Bangla Online News Banglarmukh24.com
জেলার সংবাদ প্রচ্ছদ বরিশাল

মহানুভবতার অনন্য উদাহারন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

মানুষ মানুষের জন্য। যুগে যুগে মানুষের প্রয়োজনে মানুষই পাশে দাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছেন যারা নিজেদের শেষটুকো দিয়ে হলেও মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কোন বাধাই তাদের কে থামাতে পারেনি। তারা সকল বাধা অতিক্রম করে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করেছেন। ফলে আজও তারা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন এবং আজীবন বেঁচে থাকবেন।
নদীঘেরা এই বরিশাল অঞ্চলেও এমন অনেক মহান মানুষ রয়েছেন যারা পুরোটা জীবন মানুষের পাশে থেকে কাটিয়েছেন।। যখনই কোন মানুষের বিপদের কথা শুনেছেন তখনই তার কাছে ছুটে গিয়েছেন। তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন।

যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা বিপর্যয়ে এ অঞ্চলের মানুষের অপূরনীয় ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি মোকাবিলা করে উঠে দাড়াতে দাড়াতে আবারো কোন না কোন বিপর্যয় তাদের উপর আঘাত হানে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বছরের বেশীরভাগ সময়ই জীবনযুদ্ধে কেটে যায়। স্বাভাবিক জীবনে টিকে থাকার জন্য অনবরত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। একদিকে যেমন বন্যায় ফসলাদি নষ্ট হয়, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ডুবে যায় অন্যদিকে সাইক্লোন ঘূর্নিঝর বসবাসের জায়গাটুকো কেড়ে নেয়। যুগে যুগে যখনই এই অসহায় দরিদ্র মানুষগুলো কোন বিপদের সম্মুখিন হয়েছে তখনই এ অঞ্চলের কেউ না কেউ তাদের পাশে দাড়িয়েছেন। তাদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন, ঘরবাড়ি তৈরী করার জিনিসপত্র দিয়েছেন, সর্বপরি তাদের উঠে দাড়াতে সাহায্য করেছেন।

সময়ের পরিবর্তনে বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে পুরো দেশের সাথে সাথে বরিশালের পরিস্থিতিরও অনেক উন্নতি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা সহ সর্বদিকে উন্নতি হয়। বরিশালবাসী নতুন দিনের স্বপ্নে দিন যাপন করছিল। একদিকে পায়রা সমুদ্র বন্দর, রেল লাইন, আইটি পার্ক সবকিছু মিলে নতুন এক বরিশালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে করোনা ভাইরাসের আক্রমনে সারা বিশ্বের মত এ অঞ্চলের মানুষেরও সাধারন জীবন যাপন থেমে যায়। লকডাউনের কারনে কর্মহীন অবস্থায় ঘরে দিন কাটাতে হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পরে দিনমজুর মানুষগুলো। যাদের সঞ্চয় বলতে প্রতিদিনের কাজই সম্বল। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধাবদি শ্রমদিয়ে মজুরী হিসাবে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালায়। কিন্তু করোনার কারনে তাদের দৈনিক রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটাই বড় কঠিন হয়ে পরে।
এমন দুঃসময়ে শুধু বরিশাল নয় বরং সারা বাংলাদেশের কোন মানুষ যাতে খাদ্যর অভাবে না ভোগে সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মহামারীর শুরু থেকেই সারা বাংলাদেশ ব্যাপী অসহায়, দুস্থ মানুষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য সহযোগিতা, রেশন কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুসারে ১০ টাকা কেজী ধরে চাল , আর্থিক সহযোগিতা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিত্তবানদের সাধারন মানুষের পাশে দাড়ানেরা জন্য অনুরোধ করেছেন।

