সত্য যাচাইয়ে রসুলের আদর্শ অনুকরণীয়

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্টতা দ্বারা। ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো’ (সুরা হা-মিম সাজদা-৪১)। রসুল (সা.) যে কোনো খবর অত্যন্ত ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতেন।

রসুলুল্লাহ (সা.) একবার জাকাত সংগ্রহ করতে একজনকে একটি উপত্যকায় পাঠালে তিনি এসে খবর দিলেন সেখানকার লোকেরা মুরতাদ হয়ে গেছে। তারা জাকাত দিতে অস্বীকার করছে। এ কথা শুনে রসুল (সা.) মর্মাহত হয়ে যুদ্ধের জন্য খালিদ বিন ওয়ালিদকে নির্দেশ দিলেন। যুদ্ধে পাঠানোর আগে রসুল (সা.) তাঁকে নির্দেশ দিলেন সেখানে আক্রমণ শুরু করার আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে।

খালিদ বিন ওয়ালিদ রাতের বেলা ওই উপত্যকা অবরোধ করলেন এবং ভোরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন। ফজরের সময় ওই উপত্যকা থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে এলে তিনি চমকে উঠলেন। এরপর ওই এলাকায় গিয়ে প্রকৃত অবস্থা জানতে চাইলেন। সেখানকার নেতৃস্থানীয়রা জানালেন, তারা জাকাত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট লোকের অপেক্ষা করছেন।
কিন্তু সেখানে কেউ না আসায় মদিনায় প্রতিনিধি পাঠানোর কথা ভাবছেন। প্রকৃত ঘটনা হলো এর আগে যাকে পাঠানো হয়েছিল তিনি ওই এলাকায় না গিয়ে পথিমধ্য থেকে ফিরে এসে মিথ্যা সংবাদ দিয়েছিলেন। আর মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের কারণে একটি উপত্যকায় বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছিল। কেবল রসুল (সা.)-এর বিচক্ষণতা ও প্রকৃত সংবাদ যাচাই-বাছাইয়ের কারণে ওই উপত্যকাটি সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল। প্রত্যেক সংবাদকর্মীর উচিত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।

সংবাদ পরিবেশনে সীমা লঙ্ঘন যাতে না হয় সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ দায়িত্বহীনতার পরিণতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশ, জাতি ও সাধারণ মানুষ। আল কোরআনে বলা হচ্ছে, ‘কিন্তু সীমা লঙ্ঘন কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। ’ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে রসুল (সা.) মিথ্যা সংবাদ প্রচার ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে কবিরা গুনাহ উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনে সততার ব্যত্যয় মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। ছড়িয়ে পড়তে পারে অশান্তির দাবানল। অসত্য সংবাদ পরিবেশনা ও গুজব সৃষ্টি জাতীয় জীবনে কী বিপর্যয় ঘটায় তা দেশ ও বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালেও অনুমিত হবে। রসুল (সা.) প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতেন। সংবাদ পরিবেশনের আগে তার যথার্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রত্যেক সংবাদকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *