Day: September 10, 2019

  • দুই হাসপাতালে দুই মা, সঙ্গী শুধুই যন্ত্রণা

    দুই হাসপাতালে দুই মা, সঙ্গী শুধুই যন্ত্রণা

    রাজধানীতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের (পঙ্গু হাসপাতাল) উল্টো দিকে ট্রমা সেন্টার। দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। সরকারি ও বেসরকারি এই দুই হাসপাতালের মাঝখানে মিরপুর সড়ক। দুই হাসপাতালে এখন যন্ত্রণা আর শোকে কাতর দুই মা। একজন নিজে পা হারিয়ে শয্যাশায়ী। আরেকজনের বিনিদ্র রাত কাটছে সন্তানের শয্যাপাশে।

    দুই মায়ের মধ্যে একজন কৃষ্ণা রায় চৌধুরী। দুই সন্তানের মা কৃষ্ণা ট্রাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় নিজের বাম পা হারিয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে তিনি ভর্তি পঙ্গু হাসপাতালে।

    আরেক মা রুমানা সুলতানা। গত বৃহস্পতিবার ভিক্টর ক্ল্যাসিক নামের একটি বাসের চাপায় হারিয়েছেন তাঁর স্বামী সংগীতশিল্পী পারভেজ রবকে। এর দুদিন পর শনিবার রাতে উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় একই পরিবহনের আরেকটি বাস চাপা দেয় তাঁর ছোট ছেলে ইয়াসির আলভী ও তাঁর বন্ধু মেহেদী হাসানকে। গুরুতর আহত হন আলভী। তবে প্রাণ হারিয়েছেন বন্ধু মেহেদী। বাসের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে আলভী ভর্তি ট্রমা সেন্টারে। ছেলে পঙ্গু হয়ে যাবে কি না, সেই শঙ্কায় রয়েছেন রুমানা।

    অথচ যাঁদের কারণে কৃষ্ণা রায় চৌধুরী ও রুমানা সুলতানার জীবনের ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে, তাঁদের প্রায় সবাই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

    গত ২৭ আগস্ট রাজধানীর বাংলামোটরে ট্রাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের বাসটি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর বাম পা থেঁতলে দেয়। বাসচালক মোরশেদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কৃষ্ণা রায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলেন। পরে সংক্রমণ হওয়ায় তাঁর হাঁটুর ওপরের কিছু অংশও কেটে ফেলা হয়। হাতিরঝিল থানায় কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর স্বামী রাধেশ্যাম চৌধুরী মামলা করলেও তিন আসামির মধ্যে ট্রাস্টের বাসচালক মোরশেদ ছাড়া বাসের মালিক ও হেলপার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

    ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পায়ের যন্ত্রণা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি কৃষ্ণা রায় চৌধুরী। বাম পায়ে ড্রেসিং করানোর সময় ব্যথায় চিৎকার করেন তিনি।

    বিআইডব্লিউটিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খন্দকার মাসুম হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কৃষ্ণার বাম হাঁটুর ওপরের অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। এখানে প্রায়ই ড্রেসিং করাতে হয়। ড্রেসিংয়ের সময় কৃষ্ণা চিৎকার করে বলেন, ‘দাদা মরিচ লাগানোর মতো জ্বলছে আমার পা।’ কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর স্বামী রাধেশ্যাম চৌধুরী বলেন, তাঁর স্ত্রীর শরীরে যন্ত্রণা এখনো রয়েছে, দুর্বলতাও কাটেনি।

    কৃষ্ণা রায়ের বাম পায়ে কৃত্রিম পা স্থাপন করানো হবে। তবে চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে ভারত অথবা থাইল্যান্ডে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু অর্থের ব্যবস্থা না করা গেলে দেশেই পা স্থাপন করা হবে।

    কৃষ্ণা রায়ের চিকিৎসকেরা জানান, ভারত ও থাইল্যান্ডের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসে পায়ের মাপ নিয়ে গেছেন। তবে কৃষ্ণার বাম পায়ের কাটা জায়গায় স্কিন গ্রাফটিং করাতে হবে। এ জন্য অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীরের অন্য অংশ থেকে চামড়া নিতে হবে। এই ক্ষত শুকালে কৃত্রিম পা স্থাপনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। তবে সবকিছু হলেও কৃষ্ণা রায় চৌধুরী আগের মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত।কৃষ্ণা রায়ের স্বামী রাধেশ্যাম চৌধুরী আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে ট্রাস্ট সার্ভিসেসের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। তবে আমাদের পুরো সংসারে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। চালক ছাড়া অন্য দুই আসামিকে এখনো ধরতে পারেনি। কেন ধরা পড়ছে না, তার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বিচার পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

    হাতিরঝিল থানা থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো উত্তর) বশীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেলেও এখনো আমরা নথি বুঝে পাইনি। তবে আমরা (পিবিআই) ছায়া তদন্ত করছি। ট্রাস্টের বাসের মালিক ও হেলপারকে গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

    একমাত্র ছেলে ইয়াসির আলভী বাসের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি ট্রমা সেন্টারে। ছেলের পঙ্গু হয়ে যাবে কি না, সেই শঙ্কায় রয়েছেন রুমানা সুলতানা। ছবি: প্রথম আলো ফাইল ছবিএকমাত্র ছেলে ইয়াসির আলভী বাসের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি ট্রমা সেন্টারে। ছেলের পঙ্গু হয়ে যাবে কি না, সেই শঙ্কায় রয়েছেন রুমানা সুলতানা। ছবি: প্রথম আলো ফাইল ছবি

    এদিকে ছেলে ইয়াসির আলভীর চিকিৎসা খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন পারভেজ রবের স্ত্রী রুমানা সুলতানা। রুমানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলের প্রতিদিন ওয়ার্ডে বেড ভাড়া ২২০০ টাকা। এর সঙ্গে ওষুধসহ অন্যান্য খরচও রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ধারদেনা করে ২০ হাজার টাকা হাসপাতালে জমা দিয়েছি। বাকিতে ওষুধ কেনা হচ্ছে। এখনো কোনো টাকা জোগাড় করতে পারিনি।’

    রুমানা সুলতানা বলেন, বাসের ধাক্কায় আলভীর কোমরের হাড়ে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। বসতে পারে না। বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়। গতকাল সোমবার আলভীর ডান হাতের কড়ে আঙুলের ব্যান্ডেজ খোলা হয়। নিজের আঙুল দেখে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় আলভী। তাঁর প্রস্রাব ও মলদ্বারেও প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। ব্যথার শঙ্কায় কিছু খেতে চাচ্ছে না।

    ট্রমা সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আলভীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। ছেলেটির কোমরে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। চিকিৎসা করালে ভালো হবে। সর্বনিম্ন খরচে ওর চিকিৎসা করানো হবে।

    বাসচাপায় মৃত্যুর ঘটনায় গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছেন আলভীর বন্ধু মেহেদীর মামাতো ভাই মো. ফিরোজ। ভিক্টর পরিবহনের চালক রফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। রফিককে আটকের আগেই তাঁর সহকারী পালিয়ে যান। তবে পারভেজ রবকে চাপা দেওয়া ভিক্টর ক্ল্যাসিকের আরেকটি বাসের চালক এখনো পলাতক। মামলার তদন্তে তুরাগ থানার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও জানান পারভেজ রবের স্ত্রী রুমানা সুলতানা।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল চন্দ্র দেব প্রথম আলোকে বললেন, ভিক্টর ক্ল্যাসিকের আটক বাসের নম্বর প্লেটের (ঢাকা মেট্রো ব ১২-০৯৬৩) সঙ্গে ইঞ্জিনের নম্বরে মিল নেই। রেজিস্ট্রেশন নম্বর সার্চ দিয়ে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বাসের চালক সব কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

    ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না? জানতে চাইলে এসআই নির্মল চন্দ্র দেব বলেন, ‘মামলার তদন্তে আমরা দেখছি, ঘুরছি। দেখা যাক।’

  • ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ফার্মগেটে প্রতিরোধের প্রথম ব্যারিকেড

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ফার্মগেটে প্রতিরোধের প্রথম ব্যারিকেড

    লড়াইটা ছিল স্বাধীনতার জন্য। বাঙালির প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই। এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটরিতে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক নৌকা মার্কার পক্ষে রায় দেয় গোটা পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিকামী জনতা। তখনই চূড়ান্ত হয়ে যায় বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের গতিপথ। দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতাযুদ্ধের পথে বাঙালি জাতিকে পরিচালিত করেন।

    নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়ার সরকার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। ক্ষমতা হস্তান্তরের নামে টালবাহানা শুরু হয়। কিন্তু অনড় বঙ্গবন্ধু জনগণের প্রত্যাশা বুঝেই আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যের শপথবাক্য পাঠ করান। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অজুহাত খুঁজতে থাকে সামরিক সরকার। এরই মধ্যে ১ মার্চ, হঠাত্ গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হয়। স্ফুলিঙ্গের মতো আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে গোটা ঢাকায়। উত্তাল মার্চে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় পল্টন ময়দান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ফার্মগেট এলাকা।

    আমরা ফার্মগেট এলাকায় প্রতিদিন মিটিং-মিছিল করি। ছাত্রলীগের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ এবং সর্বস্তরের মানুষ আমাদের আন্দোলনে যোগদান করত। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর আমরা নিজেদের প্রস্তুত রাখি। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশ-গেটের দুই কিলোমিটারের মধ্যেই ফার্মগেট এলাকায় তখন প্রতিদিনই ব্যারিকেড দেওয়া হয়। মিছিলে মিছিলে উত্তাল থাকত রাজপথ।

    আমাদের জমায়েত হওয়ার স্থান ছিল তত্কালীন ইউনাইটেড ব্যাংক ও হাবিব ব্যাংকের সামনে (বর্তমানে আল রাজি হাসপাতালের সামনে)। স্বাধীনতার জন্য আবালবৃদ্ধবনিতা সবার মধ্যেই দেখতাম উন্মাদনা। সবার দাবি তখন ছিল একটাই, স্বাধীনতা। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে আমাদের কাছে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বের হতে পারে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ২৫ মার্চ ফার্মগেটে একটি পরিখা খননের জন্য পরামর্শ দেন। পরিখা খনন অসম্ভব ছিল; কারণ ফার্মগেটের পাশে আর্মিদের অবস্থান ছিল। পরিখার বদলে আমরা ফার্মগেটে বড়ো দুটি গাছ কেটে গাছের গুঁড়ি ও লোহালক্কড় দিয়ে ব্যারিকেড দিই। তেজগাঁও ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে আমার আহ্বানে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড তৈরিতে সহযোগিতা করেন। তেজগাঁও এলাকার শ্রমিকরাও এতে যোগ দেন।

    ২৫ মার্চ দিনভর মিছিল-মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিল ফার্মগেট এলাকা। সেদিন তেজগাঁও আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে কড়ইগাছের গুঁড়ি, পুরোনো গাড়ি, লোহার স্তূপ জমিয়ে তৈরি করা হয় ব্যারিকেড। রাত ১০টার দিকে আস্তে আস্তে কমতে থাকে ফার্মগেটের জনসমাগম। কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি কতটা ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। ভয়াল সেই কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতেই অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা চূড়ান্ত হয়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সাঁজোয়া যান প্রস্তুত থাকে; যাদের গন্তব্য ছিল রাজারবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পিলখানা। আমরা রাতে ফার্মগেটের কৃষি বিভাগের বাগানের ভেতরে প্রস্তুত থাকি। আর অপেক্ষা করতে থাকি, কখন ক্যান্টনমেন্ট থেকে সাঁজোয়া যান বের হবে। এ সময় আমাদের সঙ্গে যোগ দেন তেজগাঁও থানার দুই পুলিশ সদস্য। তারা তত্কালীন ইউনাইটেড ও হাবিব ব্যাংকের ছাদে থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে পজিশন নেয়। সারাদিন মিছিল-মিটিংয়ের পর সন্ধ্যায় ফার্মগেট এলাকায় জনসমাগম কমে আসে।

    রাত ১০.৪৫ মিনিটে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হতে থাকে ঘাতক সেনাদের কনভয়। আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনীর কনভয় এগিয়ে আসতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফার্মগেটের সামনে এসে আমাদের বাধার মুখে এবং ব্যারিকেডের সম্মুখে এসে কনভয়ের গতি থেমে যায়। বুলডোজার দিয়ে ব্যারিকেড সরানোর কাজ শুরু করে, পাশাপাশি তাদের অস্ত্র দিয়ে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যারা জয়বাংলা স্লোগান দিচ্ছিল। রাতের নীরবতা ভেঙে শুরু হয় কামান আর অস্ত্রের গর্জন। আমরা বাগানের ভেতরে অপেক্ষায় থাকি।

    ফার্মগেট এলাকায় প্রতিরোধের প্রথম ব্যারিকেড গুঁড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যায় আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাতকেরা। গোলাগুলির কারণে আমরা হামাগুড়ি দিয়ে আত্মরক্ষা করি; কিন্তু আমাদের বুকে ছিল অসীম সাহস।

    পাকিস্তান ঘাতকেরা ফার্মগেট এলাকায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে আরো সতর্ক হয়ে যায়। ফার্মগেটের প্রতিরোধের ইতিহাস জানা যায় পাকিস্তানি ঘাতক মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর ঘনিষ্ঠ মেজর সিদ্দিক সালিকের লেখা ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ বইতে। বইটির ৭৩ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে—২৫ মার্চ রাতে ফার্মগেটে মুক্তিকামী বাঙালির প্রতিরোধের কথা। যার বাংলা সারমর্ম হলো—‘ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হওয়া প্রথম সেনাদলটি বাধারমুখে পড়ে ফার্মগেট। ক্যান্টনমেন্ট থেকে যার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। সদ্য কাটা বড়ো বড়ো গাছের গুঁড়ি রাস্তায় আড়াআড়িভাবে ফেলে প্রথম দলটিকে থামিয়ে দেওয়া হলো। পুরোনো গাড়ির খোল এবং অকেজো স্টিমরোলার টেনে এনে রাস্তার পাশের ফাঁকা অংশও আটকে দেওয়া হয়।

    ব্যারিকেডের ওপাশ থেকে আওয়ামী লীগের অন্তত কয়েক শ কর্মী দাঁড়িয়ে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকে। জেনারেল টিক্কাখানের সদর দপ্তরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি তাদের তেজোদীপ্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছিলাম। মনে হলো—মুহূর্তেই সেনাদের রাইফেলের গুলির শব্দ ‘জয়বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে মিশে যেন একাকার হয়ে গেল। একটু পরেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে বিস্ফোরণ বাতাসে তীক্ষ শব্দ তুলল। এরপর কিছক্ষণ ধরে গগনবিদারী স্লোগান ও গুলির শব্দের সঙ্গে হালকা মেশিনগানের গুঞ্জন বাতাসে ভেসে থাকল। পনেরো মিনিট পরে গোলমালের শব্দ কমে এলো এবং স্লোগানের আওয়াজ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে হতে এক সময় থেমেই গেল। স্পষ্টতই অস্ত্রের জয় ঘটল। সেনাদল শহরের ভেতরের দিকে এগিয়ে গেল।’

    ফার্মগেটে প্রতিরোধের ব্যারিকেড ভেঙে দিয়ে এগিয়ে যায় ঘাতক দল। বাংলামটর এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করে। এরপর রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর পিলখানা এলাকায় ছুঁটে যায় সেনা কনভয়। রাজারবাগে বাঙালি পুলিশ ভাইয়েরা আগেভাগেই প্রস্তুত ছিলেন। প্রতিরোধ গড়ে ইতিহাস রচনা করে বাঙালি বীর পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ সদস্যরা হতাহত হন এবং তারা পাকিস্তানি আধুনিক সমরাস্ত্রের সামনে টিকতে পারেনি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘাতকেরা রাজারবাগ দখলে নেয়। পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রক্তাক্ত রাজারবাগে রচিত হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের বীরত্বের ইতিহাস।

    ফার্মগেটে প্রতিরোধের প্রথম ব্যারিকেড গুঁড়িয়ে দিলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি। কারণ আমরা ট্রেনিং নিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয় অর্জন করি। এই স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ বাঙালি শহিদ হয়েছেন। ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

  • বরিশালেও হচ্ছে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার

    বরিশালেও হচ্ছে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার

    মহাকাশ সম্পর্কিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বরিশালে স্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার। এটি স্থাপিত হলে অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষাও প্রসার লাভ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৫ লাখ টাকা।

    প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ১০ একর ভুমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, নির্মাণ ও পূর্ত কাজ, ৬ তলা অফিস ব্লক নির্মাণ, ৭ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, ৭ তলাবিশিষ্ট ভবন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক নির্মাণ, মেশিনারি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ডিজিটাল এক্সিবিটস, সায়েন্টেফিক এক্সিবিটস, ৯টি মুভি থিয়েটার, অবজারবেটরি টেলিস্কোপ, জেনারেটর, ইউপিএস, পিএবিএক্স সিস্টেম, ডাটা ক্যাবল নেটওর্য়াক, সাউন্ড সিস্টেম, এয়ার কন্ডিশন সিস্টেম, পাম্প মটর, সিসি টিভি, সোলার এবং অফিস সরঞ্জাম ক্রয়।

    এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ৮ আগস্ট পরিকল্প কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ২৬ আগস্ট ওই সভার কার্যবিবরণী জারি করা হয়েছে।

    কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, ‘বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বরিশাল স্থাপন’ নামের এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবার ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পিইসি সভার সিদ্ধান্তের বাইরেও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। এজন্য গত ৮ আগস্ট তৃতীয় পিইসি সভার আয়োজন করা হয়।

    পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আবারও পিইসি সভার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এ লক্ষ্যে পরবর্তী সভার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও যথাযথ তথ্যসহ অংশগ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ওই সভার পরই সুপারিশ প্রতিপালন করে সংশোধাধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। তারপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের সহকারী কিউরেটর মো. সহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রথমে ঢাকায় স্থাপন করা হলেও এখন পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয় শহরে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও নভোথিয়েটার তৈরির কাজ চলছে। আর ওই ধারাবাহিকতায় এবার বরিশালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করছি এটি তৈরি হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীসহ সব বয়সের মানুষের জন্য অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।’

  • এবার পাউরুটির ভেতরে ইয়াবা

    এবার পাউরুটির ভেতরে ইয়াবা

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার করে থাকেন মাদক ব্যবসায়ীরা। কখনও কাঁঠাল-তরমুজ-নারকেলের ভেতর, কখনও পেট, পায়ুপথসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে লুকিয়ে, আবার কখনও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পার্সেল করে। এমনকি কোরআন শরিফের ভেতরে লুকিয়েও ইয়াবা পাচারের ঘটনা ঘটেছে।

    এবার অভিনব কায়দায় পাউরুটির ভেতরে লুকিয়ে পাচারকালে এক হাজার ৫২০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার রাতে নগরীর চরপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জালালনগর গ্রামের তোয়াক্কেল আলীর ছেলে সোহেল (৩৫), ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়া এলাকার শামছুল হকের ছেলে আল বাকারা জামান ওরফে হৃদয় (২৮) ও কেওয়াটখালী এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (২৭)।

    আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকালে জেলা ডিবি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

  • জলবায়ু অভিযোজন সমাধান একার পক্ষে সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী

    জলবায়ু অভিযোজন সমাধান একার পক্ষে সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে নেয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে।’

    ‘যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে,’ যোগ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি, কোনো জাতিই এটি একা করতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

    কমিশনের নেতৃত্ব প্রদান করছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার প্রযুক্তিবিদ বিল গেটস এবং বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও কমিশনে রয়েছেন।

    এ বছর জুলাই মাসে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ এর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তথা রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে দুদিনব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বান কি মুন এবং ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই বৈঠকে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন।

    সফরকালীন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন, কী করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে। তাদের সেই সফরের ফলেই গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকায় ’গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন’ এর নতুন অফিস খোলা হচ্ছে।

    গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন রিপোর্ট বিশ্বের ১০টিরও অধিক রাজধানী ও নগরী থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মূল স্লোগান হচ্ছে ‘অ্যাডাপ্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড।’

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, জলবায়ুর প্রভাব ক্রমান্বয়ে সমগ্র বিশ্বের জনগণের জন্য জরুরি বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে, কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৩০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি জনগণকে দরিদ্রসীমার নীচে ঠেলে দেবে।

    রিপোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট রূপকল্পের কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে মূল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসমূহকে আরও স্থিতিস্থাপক এবং উৎপানমুখী হিসেবে রূপান্তর ঘটানো যায়। কমিশন দেখেছে অভিযোজনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক আয় করা সম্ভব। সর্বোপরি এই আয়ের পরিমাণ উন্নত স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে বেশি, লাভের এই হার ২ অনুপাত ১ থেকে ১০ অনুপাত ১ পর্যন্ত বা ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি।

    বিশ্লেষণে জানানো হয়, ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিশ্বব্যাপী পাঁচটি স্থানে ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে এতে সাত ট্রিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জিত হবে। এই পাঁচটি এলাকায় যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা হচ্ছে- আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো, উন্নত শুষ্ক-ভূমির অবকাঠামো, ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদকে অধিক স্থিতিস্থাপক করতে বিনিয়োগ- মূলত বিশ্বব্যাপী অভিযোজন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে যা প্রয়োজন এগুলো তারই অংশ।

    জলবায়ুর অভিযোজন ‘ট্রিপল ইকোনমিক ডিভিডেন্ট’ও সরবরাহ করতে পারে, এটি ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনে, উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি সাধন করে এবং অন্যান্য সামাজিক এবং পরিবেশগত মুনাফাও সরবরাহ করে।

    রিপোর্টে অভিযোজনের আহ্বান জানিয়ে সমাজে বিদ্যমান অসমতা দূর করা এবং অধিক সংখ্যক জনগণকে এর আওতাভুক্ত করা, বিশেষ করে সে সমস্ত জনগণেরা যারা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবজনিত ঝুঁকির মুখে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা। বাস্তবতা হচ্ছে, যারা জলবায়ু পরবর্তনের শিকার হচ্ছে তারা মূলত এর জন্য দায়ী নয়, অভিযোজনকে একটি মানবিক এবং নৈতিক অপরিহার্য্য বিষয় করে তুলতে হবে।

    রিপোর্টের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সীমানা রেখা নেই, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, যা কেবল বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, ‘এটি এখন ক্রমান্বয়ে পরিষ্কার হচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যেই আমাদের পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে এবং আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। অভিবাসন এবং অভিযোজন দুটি একই সঙ্গে চলতে পারে। যেহেতু, এই দুটি বিষয়ই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ভিত নির্মাণে সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    তিনি যোগ করেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য এবং একটি জলবায়ু স্থিতিস্থাপক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অভিযোজন প্রযোজ্য।

    গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের সিইও প্যাট্রিক ভারকুইজেন বলেন, ইতোমধ্যেই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। এর ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমাদের জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য সম্ভব সবকিছুই করতে হবে। যাতে করে আমাদের বিশ্বকে আমরা ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শক্তিশালী এবং সুসজ্জিত করে তুলতে পারি।

    তিনি বলেন, অভিযোজন একাধারে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত মুনাফা- এই ‘ট্রিপল ডিভিডেন্ট’ সৃষ্টি করে।

    রিপোর্টে তিনটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। যেগুলো হচ্ছে- বোধগম্যতা, পরিকল্পনা এবং অর্থায়ন। যাতে জলবায়ুর প্রভাব, ঝুঁকি এবং সমাধান- সকল প্রকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে কার্যকরী হয়।

    রিপোর্টে আন্তঃসম্পর্ক যুক্ত সাতটি ক্ষেত্র যেমন- খাদ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পানি, শহরাঞ্চল, অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি এবং অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রে এই বড় ধরনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন কীভাবে প্রযুক্ত হবে তাও খুঁজে বের করা হয়।

    কমিশন ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে এই সম্পর্কে বেশ কিছু ঘোষণা প্রদান করবে এবং অন্যান্য কার্যবিধিও তুলে ধরবে। যেগুলো এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রূপান্তরগুলোর ক্ষেত্রে জাম্পস্টার্ট প্রযোজ্য। কিছু ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপসমূহের বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা জড়িত, অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা পরিবর্তনের জন্য নতুন জোট গঠনের দাবি করতে পারে।

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠেয় এবং নেদারল্যান্ডসের সরকার আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে কমিশন এক বছরের জন্য একটি ‘ইয়ার অব অ্যাকশন’ ঘোষণা করবে। এ ক্ষেত্রে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের অক্টোবরে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠেয় ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন সম্মেলনে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

  • অধ্যক্ষকে মারতে মারতে মাটিতে ফেললেন ছাত্রলীগ সভাপতি

    অধ্যক্ষকে মারতে মারতে মাটিতে ফেললেন ছাত্রলীগ সভাপতি

    অনলাইন ডেস্ক ::

    সাতক্ষীরার আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের ওপর তিন দফা হামলা চালিয়ে তার অফিস ভাঙচুর করেছে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুজ্জামান তাজসহ তার কয়েকজন সহযোগী।

    কিল-ঘুষি মারতে মারতে অধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুজ্জামান তাজ বলেন, কলেজে চাকরি করতে চাইলে আমাদের কথা শুনতে হবে। এ অবস্থায় কেঁদে ফেলেন অধ্যক্ষ।

    সোমবারের এ ঘটনায় অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান আশাশুনি থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুজ্জামান তাজসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার দুপুরে আশাশুনি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম বলেন, সোমবার অধ্যক্ষ মামলা দেয়ার পর আশরাফুজ্জামান তাজ ও তার সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা আল মামুনকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কক্ষে অফিসিয়াল কাজ করছিলাম। এ সময় সালাম দিয়ে আমাকে রুমের বাইরে আসতে বলে এক ছাত্রলীগ নেতা। বাইরে আসার পরপরই আমার সামনে একটি ছেলেকে মারধর করতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মারধরের কারণ জানতে চাইলে তারা জানায় সাতক্ষীরা থেকে একটি মেয়েকে এনে কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে অনৈতিক আচরণ করেছে ওই ছেলে। তখন ছেলেটিকে মারধর না করে আমার কাছে দিতে বলি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। পরে ওই ছেলের অভিভাবকদের ফোন করে ডেকে আনি। একই সময়ে সেখানে পুলিশও পৌঁছায়। পরে পুলিশ থানায় এনে মুচলেকা নিয়ে ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়।

    অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান আরও বলেন, ওই ছেলেটিকে তাদের হাতে কেন দেয়া হলো না এই কৈফিয়ত তলব করে আমার ওপর হামলা করে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুজ্জামান তাজ ও তার সহযোগী শাওন, আল মামুন ও সাইফুল্লাহসহ ৭-৮ জন ছাত্রলীগ কর্মী। এ সময় আমার কক্ষ ভাঙচুর করে তারা। সেই সঙ্গে জানালার গ্লাস, চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে ইটপাটকেল ছুড়ে তাণ্ডব চালানো হয়।

    অধ্যক্ষ বলেন, তাদের হামলার সময় পরপর তিনবার হামলার শিকার হই আমি। আমাকে চড় কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। সহকর্মী শিক্ষকরা হামলাকারীদের কবল থেকে আমাকে রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সহকর্মীরাও লাঞ্ছিত হয়েছেন।

    এ সময় ছাত্রলীগ নেতা তাজ অধ্যক্ষকে বলেন, এখানে চাকরি করতে হলে আমাদের কথা মতো চলতে হবে। না হলে সাইজ করে দেব।

    আক্ষেপ করে অধ্যক্ষ বলেন, এসব সন্তানতুল্য ছেলেদের হাতে বারবার লাঞ্ছিত হয়ে আমরা যেন মরে গেছি। এটি চরম লজ্জার। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাদের নামে মামলা করেছি।

    ওসি আবদুস সালাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। মামলার পর সোমবার রাতেই আশরাফুজ্জামান তাজ ও আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, তাজ ও অন্যদের বিরদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আশাশুনি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

  • বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শ্রীদেবীর মেয়ে জাহ্নবী

    বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শ্রীদেবীর মেয়ে জাহ্নবী

    বিয়ে নিয়ে প্ল্যানিং তো সবারই থাকে। সব মেয়েই মনে মনে একটা ছক এঁকে রাখনে বিয়ের। বলিউড ডিভা শ্রীদেবী কন্যা জাহ্নবী কাপুরও তার ব্যতিক্রম নন। জীবনের বিশেষ দিনটির জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    কীভাবে হবে তার বিয়ে, কোথায় হবে? কেমন হবে তার বর? সবকিছুই নিজের মতো করে ভেবে রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী এসব বলেছেন বেশ খোলাখুলি।

    এই ‘ধড়ক’ গার্ল জানান, তার বরকে অবশ্যই ভালো মানুষ হতে হবে। তার অভিনয়ের প্রতি অনুরাগ থাকতে হবে। হাসিখুশি থাকা চাই। মুখ গোমড়া মানুষ একেবারেই পছন্দ না জাহ্নবীর। তার জীবন জুড়ে জাহ্নবীরই অস্তিত্ব থাকবে শুধু।

    বিয়ের জন্যও রয়েছে হাজারো পরিকল্পনা। তিরুপতির মন্দিরে গিয়েই বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি। জাঁকজমকে ভরা বিয়ের দরকার নেই তার। ছিমছাম হোক ক্ষতি নেই, তাতে যেন প্রাণ থাকে। বিয়েতে কাঞ্জিভরম শাড়িতে সেজে ওঠার ইচ্ছে নায়িকার।

    তার মা শ্রীদেবী ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয়। তাই বিয়ের মেনুতেও অবশ্যই চাই দক্ষিণ ভারতের ছোঁয়া। জাহ্নবীর বক্তব্য, মা বেঁচে থাকলে অবশ্য মেয়ের পছন্দের উপর এতটুকুও ভরসা করতেন না। শ্রীদেবী সবসময় বলতেন, ‘নতুন প্রজন্ম নাকি সহজেই প্রেমে পড়ে যায়।’

    এদিকে বিয়ে নিয়ে এতসব নিখুঁত পরিকল্পনা দেখে জাহ্নবীর বিয়ের গুঞ্জন চাউর হয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, তাহলে কি খুব শিগগিরই বিয়ের সানাই বাজতে চলেছে কাপুর বাড়িতে? সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খুলেননি তিনি।

  • লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য বিলীন হতে দেওয়া যাবে না : বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার

    লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য বিলীন হতে দেওয়া যাবে না : বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার

    বরিশালের উজিরপুরে ঐতিহ্যবাহী সাতলার লাল শাপলা বিল পরিদর্শন ও অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান।

    মঙ্গলবার সূর্য ওঠার পূর্বেই লাল শাপলা বিলে অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা।

    এসময় সফরসঙ্গী ছিলেন বরিশাল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমত হোসেন, সুব্রত বিশ্বাস দাস।

    আরো উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তার, সহকারী কমিশনার ( মভুমি) মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, ভাইস চেয়ারম্যান অপূর্ব কুমার বাইন রন্টু, ওসি শিশির কুমার পাল,উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস আলি, প্রেসক্লাবের সভাপতি আঃ রহিম সরদার, হারতা ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ হরেন রায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুনিল কুমার বিশ্বাস প্রমূখ।

    পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য বিলীন হতে দেওয়া যাবে না। কোন দর্শনার্থী এখান থেকে শাপলা তুলে নিতে পারবে না। এই বিলের মৎস্য চাষীরা গ্রাসকার্প মাছসহ যে মাছ শাপলাকে ধ্বংস করে ঐ মাছ চাষ করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানান।

    তিনি আরো বলেন, এতবড় বিল একই সাথে এত লাল শাপলা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। শাপলার সৌন্দর্য নষ্টকারীদের জরিমানাসহ আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া ঐ বিলকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনা করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম ও গভীর নলকূপসহ পর্যটকদের উপযোগী সকল ব্যবস্থা গ্রহন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

  • ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় হাতির আক্রমণে যুবকের মৃত্যু

    ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় হাতির আক্রমণে যুবকের মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক ::

    রাঙ্গামাটির লংগদুতে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বন্য হাতির আক্রমণে মো. শরিফ হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের যুবলক্ষ্মীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শরিফ ওই গ্রামের এগদিল হোসেনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে শরিফ ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলের। পথে একটি বন্য হাতির সামনে পড়েন তিনি। এ সময় হাতিটি তাকে আক্রমণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু নাসের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • দিনে তালাক, রাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী

    দিনে তালাক, রাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী

    পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন এক স্ত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই স্বামীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সোমবার রাতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের দ্বিনপুরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার খলাগাঁও গ্রামের এক নারীর সঙ্গে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের দ্বিনপুর গ্রামের এক যুবকের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

    বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। সোমবার দুপুরে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক দেন স্বামী। খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করতে মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে যান। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত রেখে স্ত্রীকে আলাদা ঘরে থাকার নির্দেশ দেয় গ্রামের মুরব্বিরা। ভোররাতে ব্লেড দিয়ে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন স্ত্রী। এ সময় স্বামীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, স্বামীর লিঙ্গ কর্তনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রীকে থানায় আনা হয়েছে।