হাসপাতালের সামনেই বৃদ্ধের মৃত্যু, আসলোনা কেউ,

শুক্রবার হাসপাতালের গেটের সামনেই করোনা পীড়িত এক ব্যক্তি শ্বাসকষ্টে ধুকে ধুকে মারা যায় ৷ কিন্তু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখেও কোন ব্যবস্থা নেন না। সকলেই বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছিল।

করোনা ভাইরাস মহামারীর প্রকোপ থেকে বাঁচতে পাটনা সিটির নালন্দা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ভারত সরকার কভিড হাসপাতাল বলে তিন মাস আগে ঘোষণা করেছিল ৷

হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাবি তাদের হাসপাতালে একের পর এক করোনার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে শুক্রবারের এক ঘটনা হাসপাতালে আসল চিত্র সামনে এনে দিয়েছে।

যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে করোনা আক্রান্ত অই ব্যক্তি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে অত্যন্ত যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ৷ বাড়ির লোক তাঁকে ওখান থেকে ওঠানোর চেষ্টা করছেন ৷ কিন্তু হাসপাতালের কেউ তাঁদের দিকে সামান্য সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দেয়নি ৷ স্বাস্থ্যকর্মী থেকে সুরক্ষাকর্মী সকলেই শুধুমাত্র দর্শকের মত দাঁড়িয়ে দেখছিল।

শেষ পর্যন্ত কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অই ব্যক্তি মারা যান। মৃত ব্যক্তি সারণ জেলার নৌতনের বাসিন্দা ৷ তাঁর বয়স ছিল ৫৮ বছর ৷ তাঁকে ১৭ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ৷

অসুস্থ অবস্থায় যখন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তখন সেখানে তিনি করোনা পজিটিভ জানা যায়। এরপর তাঁকে অন্য ওয়ার্ডে পাঠানোর জন্য কোনও ট্রলিও দেওয়া হয়নি ৷ সেখানেই মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে মাটিতে পড়ে যান ওই অসুস্থ রোগী ৷ আর সেখানেই করুণ মৃত্যু হয়।

মৃতের পুত্র সচিন কুমার জানিয়েছেন তার বাবার শ্বাসকষ্ট ছিলই ৷ তারসঙ্গে যোগ হয়েছিল জ্বরের উপসর্গ৷ প্রচণ্ড জ্বর থাকার সময় যদি তাঁর চিকিৎসা করা হত তাহলে হয়ত তাকে বাঁচানো যেত ৷ সেই সাথে এই ঘটনার তদন্ত চেয়েছে সে ৷

এদিকে এই ঘটনার পর নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে হাসপাতার কতৃপক্ষ। এই গাফিলতি কিভাবে হলো তা পূর্ণ খতিয়ে দেখা হবে বলে বলছে তারা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *