‘মানসিকভাবে দুর্বল’ হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা?

Sharing is caring!

শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে- তিনটি দলই শক্তি, সামর্থ্য এবং অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। আশ্চর্য হলেও সত্য যে, বিশ্বকাপের আগে ও পরে এক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারতে হারতে জেতা ছাড়া বাকী দুই দলের কাছে ধোলাই হতে হয়েছে টাইগারদের! এবার তো নিজেদের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হারের পর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেরেই চলছে টাইগাররা। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মতে, বিশ্বকাপে ব্যর্থ হবার পর খেলোয়াড়দের ‘আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও দুর্বল মানসিকতা’র কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। উইন্ডিজ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষেও জয় পায়। এছাড়া বাকী ম্যাচগুলো হারতে হয়েছে লজ্জাজনকভাবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা জিততে জিততে হেরে যেতে হয়েছে। তাই ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ নেওয়ার ক্ষমতা নতুন করে উঠে এসেছে আলোচনায়। যে মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে হারাতে হলে ভারতকেও দুইবার ভাবতে হয়, সেই মিরপুর শের-ই-বাংলাতেই স্মরণকালের বাজে পারফর্মেন্স দেখিয়ে দিচ্ছে টাইগাররা!

একমাত্র সাকিব আল হাসান ছাড়া আর কারও ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও সাকিব নেতৃত্বভার নিতে চাচ্ছেন না। টেস্ট খেলতেও রাজী নন তিনি। মুশফিক নিয়মিতই ক্রিকেটীয় আইন ভেঙে উইকেটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন বল ধরতে! এতে নিয়মিতই মিস করছেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর বিশ্রামে থাকা তামিম ইকবাল নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। অপেক্ষাকৃত তরুণ সদস্যদের মধ্যে সৌম্য সরকার, সাব্বির আহমেদের অবস্থা করুণ। ভালো শুরু করে আউট হয়ে যাচ্ছেন লিটন দাস। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেটে দিতে পারছেন না ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। সব মিলিয়ে দলের বিশ্রী অবস্থা।

একদিন আগে ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ওপর প্রত্যাশার প্রচণ্ড চাপ থাকায় তারা ব্যর্থ হচ্ছে। ম্যাকেঞ্জির এই বিশ্লেষণ হয়তো সত্য; কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হতে হলে প্রত্যাশার চাপ নিতে জানতে হবে। প্রতিকূল পরিবেশে খেলা জানতে হবে। স্টিভেন স্মিথকে দেখে শিখতে পারে টাইগাররা। অ্যাশেজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ দর্শকদের ‘প্রতারক’ দুয়োধ্বনি আর অবিরাম গালাগাল শুনেও রেকর্ডে পর রেকর্ড গড়ে গেছেন এই অজি তারকা। এটাই পেশাদারিত্ব। আবেগে ভেসে হয়তো মাঝেমধ্যে এক-দুইটা ম্যাচ জেতা যায়; কিন্তু বড় কিছু অর্জনের জন্য পেশাদার হওয়ার বিকল্প নেই।

About banglarmukh official

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*