে যায়।

এমনকি ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকা এ্যাম্বুলেন্সের এক রোগীও মারা যান। যাত্রী সাধারণ বাধ্য হয়ে শিশু-মহিলা-বৃদ্ধসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নদী পারাপার করেন। ফেরি ইজারাদারের স্টাফ খায়রুল জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের দুুইটি ফেরি চরখালী-টগড়া পথে চলাচল করে। এরমধ্যে আবার একটি মাঝে মাঝে অচল হয়ে যায়। গত সোমবার ভোর থেকে ড্রাইভার আব্দুর রশীদ (৫৫) একটানা ২০ ঘন্টা ফেরি চালানোর পর মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার সকালে আব্দুর রব নামে আরেক জন ড্রাইভার অসুস্থতার কারণে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নেন। আব্দুর রশীদ রোজাদার হয়েও গরমের মধ্যে একটানা ডিউটি করায় তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়লে ফেরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় নদীর দুই পাড়ে যাত্রীবাহী গাড়ীসহ মালবাহী অসংখ্য যানবাহন ছিল।

এরমধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে একজন রোগী সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে করে বহন করার সময় চরখালী ফেরিঘাটে তিনঘন্টা অপেক্ষা শেষে ফেরি চালু হয়। এরপর এ্যাম্বুলেন্সটি ফেরিতে উঠতে পারলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ইউসুফ মল্লিক (৪০) নামে উক্ত রোগী পথেই মারা যান। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন সাংবাদিকদের বলেন, চরখালী ফেরিতে স্থায়ী কোন ড্রাইভার নেই। প্রেষণে অন্য ঘাট থেকে ড্রাইভার এনে ফেরি চালাতে হয়। প্রেষণে আনা দুুই জন ড্রাইভারই অসুস্থ থাকায় সাময়িকভাবে ভেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পাশর্^বর্তী বেকুটিয়া ঘাট থেকে ড্রাইভার এনে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *