বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধু সরকারের তৎকালিন মন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপা এবং আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি’র বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর জন্মশতবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের আজকের এই দিনে জেলার গৌরনদী উপজেলার সেরাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
যিনি ১৯২১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবদান রাখেন। দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহামন হত্যাকান্ডের সময় ঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান কৃষক কুলের নয়নমনি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত।
তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বিস্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এরি মধ্যে শনিবার বিকালে কীর্তনখোলা নদীতে বণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে ‘নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা’। এছাড়াও ২৮ মার্চ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া-মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন একজন পরিশ্রমি এবং মেধাবী রাজনীতিবীদ। বাল্যকাল থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি ভ‚মি প্রশাসন, ভ‚মি সংস্কার ও ভ‚মি রাজস্ব এবং বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ছিলেন। এর পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সাংবাদিক ও আইনজীবী ছিলেন।
এদিকে, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালো রাতে মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন মাজেদ- এর নেতৃত্বে ঢাকা ২৭ নম্বর মিন্টো রোডে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। সে সময় ঘাতকের গুলিতে শহীদ হন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত।
শুধু তিনিই নন, সেই কালো রাতে শহীদ হয়েছিলেন তাঁর মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবু, ভাগ্নে শহিদ সেরনিয়াবাত। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন তার স্ত্রী। তবে দরজার পিছনে লুকিয়ে থেকে প্রাণে বেঁচে যাঁন তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাসানাত আবদুল্লাহ’র স্ত্রী সাহান আরা বেগম।
এদিকে, ‘ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকা রমনা থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আর ১৫ই আগস্টের নিরব সাক্ষী মিন্টো রোডের সেই বাসভবনটি বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যলয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অপরদিকে, ‘শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর অবর্তমানে তাকে স্মরণিয় করে রাখতে বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্ত হয়েছে তাঁর নামটি। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল স্টেডিয়াম, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি’র নাম শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী ভবন, জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্ত¡রে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এ্যানেক্স ভবন এবং সর্বশেষ বরিশাল ‘ল’ কলেজ এর নামকরণ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ‘ল’ কলেজ নামকরণ করা হয়েছে।
