Category: জাতীয়

  • আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

    আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন পাঁচ দপ্তর ও সংস্থা পরিদর্শন করেছেন উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। এ সময় তিনি উপদেষ্টা আইন-বিধি মেনে কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেন।

    মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দপ্তর-সংস্থাগুলো পরিদর্শনে যান উপদেষ্টা।

    পরিদর্শনের শুরুতে তিনি তথ্য ভবনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে (ডিএফপি) যান এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপদেষ্টা সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা নির্ধারণে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ডিএফপির প্রকাশনার মান বৃদ্ধি, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও ডিএফপির সার্বিক উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ডিএফপির শুটিং ফ্লোর, সাউন্ড থিয়েটার ও ফিল্ম ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দেন।

    এরপর উপদেষ্টা গণযোগাযোগ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপদেষ্টা মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অধিদপ্তরের সার্বিক উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    পরে উপদেষ্টা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও তথ্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে তিনি বিদ্যমান আইন-বিধি মেনে সেবা সহজীকরণ ও কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় উপদেষ্টা দপ্তর-সংস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

  • আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার বিচার ৭ দিনের মধ্যে শুরু হবে: আইন উপদেষ্টা

    আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার বিচার ৭ দিনের মধ্যে শুরু হবে: আইন উপদেষ্টা

    মাগুরার ৮ বছর বয়সি শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার আগামী সাত দিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, আছিয়া আজ দুপুর ১টার দিকে সিএমএইচে মারা গেছে। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা শোক জানিয়েছেন। আমরা সবাই শোকার্ত। এর মধ্যে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আজকেই পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আছিয়ার মরদেহ দাফনের জন্য হেলিকপ্টারে মাগুরায় নিয়ে যাওয়া হবে। আছিয়ার মরদেহ এবং তার পরিবারের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উপস্থিত থাকবেন। তিনি সেখানে দাফন পর্যন্ত থাকবেন।

    ডিএনএ স্যাম্পল কালেকশন করা হয়ে গেছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আশা করি- আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেয়ে যাব। এরই মধ্যে ১২-১৩ জনের ১৬১ ধারায় (দণ্ডবিধি) স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিচার কাজ শুরু হবে।

    আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা জানেন অতীতে ধর্ষণ মামলায় অব্যাহত শুনানির মাধ্যমে (বিচার শুরু হওয়ার) ৭-৮ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির আছে।আমরা যদি সাত দিনের মধ্যে বিচার কাজ শুরু করতে পারি, আমাদের বিচারকরা সর্বোচ্চ দ্রুততার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে বিচার করতে পারবেন। কারণ, এখানে পারিপার্শ্বিক এত স্বাক্ষ্য রয়েছে, ডিএনএ টেস্ট পাওয়া যাবে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া যাবে- ফলে আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সময়ে এই মামলার বিচার হবে। ইনশাআল্লাহ দোষী সাব্যস্ত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

    তবে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তাদের দিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো নৈরাজ্য বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

  • শুক্রবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

    শুক্রবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

    শুক্রবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

    গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ব্যক্তির সফরকে ঘিরে কক্সবাজার এবং উখিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিবের কক্সবাজার আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিয়োজিত রয়েছে এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

    বৃহস্পতিবার চারদিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। সফরের দ্বিতীয় দিন ১৪ মার্চ সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

    কক্সবাজার বিমানবন্দরে জাতিসংঘের মহাসচিবকে স্বাগত জানাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক। এরপর কক্সবাজার শহর থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবকে নেওয়া হবে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে। এদিন বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে উখিয়ার আশ্রয় শিবিরে পৌঁছাবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    সফরকালে গুতেরেস রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা, যুব প্রতিনিধি ও নারীদের সঙ্গে তিনটি পৃথক বৈঠকে অংশ নেবেন। ওইদিন বিকালে তিনি কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

    সফরটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, এটি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

    এ সফরে সম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কর্তৃক রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা অর্ধেক কমিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন রোহিঙ্গারা।

    জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতরেস ২০১৮ সালে সর্বশেষ রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন এসেছিলেন। তবে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম সফর।

  • শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক, দ্রুত বিচার নিশ্চিতের নির্দেশ

    শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক, দ্রুত বিচার নিশ্চিতের নির্দেশ

    মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অপূর্ব জাহাঙ্গীর জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

    গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) মাগুরা শহরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিশুটি। পরদিন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    এরপর গত শুক্রবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন শিশুটিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন রোববার শিশুটিকে সিএমএইচে পেডিয়াট্রিক আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  • ২০২৬ সালেই বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণ করা হবে

    ২০২৬ সালেই বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণ করা হবে

    স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময় যে ভাবনা ছিল, তা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান সরকার প্রধানের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২৬ সালেই বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণ করা হবে। এজন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে তা মোকাবিলা করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এতে বাংলাদেশের মর্যাদাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

    স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দিন ঠিক করা আছে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে বলেছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিসংখ্যান নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করবে কি না তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ‘ভাবছে’।

    এর মধ্যে গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেছিলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

    ওই বক্তব্যের একদিন পরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানাল।

    ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ২০১৮ সালেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করে বলে জাতিসংঘ থেকে জানানো হয়।

    মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ২৫ ডলারের নিচে থাকলে সে দেশ এলডিসিভুক্ত হয়, এ আয় ১২৩০ ডলার অতিক্রম করলে ধাপ উন্নয়নের যোগ্যতা অর্জন হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে এই আয় দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৪৯ ডলার।

    ২০১৮ সালে মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ৭২। এক্ষেত্রে ৬২ পর্যন্ত দেশগুলো এলডিসিভুক্ত, ৬৪ ছাড়ালে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়। এই তালিকাতেও বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। ২০২০ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৩। পরের বছর ১৯১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ উঠে আসে ১২৯তম।

    জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট সার্ভে ২০২৪ অনুযায়ী, গত বছর ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। আগের বছর ছিল ১১১তম।

    অর্থনৈতিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট ২০১৮ সালে ছিল ২৫ দশমিক ২। এই পয়েন্ট ৩৬ এর বেশি হলে এলডিসিভুক্ত হয়, ৩২ এ আনার পর উন্নয়নশীল দেশে যোগ্যতা অর্জন হয়।

    ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত বছরের ৪ থেকে ৮ মার্চ জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপির পর্যালোচনা বৈঠকে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণ হয়েছে কিংবা হওয়ার পথে রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই টানা তিনটি মূল্যায়নে সব সূচকে পাস করেছে।

    বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে ২০২৬ সালের পর সেই সুবিধা আর থাকবে না।

  • জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায়

    জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায়

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে চার দি‌নের সফরে ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

    বৃহস্পতিবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

    প্রায় সাত বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে এটি তার দ্বিতীয় সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট। এ ছাড়া মানবাধিকার ইস্যুও গুরুত্ব পাবে বলে বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকালে মহাসচিবের সঙ্গে (হোটেলে) প্রথমে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

    বৈঠক শেষে তারা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে একসঙ্গে কক্সবাজার যাবেন। সেখান থেকে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাবেন। রোহিঙ্গা শিবিরে জাতিসংঘের হয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ কার্যক্রম সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ব্রিফ করবেন। শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা ও পবিত্র রমজানের প্রতি সংহতি জানিয়ে সবার সঙ্গে ইফতার করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। অন্তত এক লাখ রো‌হিঙ্গা শরণার্থীর স‌ঙ্গে ইফতার কর‌বেন তিনি। রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা।

    আগামী শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে যাবেন মহাস‌চিব। সেখানে জাতিসংঘের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর দুপুরে হোটেলে ফিরে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন গুতেরেস। সেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মহাস‌চিব।

    এদিন সন্ধ্যায় জাতিসংঘ মহাসচিবের সম্মানে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। ১৬ মার্চ সকালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিবের।

    প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস।

  • কাদেরের কললিস্টে নায়িকা-নেত্রীদের তালিকা ভাইরাল

    কাদেরের কললিস্টে নায়িকা-নেত্রীদের তালিকা ভাইরাল

    গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই সঙ্গে পালিয়ে গেছেন দলটির প্রধান ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ বড় নেতারা। হাসিনার পর পলাতকের তালিকায় অন্যতম হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    ক্ষমতায় থাকাকালীন ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বিভিন্ন নায়িকা ও মডেলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা। যাতে প্রকাশ পেত অনেক নায়িকার সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্কের রসায়ন। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা-সমালোচনা হতো নেটিজেনদের মুখে। কিন্তু প্রকাশ্যে সেগুলো নিয়ে কেউ কথা বলতে সাহস করতো না।

    পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে কাদেরকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

    সর্বশেষ গেল ৫ আগস্টও ওবায়দুল কাদেরের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ফোন ট্র্যাক লোকেশন ছিল মোহাম্মদপুর।

    এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলো তার একটি কললিস্ট।

    ওই কললিস্ট অনুযায়ী ৫ আগস্টের আগে-পরে দুই মাসে অসংখ্য নম্বরে কথা বলেছেন কাদের। যেখানে অনেক নায়িকা, মডেল, অভিনেত্রী ও নেত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।

    ওই কললিস্ট অনুযায়ী নায়িকা কেয়া, মিস বাংলাদেশ ফারজানা, অ্যানজেনা এলিনসহ মডেল নায়িকারা যেমন আছেন। তেমনি ফোন দিয়েছেন ময়মনসিংহের নেত্রী কবিতাকেও।

    আরেক বেসরকারি টেলিভিশনের তথ্যনুযায়ী জানা যায়, ৫ আগস্ট ওবায়দুল কাদের নায়িকা সোহানা সাবাসহ প্রয়াত নায়িকা মেঘলার সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করেন।

    ওবায়দুল কাদেরের ৫ আগস্টসহ আগের এবং পরবর্তী সময়ের কললিস্টের সিডিআর কপির আংশিক প্রকাশ করে প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। এই সিডিআর কপি বের হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ওবায়দুল কাদেরের কললিস্ট।

    এরআগে দেশের বিভিন্ন লোকেশনে ওবায়দুল কাদের আছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

    কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানও চালিয়েছে। তবে কোথাও মেলেনি তার খোঁজ। গুঞ্জন আছে, অন্যান্য নেতাদের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ওবায়দুল কাদেরও। তিনিও ভারতে আছেন।

    তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরের ব্যবহৃত সিমের লোকেশন ও কললিস্ট ভাইরাল হয়েছে। তবে ওই কল লিস্টের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ভাইরাল ওই তালিকায় দেখা যায়, সর্বশেষ ৫ আগস্টের দিন দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে তার ফোন ট্র্যাক লোকেশন ছিল মোহাম্মদপুর।

  • এমবিবিএস-বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবে না

    এমবিবিএস-বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবে না

    এমবিবিএস-বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি লিখতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বুধবার (১২ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

    রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া আজ পর্যন্ত যারা ডাক্তার পদবি ব্যবহার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) থেকে আইন ভঙ্গ করে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে ডিএমএফ ডিগ্রিধারী সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের (স্যাকমো) কয়েকজন বিএমডিসি আইনকে চ্যালেঞ্জ করে নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করার জন্য আদালতে একটি রিট দায়ের করেন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল এই রিটের প্রথম শুনানি হয়, তারপর থেকে রিটটি আদালতে ৬৭ বার কজ লিস্টে আসে। তবে ব্যাখ্যাহীন কারণের ওপর শুনানি হয়নি। এরপর বহুবার রিটের শুনানি পেছানো হয়।

    সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ডাক্তার পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত ২৭৩০/২০১৩ এবং ডাক্তার পদবি সংক্রান্ত ‘বিএমডিসি অ্যাক্ট ২০১০ এর ধারা ২৯’কে চ্যালেঞ্জ করে ১৩০৪৬/২০২৪—এই দুটি রিটের শুনানি হয়। ওই দিন রিটটির ৯১তম শুনানি ছিল। আদালত উভয় রিটের রায় ঘোষণার জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেন।

    এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাঁচ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহা সমাবেশে যোগ দিয়েছেন চিকিৎস এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সকল চিকিৎস এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন তারা।

    কর্মসূচির আওতায় সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন সারা দেশের মেডিকেল এবং ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা।

    এছাড়া সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর সেবা বন্ধ রয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, বৈকালিক সেবায়ও বন্ধ রাখবেন চিকিৎসকরা। তবে হাসপাতালের জরুরি সেবা বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), ক্যাজুয়ালটি বিভাগ, এডমিশন ইউনিট, লেবার ওয়ার্ড চালু থাকবে।

    চিকিৎসকরা বলেন, জনসাধারণকে অপচিকিৎসার হাত থেকে রক্ষা করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসা পেশায় মর্যাদা রক্ষায় চিকিৎসক সমাজ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান আমলাতান্ত্রিত কূটকৌশলের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ডাক দেওয়া হয়েছে।

  • দেশজুড়ে ধর্মঘটে চিকিৎসকরা, ভোগান্তিতে রোগীরা

    দেশজুড়ে ধর্মঘটে চিকিৎসকরা, ভোগান্তিতে রোগীরা

    পাঁচ দফা দাবি আদায়ে এবার সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতিতে নেমেছেন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার ‘সর্বস্তরের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে দিনভর কর্মসূচি পালনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাঁচ দাবিতে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক নাদিম হোসাইন।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বুধবার সারা দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করবে। সরকারি, বেসরকারি সব হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর সেবা এবং বৈকালিক চেম্বার বন্ধ থাকবে। মানবিক বিবেচনায় আইসিইউ, সিসিইউ, ক্যাজুয়ালটি, লেবার রুমের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

    বুধবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হল। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমবেত হবেন। সেখান থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ করবেন তারা।

    তবে এই কর্মসূচিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তবিভাগের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও, ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল এবং শিশু হাসপাতালসহ আরও কয়েকটিতে দেরিতে হলেও কোনো কোনো বিভাগের বহির্বিভাগে রোগী দেখা শুরু হয়েছে।

    এদিকে আবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বহির্বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ আছে। চিকিৎসকদের কর্মসূচির কথা জানা না থাকায় সেখানে সকাল থেকে রোগীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাচ্ছেন, অনেকে আবার সেখানেই ঘোরাঘুরি করছেন। তবে আইসিইউ, সিসিইউসহ জরুরি চিকিৎসা বিভাগ চালু আছে।

    ঢাকার ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে সকাল ৯টা থেকে বহির্বিভাগে রোগী দেখা শুরু করার কথা ছিল। সেখানে চিকিৎসকরা রোগী দেখতে শুরু করেছেন পৌনে ১০টা থেকে। ফলে বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড় তৈরি হয়।

    বহির্বিভাগের একটি কক্ষের সামনে দায়িত্বরত একজন কর্মচারী বলেন, ‘সকালে স্যারেরা এসেছেন কিন্তু রোগী দেখেননি। পরে সবাই পরিচালক স্যারের রুমে যান, এরপর আউটডোরে রোগী দেখা শুরু হয়েছে।’

    জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান নিটোরে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, আমাদের এখানে কার্যক্রম চলছে। আউটডোর খোলা। আসলে আমি আজকের কর্মসূচি সম্পর্কে জানি না।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। আবার রোগী দেখা বন্ধ আছে শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বহির্বিভাগে। সেখানে রোগীদের জটলা তৈরি হয়েছে সকাল থেকেই, চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

  • সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ফারজানা রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

    সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ফারজানা রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদলতে আবেদন করেন। ৪ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন।

    মঙ্গলবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার ঘটনার সময়ে ফারজানা রুপা এটিএন বাংলা টেলিভিশনে রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার রুনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠতা ও যাতায়াত ছিল। হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে তিনি টেলিভিশনে রিপোর্ট করেন মর্মে জানা যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বহুল আলোচিত সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্ত চেয়ে আনা রিটের আদেশ মডিফিকেশন চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ আদেশ দেন উচ্চ আদালত। বিষয়টি নিয়ে শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘আশা করি এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং তদন্তের জন্য দেওয়া এবারের ছয় মাস মানে ছয় মাস।’