সরকারের আমন্ত্রনে করোনার প্রাদূর্ভাবের প্রথম দিকে কিছু মানুষ সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত বাড়ালেও সময়ের সাথে তাদের অনেকেই থেমে গেছেন। হারিয়ে গেছেন কোন অজানা ঠিকানায়। কিন্তু সবাই থেমে গেলেও সারা বাংলাদেশ ব্যাপী সরকারি খাদ্য সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে। তবে একা সরকারের পক্ষে কোটি কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তারপরও সরকার তার সাধ্যমত সাহায্য, সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু সারা বাংলাদেশের তুলনায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখো গেছে। এখানে করোনা মহামারীর প্রথমদিন থেকেই সরকারের পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র জননেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি নিজ উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই খাদ্য সহযোগিতা প্রদান করছেন এবং তিনি ঘোষনা দিয়েছেন, যতদিন কেরানা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন পর্যন্ত তার এই সহযোতিা অব্যহত থাকবে। তাই প্রতি রাতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, মহানগর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিবৃন্দ মেয়রের পাঠানো খাদ্য সহায়তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে গত ০৭ জুন, ২০২০ বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পরম প্রিয় মাতা, বরিশাল রাজনৈতিক অঙ্গনের ছায়া, শহীদ জননী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। যার মৃত্যুতে সমস্ত বরিশালে শোকের ছায়া নেমে আসে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেন বিসিসি মেয়র ও তার পরিবার। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মা হারানোর শোকে নিস্তব্দ হয়ে পরেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কোন অবস্থাতেই তিনি স্বাভাবিক হতে পারছিলেননা। ঘরে বসে একা একা মায়ের জন্য কাদতেন আর বলতেন,“মা তুমি কোথায় গেলে”, বুকের ভিতর এত কষ্ট কেন ???।সবকিছু যেন থমকে গিয়েছিল। কেউই তার এই শোককে স্বাভাবিক করতে পারছেনা। এমন পরিস্থিতিতে তার সহধর্মীনি, বাচ্চারা আমিরিকা থাকায় তাকে কোন ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিলনা।

কিন্তু এত শোকের মধ্যেও তিনি তার বরিশালবাসীর কথা ভুলে যাননি। ভুলে যাননি করোনায় অসহায় মানুষগুলোর কথা। ফলে যারা মেয়রের খাদ্য সহযোগিতা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনভাবেই যেন একদিনের জন্যও এই খাদ্য সহযোগিতা থেমে না থাকে। যেভাবে প্রতিদিন ট্রাকে ভরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাদ্য সহায়তা পৌছে যেত ঠিক একই ভাবে যেন চলমান থাকে। ফলে বর্তমানে প্রায় সবার সহযোগিতা থেমে গেলেও আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি মেয়রের খাদ্য সহায়তা । আজও প্রতি রাতে ট্রাক ভরে ভরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেয়রের খাদ্য সহায়তা পৌছে যাচ্ছে।

গতকাল বিসিসি মেয়রের বাসায় গিয়ে দেখাযায় পাঁচ হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আরো নতুন করে চাল, ডাল, আলু,পিয়াজ, সাবান ইত্যাদি আনা হচ্ছে। বিসিসি মেয়রের বিশ্বস্ত সূত্রমতে, ইতোমধ্যে পঁচাশী হাজার ব্যাগ খাদ্য সহায়তা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছে দেয়া হয়েছে এবং আরো প্রায় বিশ হাজার ব্যাগ নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তহবিল প্রসঙ্গে বলেন, বিসিসি মেয়র নিজের দুই বছরের সম্মানী ভাতা পয়ত্রিশ লাখ (৩৫,০০,০০০) টাকা, সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ, এবং তার নিজ উদ্যোগে গঠিত ত্রান তহবিল থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার খাদ্য সহায়তা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বরিশালবাসী আমাকে, আমার পরিবার কে যে ভালবাসা দিয়েছে, আমি তার সামান্য প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করছি মাত্র। আমি এই দূর্যোগ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া এই বরিশাল নগরী এবং বরিশালবাসী যাতে ভাল থাকতে পারে আমি প্রতিনিয় সেই চেষ্টা করছি। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার মা-বাবার জন্য করবেন।

