Bangla Online News Banglarmukh24.com
জাতীয়

বাংলাদেশে জঙ্গি হুমকি

মো. শরীফ মাহমুদ অপু

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা বা হুমকি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসের দিকেই এরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপচেষ্টা করে থাকে। হলি আর্টিজান হামলা ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে হামলাসহ কিছু ছোট ছোট হামলার জন্য মূলত এ সময়টাই এরা বেছে নেয়। হয়তো এর পেছনে এদের নিজস্ব কোনো চিন্তা বা কারণ থাকতে পারে। বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা ও প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) মতাদর্শের দেশীয় অনুসারী নব্য জেএমবির সদস্যরা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। বিশ্লেষণ-পর্যালোচনায় বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের আইএসের উদ্দেশ্যের সঙ্গে দেশীয় এসব জঙ্গিদের তত্পরতার বেশ ফারাক দেখা যায়। নব্য জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ এসব জঙ্গি গ্রুপ যতটা না দেশকে ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তার চেয়ে বেশি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই যেন এদের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এরা বাংলাদেশে বসবাসরত অথবা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে এদেশে আসা বিদেশিদের টার্গেট করে ‘টার্গেট কিলিং’ শুরু করে এবং প্রতিটা ঘটনার পরেই ‘সাইট’ নামক একটি ওয়েবসাইট থেকে আইএসের দায় স্বীকার করে।

করোনা ভাইরাসের আক্রমণ সামাল দিতে বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত অবস্থায় তখন পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে এরা আক্রমণ চালায়। বাংলাদেশেও পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে এরা কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরই মধ্যে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা জঙ্গিদের মূল উত্পাটন করতে পারিনি সত্য, তবে এদের আর বড় কোনো হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই; জনগণের সহায়তায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সফল হয়েছে। এদের ছোট ছোট স্লিপিংসেল গুলি মধ্যে মধ্যে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয়। এগুলো সিরিয়াস কিছু নয়। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের দমনে সক্ষম।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে সশস্ত্র জঙ্গিবাদের উত্থানের সর্ববৃহত্ আলামত দৃশ্যমান হয় ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির ৬১টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে। সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয়। এ হামলায় পাঁচ জঙ্গিসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২৯ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন। তার আহ্বানে শিক্ষক-ছাত্র, ইমাম-পুরোহিত, সকল ধর্মের গুরু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই এগিয়ে এসেছে। জনগণ সহযোগিতা করেছে বলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের দমন করতে পেরেছে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু; ধর্মান্ধ নয়; ধর্মান্ধ হলে পাকিস্তান থেকে দেশকে স্বাধীন করত না। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে শোষিত দেশটি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছিল। পেয়েছিল একটি নতুন সংবিধান; যার শুরুটা হয়েছিল অসাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে। সুতরাং এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতা তথা জঙ্গিবাদকে আশ্রয় প্রশ্রয় কখনো দেবে না। বাঙালির মনন মানসেই প্রগতিশীলতার বীজ লুক্কায়িত আছে, জঙ্গিবাদ এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জনগণের জঙ্গিবিরোধী মানসিকতাই জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সহজ হয়ে যায়।

জঙ্গি দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পুলিশ, জঅই বিশেষ করে তাদের গোয়েন্দা ইউনিটগুলো অগ্রাংশে কাজ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। হলি আর্টিজান হামলার ব্যাপকতা লক্ষ্য করে তিনি প্রথমে জঙ্গি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর সকল ইউনিটকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার জন্য একত্রিত করেন। তার প্রচেষ্টা বেশ কার্যকর হয়। জঅই, পুলিশ, এনটিএমসি, সাইবার টিম সকলের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জঙ্গিদের মনোবল ভেঙে দেয়।

ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম:এ ধর্মে বিনা কারণে মানুষ হত্যা সমর্থন করে না, সেটা বোঝানো হয়। সরকার এভাবে মানুষকে সচেতন করতে পেরেছিল বলেই আজ জঙ্গিরা কোণঠাসা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কোনো জঙ্গি মারা গেলে তাদের নিকটাত্মীয়রা এমনকি মা-বাবাও তাদের লাশ গ্রহণ করছে না। এসব দেখে অনেক জঙ্গি নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তবে এখনো আত্মতৃপ্তির কোনো কারণ নেই, আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে দেশে জঙ্গিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্মের পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে: ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে কত শত সহস দেশপ্রেমিক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। জঙ্গি তত্পরতাও বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টামাত্র। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ছয় জন পুলিশ সদস্য এবং র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের একজন করে সদস্য শহিদ হয়েছেন। বর্তমানে জঙ্গি দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল। নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গির মতো যে কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নিকট অতীতে দেশের মানুষের জঙ্গিবিরোধী যে তত্পরতা দেখা গেছে, এতে নিঃসন্দেহে আশা করা যায় জঙ্গিদের ‘স্লিপিংসেল’ গুলিও ধীরে ধীরে শূন্যে মিলিয়ে যাবে।

n লেখক :তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সম্পর্কিত পোস্ট

আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

banglarmukh official

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার বিচার ৭ দিনের মধ্যে শুরু হবে: আইন উপদেষ্টা

banglarmukh official

শুক্রবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

banglarmukh official

শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক, দ্রুত বিচার নিশ্চিতের নির্দেশ

banglarmukh official

২০২৬ সালেই বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণ করা হবে

banglarmukh official

জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায়

banglarmukh official