পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটে চলাচলরত ‘নিউ মায়ের দোয়া’ বাস শ্রমিকদের হামলায় ছয় পর্যটক আহত হয়েছেন। বাসচালক, সুপারভাইজর, হেল্পারসহ শ্রমিকরা রোলার নিয়ে হামলা চালায় বলে আহত পর্যটকরা জানিয়েছেন। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে আলীপুর-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলন্ত বাসে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পর্যটকরা হলেন রতন খান, নুর আলম, সুমন, মাঈনউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও রহিম। তাঁদের মধ্যে রতনের কান ফেটে গেছে। আহতদের কুয়াকাটা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রতন জানান, তাঁরা চার বন্ধু ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর থেকে কুয়াকাটায় রওনা হন। শনিবার সন্ধ্যায় আমতলী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ একটি বাসে ওঠেন। বাসের কন্ডাক্টর কুয়াকাটায় যাওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে ভাড়া নেয়। কিন্তু বাসটি কলাপাড়ায় গিয়ে ইঞ্জিন বিকলের কথা বলে পর্যটকদের নামিয়ে দেয়।
শেখ রাসেল সেতুর সংযোগ সড়কে কুয়াকাটাগামী ‘নিউ মায়ের দোয়া’ বাসে পর্যটকদের তুলে দিয়ে বাসটির স্টাফদের বলা হয় তাঁদের ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পথে পর্যটকদের কাছে ভাড়া চাইলে বাগিবতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
সুপারভাইজরসহ হেল্পাররা কুয়াকাটা-কলাপাড়ায় থাকা শ্রমিকদের খবর দিয়ে এনে বাসে থাকা ১৫-১৬ জন পর্যটকসহ সব যাত্রীকে রোলার দিয়ে বেধড়ক পেটায়। কুয়াকাটার ব্যবসায়ী জয়নালকেও মারধর করা হয়। বিষয়টি কুয়াকাটার মানুষ জানলে বাসটি ঘেরাও করে পাল্টা-হামলার প্রস্তুতি নেয়। এতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
মহিপুর থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম তাত্ক্ষণিক বাসের চালক শাহীন ও কুয়াকাটা কাউন্টার কলম্যান নাসিরকে থানায় নিয়ে যান। আহত পর্যটকদেরও নিয়ে ঘটনা শোনেন। বাস মালিককে বলে আহত পর্যটকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পর্যটকের কাছে মাফ চাওয়ানো হয়েছে। বাসচালককে চাকরিচ্যুত করারও আশ্বাস দেন বাস মালিক।