সত্যিই মা হারানোর মতো এমন বেদনা বুকে নিয়ে সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করা মহানুভবতা অনন্য উধাহারন ব্যতীত আর কিছু নয়। তার এই মহানুভবতা তাকে বরিশালবাসীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরকারি সাহায্য এবং মেয়রের সাহায্য ব্যতীত এখন পর্যন্ত তারা আর কারো কোন সহায়তা পাননি। ইতোমধ্যে তারা একাধিকবার মেয়রের খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। তারা মন দিয়ে মেয়রের জন্য দোয়া করেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান কলোনীর বাসিন্দা রতœা অধীকারী বলেন, সরকারি সাহায্য এবং মেয়রের সাহায্যের কারনে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। না হলে কিভাবে দিন কাটাতাম ভাবতে পারছিনা। সবাই ঘরে বসে আছি, কোন আয় রোজগার নাই। ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, মেয়র ছাড়া আর কেউ তাদের কোন খোজ নেয়নি। ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির হাওলাদার বলেন, বাপ-মা সহ সাত জনের পরিবারে আমি একলা ইনকাম করি। ছোট একটা দোকান দিয়ে চলতাম। কিন্তু করোনায় কারনে আজ তিনমাস দোকান বন্ধ। মেয়রের ত্রান না পেলে না খেয়ে থাকা লাগত। অন্য কারো সহযোগিতা পেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলেন, সহযোগিতা তো দূরের কথা কাউকে চোখেও দেখিনি।

অন্যদিকে করোনা মহামারীর মধ্যে হঠাৎ করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যন্য জায়গার মত বরিশালেও ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিয়ে কয়েকবার জরুরী বৈঠক করেন। নিজে কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে শহড়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় শহড়ের পানি নামতে পারছেনা। তাই জোয়ারের সময় পানি না নেমে উল্টো নদীর পানি শহড়ে ঢুকে শহড় তলিয়ে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় বরিশালবাসীর কাছে নতুন নয়। কিন্তু এই বিপর্যয়ের হাত থেকে শহড় কে বা নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য একজন মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি হলেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এই বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, শহড়ের যে কয়টি পয়েন্ট দিয়ে পানি নদীতে প্রবাহিত হয় সেই পয়েন্টগুলো পরিষ্কার আছে কিন্ তা আমাদের মেয়রমহোদয় নিজে স্পীডবোডে গিয়ে তদারকি করছেন। এছাড়া তিনি রাতের বেলা শহড়ের যে সমস্ত রাস্তা পানিতে ডুবে আছে সেগুলো থেকে কিভাবে পানি অপশারন করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু চ্যানেলগুলো পরিষ্কার থাকলেও নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি নামছেনা। তবে আশাকরি নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে শহড় থেকেও পানি নেমে যাবে। তিনি সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তাদের বন্যার পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোন জায়গায় কোন ড্রেন বা খাল কোনভাবে বন্ধ হয়ে আছে কিনা তা পর্যবেক্ষনে নির্দেশ দিয়েছেন।

এভাবেই নগরবাসীর পাশে সুখে দুখে জড়িয়ে আছেন বিসিসি মেয়র, মহানুভবতার অনন্য উদাহারন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

সম্পর্কিত পোস্ট

সহকর্মীদের চোখের জলে সাংবাদিক তুষারের শেষ বিদায়

banglarmukh official

বরিশালে যুবলীগ কর্মীর তাণ্ডব: মা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম

banglarmukh official

সাতলায় বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে আ’লীগ নেতা মিজানকে অর্থের বিনিময়ে দলীয় সনদপত্র প্রদান করার অভিযোগ

banglarmukh official

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম পুলিশের বসত ঘরে ভাংচুর

banglarmukh official

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ উপহার দিলো ছাত্রদল

banglarmukh official

আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

banglarmukh official